হেলথ টিপস – যেভাবে ভালো রাখবেন শরীর

হেলথ টিপস – যেভাবে ভালো রাখবেন শরীর
5 (100%) 2 votes

হেলথ টিপস সম্পর্কে কিছু জানা থাকলে আপনি অনেক ছোটখাট অসুখ থেকে মুক্তি পাবেন। হেলথ টিপস আপনাকে সুস্হ্য রাখতে সাহায্য করবে। আমাদের মধ্যে কেউই অসুস্থ হতে চায় না। কারণ অসুস্থতা মানেই ঝামেলা এবং খরচের ব্যাপার। অসুস্থ হলে যে শুধু খারাপ লাগে তাই নয়, এর ফলে একজন ব্যক্তি কাজে বা স্কুলে যেতে পারেন না, অর্থ উপার্জন করতে পারেন না। উপরন্তু সেই ব্যক্তির দেখাশোনা করার জন্য আরেকজন লোকের প্রয়োজন হয় এবং তাকে হয়তো দামি দামি ওষুধ কেনার অথবা চিকিৎসা করানোর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। একটা সুপরিচিত প্রবাদ বলে, “বিপদ আসার আগেই সাবধান হওয়া ভালো।” এটা ঠিক যে, কিছু কিছু রোগ এড়ানো যায় না। তবে, সহজেই অসুস্থ না হওয়ার অথবা অসুস্থতা রোধ করার জন্য আপনি অনেক কিছু করতে পারেন। উত্তম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে বিভিন্ন মারাত্মক রোগের সংক্রমণও এড়ানো যায় যেমন, নিউমোনিয়া এবং ডায়েরিয়া। এই ধরনের রোগের কারণে প্রতি বছর কুড়ি লক্ষেরও বেশি শিশু মারা যায়, যাদের বয়স পাঁচ বছরের নীচে। হাত ধোয়ার মতো সাধারণ অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে এমনকী মারাত্মক ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণের হার কমানো যেতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

হেলথ টিপস

সুস্হ্য থাকতে হাত ধোয়া গুরত্বপূর্ণ

বিশেষ ভাবে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে হাত ধোয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনি নিজেকে ও অন্যদের সুস্থ রাখতে পারেন। মূলত এই সময় গুলোতে হাত ধোয়া উচিত –

▪টয়লেট ব্যবহার করার পরে।
▪বাচ্চাদের ডায়াপার বদলানোর পর অথবা তাদের টয়লেট করানোর পরে।
▪ক্ষতস্থান অথবা কাটা জায়গা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগানোর আগে এবং পরে।
▪কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার আগে এবং পরে।
▪খাবার প্রস্তুত করার, তা পরিবেশন করার অথবা খাওয়ার আগে।
▪হাঁচি দেওয়ার, কাশি দেওয়ার এবং নাক ঝাড়ার পরে।
▪কোনো পশুর গায়ে হাত দেওয়ার অথবা তাদের মল-মূত্র পরিষ্কার করার পরে।
▪আবর্জনা পরিষ্কার করার পরে।

আর সঠিক ভাবে হাত ধোয়ার বিষয়টাকে হালকা ভাবে নেবেন না। হেলথ টিপস হিসাবে এটা খুবই গুরত্বপূর্ণ। গবেষণা করে দেখা গিয়েছে, পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পরে হাত ধোয় না অথবা ধুলেও, সঠিকভাবে ধোয় না। কীভাবে হাত ধোয়া উচিত এবার দেখে নিন।

▪পরিষ্কার জলের নীচে হাত ভেজান এবং সাবান লাগান।
▪দু-হাত ঘষে ফেনা তৈরি করুন ও সেইসঙ্গে অবশ্যই নখ, বৃদ্ধাঙ্গুল, হাতের পিছন দিক এবং আঙুলের মাঝের জায়গা পরিষ্কার করুন।
▪অন্ততপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ঘষুন।
▪পরিষ্কার জলের নীচে হাত ধোন।
▪কোনো পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হাত মুছুন।

যদিও এই বিষয়গুলো খুবই সাধারণ কিন্তু এগুলো অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা করার এবং জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী।

শরীরের জন্য গুরত্বপূর্ণ হেলথ টিপস

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দূষিত জল ও খাবার খাওয়ার কারণে নানানরকম সমস্যা হয়ে থাকে। এই ধরনের এবং অন্যান্য জল দূষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে সচেতন থাকতে হবে। লক্ষ রাখুন যাতে পানীয় জল ও সেইসঙ্গে দাঁত ব্রাশ করার, খাবার ও বাসনপত্র ধোয়ার অথবা রান্না করার জল নিরাপদ উৎস থেকে আসে। সেই উৎস হতে পারে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য সরবরাহকৃত ভালোভাবে পরিশোধিত জল অথবা নির্ভরযোগ্য কোম্পানির দ্বারা সরবরাহকৃত সিল করা বোতল। কোনোভাবে যদি পাইপের জল দূষিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলে সেই জল ব্যবহার করার আগে ফুটিয়ে নিন অথবা উপযুক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে জল পরিশোধন করে নিন। বিভিন্ন কেমিক্যাল যেমন, ক্লোরিন অথবা জল পরিশোধক ট্যাবলেট ব্যবহার করার সময় প্রস্তুতকারী সংস্থার নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ে তা অনুসরণ করুন।

হেলথ টিপস (১) – গুণগত মানসম্পন্ন জলের ফিলটার ব্যবহার করুন, যদি তা সহজেই পাওয়া যায় এবং কেনার সামর্থ্য থাকে। এমনকী জল পরিশোধন করার কেমিক্যালও যদি পাওয়া না যায়, তা হলে ঘরে ব্যবহারযোগ্য ব্লিচ ব্যবহার করুন, ১ লিটার জলে দু-ফোঁটা (১ গ্যালন জলে আট ফোঁটা) ব্লিচ ভালোভাবে মিশিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন এবং এরপর ব্যবহার করুন।

হেলথ টিপস (২) – পরিশোধিত জল সবসময় পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে রাখুন, যাতে তা আবারও দূষিত হয়ে না যায়। লক্ষ রাখুন যাতে জল তোলার পাত্র পরিষ্কার থাকে। পরিষ্কার হাতে জলের পাত্র ব্যবহার করুন এবং জল তোলার সময় হাত ও আঙুল জলের মধ্যে ডোবাবেন না।

খাবারের প্রতি খেয়াল রাখুন

পুষ্টি ছাড়া ভালো স্বাস্থ্য সম্ভব নয় আর পুষ্টি লাভ করার জন্য স্বাস্থ্যকর, সুষম খাবার প্রয়োজন। আপনার খাদ্য তালিকার মধ্যে লবণ, চর্বি ও শর্করাযুক্ত খাবার থাকতে হবে, তবে লক্ষ রাখবেন যেন তা অতিরিক্ত হয়ে না যায়। এই তালিকার মধ্যে যেন ফলমূল ও শাকসবজিও থাকে আর খাবারে যেন বৈচিত্র্য থাকে। পাউরুটি, সিরিয়াল, পাস্তা অথবা চাল কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে লেখা উপকরণের তালিকা দেখে নিন, যাতে আপনি ভুসিযুক্ত খাবার বেছে নিতে পারেন। ভুসি ছাড়ানো শস্য থেকে তৈরি খাবারের বিপরীতে এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি ও ফাইবার থাকে। প্রোটিন পাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণ এবং কম চর্বিযুক্ত মাংস খান আর সপ্তাহে অন্ততপক্ষে কয়েক বার মাছ খাওয়ার চেষ্টা করুন।

হেলথ টিপস (১) – আপনি যদি শর্করা-জাতীয় খাবার এবং প্রচুর চর্বি রয়েছে এমন খাবার খুব বেশি খান, তা হলে আপনি অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে শর্করা রয়েছে, এমন পানীয়ের পরিবর্তে জল খান। শর্করা-জাতীয় ডেজার্টের পরিবর্তে বেশি করে ফল খান। যে-খাবারগুলোতে প্রচুর চর্বি রয়েছে সেগুলো কম খান, যেমন সসেজ, মাংস, মাখন, কেক, চিজ ও কুকিজ। আর রান্নার জন্য মাখন অথবা ঘি ব্যবহার করার পরিবর্তে, স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো এমন তেল ব্যবহার করুন।

হেলথ টিপস (২) – আপনার খাদ্য তালিকার মধ্যে যদি এমন খাবার থাকে, যেগুলোতে অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম রয়েছে, তা হলে সেটা আপনার রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনার যদি এই সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে সোডিয়ামের মাত্রা কমানোর জন্য প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে উপকরণের তালিকা দেখে নিন। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য লবণের পরিবর্তে বিভিন্ন পাতা বা মশলা ব্যবহার করুন। আপনি কী খান, সেটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, এর পাশাপাশি আপনি কতটা খান, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই, খাওয়ার সময় খিদে শেষ হয়ে গেলেও খেতে থাকবেন না। পুষ্টির সঙ্গে ফুড পয়জনিংয়ের বিষয়টাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেকোনো খাবারেই আপনার ফুড পয়জনিং হতে পারে, যদি তা ভালোভাবে তৈরি করা ও সংরক্ষণ করা না হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুসারে এইরকম খাবার খাওয়ার কারণে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ লোক অসুস্থ হয়। যদিও অনেকে এগুলোর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়, কিন্তু এগুলোর ফলে কেউ কেউ তাদের প্রাণ হারায়।

হেলথ টিপস (৩) – শাক সবজিতে হয়তো সার দেওয়া থাকতে পারে, তাই সেগুলো ব্যবহার করার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। প্রতিটা খাবার তৈরি করার আগে আপনার হাত, কাটিং বোর্ড, কাটার যন্ত্রপাতি, বাসনপত্র এবং রান্নাঘরের উপরিভাগের মেঝে গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন। খাবার যাতে আবারও দূষিত না হয়ে পড়ে, তাই কখনোই এমন কোনো জায়গায় অথবা পাত্রে খাবার রাখবেন না, যেখানে আগে কাঁচা ডিম, মাংস অথবা মাছ রাখা হয়েছিল। এইরকম কোনো জায়গা বা পাত্র ব্যবহার করার আগে তা ধুয়ে নিন।

হেলথ টিপস (৪) – সঠিক তাপমাত্রায় না পৌঁছানো পর্যন্ত খাবার রান্না করুন এবং সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে, এমন যেকোনো খাবার সঙ্গেসঙ্গে না খেলে তাড়াতাড়ি তা ফ্রিজে রাখুন। ঘরের তাপমাত্রা যদি ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকে, তা হলে সেখানে সহজেই নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবার এক বা দু-ঘন্টার বেশি সময় থাকলে, সেটা ফেলে দিন।

গরমে ভালো থাকার হেলথ টিপস

প্রচণ্ড গরমে বাইরের তাপমাত্রার সাথে সাথে শরীরের অভ্যন্তরের তাপমাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে নানান রকম শারীরিক গোলোযোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হরমোন এবং এনজাইমগুলোর স্বাভাবিক কাজও ব্যাহত হয়। এ ছাড়া সরাসরি রোদ লাগলে চোখ এবং ত্বকে সমস্যা হতে পারে, তাই বেলা ১১টার পর এবং বিকেল ৪ টার বাইরে গেলে ছাতা, সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। গরমে সব থেকে বেশি অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের। তাই এদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। রোদ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। শরীরে অস্বস্তি হলে, মাথা ঝিমঝিম করলে ঠাণ্ডা জায়গায় গিয়ে লবণ-চিনির শরবত পান এবং প্রয়োজনে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে হবে। রাস্তাতে অসুস্থ বোধ করলে অবিলম্বে ছায়াতে গিয়ে পানি পান করতে হবে। এই সময় হালকা রঙের সুতির পোশাক পরা উচিত। যাদের হাই ব্লাড প্রেসার আছে তাদের কম লবণ খাওয়া উচিত। ঘামের সাথে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে গিয়ে শরীর খারাপ লাগতে পারে। তাই এই সময়টায় সঠিক মাত্রায় স্যালাইন ওয়াটার বা ডাবের পানি পান করতে হবে।

ছুটির দিনের হেলথ টিপস

আধুনিক জীবন দিনকে দিন হয়ে উঠছে যান্ত্রিক। সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই এখন কাটাতে হয় নিদারুন ব্যস্ততায়। সারা সপ্তাহের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ কাটাতে ছুটির দিনগুলোতে দরকার পরিমিত বিশ্রাম। সাথে দরকার স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আর শরীরের প্রতি একটু বিশেষ যত্ন। অথচ হাল আমলে আমরা ছুটির দিনটাকেই সপ্তাহের সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন বানিয়ে ফেলি। বাঁধা পড়ি নানা অনিয়মের বেড়াজালে। এই ধরনের জীবন যাপন শরীরের উপর যেমন ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তেমনি এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও। তাই সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে ছুটির দিনগুলোতে কিছু হেলথ টিপস মেনে চলতে পারেন । চলুন সেগুলো জেনে নেই-

হেলথ টিপস (১) – ছুটির আগের রাতে পরিমিত ঘুমান। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঘুম বা রাত্রিজাগরণ উভয়ই শরীরের জন্য খারাপ। ছুটির আগের রাত ও ছুটির দিনেও কমপক্ষে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমান। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠুন ও কিছু সময় প্রার্থনা করুন।

হেলথ টিপস (২) – সকালবেলা শরীর চর্চা, বাজার করা ও রান্না-বান্নার জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেলে দুপুর বা বিকালটা রাখুন একান্ত নিজের জন্য। মনে রাখুন ছুটির দিনটা দেওয়া হয়েছে একটু বিশ্রামের জন্যই।

হেলথ টিপস (৩) – সপ্তাহের অন্যান্য দিন হয়ত ব্যস্ততার কারনে শরীরের যত্ন নেওয়ার সময় পাওয়া যায় না। ছুটির দিনে এই সুযোগটা কাজে লাগান। শরীরের যত্ন নিন ত্বকের যত্ন নিন। সময় করে চুল ও নখ কাটতে পারেন। গোসল করুন একটু সময় নিয়ে। সপ্তাহে অন্তত একদিন ভালো করে শ্যাম্পু করা উচিত। শ্যাম্পুর জন্য ছুটির দিনটিকে বেছে নিতে পারেন। ত্বক ও চুলের যত্নেও বিশেষ কিছু করতে পারেন।

হেলথ টিপস (৪) – ব্যায়াম শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ায় ও শরীর হালকা রাখতে সাহায্য করে।  ছুটির দিনে নিয়ম করে হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। এটা দুশ্চিন্তা দূর করতে ও মানসিক প্রশান্তি আনতে বিশেষ সহায়ক। মনে রাখবেন, নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে অনেক প্রাণঘাতি রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে। ছুটির দিনে একটু বাড়তি ব্যায়াম করুন চাইলে সাথে যোগ ব্যায়াম ও করতে পারেন।

হেলথ টিপস (৫) – স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিমিত খাবার গ্রহণ করুন। খাবারের পুষ্টিগুণ এবং শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ বা চর্বির মধ্যে সামঞ্জস্য খেয়াল রাখুন। মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাবেন না। অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করুন। পরিমিত খান। খাবারে প্রচুর পরিমানে সবজি রাখুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। খেয়াল রাখবেন, ভালো পরিপাকের জন্য খাবার ভালমতো চিবিয়ে খেতে হবে।

হেলথ টিপস (৬) – ছুটির দিনে প্রিয়জনদের সময় দিন। এদিন সময় করে আত্নীয় স্বজন ও কাছের মানুষদের সাথে দেখা করতে যেতে পারেন। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধি মানসিকভাবে আপনাকে সুস্থ রাখবে এবং সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করবে। সময় থাকলে কাছে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন। এমন জায়গা নির্বাচন করুন যা বাসা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। নির্মল বাতাস নিতে প্রকৃতির ছোঁয়া আছে এমন কোন জায়গায় যেতে পারেন। দূষণমুক্ত বাতাস ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আপনার মন ও শরীরকে নিমিষেই চাঙ্গা করে তুলবে। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো সতেজ ও সুস্থ থাকতে এটা খুবই সহায়ক।

হেলথ টিপস (৭) – সৃজনশীল কিছু করার চেষ্টা করুন। সৃজনশীলতা আপনার তারুণ্য ধরে রাখে, বয়স কমিয়ে দেয়। ছুটির দিনের অবসরে বাগান করায় সময় দিতে পারে। লেখালেখির অভ্যাস থাকলে তাও করতে পারেন।

ডায়েট চার্ট হেলথ টিপস

আপনার ওজন কমাতে চান? ফলো করুন ডাক্তারি এই ডায়েট চার্টটি। এই ডায়েট চার্টটা তাদের জন্য যাদের ৮-১৫ কেজি ওজন কমাতে হবে। এটা অনুসরণ করলে মাসে ২.৫-৩ কেজি ওজন কমবে।
তাহলে এবার দেখে নিন।

হেলথ টিপস (১) – সকাল ৭ টায় এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস ও মধু দিয়ে মিশিয়ে খাবেন। তারপর ১০০ বার দড়ি লাফ খেলবেন বা ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটবেন। অবশ্যই জোরে জোরে হাঁটতে হবে। ধীর গতির হাটাতে কাজ হবে না। অনেকটা লম্বা সোজা রাস্তায় হাটা ভাল। এরপর ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করবেন। সকালের নাস্তা কখনো বাদ দিবেন না। না খেয়ে থাকা ওজন কমায় না বরং ওজন বৃদ্ধি করে। সকালের নাস্তাটা অবশ্যই ঘুম ভাঙ্গার ১ ঘন্টার মধ্যে খাবেন।  সকালের নাস্তায় থাকবে-২ টা রুটি (পাতলা ও ছোট)+অল্প তেলে সিদ্ধ সবজি ভাজা+১ টি ডিমের সাদা অংশ। সাথে রাখবেন ১ বাটি সালাদ। যেমন: টমেটো ও শশা।

হেলথ টিপস (২) – সকাল ১১ টায় আবার কিছু খেতে হবে। সকালে যেহেতু খাবারের পরিমাণটা কম থাকবে তাই এই সময় কিছু খাওয়া জরুরি। এই সময় খাওয়ার জন্য বেছে নিন ১ টি পেয়ারা/১ টি কমলা/১ টি আপেল/১ টি আমড়া। ইচ্ছে হলে খেতে পারেন ১ কাপ গ্রীণ টি।

হেলথ টিপস (৩) – দুপুর ১:৩০ থেকে ২ টার দিকে ১ কাপ ভাত+১ কাপ ডাল+১ পিস মাছ বা মুরগীর মাংস (ঝোল বাদে)+১ বাটি সালাদ। ভাত ১ কাপের বেশি না। খাওয়ার আগে ১-২ গ্লাস পানি খাবেন। এতে খাওয়ার রুচি কমে যাবে। চাইলে ভাতের সাথে ১ বাটি সবজি নিতে পারেন। পেট ভরানোর চেষ্টা করবেন সিদ্ধ সবজি+সালাদে। ভুলেও ১ কাপের বেশি ভাত নিবেন না। দুপুরের খাওয়ার পর আস্তে আস্তে ১০ মিনিট হাটুন। দুপুরে ঘুমাবেন না।

হেলথ টিপস (৪) – এর পর বিকেল ৫ টায়  চিনি ছাড়া টোস্ট+১ কাপ গ্রীন টি অথবা ২ টা লাক্সেস বিস্কুট+১ কাপ গ্রিণ টি। সন্ধ্যা ৭ টায় ইচ্ছে করলে খাবেন না করলে না। ১ টি ফল খান। যেমন – আপেল/কমলা/­­­আমড়া। ১ টি টোস্টও খেতে পারেন। অথবা বাসায় তৈরি টাটকা ১ গ্লাস সবজি বা ফলের রস।

হেলথ টিপস (৫) – রাতের খাবার আগে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কখনো ভাববেন না রাতে না খেয়ে ওজন কমাবো তবে কিন্তু হিতে বিপরীত। খাবেন রাতে তবে সেটা হালকা খাবার। ১ টি রুটি+১ বাটি সবজি+১ কাপ সালাদ/১ কাপ ফ্যাট ফ্রি দুধ। সকালে যেটা খাবেন রাতে সেটা বাদ দিন। অর্থাৎ সকালে স্পেসাল কিছু খেলে রাতে রুটি খান। রুটি পাতলা,ছোট ও লাল আটার হতে হবে।

অনেক রাত জেগে থাকার অভ্যাস থাকলে বন্ধ করুন। রাতে ১১-১২ টা এর মাঝে ঘুমান। অবশ্যই রাতের খাওয়া শেষ করে ৩০ মিনিট হাটা হাটি করুন। সম্ভব হলে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করুন। ক্ষুধা অনুভব করলে ১ টি আপেল, কমলা, পেয়ারা খান। ক্ষুধা রাখবেন না পেটে।

শিশুর জন্য হেলথ টিপস

▪ফল জাতীয় খাবার না ধুয়ে খাওয়াবেন না।
▪ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সর্দি-কাশির জন্য অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়াবেন না।
▪না খেলে বা দুষ্টমি করলে কখনো আপনার শিশুকে ভয় দেখাবেন না। এতে মানসিক বিকাশে সমস্যা হতে পারে।
▪শিশুকে মারধর করবেন না, সমস্যা হলে বুঝিয়ে বলুন।
▪সাধারন সর্দি-কাশি বা জ্বর হলে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না।
▪শিশুর সামনে কখনো ধূমপান করবেন না।
▪শিশুকে নিয়ে কোন ধরনের ভয়ের সিনেমা, নাটক দেখবেন না।
▪রান্নাঘর বা টয়লেটে আপনার শিশুকে একা ছাড়বেন না।
▪সুই, কাঁচি, দিয়াশালাই, ছুরি, ধারালো অস্র এবং সব ধরনের ওষুধ শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।

প্রতিদিনের প্রয়জনীয় হেলথ টিপস

১। প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করুন।
২। প্রত্যেক বারের খাবারে দুইটি সবজি এবং একটি ফল অর্ন্তভুক্ত করুন।
৩। প্রত্যেকবারের খাবারের শুরুতে কাঁচা সবজির সালাদ খান।
৪। বিভিন্ন রকমের সবজি দিয়ে হালকা নাস্তা তৈরী করুন।
৫। দিনের শুরুতে লেবু দিয়ে হালকা গরম পানি পান করুন
৬। শুধুমাত্র টাটকা সবজি খান।
৭। সপ্তাহে অন্তত: একদিন দুপুর পর্যন্ত শুধুমাত্র ফল খান এবং তারপরে দিনের প্রথম খাবার খান।
৮। তৎক্ষনাত রান্না করা খাবার খান
বাসি খাবার খাবেন না।
৯। ধুমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
১০। বাহীরের ভাজা পোড়া খাবার ত্যাগ করুন।
১১। খাবারের তালিকা থেকে উচ্চ
চিনিযুক্ত খাবার যেমন- হালকা পানীয়, আইসক্রিম, ক্যান্ডি এবং কুকিজ বাদ দিন।

66 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন