হাসি আপনার মন এবং শরীরের জন্য খুবই উপকারী

হাসি আপনার মন এবং শরীরের জন্য খুবই উপকারী
5 (100%) 7 votes

হাসি শরীর এবং মনের জন্য খুবই উপকারী। হাসি (Smile) হল, ‘মুখের একটা ভঙ্গি যার ফলে ঠোঁটের দুই কোণ কিছুটা ওপরের দিকে বেঁকে যায় এবং খুশি, আনন্দ ও সম্মতিকে প্রকাশ করে।’ আর মিষ্টি হাসির রহস্য তো এখানেই। হাসি হল কথা না বলে অন্যের কাছে মনের অনুভূতিকে জানানোর উপায়। যখন আমরা মন খুলে জোরে জোরে হাসি, তখন আসলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করি, অর্থাৎ ‘হাসি’ কিছুটা হলেও এক্সারসাইজের মত কাজ করে। এই বেশি অক্সিজেন আমাদের পেশি এবং হৃৎপিণ্ডকে বেশি বেশি শক্তি পেতে সাহায্য করে। ফলে আমাদের পেশি আর আর হৃৎপিণ্ড সহজে ক্লান্ত হয় না। এছাড়াও ‘হাসি’ আমাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

হাসি

হাসি আমাদের শরীরের যে উপকার করে

হাসি হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সহায়তা করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের হৃদরোগ আছে তারা অন্যদের চাইতে হাসির চর্চা কম করেন। এছাড়া সাধারণ জীবনে তাদের হিউমার বা রসবোধটাও কম থাকে। রসবোধ হৃদপিণ্ড সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে। হাসি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। ‘দি ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট সেন্টারস অফ আমেরিকা’ ক্যান্সারের রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, কষ্ট লাঘব করতে ও মানসিক অবস্থা উন্নত করতে হাসি-থেরাপি ব্যবহার করেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ‘হাসি’ মানুষের সম্পর্ক ঘনিষ্ট করে। রাগ ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে ইতিবাচক অনুভূতি ফিরিয়ে আনতে পারে। কঠিন সময়ে মানসিক চাপ কমাতে পারে আর সম্পর্কের জটিলতায় সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এই আধুনিক যুগে মানসিক চাপ অন্যতম একটি রোগ। আর এই কারণেই হয়ত হাসি’র নানান রকম উপকারীতা রয়েছে। মানসিক চাপ উপশম করে এবং পুরো শরীরের অক্সিজেন সরবারহ করতে পারে ‘হাসি’, যা মানসিক চাপের সময় খুবই প্রয়োজনীয়। হাসলে এনডোরফিনের পরিমাণ বাড়ে,এটা মস্তিষ্কের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এক ডোজ হাসির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখতে পান,  মানুষ যত বেশি হাসে ততই ব্যাথার অনুভূতি কমে। শুধু তাই নয় ‘হাসি’ বিষণ্ণতা কমায়। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, হাসি বিষণ্ণতা কমানোর ওষুধ হিসেবে কাজ করে। যারা বেশি হাসেন তাদের বিষণ্ণতা ও দুশ্চিন্তা কম। আর যারা রসিকতাটা জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেছেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক ইতিবাচক যা তাদের বিষণ্নতার হাত থেকে রক্ষা করে। জাপানে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে সন্ধ্যায় হাসাহাসি করলে রাতের ঘুম ভালো হয়। সুখ নিদ্রা দিতে শোয়ার আগে মজার বই বা টিভিতে মজার কোন ধারাবাহিক দেখতে পারেন।

ভাল চিন্তা সহজেই মুখে হাসি ফোটায়

আমরা মন থেকে হাসতে চাই। মনে রাখবেন, ‘হাসি’ হল কথা না বলে আমাদের অনুভূতিকে জানানোর এক উপায়। সত্যিকারের হাসি আমাদের চিন্তাভাবনা ও আবেগ-অনুভূতি থেকে আসে। অতএব, আমাদের সবসময় ভাল চিন্তা করার চেষ্টা করা দরকার। কারণ অন্যদের সম্বন্ধে আমরা কী ভাবি তা আমাদের চেহারায় ফুটে ওঠে। তাই আসুন আমরা আমাদের পরিবারের লোকেদের, প্রতিবেশীদের ও কাছের বন্ধুদের ভাল গুণগুলো দেখার চেষ্টা করি। তা করলে আমরা সহজেই তাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে পারব। আর এটা হবে সত্যিকারের হাসি কারণ আমাদের মনে তাদের জন্য ভাল চিন্তা, করুণা ও দয়া রয়েছে। এছাড়া আমাদের চোখেও তা ফুটে উঠবে আর এতে করে তারা বুঝবে যে আমরা মন থেকেই হাসছি। যাইহোক, অন্যদের দিকে তাকিয়ে হাসা যদি আপনার কাছে শক্ত কাজ বলে মনে হয়, তাহলে বার বার তা করার চেষ্টা করুন।

জেনে নিন হাসি বিষয়ে ৭টি দারুণ তথ্য

হাসি বিষয়ে বেশ মজার কিছু তথ্য রয়েছে। ‘হাসি’ শুধু সুখের প্রকাশ নয়, এর দ্বারা অসম্ভবকে জয় করা যায় এবং বৈপরিত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা যায়। একটি সাধারণ হাসি বাজে দিনকেও উজ্জ্বল করে দিতে পারে।

১. সফলতার প্রতিফলন : হাসির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় আপনার আত্মবিশ্বাস, প্রতিযোগী মনোভাব এবং পেশাদারত্ব। তাই কর্মক্ষেত্রে হাসি আপনাকে সফলদের একজন করে ফুটিয়ে তুলতে পারে। তাই হাসির মাধ্যমে কর্টিসল হরমোনকে বিদায় দিয়ে শুধু স্ট্রেস কমানোই নয়, সফলতাকেও উপভোগ করতে পারেন।

২. আবেগ বহন করে : সবচেয়ে বড় তথ্যটি হলো, হাসি আবেগ বহন করে। হাসিতে রয়েছে সুখ, আনন্দ এবং ভালোবাসা। এ ছাড়া আরো অনেক কারণে আমরা হাসি। অনেক আবেগের সঙ্গে মিশে যেতেও হাসি আমরা। রাগ, দুঃখ অথবা যন্ত্রণা মেনে নিতেও ‘হাসি’ আমরা।

৩. রাসায়নিক ক্রিয়া : হাসার কারণে মস্তিষ্ক থেকে এন্ডোরফিনস নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন সুখের অনুভূতি দেয়। হাসি আসল বা মেকি যাই হোক না কেন, এই হরমোন ক্ষরণ হয়। ফলে অযথা হাসলেও মনটা ভালো হয়ে যাবে।

৪. সময় থেমে যায় : যখন সত্যি সত্যি আন্তরিকভাবে হাসেন আপনি, তখন মুহূর্তেই সব বদলে যায় আপনার। মুখের সমস্ত পেশি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। চোখের চারদিকের পেশি জানিয়ে দেয় হাসিটি আন্তরিক, নাকি মেকি। যেকোনো সময়কে তৎক্ষণাত বদলে দেওয়া যায় হাসির মাধ্যমে। চেহারার গড়ন বদলে যায় এবং তারুণ্যের আভা ফুটে ওঠে ব্যক্তিত্বে।

৫. দৈহিক স্বাস্থ্য : এন্ডোরফিনস হরমোন বিষনাশক হিসেবেও কাজ করে। এই হরমোন ক্ষরণের সঙ্গে সঙ্গে কর্টিসল নামের আরেক হরমোন কমে যায় যা কষ্টের অনুভূতি দেয়। তা ছাড়া হাসির ফলে বিপাক ক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। আর এসব কারণেই বলা হয়, হাসিই সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ।

৬. স্ট্রেস কমিয়ে দেয় : গভীর ভাবে শ্বাস নিয়ে আবার ছেড়ে দেওয়া এবং সামান্য মুখের পেশির নড়াচড়ায় এন্ডোরফিনসের আগমন ঘটে। ফলে কর্টিসল দ্রুত ভেগে যায় এবং এতে মানসিক চাপ কমে যায়। তা ছাড়া শুধু হাসিমুখ করে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও স্ট্রেস কমিয়ে ফেলা যায়।

৭. উন্নত জীবন : বাজে একটি দিন অতিবাহিত করে থাকলে এমন কিছু খুঁজে বের করুন যাতে আপনি হাসতে পারেন। আশপাশের সুন্দর সুন্দর জিনিসগুলো দেখুন যেখানে হাসির উপাদান রয়েছে। যত হাসবেন জীবনটাকে তত উপভোগ্য মনে হবে। উন্নত জীবন মানেই হাসি আনন্দে ভরপুর জীবন।

292 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন