নীল সমাচার। নীল নিয়ে কিছু অজানা তথ্য

নীল সমাচার। নীল নিয়ে কিছু অজানা তথ্য
5 (100%) 1 vote

নীল একটি বিশেষ রঙ। অনেকে বলে বেদনার রঙ নীল। নীল মানে ফেলে আসা সকলের আকাশের একটা নাম। নীল মানে ভালবাসার গভীরে লুকোনো একটা রং। পৃথিবীর অনেক কিছুই নীল। তাহলে এবার নীল নিয়ে এই লেখাটি এবার পড়ুন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

রক্ত যখন নীল

আমাদের রক্তের রঙ লাল। মানুষের মতো বেশীর ভাগ প্রানীর রক্তের রঙ লাল। তবে প্রানীজগতে বিরল কিছু প্রানী আছে যাদের রক্তের রঙ ভিন্ন। এদের মধ্যে এন্টারটিক অক্টোপাস ও হর্সশু ক্রাব দুইটা প্রানী যাদের রক্তের রং নীল। রক্তে অক্সিজেনবাহী আয়রনঘটিত প্রোটিন হিমোগ্লোবিন থাকার কারনে রক্তের রঙ লাল হয়। হিমোগ্লোবিন এর বদলে তামাঘটিত প্রোটিন হিমোসায়ানিন থাকলে রক্তের রঙ হয় নীল। হিমোসায়ানিনের কাজও ফুসফুস থেকে দেহকোষে অক্সিজেন বহন করা। এন্টারটিক অক্টোপাস ও হর্সশু ক্রাবের নীল রক্তের একটা বিশেষ গুন রয়েছে। যখন কোন ব্যাক্টেরিয়া বা রোগজীবানু এই রক্তের সংস্পর্শে আসে তখন তা খুব দ্রুত জমাট বেধে যায়। মেডিক্যাল সায়েন্সে ক্ষতিকর জীবানু নিয়ে গবেষনায় এই গুনটা খুবই মূল্যবান। অনেক নতুন ঔষধ পরীক্ষা করার জন্যে হর্সশু ক্রাব ব্যবহার করা হয়। এ জন্যে বিশেষ পদ্ধতিতে হর্সশু ক্রাব থেকে আংশিক নীল রক্ত সংগ্রহ করে তাদের আবার জীবিত ছেড়ে দেওয়া হয়। যেভাবে **মানুষ** থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয় অন্যকে দেওয়ার জন্যে। হর্সশু ক্রাবের নীল রক্ত মূল্যবান একটি তরল পদার্থ। এর প্রতি গ্যালনের (৩.৭৯ লিটার) মূল্য প্রায় ৫৩,২৫০ ডলার বা ৪৪ লক্ষ টাকা।

পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয় কেন

পৃথিবীর আকাশ নীল। পৃথিবীতে বায়ুমন্ডল আছে। বায়ুমন্ডলের বিশেষ এক স্তরে সূর্যের নীল রঙ ছড়িয়ে পড়ে। আমরা জানি, সূর্যের সাদা আলো সাতটি রঙের আলোর মিশ্রণে সৃষ্টি। এগুলো হলো বেগুনি, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। সূর্যের ওই বিশেষ স্তরে সূর্যের সাদা আলো ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নীল আলো বিচ্ছুরিত হয়। ওই এলাকাকে তাই পৃথিবীতে বসে নীল দেখায়। তাই আমরা ভাবি আকাশ নীল।
পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্য থেকে পৃথিবীকে দেখলে এর আকাশটাকেই আগেই দেখা যায়। একে দেখে মনে হয় নীল রঙের গোলক। তাই পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে।

লাল বা নীল টাই পরার কারণ কি

উচ্চ পর্যায়ের রাজনীতি এবং ব্যবসায় মাত্র দুটি রঙের টাইয়ের ব্যবহার হয়: লাল এবং নীল। তবে মাঝে-মধ্যে গোলাপি এবং হলুদ রঙের টাইয়ের দেখাও মেলে। কিন্তু সত্যিই কি লাল বা নীল টাই পরার কোনো ভিন্ন কোনো মাজেজা আছে?  হ্যাঁ আছে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় তেমনটিই প্রমাণিত হয়েছে। এসব গবেষণার একটি গবেষণা প্রকাশিত হয় জার্নাল সায়েন্সে,৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ সালে।

টাই লাল বা নীল যাই হোক না কেন এর ইতিহাস অনেক পুরোনো। গলায় রুমাল বাঁধার রীতি থেকেই নেকটাইয়ের প্রচলন হয়েছে। এবং মানুষরা ইতিহাসের যে সময় থেকে পুরো শরীর ঢেকে রাখার জন্য পোশাক পরার অভ্যাস রপ্ত করেছে তার পর থেকে শুরু করে পুরো ইতিহাস জুড়েই তারা টাই পরেছে। নীল টাই পরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল ব্রিটিশ আভিজাত্যের সম্পর্ক। আর লাল টাই ছিল প্রহরীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। লাল রঙ ভালোবাসার সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। আর এ কারণেই জনগনের **ভালোবাসা** অর্জনের জন্য রাজনীতিবিদদেরকে লাল টাই পরতে দেখা যায়। এছাড়া মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, লাল এবং নীল রঙ মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং গ্রহণক্ষমতাও শক্তিশালি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, লাল রঙ কোনো বিষয়ের বিস্তারিত জানার প্রতি আমাদের মনোযোগ বাড়ায়। আর নীল রঙ আমাদের সৃষ্টিশীল ভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, নীল এবং লাল রঙ জ্ঞানীয় দক্ষতা শক্তিশালি করে। লাল রঙ কোনো বিষয়ের বিস্তারিত জানার কাজকে শক্তিশালি করে। আর প্রুফ রিডিংয়ের কাজকে শক্তিশালি করার ক্ষেত্রে লাল রঙ নীল রঙের চেয়ে ৩১% বেশি ভুমিকা পালন করে। চিন্তা ভাবনার প্রস্তুতিমূলক কাজ এবং অন্যান্য সৃষ্টিশীল কাজের ক্ষেত্রে নীল সূত্র বা ইঙ্গিত লোককে লাল সূত্রের চেয়ে দ্বিগুন বেশি উৎপাদনশীল করে তোলে। লাল রঙ সাধারণত বিপদ, ভুল এবং সাবধানতার সঙ্কেত বহন করে। পরিহার প্রেরণা, তীব্রতর কোনো দশায় লাল আমাদেরকে সতর্ক করে রাখে। যা গভীর মনোযোগ এবং সঠিক বা বেঠিক উত্তর দরকার হয় এমন কাজ করার ক্ষেতে সহায়ক হয়। আর নীল রঙ? পানি, সমুদ্র ও আকাশের রঙ নীল হওয়ায় লোকে নীল রঙকে উদারতা, শান্তি এবং স্থির চিত্ততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে দেখে।

নীল আলো কি চোখের ক্ষতি করে

বাতি ও এলইডি স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত নীল আলো চোখের রেটিনার ক্ষতি করে কি না, তা নিয়ে কিছুদিন আগে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে জানা গিয়েছিল নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য শক্তিশালী হওয়ায় তা চোখের ক্ষতি করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
মানুষের রেটিনার ক্ষতি করতে পারে নীল আলো, আগে এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি পরিষ্কার দিনে আকাশ থেকে যে পরিমাণ নীল আলো আসে তা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করতে পারে। এতে চোখের ক্ষতি হয় না। আর এর সঙ্গে উজ্জ্বল নীল বাতি ও এলইডি স্ক্রিনের তুলনা করা চলে না। কারণ নীল আকাশের আলোর তুলনায় এসব আলোর উজ্জ্বলতা অনেক কম।
গবেষকরা জানিয়েছেন, আকাশের প্রাকৃতিক উজ্জ্বল আলোর তুলনায় বাতি ও মনিটরের কৃত্রিম আলো অনেক অনুজ্জ্বল। আর এ কারণে চোখের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
এ বিষয়ে গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক ও যুক্তরাজ্যের অপটিক্যাল রেডিয়েশন ডসিমেট্রি গ্রুপ অব পাবলিক হেলথ-এর বিভাগীয় প্রধান জন ও’হ্যাগেন বলেন, ‘এমনকি দীর্ঘক্ষণ ধরে অনুজ্জ্বল বৈদ্যুতিক বাতি, কম্পিউটার, ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হয় না।’ সাম্প্রতিক নীল আলো বিষয়ে উদ্বেগের কারণ ছিল কম পাওয়ারের এলইডি লাইট ও ইলেক্ট্রনিক্স স্ক্রিন। এগুলো সনাতন ইনক্যানডিসেন্ট বাতির তুলনায় বেশি নীল আলো বিচ্ছুরণ করে। মানুষ এখন ক্রমে আগের তুলনায় নানা ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার, **মোবাইল**, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনে সময় ব্যয় করছে। আর এতে তাদের চোখের ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। সাম্প্রতিক এ গবেষণার পর এ উদ্বেগ কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আই জার্নালে।

71 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন