স্মার্টনেস কি? স্মার্টনেস আর স্টাইল এই দুইয়ের মধ্যে তফাৎ

স্মার্টনেস কি? স্মার্টনেস আর স্টাইল এই দুইয়ের মধ্যে তফাৎ
5 (100%) 1 vote

স্মার্টনেস আর স্টাইল এই দুইয়ের মধ্যে অনেক তফাৎ। স্মার্ট বলতে যা বুঝায় তা হল, বুদ্ধিমান এবং চতুর শ্রেনীর জ্ঞানী মানুষ। সবকিছুতেই কিছু না কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কথায় কাজে, চলাফেরায় কিংবা আচরনে থাকবে আকর্ষন, সে-ই স্মার্ট। গড়পড়তা যা চলমান তা নিয়ে স্মার্ট হওয়া যায় না। আবার স্টাইল হলো সেই সব ভিজিবল কিংবা অদৃশ্য প্রকাশ যা অন্যকে প্রভাবিত করে ফেলতে পারে। যেমন হাটার স্টাইল, কথার স্টাইল, লেখার স্টাইল, চুলের স্টাইল, নখের স্টাইল, পোশাকের স্টাইল, চিন্তা করার স্টাইল, সমাধান দেয়ার স্টাইল ইত্যাদি। এসব স্টাইল এবং আউটলুকিং মিলে হয় স্মার্টনেস।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আমার মনে হয় এতক্ষনে আপনারা এও বুঝে গেছেন যে স্মার্ট হওয়া অতটা সহজ নয়। একটা স্মার্টবয় অথবা স্মার্ট গার্ল হতে গেলে শ্রম দিয়ে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে হয়। ব্র‍্যান্ডের কিছু জিনিস কিনে স্মার্ট হবার কথা ভুলে যান।

** নিজেকে বিশ্লেষণ করেত হবে – প্রথমেই নিজেকে বিশ্লেষণ করতে হবে। তুমি কী বিষয়ে কথা বলছ, কীভাবে কথাটি শুরু করছ, কার সঙ্গে কথা বলছ। সেটি কি খুব বেশি কর্কশ , খুব মিষ্টি নাকি স্বাভাবিক। যেই বিষয় নিয়ে তুমি কথা বলছ সেই বিষয়ে তোমার দক্ষতা কেমন এটি জানা ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর করে কথা বলা পুরোটাই চর্চার ওপর নির্ভরশীল।

 

** আগে অন্যের কথা শুনুন – কোন একটা আলোচনায় যোগ দিলে আগে শুনুন কে কী বলছে। এটা সব সময় সম্ভব নয়, কারন আপনি যদি সঞ্চালক হন তবে আপনাকেই আগে কিছু বলতে হবে। কে কিভাবে কথা বলছেন সেটাও খেয়াল করুন। যিনি সুন্দর করে কথা বলছেন তাকে খুব মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

 

** স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন – যে ভাষা সবাই বুঝতে পারে সে ভাষায় কথা বলা উচিৎ। উচ্চারণ শুদ্ধ করে কথা বললে সেটা শুনতেও অনেক ভালো লাগে । সঠিক বাংলা শব্দ উচ্চারণ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়া যায়। যদি খুব বেশি দরকার হয় তাহলে উচ্চারণের ওপর বেশকিছু কোর্স করে নিতে পারেন।

 

** আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলুন – যখন যা বলবেন আত্মবিশ্বাস নিয়েই বলুন। দ্বিধা নিয়ে কোন কিছুই বলা উচিত নয়। আপনার কাছে যদি কেউ প্রশ্ন করে যে কেন আপনি এত আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছেন, সাথে সাথে সেই প্রশ্নের সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়ে দিন। এবং তাকে সাথে সাথেই এই জন্য একটা ধন্যবাদ জানিয়ে দিবেন।

 

** কথার মাঝে গ্যাপ রাখার চেষ্টা করুন – কথা শুধু রেলগাড়ির মত বলে যাবেন না। আবার ষ্টেশনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার মত বিশ্রামও নিবেন না। দাঁড়ি কমা কিংবা বিরাম এর সময় নিন। যাতে আপনার কথা বা বক্তব্য সবার বুঝতে সুবিধা হয়। এতে আপনার কথার প্রতি সবার মনোযোগ আসবে।

 

** অংগভংগীর সঠিক ব্যবহার করা – কথা বলার সময় সংশ্লিষ্ট অংগভংগী গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। অনেকেই এক হাত নাড়িয়ে কথা বলেন। আবার অনেকেই দু’হাত নাড়িয়ে কথা বলেন। আবার অনেকে হাত না নাড়িয়েই কথা বলেন। যখন যা বলবেন তা বুঝাতে যেভাবে অংগ সঞ্চালন করা দরকার তখন সেটাই করা উচিত। এতে আপনার কথা বুঝতে সবার সুবিধা হবে।

 

** আচার ব্যবহার– মানুষের পরিচয় তার আচার ব্যবহারে হয়। ভাল মানুষকে মনে রাখেন সবাই। আচার ব্যবহার একজন মানুষকে সর্বোচ্চ স্মার্ট করে তুলতে পারে। তাই আচার ব্যবহারে অনেক বেশি সচেতন হওয়া উচিত।

 

** খারাপ অভ্যাস– অনেকেরই খারাপ কিছু অভ্যাস থাকে। এসবের কারনে তারা নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেন। যেমন- নেশাভান করা, নারীর প্রতি দুর্বলতা, উৎকট পোশাক আশাক ব্যবহার। অসোভন কিছু করা ইত্যাদি। এসব বাদ দিতে হবে যত দ্রুত পারা যায়। তা না হলে স্মার্ট হতে পারা যায় না।

 

** রুচিশীল কাজ করা- গান শোনা, বই পড়া, কিংবা ভাল মুভি দেখা, চিত্র কর্ম , সামাজিক সহযোগীতা, স্বেচ্ছাসেবিক ইত্যাদি কর্ম একজন মানুষকে অনেক স্মার্ট করে তুলতে পারে। যে যত বেশি স্মার্ট সে তত বেশি রুচিশীল কাজ করেন।

 

** মেজাজের ভারসাম্যতা– মানুষের মেজাজ সবসময় এক থাকে না। স্মার্ট ব্যক্তির মেজাজের কন্ট্রোল থাকবে অনেক বেশি। সেজন্য কিছু না কিছু প্রাকটিজ অর্থাৎ অনুশীলন দরকার। যোগ ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। কাজ না হলে মেডিটেশন পদ্ধতির আশ্রয় নিন। রাগ নিয়ন্ত্রন না করা গেলে জীবনে শুধু স্মার্টনেস ই নয় অনেক কিছুই হারাতে হয়।

 

** সৎ এবং সত্যবাদী– স্মার্ট লোকেরা আজকাল এই অংশটি বাদ দিয়েই স্মার্ট বনে যাচ্ছেন। দেখলে হাসি পায়। যারা নির্ভিক তারাই হয় সৎ এবং সত্যবাদী। যে নিজের অন্যায় “অন্যায়” হিসেবে জানাতে ভয় পায় সে হয় মিথ্যাবাদী। তাই সত্যবাদী হয়ে স্মার্ট হওয়াটা আবশ্যক। একজন মিথ্যাবাদী মানুষ যতই স্মার্টনেস অর্জন করুক না কেন, স্থায়ী হন না বেশি দিন। সৎ মানুষের কথা অনেকদিন মানুষ মনে রাখেন।

 

একজন স্মার্ট মানুষের সংজ্ঞা যেমন কঠিন, তেমনি অল্প কিছু কাজ করে স্মার্ট হতে যাওয়া আরো বেশি কঠিন । তবে অনুশীলন একটি কাজকে অনেক সহজ করে দিতে পারে। মনে রাখবেন, স্মার্টনেস নিয়ে তার সাথে তর্ক করবেন না যে নিজেই স্মার্ট নয়।

167 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন