স্ত্রী এবং স্বামীর সম্পর্ক ভালো থাকবে যেভাবে

স্ত্রী এবং স্বামীর সম্পর্ক ভালো থাকবে যেভাবে
5 (100%) 7 votes

স্ত্রী একজন বিবাহিত পুরুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিয়ে একটি সর্বজনীন বিষয়। আর বিয়ের পর স্ত্রী এবং স্বামীর সম্পর্ক ও ভালোবাসা নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের উপর। এই যেমন দুজনের উচ্চতা, বয়স, উপার্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর। তবে যারা প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন, তাদের কথা আলাদা। তারা হয়তো চাইলেও আর কোনো মানদণ্ডে প্রেমিক বা প্রেমিকাকে বিচার করবেন না। কিন্তু যারা প্রেম না করে বিয়ে করেছেন তাদের ক্ষেত্রে বয়স, উচ্চতা ও বেতন একটি বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। একজন ছেলে যেমন চায় ভালো স্ত্রী তেমনি একজন মেয়েও চায় পারফেক্ট স্বামী।

স্ত্রী

স্ত্রী এবং স্বামী‘র মধ্যে যেসব পার্থক্য থাকা উচিত

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বয়সের ব্যবধান : প্রেমিক প্রেমিকা বা স্ত্রী এবং স্বামীর মধ্যে বয়সের আদর্শ ব্যবধান ধরা হয় ৩ বছরকে। সাধারণত মেয়েরা মনের দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে একটু আগেই পরিপক্কতা (ম্যাচিউরট) লাভ করে। আর স্ত্রী এবং স্বামীর মধ্যে মানসিক মিল থাকাটা জরুরি। তাই মনে করা হয় যে, স্বামী যদি স্ত্রীর চেয়ে ৩ বছরের বড় হয় তবে দুজনের মানসিক পরিপক্কতা সমান হবে। তা ছাড়া, ৩ বছর বড় হলে স্বামী একটু আগে পড়ালেখা শেষ করে কোনো একটা পেশা বেছে নেবে এবং নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাবে। এটাও বয়সের ব্যবধান ৩ রাখার একটা কারণ। এখানে একটা বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, কিশোর বয়সে মেয়েদের মানসিক বিকাশ ছেলেদের তুলনায় দ্রুত হয়। কিন্তু ২০ থেকে ৩০ বছর সময়কালটায় এ ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা যায় না।

উচ্চতার অনুপাত : প্রথমেই স্ত্রী এবং স্বামীর বা প্রেমিক প্রেমিকার আদর্শ উচ্চতার বিষয়টি জানা যাক। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে উচ্চতার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যবধান হচ্ছে ১২ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ স্বামী বা প্রেমিককে হতে হবে ১২ সেন্টিমিটার বেশি লম্বা। কেন? কারণ, এতে নাকি পরস্পরকে আলিঙ্গন করা ও চুমু খাওয়ায় সুবিধা হয়। এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মেয়ে সাধারণত নিজেকে সযত্নে রক্ষা করতে চান। স্বামী বা প্রেমিকের উচ্চতা বেশি হলে, তিনি অনেক বেশি নিরাপদবোধ করেন। আসলে ছেলেদের উচ্চতা সাধারণত ভাবে মেয়েদের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে ১০ সেন্টিমিটার বেশি হলে, দেখতে সুন্দর লাগে; মানানসই মনে হয়। এই ব্যবধান দুপক্ষের লিঙ্গ পরিচয়কেও আরও স্পষ্ট করে তোলে। স্বামী বা প্রেমিককে তখন অনেক বেশি ম্যানলি মনে হয় এবং স্ত্রী বা প্রেমিকাকে আরও বেশি সুন্দরী লাগে। উচ্চতার ব্যবধানটি অতিরিক্ত হলে দেখতে ভালো দেখায় না।

বেতনের অনুপাত : বেতন বা আয়ের ব্যাপারটা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনো কোনো জরিপ অনুসারে, স্বামীর বেতন বা আয় স্ত্রীর দেড় গুণ হলে ভালো। এতে পরিবারের সুখের সূচক বাড়ে। আজকাল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন বা আয় করেন। তবে ঐতিহ্যবাহী ধারণার প্রভাবে অনেকের মতামতা এমন যে, পরিবারে স্বামীর আর্থিক দায়িত্ব বেশি বহন করা উচিত। তাই স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর আয় বেশি হওয়া আবশ্যক বলেই অনেকে মনে করেন। এতে এক দিকে স্বামীর মুখ রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্ত্রী নিরাপত্তা বোধ করবেন।

শ্বশুর-শ্বাশুড়ী প্রসঙ্গ : বিয়ে করার পর এ যুগের ছেলে মেয়েরা সাধারণত প্রবীণদের সঙ্গে বসবাস করতে চান না। অথচ বাবা মা`র যত্নে আরও বেশি সচেতন হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক দম্পতি নিজেদের মতো করে থাকতে চান; গড়তে চান নিজস্ব একটা ভূবন। যেখানে অন্য কেউ থাকবে না। তারা চান, তাদের বিবাহিত জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে। এই চাওয়াটা ঠিক। কিন্তু পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর যত্ন নেওয়ার গুরুত্বও তাদের বুঝতে হবে। তারা নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে সন্তান বড় করেছেন। তাই পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তাহলে কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে পিতা-মাতা বা শ্বশুর-শ্বাশুড়ী তাদের প্রয়োজনে ছেলেমেয়েকে কাছে পান।

ভাল স্ত্রী হতে চাইলে যেসব বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত

স্বামীর কাছে ভাল স্ত্রী হতে চায় সব নারীই। অনেকেই চেষ্টা করেই যাচ্ছেন কিন্তু স্বামীর কাছে ভাল স্ত্রী হতে পারছেন না। আজ আপনাদের জানাচ্ছি স্বামীর কাছে সফল হতে স্ত্রীর কি কি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয় ।

জগতের সকল ভাল কিছুই আছে আল্লাহ পাকের তরফ থেকে। সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ ছাড়া ইহকাল কিংবা পরকালের শান্তি সম্ভব নয় – তাই সংসারের শান্তির জন্য আল্লাহ পাকের কাছে দয়া প্রার্থনা করতে ভুলবেন না।

স্বামীকে অবশ্যই সম্মান করা উচিত। আপনার স্বামী সংসারের প্রধান ব্যক্তি। তাকে তার প্রাপ্য অধিকার এবং সম্মান দিন। যখন আপনার স্বামী আপনার কিংবা সংসারের জন্য ভাল কোন কাজ করে তখন তাকে ধন্যবাদ জানান।

স্বামীকে একটি প্রেমের চিঠি দেওয়ার ধারণা অনেকের কাছেই হাস্যকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের মনের কথা লিখে তা প্রকাশ করার মধ্যে যে আনন্দ আছে তার কোনো তুলনা হয় না। আর এর মাধ্যমে আপনাদের হৃদয়ের মিলও অনেক বাড়বে।

বিয়ের পরই যে সবকিছুর শেষ, তেমন কোনো কথা নেই। আপনার স্বামীর জন্য স্ত্রী হিসাবে আপনার নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এ ছাড়াও নিয়মিত চুলের যত্ন,নখ ও দেহের পরিচর্যার মাধ্যমে শরীর ঠিকঠাক রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

স্ত্রী হিসাবে অবশ্যই আপনার স্বামীর ভালো কাজে সমর্থন যোগানো উচিত। তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা মানসিকভাবে স্বস্তিকর বিষয়ে সাহায্য সহযোগিতা করা যেতে পারে। তার যদি কোনো লুকানো প্রতিভা থাকে তবে তা বিকশিত হতে সাহায্য করুন। এসব বিষয়ে সে যদি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে তাহলে তা আপনারই সাফল্য হিসেবে পরিনত হবে। তার কোনো শখ যদি আপনার নিজের আগ্রহের বিষয় নাও হয়, তার পরও তা হেলাফেলা করার প্রয়োজন নেই।

আপনার স্বামীর সাথে কৌতুক করুন। পুরুষেরা এমন নারী খোঁজে যে হালকা মনের অধিকারী এবং যার মধ্যে কৌতুক রসবোধ আছে ।

ঘরে যথাসম্ভব সেজেগুজে থাকুন এবং নিজের সাজগোজ স্বামীকে উৎসর্গ করুন। স্ত্রী হিসাবে আপনার সুন্দরীর অবয়বে উপস্থিতি স্বামীকে ভালোবাসায় আগ্রহী করবে এবং এর মাধ্যমে পরকীয়া প্রেমের প্রতি আসক্তি নিয়ন্ত্রন সম্ভব হবে।

স্বামী কাজ শেষে ঘরে ফিরলে, তাকে হাসিমুখে অভিবাদন করুন এবং তার সারা দিনের খোঁজ খবর নিন। সামর্থ থাকলে বিশেষ দিন গুলোতে তার জন্য স্পেশাল কোন আইটেম যেমন, চটপটি বা চিড়ার পোলাও রান্না করে খাওয়ান।

স্ত্রী

একজন স্ত্রী যেমন স্বামী পছন্দ করেন

বিয়ে করার পরের জীবনটা অনেক বড়। একসাথে চলতে গেলে কত কিছুই না সহ্য করতে হয়। তাই বলে কি ভালো স্বামী হওয়া সম্ভব না? অবশ্যই সম্ভব। শুধুমাত্র নিজের সুন্দর মনকে, বিবেক-বুদ্ধিকে ঠিক রেখে মেনে চলুন অল্প কিছু বিষয়, দেখবেন আপনি অবশ্যই একজন ভালো স্বামী হতে পারবেন এবং আপনার স্ত্রী আপনাকে মনে প্রাণে পছন্দ করবে।

আদর্শবান পুরুষ – একজন স্বামী হওয়ার আগে অবশ্যই একজন আদর্শবান পুরুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন। মানুষের ছোট খাটো কিছু বাজে অভ্যাস থাকে অবশ্যই, কিন্তু সেই অভ্যাস গুলো পরিবর্তন করা উচিত। যেমন, নেশা করা বা নারী আসক্তি। বরং বিয়ের পর নিজের মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন যাতে আপনার স্ত্রী খুশী হয়। যেমন, আপনি বাইরে যাওয়ার সময় তাকে হালকা চুম্বন দিয়ে বিদায় জানান, বাড়ি ফেরার পর সুন্দর একটি হাসি দিন। শপিং করতে গেলে ভারী ব্যাগ নিজে বহন করুন, তার পছন্দ-অপছন্দের ব্যপার গুলো সবসময় খেয়াল রাখুন। আপনার স্ত্রী গর্ভবতী হলে তার বিশেষ খেয়াল রাখুন। দেখবেন দাম্পত্য জীবন খুব মায়াময় হয়ে উঠবে।

সম্মান করুন – বিবাহিত জীবনে একে অপরকে সম্মান করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার স্ত্রীকে সম্মান করুন। যা কথা দিয়েছেন তা পালন করুন, কোথাও যাওয়ার সময় তাড়াহুড়া না করে তাকে কিছুটা সময় দিন প্রস্তুত হতে, আপনার স্ত্রী আপনাকে কোন কথা বললে তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তার কোন কথায় কিংবা কোন কাজে আপনার খারাপ লাগতে পারে কিন্তু তাই বলে রাগারাগি করবেন না। বুঝিয়ে বলুন।

কখনো মিথ্যা বলবেন না – কোনো স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থেকে মিথ্যা কথা আশা করেনা। আর দাম্পত্য জীবনের সম্পর্কে কোন কিছু নিয়ে মিথ্যা বলা একেবারেই উচিত না। তাই ভালো স্বামী হতে হলে মিথ্যা কথা বলা বন্ধ করুন। সবসময় স্ত্রীকে জানিয়ে যান কোথায় যাচ্ছেন, যেখানেই যান না কেন তার সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখুন। সত্যি কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সবসময় খোলা মনে কথা বলুন, যা একটি সম্পর্কের জন্য খুব জরুরী।

কখনো প্রতারণা করবেন না – প্রতারণা করা ,সেটা যে কারো সাথেই হোক না কেন, কোন ভাবেই এটি কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনেনা। আর দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করার থেকে খারাপ আর অন্য কিছু হতে পারেনা। হতে পারে জীবনে একসাথে চলতে গিয়ে কোন কারণে স্ত্রীকে ভালো লাগছেনা, তার মানে তো এই না যে স্ত্রীর সাথে আপনি প্রতারণা করবেন। প্রতারণা যে কোন ধরনেরই হতে পারে। স্ত্রীর কাছে লুকিয়ে যে কাজগুলো আপনি করবেন এবং আপনি জানেন যে কাজ গুলো করা উচিত না সেটাই প্রতারণা। তাই এই ব্যপারে সৎ থাকুন।

অলসতা দূর করুন – অলসতা কোন স্ত্রী বা নারীই পছন্দ করেনা। কিন্তু অনেক পুরুষের স্বভাবেই এই আলসেমি করার ব্যপারটা থাকে। আরাম মানে ছুটির দিনে টিভি দেখা কিংবা ইচ্ছাকৃত ভাবে বসে থাকা নয়। নিজের কাজ গুলো নিজে করুন। মাঝে মাঝে স্ত্রীর সাথে কাজে, রান্নায় সহায়তা করুন। সপ্তাহে একদিন নিজেদের মধ্যে সাংসারিক কাজ গুলো ভাগাভাগি করে নিন। দেখবেন আপনার স্ত্রী খুশি হবে এবং আপনি নিজেও আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন।

স্বার্থপর হবেন না – স্বার্থপর, এই বিষয়টি কারো চরিত্রে থাকলে সে কখনোই জীবনে ভালো করতে পারবে না। স্বার্থপর মানে যে মানুষ গুলো নিজের ভালো ছাড়া অন্য কারো ভালো মন্দ বোঝেনা। অনেকেই বিয়ে করেন নিজের স্বার্থের জন্য। ১০ জন পাত্রী দেখে একজনকে বিয়ে করেন যার কাছ থেকে আর্থিক ভাবে সাহায্য পাবেন। কিন্তু একজন ব্যক্তিত্ববান পুরুষের মধ্যে এই ধরণের স্বভাব কোন স্ত্রী আশা করেনা। কখনো এই ভেবে বিয়ে করবেন না যে বিয়ে করলে আপনি কী পাবেন তার কাছ থেকে। স্বার্থপরতা আপনাকে ধ্বংস করবে তাই নিজেকে এই সব খারাপ বিষয় থেকে দূরে রাখুন।

গায়ে হাত তুলবেন না – স্ত্রীর সাথে চিৎকার করে কথা বলবেন না এবং ভুলেও গায়ে হাত তুলবেন না মনে রাখবেন এই ধরণের জঘন্য কাজ গুলো একমাত্র ছোট নোংরা মানসিকতার পুরুষেরাই করে থাকে। জীবনে চলতে গেলে সমস্যা আসবেই, আপনার স্ত্রী ভুল করতেই পারে তাই বলে আপনি তার গায়ে হাত তুলবেন তার সাথে চিৎকার করবেন তা নিশ্চয়ই কোন ভদ্র পুরুষ লোকের কাজ না। সমস্যা হলে তা নিজেরা মিলে সমাধান করাটাই একজন ভদ্র পুরুষের লক্ষন।

স্ত্রীর প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন – স্ত্রীকে ভালবাসেন ঠিকই কিন্তু প্রকাশ করতে পারছেন না, তাহলে কীভাবে চলবে বলুন? ভালোবাসা প্রকাশ করা মানেই কিন্তু যৌন মিলন না। ভালোবাসা প্রকাশ করার অনেক মাধ্যম আছে। যেমন, মাঝে মাঝে ছোট কোন উপহার সাথে ছোট একটি কাগজে ভালবাসার কথা জানিয়ে দিন, কারণ ছাড়াই জড়িয়ে ধরুন, ভালবাসি কথাটি মেসেজ করে বলুন, বাহিরে থাকলে তাকে আপনি মিস করছেন জানিয়ে দিন এই ভাবেই প্রকাশ করুন স্ত্রীর কাছে নিজের ভালোবাসা গুলো। স্ত্রী দূরে থাকলে তাকে কোন একদিন সুপ্রভাত এস এম এস দিন।

স্ত্রী এবং স্বামী দুজনই যখন রাগী

স্ত্রী এবং স্বামী দুজনই রাগী হলে সংসার জীবন অনেক কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়।অতিরিক্ত রাগ আরেকজন সঙ্গীর কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, রাগের মাত্রা খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে, যার পরিণতি দুজনের জন্যই খারাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যেমন জিনিসপত্র ভেঙে ফেলা এবং অনেক সময় অন্যের গায়ে হাত তোলা পর্যন্ত গড়ায়। আবার দেখা গেছে, স্বামী স্ত্রী এক জনের সঙ্গে আরেক জনের রাগ সন্তানদের কাছে প্রকাশ করছেন, যা সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আরেকটি বিষয় স্ত্রী বা স্বামীর পরস্পরের প্রতি যে কষ্ট বা রাগ জমা হয়েছে, তা আশপাশের সবাইকে বলছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। আমাদের রাগ-কষ্ট-অভিমান সবচেয়ে বেশি হয় কাছের মানুষের কোনো ব্যবহারে। তাদের ক্ষেত্রে প্রত্যাশা বেশি থাকে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও তেমন। কিন্তু অনেক সময় এই কষ্ট, চাওয়া-পাওয়ার বেদনা অনেক দিন পর্যন্ত ধরে রাখি এবং প্রতি মুহূর্তে তা প্রকাশ করতে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, বিয়ের ১০-১৫ বছর আগের কথা চলে আসছে ঝগড়ার সময়, যার কারণে ঘটনাটির কোনো সমাধান না হয়ে বরং সম্পর্কটি আরও তিক্ততার রূপ দেয়। রাগের সময় যুক্তিবোধ কাজ করে না। তাই যখন খুব রেগে যাবেন, একটু থেমে যেতে পারেন। পরে আফসোস করার থেকে আগে একটু ভেবে নিন কী করবেন বা কী বলবেন। যদি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অসুবিধা হয়, তবে স্থান বদলে ফেলুন। যখন আপনি মনে করবেন আপনি কথা বলার জন্য প্রস্তুত, তখন সঙ্গীকে আপনার অসুবিধার কথা বলতে পারেন। যদি মনে হয় বাইরের কারও সাহায্য প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত কাউকে বলুন, যিনি আপনাদের দুজনের কথাই শুনবেন এবং আপনাদের কথা গোপন রাখবেন। সম্পর্ক আরও সুন্দর করে তুলতে স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে নিজেদের মতো কিছু সময় কাটানো যেতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততার অজুহাতে এক সময় একজন আরেক জনের অনেক দূরে চলে যাই, যা আমরা অনেক সময় খেয়াল করি না। কিছু বিষয় হয়তো থাকতে পারে, যার কষ্ট আপনি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। খাবারের টেবিলের ঝগড়া হয়তো কোনো ভাবে আপনার সেই পুরোনো কষ্ট, রাগ বা মন খারাপের কারণ হয়ে যাচ্ছে, যা আপনাদের সম্পর্কের অন্তরায়। আপনি যদি ভুল করে থাকেন তবে সঙ্গীর কাছে সরি বলুন। সঙ্গীর কাছে সরি বললেই আপনি ছোট হয়ে যাবেন না, বরং এটা আপনাদের সম্পর্ক আরও ভালো করে তুলবে। এছাড়া একজন আরেক জনের প্রশংসা করতে পারেন, যা আপনাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও আনন্দিত করে তুলতে পারে। এটা হতে পারে আরেক জনকে প্রশংসাসূচক কথা বলে, ফুল অথবা ভালো লাগার ছোট কিছু উপহার দিয়ে বা ভালোবাসার এস এম এস দিয়ে। এতে স্ত্রী এবং স্বামীর একজন আরেক জনের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে সাহায্য করবে এবং একজন আরেক জনের প্রতি রাগ কমাতেও সহায়ক হবে। আমাদের একেক জনের রাগের ধরন একেক রকম এবং তার সমাধানও একেক রকম। রাগের মাত্রা বেশি হয়ে থাকলে এবং আপনি তা থেকে যদি বের হতে না পারেন, তবে বিশেষজ্ঞ কারও পরামর্শ নিতে পারেন, যিনি আপনাকে রাগের কারণ ও এর প্রতিকার বের করে দিতে সাহায্য করবে।

283 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন