হস্তমৈথুন করলে শরীরে যে ধরণের সমস্যা হয়

হস্তমৈথুন করলে শরীরে যে ধরণের সমস্যা হয়
5 (100%) 4 votes

হস্তমৈথুন বা মাস্টারবেশন ব্যাপারটির সাথে সব মানুষই কমবেশি পরিচিত। বিভিন্ন ধর্মে হস্তমৈথুন একটি নিষিদ্ধ যৌনকর্ম। কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক এটিকে মানুষের সাধারণ যৌনক্রিয়া হিসেবে গণ্য করেছেন। নারীদের মাঝেও হস্তমৈথুন আছে, তবে পুরুষের মাঝেই বিষয়টির আধিক্য বেশি। হস্তমৈথুন প্রসঙ্গে নানান রকমের কুসংস্কার ও ভুল ধারণা আছে সবার মাঝেই। কেউ কেউ মনে করেন হস্তমৈথুন করায় কোন দোষ নেই, কেউ কেউ ভাবেন ব্যাপারটি খুব খারাপ, কারো মনে হয় এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে মূল বিষয়টি হচ্ছে, হস্তমৈথুন কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না।

হস্তমৈথুন

হস্তমৈথুন নিয়ে ইসলাম ধর্ম কি বলে

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

হস্তমৈথুন (Masturbation) বা স্বমেহন বর্তমানে একটি বড় সমস্যা। কিন্তু ইউরোপীয় অনেক দেশ বয়সন্ধিকালীন ছেলে মেয়েদের হস্তমৈথুন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে থাকে। হস্তমৈথুন একটি ভাল অভ্যাস বলে তারা প্রচার করছে। কারণ? কারণ হলো ব্যবসা। হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফির খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। জুতার সাথে মোজার,চায়ের সাথে বিস্কুটের, কাগজের সাথে কলমের যেরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হস্তমৈথুনের সাথে পর্ণোগ্রাফিরও সে রকমই সম্পর্ক। পর্ণোগ্রাফির ব্যবসা হল কোটি কোটি টাকার ব্যবসা। পশ্চিমারা যদি হস্তমৈথুনের অপকারিতা মানুষের কাছে তুলে ধরে তাহলে তাদের কোটি কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হবে। কারণ তখন হস্তমৈথুনের হার কমে যাবে। ফলে পর্ণো সিডি, ম্যাগাজিনের বিক্রি ব্যাপক ভাবে কমবে। এজন্য তারা হস্তমৈথুনের কোন অপকারিতা নেই বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সমকামিতা বৈধ করেছে। সমকামিতার মত হস্তমৈথুনের অপকারিতাকেও তারা এড়িয়ে চলছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন– ‘যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব। (বুখারী)।’ যেহেতু এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক, তাই রোযার মাধ্যমে যৌনতাকে দমন করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, এর দ্বারা চোখ নিচে থাকবে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত হবে। আর যে বিবাহ করার সামর্থ রাখে না,সে যেন সিয়াম বা রোজা রাখে। কারণ, সিয়াম বা রোজা তার কুপ্রবৃত্তিকে দমন করবে। (বুখারী।’

হস্তমৈথুন এবং মানসিক সমস্যা

অধিকাংশ মানুষেরই ধারণা। পুরুষই শুধু হস্তমৈথুন করে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা অন্য। পুরুষ খোলামেলা তাই বিষয়টি সামনে আসে। নারী রহস্যময়ী। তাই তার অনেক কিছুই সামনে আসে না। কারণটা অবশ্য সামাজিক গ্লানি, বদনাম, কলঙ্ক। পুরুষের তো ওসবের বালাই নেই। তাই নারীকেই নিজের সম্ভ্রম বাঁচিয়ে চলতে হয়। সেই জন্যই হয়তো মুখে কুলুপ-আটা। তাই জানা যায় না। তবে এটাও ঠিক, নারীর যৌনজীবন শুরু হলে তার হস্তমৈথুনও কমে যায়। পুরুষের বেলায় সেটা হয় না। সম্পূর্ণ যৌনজীবনে থেকেও হস্তমৈথুন চলতে থাকে অনেকের। আসলে হস্তমৈথুনের প্রধান সমস্যাটি ঘটে মানসিক ক্ষেত্রে। হস্তমৈথুন নিজেই একটি মানসিক ব্যাধি। মানসিক সমস্যার একটি বৈশিষ্ট্য আছে সেটা হল অনেক সময় মানসিক রোগী বুঝতেই পারে না যে তার মানসিক সমস্যা আছে! বেশির ভাগ সময়ই হস্তমৈথুনকারীরা অপবিত্র থাকে। পবিত্র থাকাটা তাদের জন্য কঠিন। কারণ Leakage of semen. হস্তমৈথুনকারীদের মাথায় সারাদিন সেক্স সংক্রান্ত বিষয়াদি ঘুরপাক খায়। ফলশ্রুতিতে সে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যায়। মহান আল্লাহ্‌ তাকে কেন সৃষ্টি করেছেন সেটা ভুলে যায়। হস্তমৈথুনকারীরা নিজেদের যৌন উত্তেজনায় উত্তেজিত করার জন্য অশ্লীল ছবি, বাংলা চটি গল্প , সেক্স চ্যাট , সেক্স গেম ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত থাকে যা তাদের এবং ইসলামের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করে। অনেকে হস্তমৈথুন করে Stress দূর করার জন্য। প্রেমের সম্পর্কে যখন ঝগড়া হয় তখন অনেকে Stress দূর করার জন্য হস্তমৈথুন করে। তেমনি কেউ যদি পরীক্ষা খারাপ দেয় সেও হস্তমৈথুন করে Stress দূর করার জন্য। তাই হস্তমৈথুনের সাথে মাদক দ্রব্যের অনেক মিল রয়েছে। হস্তমৈথুনের সময় ব্রেইনে কৃত্তিম আনন্দ সৃষ্টি হয়। আমাদের ব্রেইনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি নিউরোট্রান্সমিটার হল ডোপামিন। ডোপামিনের অনেক কাজ। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, এটি মানুষের আনন্দ এবং সুখের অনুভূতি গুলো বহন করে সেগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী আমাদের নিউরন বা ব্রেইন সেলে পাঠিয়ে দেয়। ড্রাগস বা নেশা জাতীয় দ্রব্য এই ডোপামিন কে টার্গেট করেই তৈরি হয়। ড্রাগস আমাদের ডোপামিনার্জিক সিস্টেম কে ফোর্স করে প্রচুর পরিমাণ ডোপামিন রিলিজ করতে ট্রিগার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে যখন আমরা ড্রাগস বা নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করি, আমাদের নিউরণ এ অতিরিক্ত ডোপামিন এর উপস্থিতির ফলে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ভিন্ন, অস্থির এবং চরম এক সুখানুভূতি এসে আমাদের আচ্ছন্ন করে। ড্রাগসের ধরণ এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে এটি কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা অথবা কয়েক দিন পর্যন্ত ও স্থায়ী হতে পারে। তারপর এই নেশা যখন কেটে যায়, তখন রাজ্যের বিষন্নতা, হতাশা আর অবসাদ এসে শরীর আর মনের উপর ভর করে। তেমনি হস্তমৈথুন করার সময় মানুষ চটি গল্প ,পর্ণ, নীল ছবি প্রভৃতি দেখে উত্তেজিত হওয়ার জন্য। ফলে যখনই মানুষ হস্তমৈথুন করার জন্য পর্ণ এবং পর্ণগ্রাফিক আইটেমের সংস্পর্শে আসছে, তাদের ব্রেইনে পর্ণের সাথে ডোপামিনার্জিক সিস্টেমের একটি যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্ণের সংস্পর্শে আসার কারনে ডোপামিনার্জিক সিস্টেমের উপর ফোর্স তৈরি হয়ে যে ম্যাসিভ এ্যামাউন্ট ডোপামিন রিলিজ হচ্ছে; তা শর্ট টার্ম মেমরিতে না গিয়ে সরাসরি লং টার্ম মেমরিতে গিয়ে স্টোর হচ্ছে। এ কারনে পর্ণ বা পর্ণগ্রাফিক আইটেম চোখের সামনে থেকে দূর করা হলেও লং টার্ম মেমরিতে তা গেঁথে যাবার কারনে তা ব্যক্তির চাহিদা মত কল্পনা করলেই রিপ্লে মোডে ফিরে আসে।এভাবেই এ্যাডিকশন শুরু হয় এবং এই চাহিদা দিন দিন বাড়তে বাড়তে অসীমে গিয়ে পৌছায়। এই কারণেই হস্তমৈথুন মানুষের Stress দূর করতে পারে না বরং তা আরো Stress বয়ে নিয়ে আসে। কারণ এই হস্তমৈথুনই মানুষকে আল্লাহ্‌ তা’আলার সম্পর্কে ভুলিয়ে রাখে যার ফলে অনেক Stress এর সৃষ্টি হয়।

হস্তমৈথুন করলে যে ধরণের সমস্যা হয়

পুরুষ মানুষ অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করলে স্বাভাবিক যৌন মিলন স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়। আরেকটি সমস্যা হয় অকাল বীর্যপাত অর্থাৎ খুব অল্প সময়ে বীর্যপাত ঘটে। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। স্ত্রী এবং স্বামীর মধ্যে দুরত্ব সৃষ্টি হয়,বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না। আরো একটি সমস্যা হয়, বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতা দেখা দেয়। অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয় আর শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয় তা হলো –

▪পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়।

▪চোখের ক্ষতি হয়।

▪স্মরণ শক্তি কমে যায়।

▪সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয়।

▪যেহেতু বীর্য তৈরি হয় অন্ডকোষে, তাই বেশি হস্তমৈথুনের ফলে, অণ্ডকোষে বীর্যরস তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বাড়তি বীর্য তৈরির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে পারে অণ্ডেকোষ। ফলে অণ্ডথলিতে ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

▪অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারণে মস্তিষ্কে বীর্য তৈরির হরমোনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে মাথাব্যথা সহ মস্তিষ্কে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

▪ঘন ঘন হস্তমৈথুনে বীর্য পাতলা হয়ে যায় খুব স্বাভাবিকভাবেই। যদি ক্রমাগত ব্যাপারটা চালিয়ে যেতে থাকেন,স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি হবে।

▪অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের কারণে যৌনাঙ্গে ব্যথা ও আংশিক বিকৃতি ঘটতে পারে।

▪শরীর চড়া অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে, প্রসাবে জালাপোড়া বেড়ে যায় খুব বেশি মাত্রায়।

▪হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত অনেক পুরুষই পরবর্তী যৌন জীবনে সুখী হতে পারেন না মানসিক যৌন সমস্যা তৈরি হয়। স্বাভাবিক সেক্সে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কারণ এই হস্তমৈথুন তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় আর এটাতেই তাঁরা স্বস্তি বোধ করেন।

▪আর কোন নারী যখন স্বমেহন বা হস্তমৈথুন করে তখন তার কুমারীত্ব (Virgi nity) হারানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অনেকে স্বমেহন করতে গিয়ে কুমারীত্ব হারিয়ে ফেলে ফলে বিয়ের পর স্বামী তার এ অবস্থা দেখে তাকে সন্দেহ করে।

236 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন