হারবাল রুপচর্চা করবেন যেভাবে

হারবাল রুপচর্চা করবেন যেভাবে
5 (100%) 3 votes

হারবাল রুপচর্চার বিকল্প নেই। হারবাল উপায়ে রূপচর্চার প্রাকৃতিক পদ্ধতিই সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। সারা বিশ্বের মানুষ ত্বকের যত্ন নিতে বর্তমানে হারবাল পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। কারণ এতে কোনো ক্ষতিকারক দিক নেই। তবে কোন ত্বকে কেমন যত্ন প্রয়োজন তা আগে থেকেই জানা থাকতে হবে। অনেকেই বিভিন্ন ধরণের কসমেটিক্স পণ্য ব্যবহার করেন। যদিও এর দ্বারা উজ্জ্বল ত্বক Fair Skin পাওয়া হয়না। আপনার ত্বকের জন্য ভেতর থেকে এবং বাহির থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। কেমিক্যাল কসমেটিক্স এই পুষ্টি সরবরাহ করতে পারেনা এবং এরা কেবল বাহিরের ত্বকেই কাজ করে। প্যাকেটজাত পণ্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য হারবাল পণ্য ব্যবহার করুন। এই হারবাল উপাদানগুলো আপনার রান্নাঘরেই পাবেন এবং এরা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের উপর ভালো প্রভাব ফেলে। তাই ত্বকের সজীবতা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে হারবাল উপায়ের গুরুত্ব অপরিসীমই বটে!

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

হারবাল

উজ্জ্বল ত্বক পেতে হারবাল টিপস

উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য হারবাল পণ্য ব্যবহার করুন। এই হারবাল উপাদানগুলো আপনার রান্নাঘরেই পাবেন এবং এরা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের উপর ভালো প্রভাব ফেলে। চলুন তাহলে জেনে নিই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সাহায্যকারী হারবাল উপাদানগুলো সম্পর্কে।

আঙ্গুর – ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য আঙ্গুর ব্যবহার করতে পারেন। কয়েকটি আঙ্গুর থেঁতলে নিয়ে আপনার মুখের ত্বকে লাগান।

শশা, গ্লিসারিন ও গোলাপজল – শশা থেঁতলে রস বের করে এর সাথে গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। বাহিরে যাওয়ার পূর্বে ও বাসায় ফেরার পরে এই ফেস মাস্কটি ব্যবহার করতে পারলে উপকার পাবেন।

চন্দন, হলুদ এবং দুধ – চন্দনের মিহি গুঁড়োর সাথে সামান্য হলুদ গুঁড়ো এবং দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট মুখে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এতে হারবাল উপায়ে আপনার ত্বক প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল ও সতেজ হবে।

মধু ও দুধের সর – দুধের সরের সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হয়, বিশেষ করে শীতের দিনে।

টাটকা দুধ ও লেবুর রস – টাটকা দুধের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং ত্বকের ছিদ্রগুলো উন্মুক্ত হয়।

টমেটোর জুস – টমেটোর জুসের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হয়।

হলুদ গুঁড়ো, আটা ও তিলের তেল – হলুদ গুঁড়ো, আটা ও তিলের তেল একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণটি ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের অবাঞ্ছিত লোম দূর হয়, সেই সাথে ত্বকের উজ্জলতাও বৃদ্ধি পায়।

বাঁধাকপির জুস ও মধু – বাঁধাকপির কিছুটা অংশ থেঁতলে রস বের করুন। এই রসের সাথে মধু মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং বলিরেখা প্রতিরোধ করা যায়।

গাজরের জুস – ত্বকের উজ্জ্বলতা প্রাকৃতিক ভাবে বৃদ্ধি করার জন্য গাজরের জুস চমৎকার কাজ করে। গাজর ছোট ছোট টুকরা করে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করে নিতে পারেন।

মধু ও দারচিনি গুঁড়ো – মধু ও দারুচিনি গুঁড়া ৩ : ১ অনুপাতে মিশিয়ে ব্রণ আক্রান্ত ত্বকে লাগিয়ে সারারাত রাখুন। এতে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর হয়।

অ্যালোভেরা জুস – অ্যালোভেরা হলো ত্বক পরিষ্কারের প্রাকৃতিক হারবাল ফেসওয়াস। অ্যালোভেরা জুস ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ দূর হয় এবং ত্বক হাইড্রেটেড থাকে। অ্যালোভেরা জেল ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে চমৎকার কাজ করে।

নিম, তুলসি ও গোলাপজল – মুলতানি মাটির সাথে গোলাপের পাপড়ি, নিম পাতার গুঁড়ো, তুলসি পাতার গুঁড়ো ও গোলাপ জল বা লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ ত্বক পাওয়া যায়।

হারবাল বাথ বাড়িতেই

সুস্থ সতেজ শরীর ও ক্লান্তি-দুশ্চিন্তাহীন মনের  জন্য হারবাল বাথ খুব উপকারি। জানা যায়, প্রাচীন রোমান সম্প্রদায় প্রথম হারবাল বাথের প্রচলন করে। এরপর সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এর জনপ্রিয়তা। দেহ-মনকে সুস্থ রাখার জন্য আজকাল পৃথিবীজুড়ে হারবাল বাথ খুবই জনপ্রিয়। দেশ-কাল পেরিয়ে আমাদের দেশেও হারবাল বাথের ছোঁয়া লেগেছে। তাহলে এবার জেনে নেওয়া যাক হারবাল বাথের নিয়ম।

▪গোসলের আগে শরীরে বেবি অয়েল কিংবা অলিভ অয়েল মেখে নিন।

▪গোসলের জন্য গরম পানিতে কয়েক টুকরা আদা ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন।

▪গোসলে আপনার পছন্দের সাবান ব্যবহার করুন।

▪সাবান ব্যবহারের পর আদা পানি গায়ে ঢালুন।

▪গোসলের সময় পাতলা কাপড় কিংবা স্পঞ্জের গায়ে সাবান লাগিয়ে শরীর ভালোভাবে মাজুন।

▪পানিতে নিমপাতা দিয়ে ফোটান। এরপর পানি ঠাণ্ডা হলে ছেঁকে গোসল করুন।

▪গোসলের পানিতে ফুলের পাপড়ি, লেবুর টুকরা একসাথে ফুটিয়ে রাখুন। ঠাণ্ডা হলে মুখে পানির ঝাপটা দিন।

▪গোসলের পানিতে কয়েক ফোটা ভিনেগার দিন।

▪গোসলের যাবার আগে চন্দনের পেস্ট, গোলাপজল মিশিয়ে সাবানের মতো সারা গায়ে মেখে নিন। শুকিয়ে এলে ভেজা রুমাল দিয়ে মুছে নিন এবং প্রচুর পানি দিয়ে গোসল করুন।

▪অলিভ অয়েলের সাথে চিনি মিশিয়ে তা হাতে এবং পায়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ ত্বকের মরা কোষ দূর করে।

▪গোসলের সময় প্রয়োজনে এন্টিসেপটিক সাবান ব্যবহার করুন, যা সারাদিন আপনাকে জীবাণুর হাত থেকে নিরাপদ রাখবে।

▪দু চামচ শ্যাম্পু, অলিভ অয়েল এবং কয়েক ফোঁটা পারফিউম একসাথে মিশিয়ে সারা গায়ে ম্যাসাজ করুন। এই হারবাল পদ্ধতি ব্যবহারে গোসলের পর আপনার শরীরে একটা সুন্দর গন্ধ থাকবে সারাদিন।

চুলের সৌন্দর্যে হারবাল

ত্বক যতই সুন্দর হোক না কেন চুল যদি হয় উস্কো–খুস্কো তবে সব সাজসজ্জাই মাটি হয়ে যাবে। আর তাই চুল সুন্দর করতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। তাই হারবাল পদ্ধতিতে চুলের যত্ন নিন।

চুলকে মসৃণ করতে আমলকীর রস ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় ৪০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে নিন। চুল কালো করতে চাইলে জবা ফুলের রস লাগান। পুষ্ট ও ঝলমলে চুলের জন্য পাকা কুমড়ার বীজ চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। পাকা কুমড়ার বীজ শুকিয়ে বায়ু নিরোধক পাত্রে রেখে দিন এবং মাঝে–মধ্যে চিবিয়ে খান। চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে পেঁয়াজের রস পুরো মাথায় লাগান। শুকিয়ে গেলে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে আপনি চুলে রিঠা ব্যবহার করতে পারেন। এক মুঠো রিঠা সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ফুটিয়ে নিন। তারপর তা চুলে শ্যাম্পুর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করুন। মসুর ডাল বাটার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে প্যাক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। আধা ঘণ্টা মাথায় রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুল সতেজ হবে। এছাড়া সারা রাত মেথি ও কয়েকটা কাঁচা আমলকী পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন তা বেটে চুলে লাগান। চুল ঝরঝরে করার জন্য মেহেদি, আমলকী, টকদই ও ডিম ভালোভাবে মিশিয়ে চুলে মাখুন এবং এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চুলের প্রোটিন ট্রিটমেন্টের জন্য ডিমের সাদা অংশ ফেটে তাতে মেথি গুঁড়া মিশিয়ে চুলে লাগান।

85 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন