স্বাস্থ্য টিপস। স্বাস্থ্য সচেতনতায় ২০ টি স্বাস্থ্য টিপস

স্বাস্থ্য টিপস। স্বাস্থ্য সচেতনতায় ২০ টি স্বাস্থ্য টিপস
5 (100%) 1 vote

স্বাস্থ্য টিপস আপনার নিত্যদিনের চলার পথে অনেক কাজে লাগবে। স্বাস্থ্য টিপস জানা থাকলে নিজেকে রাখতে পারবেন ফিট। স্বাস্থ্য সচেতনতায় আমাদের একটু বেশি সক্রিয় হওয়া উচিত সবসময়ই। স্বাস্থ্যই সকল সকল মূল কথাটি মিথ্যে নয়, তাই নজর রাখুন স্বাস্থ্যের প্রতি। পারিবারিক সুস্থতা হলো সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল ভিত্তি। প্রতিটি পরিবার যদি সুস্থ আর সবল থাকে তাহলে দিনে দিনে গোটা জাতী সুস্থ হয়ে উঠবে। তাহলে এবার পড়ুন স্বাস্থ্য টিপস নিয়ে এই লেখাটি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য টিপস

স্বাস্থ্য টিপস (১) – খাবারের তালিকায় যথেষ্ট পরিমাণে আঁশযুক্ত শষ্যদানা রাখুন৷ বিশেষ করে সকালের নাস্তায় সিরিয়ালের সাথে বিভিন্ন শষ্যদানা, গম, ভুট্টা, ফল এবং দই থাকতে পারে৷ এতে ঝটপট পেট ভরে এবং পেট পরিষ্কারও থাকে, অর্থাৎ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে৷ তবে ফল মানেই আপেল, আঙুর নয়৷ বরং যখন যে ফল পাওয়া যায়, মানে মৌসুমি ফল খান৷ এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে।

স্বাস্থ্য টিপস (২) – তাজা ফল এবং শাক-সবজি রাখুন খাবার তালিকায়। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় শিম, মটরশুটি, বরবটির মতো আঁশযুক্ত সবজি ও যথেষ্ট ফল থাকা প্রয়োজন৷ এ সব শরীরে চিনি নিয়ন্ত্রণে যেমন সাহায্য করে, তেমনি হৃদরোগ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে৷ বাঁধাকপি, ফুলকপি ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক৷ বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার মতে দিনে কয়েকবার শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিত৷ যাঁরা ফলমূল এবং শাক-সবজি বেশি খান, তাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জির ঝুঁকিও নাকি কম থাকে৷

স্বাস্থ্য টিপস (৩) – শরীরের জন্য প্রয়োজন সবকিছুই। প্রতিদিন একই ধরনের খাবার কোনোভাবেই খাওয়া উচিত নয়৷ তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন রকমের ভিটামিন, মিনারেল এবং প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন৷ তাছাড়া খাবারের গুণগত মানটাই বড়, খাবারের পরিমাণ নয়৷ এই যেমন, প্রোটিন শরীরের ওজন না বাড়িয়ে মানসম্পন্ন ভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়৷

স্বাস্থ্য টিপস (৪) – দোকানে তৈরি ‘ফাস্টফুড’ বা ‘রেডিমেড’ খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয়৷ এগুলোতে লুকিয়ে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি এবং নানা রকম ক্ষতিকারক জিনিস৷ বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ফাস্টফুড হাঁপানি হওয়ার শঙ্কা প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়৷ ৩১টি দেশের শিশুদের ওপর এক গবেষণা করে এ তথ্য জানা গেছে৷ তাই ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে৷

স্বাস্থ্য টিপস (৫) – মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য প্রয়োজন শর্করা এবং গ্লুকোজ৷ এটা থাকে বিভিন্ন ফল, রুটি, মিষ্টি আলু, নুডলস, মাছ-মাংস, কাঠবাদাম প্রভৃতিতে৷ তাই অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম নিয়মিত খাওয়া জরুরি৷ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় মৌলিক উপাদানগুলি রয়েছে৷ দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই বা তিনদিন বিভিন্ন রকমের বাদাম খেলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব৷ ডিমের কুসুমও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী৷

স্বাস্থ্য টিপস (৬) – ওজন কামাতে ডায়েট কোকাকোলা, পেপসি বেছে নিই আমরা অনেক। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ডায়েট সোডা পান করেন তারা বরং আরও বেশি মাত্রায় ক্যালরি গ্রহণ করেন। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ডায়েট সোডা পান করেন কোমর ১০ বছরে ৭০ শতাংশ বেশি স্থূল হয়, যারা ডায়েট সোডা পান করেন না তাদের তুলনায়।

স্বাস্থ্য টিপস (৭) – গরমের দিনে গরম খান, ঠাণ্ডা নয়। গ্রীষ্মের এক তপ্ত সকালে কী বেছে নেবেন আপনি, গরম না বরফ শীতল ঠাণ্ডা এক মগ কফি? নিশ্চয়ই ঠাণ্ডা কফি! এই তো ভুল করলেন! এতে বরং ঠাণ্ডা লেগে যাবে আপনার। গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময় গরম খাবার বরং আপনাকে ঠাণ্ডা রাখে। কারণ, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ঘাম হয়, আর ঘাম হওয়াও কিন্তু জরুরি!

স্বাস্থ্য টিপস (৮) –  এনার্জি ড্রিংক্স কফির তুলনায় ৬ গুণ বেশি ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয়। কিন্তু এই পানীয় স্বল্প সময়ে এনার্জি তৈরি করে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এতে নার্ভাসনেসের ক্ষতি হয়, পালস বেড়ে যায়। তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া গেলেও পড়ে দুর্বল অনুভূতি হয় এবং দ্রুতই ঘুম পায়, গা ছেড়ে দেয়।

স্বাস্থ্য টিপস (৯) – প্রতিদিন খাবারের তালিকার দুধ রাখা উচিত। তবে আজকাল অ্যালার্জির কারণে অনেকেরই সরাসরি দুধ খেতে পারেন না৷ সেক্ষেত্রে দুধের তৈরি অন্যকিছু খাওয়া যেতে পারে৷ দুধে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ৷ তাই একে সুষম খাদ্যও বলে। এছাড়া সপ্তাহে দু’দিন মাছ-মাংস বা ডিম খেলেই যথেষ্ট। সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা থ্রি চর্বি, যা বার্ধক্য রোধে সহায়তা করে।

স্বাস্থ্য টিপস (১০) – রান্নায় যতটা সম্ভব কম তেল ব্যবহার করুন৷ আর যদি সম্ভব হয় সরাসরি উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করাই ভালো৷ উদ্ভিজ্জ খাদ্যে যেমন অল্প পরিমাণে ক্যালোরি থাকে, তেমনি অন্যদিকে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ আর ফাইবার৷ এশীয় রান্নাঘরে আদা, রসুন, পেঁয়াজের ব্যবহার এমনিতেই রয়েছে৷ এই পেঁয়াজ, রসুন, ক্যানসার রোধে সহায়ক৷ আর আদা ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে পেট পরিষ্কার রাখে৷

স্বাস্থ্য টিপস (১১) – প্রতিদিন কমপক্ষে এক থেকে দুই লিটার পানি পান করা উচিত৷ তবে মিষ্টি মিশ্রিত পানীয় নয়, অর্থাৎ কোলা, ফান্টা বা এ জাতীয় কিছু নয়৷ ও হ্যাঁ, উচ্চরক্তচাপ বা ডায়বেটিস এড়িয়ে নিজেকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে লবণ ও চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখুন৷ লক্ষ্য রাখবেন, চিনির ক্ষেত্রে তা যেন হয় প্রকৃতিক উপায়ে তৈরি, অর্থাৎ ব্রাউন চিনি আর লবণ যেন হয় আয়োডিন এবং ফ্লোরাইড যুক্ত৷

স্বাস্থ্য টিপস (১২) – খাবার তাড়াহুড়ো করে খেলে বেশি খাওয়ার ভয় থাকে৷ এতে ওজন বাড়ে এবং তা হজমেও ব্যাঘাত ঘটায়৷ তাই খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান৷ এতে অর্ধেক হজম হয়ে যায়৷ তাছাড়া আপনি কী খাচ্ছেন, কেন খাচ্ছেন – তা বুঝে শুনে খান, অর্থাৎ খাবার উপভোগ করুন৷ আপনি যা খাবেন, ঠিক সেরকমই ‘বোধ’ করবেন, অর্থাৎ আপনার ‘পারফরমেন্স’ নির্ভর করবে আপনার খাওয়ার ওপর৷ আর চেহারাতেও তার প্রমাণ ফুটে উঠবে৷

স্বাস্থ্য টিপস (১৩) – প্রতিদিন ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হাঁটুন৷ এতে হাত-পা চলাচলের পাশাপাশি মুক্ত বাতাসও সেবন হবে, যা ‘ফিট’ থাকতে বিশাল ভূমিকা পালন করে৷ হাঁটার সময় কেউ পাশে থাকলে ভালো, না হলে একাই কিছুক্ষণ হেঁটে আসুন৷ ফিরে এসে দেখবেন শরীর এবং মন – দুটোই কেমন ফুরফুরে লাগছে! হাঁটাহাটি বা ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বিশেষ ভাবে সাহায্য করে৷

সৌন্দর্য বিষয়ক স্বাস্থ্য টিপস

▪পিঠের কালো ছোপ তুলতে ময়দা ও দুধ এক সঙ্গে মিশিয়ে পিঠে দশ মিনিট ধরে ঘষবেন। এটা নিয়মিত করলে পিঠের ছোপ উঠে যায়।

▪মুখের তাৎক্ষনিক লাবণ্য আনতে একটা ভেষজ রুপটান আছে। আধা চা চামুচ লেবুর রস, এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে ও গলায় লাগান। পনের মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা আপনার মুখকে আদ্র রাখবে।

▪কনুইতে কালো ছোপ দূর করতে লেবুর খোসায় টিনি দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন। এতে দাগ চলে গিয়ে কনুই নরম হবে।

▪মুখের ব্রণ আপনার সৌন্দর্য নষ্ট করে। এক্ষেত্রে রসুনের কোয়া ঘষে নিন ব্রণের উপর। ব্রণ তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে।

▪লিগমেন্টেশন বা কালো দাগ থেকে মু্ক্তি পেতে আলু, লেবু ও শসার রস এক সঙ্গে মিশিয়ে তাতে আধ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে যেখানে দাগ পড়েছে সেখানকার ত্বকে লাগান।

চুল পড়া বন্ধ করতে মাথায় আমলা, শিকাকাই যুক্ত তেল লাগান।

▪তৈলাক্ত ত্বকে ঘাম জমে মুখ কালো দেখায়। এক্ষেত্রে ওটমিল ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রাখবেন আধা ঘন্টা। আধা ঘন্টা পর ঠান্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। ত্বকের যত্ন নিতে এই স্বাস্থ্য টিপস খুবই কার্যকারী।

▪হাত পায়ের সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখতে হাতে ও পায়ে আপেলের খোসা ঘষে নিন। এতে হাত ও পা অনেক বেশী ফর্সা দেখাবে।

▪মুখের বাদামী দাগ উঠাতে পাকা পেঁপে চটকে মুখে লাগান, পরে ধুয়ে ফেলুন।

▪নিঃশ্বাসের দুগন্ধ থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত দুই কোয়া করে কমলালেবু খান। দুই মাস পর এ সমস্য থাকবেনা।

▪সমপরিমান তুলসী পাতার রস ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে দুই বেলা নিয়মিত মুখে লাগান যেকোন দাগ মিলিয়ে যাবে।

▪অতিরিক্ত শুষ্কতা থেকে মুক্তি পেতে মধু, দুধ ও বেসনের পেষ্ট মুখে লাগান নিয়মিত। এতে ত্বকের বলিরেখা ও দূর হয়ে যাবে।

80 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন