সেক্স ভিডিও আসক্তি – (সেক্স ভিডিও দেখার ভয়াবহতা জানুন )

সেক্স ভিডিও আসক্তি – (সেক্স ভিডিও দেখার ভয়াবহতা জানুন )
4.3 (86.67%) 6 votes

সেক্স ভিডিও বর্তমান সময়ের সবেচেয়ে আলোচিত নাম। ইন্টারনেটের কারণে সেক্স ভিডিও এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। সহজলভ্য হওয়ার কারণে সেক্স ভিডিও দেখার প্রতি বর্তমান যুবসমাজের আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হেরোইন, কোকেইন বা এরকম কিছু ভয়ানক ড্রাগ এর মতই একটা ড্রাগ আমাদের সাথে এভেইলেবল করে রেখেছি। ডিরেক্টলি আমাদের মাথায় পুশ করছি চোখের মাধ্যমে। সবচেয়ে শঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে ড্রাগটি সম্পূর্ণ ফ্রি। মহামারি তৈরি করা এই ড্রাগটি হচ্ছে হাই স্পিড ইন্টারনেট সেক্স ভিডিও।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সেক্স ভিডিও

সেক্স ভিডিও মানেই অস্বাভাবিক যৌনতা

শ্লীলতা আর অশ্লীলতা দুটো ভিন্ন জিনিষ। সেক্স ভিডিও মানে অশ্লীল। অশ্লীল মানে যা স্বাভাবিক মানব প্রবৃত্তির বিপরীত, যা হল মানুষের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন, যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের অভাব থেকে যা উতপত্তি লাভ করে। যৌনাকাংখা এক জিনিষ আর পর্ণগ্রাফী আরেক জিনিষ। পর্ণগ্রাফীর মূল কারণ মানষের ভেতর ‘কামের’ লালন। এই ঋপুই অশ্লীলতার জন্ম দেয়, জন্ম দেয় বিপরীত লিঙ্গের প্রতি যথাযথ মূল্যায়নের অভাববোধ। তখন মানুষ বিপরীত লিঙ্গকে তার মত মানবীয় মন সম্পন্ন মানুষ না ভেবে বরং নিজস্ব ভোগ প্রতিপত্তি মনে করতে থাকে আর তারই ফলশ্রূতিতে অশ্লীলতার জন্ম। যে লোকটা এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাহীন মনোভাব চর্চা করে সেই পর্ণোগ্রাফীর পৃষ্ঠপোষক। মানুষের ভেতর ঋপু থাকে। কাম একপ্রকার ঋপু। এই ঋপুই সকল আকাঙ্খারা হোতা। এই ঋপুকে দমন করলে স্বর্গীয় সুখ লাভ করা যায়। স্বাভাবিক যৌনতা কখনো পর্নোগ্রাফীর ভেতর পরে না। এটা সৃষ্টি হয় পারস্পরিক প্রকৃত ভালবাসা থেকে, প্রেম থেকে। আর কে না জানে, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্বশীলতা, বিশ্বাস নেই সেখানে ভালোবাসা নেই। তাহলে যৌনতা মানবীয় স্বাভাবিক প্রবৃত্তি; তার জন্ম পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থেকে, সেখানে কোন স্বার্থ কাজ করে না। অপর দিকে, অশ্লীলতার জন্মই হয় স্বার্থের থেকে; নিজের একান্ত কামনা বাসনা চরিতার্থ করাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকে, বিপরীত লিঙ্গের ইচ্ছা অনিচ্ছার দাম সেখানে সামান্যই। অশ্লীলতা মানে নিজ স্বার্থের চরিতার্থতা, অপরের মনে কি ঘটল তা চরিতার্থকারী আমলে নেয় না। অপর দিকে, স্বাভাবিক যৌন মিলন হল এক প্রকার ক্রীড়া (খেলা), নারী পুরুষের মনের পারস্পরিক আদান প্রদান। এখানে মন সর্বদা ব্যস্ত থাকে অপরকে দিতে, অপরের আকাঙ্খা পূর্ন করতে, নিজেরটা নয়। নারী ও পুরুষের পারস্পরিক বিশেষ ভালবাসার চূড়ান্ত পরিনতিই হল যৌনতা, এখানে কামনা বাসনা, লোভ চরিতার্থতার কোন স্থান নেই।

সেক্স ভিডিও একটি ব্যবসা

ইন্টারনেট সেক্স ভিডিও কে এতটাই সহজ লভ্য করেছে, বলা হয়, ইন্টারনেটের শতকরা ৫০ ভাগ কন্টেন্ট হয় পর্ণ কিংবা সেক্স ভিডিও রিলেটেড! পৃথিবীর শতকরা চার ভাগ ভাগ ওয়েবসাইট পর্ণ ব্যবসায় জড়িত এই তথ্য সিনটেফ নামক এক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জরিপ সংস্থার! ভয়ঙ্কর ব্যাপার হল, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিগত উতকর্ষের সুযোগে একটি শিশু গড়ে দশ বছর বয়সেই পর্ণ জগতে প্রবেশ করে অথচ যে বয়সে তার এগুলো বুঝে ওঠার ই কথা নয়! সাধারনত, একজন মহিলা পর্ণ আর্টিস্ট অন্য যেকোন ক্ষেত্রে অভিনেত্রীদের তুলনায় পাচঁ গুন বেশী অর্থ আয় করেন। ছেলেদের মাঝে যারা গে সেক্স ভিডিও করেন, তারা স্ট্রেইট পর্ণ আর্টিস্টদের তুলনায় আয় করেন প্রায় তিন গুন বেশী। মুলত চাহিদা এবং প্রাপ্যতার মাপকাঠিতেই এই কম বেশী আয় হয়ে থাকে। শিশু পর্নোগ্রাফী অনলাইনে সবচাইতে লাভজনক ব্যবসার একটি। বছরে প্রায় তিন বিলয়ন ইউ এস ডলারের চাইল্ড পর্ণ ব্যবসা হয় যার আশিভাগ ক্রেতা আমেরিকার! একবার ইন্টারনেটে একটি ভিডিও আপ্লোড হলে তা আদতে আর রিমুভ করা সম্ভব হয় নয়, তাই চাইল্ড পর্ণোগ্রাফী একটি শিশুর সারা জীবনের মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়!

সেক্স ভিডিও মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়

সেক্স ভিডিও দেখার দেখার কারণে প্রতিবছর প্রচুর মানুষ বিষন্নতায় ভোগেন। আমেরিকান সমাজে একটি সাইকিয়াট্রিক ডিজ অর্ডার হিসেবে এখনো অন্তর্ভুক্ত নয়া হলেও, পর্ণ এডিকশন কে আমেরিকান ডক্টররা আর হালকা ভাবে নিতে রাজি নন, কারণ প্রতিদিন এই সমস্যা বেড়েই চলছে। নানান ধরণের মানসিক বিকৃতির জন্য এখন সেক্স ভিডিও কে দায়ী করে চলেছেন তারা। একজন আমেরিকান টিন এজার সপ্তাহে গড়ে ১১ ঘন্টা সেক্স ভিডিও দেখেন! মাঝে মাঝে এই সখ্যা দ্বিগুন থেকে তিন গুন হয়ে ওঠে। এই মানসিক ভাবে অসুস্থ তরুণ দের মাঝে শারিরীক ভাবে পরবর্তীতে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন নামক সমস্যায় ভোগে। পর্নগ্রাফি ধর্ম নিষেধ করেছে বলেই শুধু খারাপ ব্যাপারটা ঠিক তা নয় বরং সামাজিক ভাবেও এটা এটা নৈতিকতা বিরোধী। সেক্স ভিডিও দেখলে সাধারণত শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অনেক সমস্যার জন্ম হয় যেমন –

▪আমাদের দেশের একটা ছেলের বিয়ের স্বাভাবিক বয়স ২৭-৩২। এখন কোন ছেলে যদি ১৮ বছর বয়স থেকে নিয়মিক সেক্স ভিডিও দেখা শুরু করে, তাহলে ৩২ বছর বয়সে তার কি আবস্থা দাড়াবে?
▪সেক্স ভিডিও বলতে আসলে যা দেখানো হয় তার বেশির ভাগই কুরুচিপূর্ন। যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব অনেক ক্ষেত্রে।
▪সেক্স ভিডিওতে অনেক কিছু দেখায় যেটা স্বাস্থ্যসম্মত নয় একেবারেই। শরীরে জন্য খুবই ক্ষতিকর। এগুলো মানুষের যথেষ্ট আকর্ষনীয় করে উপস্থাপিত হয়। যেটা আমাদের সামাজিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।
▪সেক্স ভিডিওতে অনেক কিছু দেখায় যেটা খুবই নিষ্ঠুর প্রকৃতির।

আপনি যখন সেক্স ভিডিও দেখেন, আপনি প্রস্টিটিউট তৈরী করেন

আপনি কি মনে করেন যারা পর্ণ মডেল হয়েছে তারা সবাই নিজের ইচ্ছাতেই পর্ণ মুভিতে এসেছে? মোটেই না। এদের অনেককেই লোভনীয় চাকুরী, ফ্রি-ট্যুর সহ বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে শুটিং স্পটে নিয়ে আসা হয়। তারপর অনেক টাকার লোভ দেখিয়ে, রঙ্গিন জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে পর্ণ মুভিতে অভিনয় করানো হয়। আমেরিকাতে সাধারণ কাজে ঘণ্টায় যত টাকা পাওয়া যায়, সেক্স ভিডিও করারা জন্য প্রতি ঘন্টায় তার ২০গুণ টাকা দেয়া হয়। টাকার লোভে পড়ে কলেজ ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়েরা সেক্স ভিডিও তৈরি করে, আর এভাবেই তারা প্রস্টিটিউট হয়ে যায়।

মানুষ নতুন নতুন পর্ণ মডেল দেখতে পছন্দ করে। আর তাই পর্ণ মুভির প্রডিউসাররাও নিত্য নতুন প্রলোভন দেখিয়ে নতুন নতুন মেয়েদেরকে প্রস্টিটিউশনের জগতে নিয়ে আসে। আপনি যে মেয়েটাকে সেক্স ভিডিও তে  হাসতে দেখছেন, আনন্দে উচ্ছ্বাসে ডুবে যেতে দেখছেন – কম্পিউটার বন্ধ করে দিলেই আপনার তাকে দেখতে হয় না, কিন্তু আপনার সামনে সে যাতে পরের মুভিতেও আসতে পারে তার জন্য কিন্তু তাকে প্রস্টিটিউট হিসাবেই থেকে যেতে হয়। আপনি আপনার কম্পিউটারের সামনে বসে নিত্য নতুন পর্ণ মডেল দেখার জন্য যে ক্লিক করছেন, সে ক্লিকের ডিমান্ড মেটানোর জন্য পর্ণ মুভির প্রডিউসারকে ক্রমাগত নতুন নতুন মেয়ে জোগাড় করে সাপ্লাই দিয়ে যেতে হচ্ছে। এভাবে করে, আপাত:দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হওয়া এই ক্লিকের কারণেই বিশ্বজুড়ে পর্ণ ব্যবসার পালে হাওয়া লেগেছে, আর এর সূত্র ধরে নতুন নতুন মেয়ে প্রতিদিন প্রস্টিটিউট হয়ে উঠছে। আর যে সব সেক্স ভিডিও গোপনে ধারণ করা হয়, এগুলো যে কত মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে, কত মেয়ে এগুলোর জন্য আত্মহত্যা করেছে – তার ইয়ত্তা নেই। ভেবে দেখুন – কেউ যদি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও না দেখত, তাহলে কেউ এগুলো বানাতোও না, ফলে এই ভিডিও গুলোর জন্য কোনও মেয়ের জীবনও নষ্ট হতো না।

সেক্স ভিডিও দেখার ভয়াবহতা

বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসকদের গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব পুরুষ নিয়মিত সেক্স ভিডিও দেখেন বা খারাপ ছবি নিয়ে নিয়মিত নাড়া চাড়া করেন, তাদের ব্রেনের আকার পরিবর্তিত হয়ে সাধারণ পুরুষের ব্রেনের চাইতে আকারে ছোট হয়ে যায়। জার্মান সাইকিয়াট্রি জার্নালে এক স্টাডির রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়। চিকিৎসকগণ তাদের গবেষণায় সাধারণ পুরুষদের ব্রেনের সাথে পর্ণ ছবি দেখতে অভ্যাস্থ পুরুষদের ব্রেনের তুলনা করে এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের গবেষণায় তারা সেক্স্যুয়াল ইমেজ ও সেক্স্যুয়ালি যারা বেশী জড়িত তাদের ক্ষেত্রে এমন রিপোর্ট তারা পেয়েছেন। এইসব বিশেষজ্ঞদের মতে ষ্ট্রিয়াটোম নামের এক প্রকারের সেনসিটিভ বিকল্প থিওরি যা পর্ণগ্রাফিতে মানুষকে আসক্ত করে, সেইসকল পুরুষদের ব্রেইন আকারে পরিবর্তন এনে থাকে বলে তাদের ধারণা। ডঃ কোহন এবং তার অনুসারীরা জার্মানির চারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল প্রায় ৬৪ জন সুস্থ সুঠাম দেহের পুরুষ যাদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ এর মধ্যে, তাদের উপর গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে প্রাথমিক তথ্যে উপনীত হয়েছেন, তারা দেখতে পেয়েছেন, সুস্থ সুঠাম দেহের পুরুষদের ব্রেনের তুলনায় যারা সেক্স ভিডিও দেখতে আসক্ত, তাদের ব্রেনের আকার ছোট হয়ে আসে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ডঃ গ্রে টাও মনে করেন, তাদের এই প্রাপ্ত তথ্য তেমন বিস্ময়কর নয় এই কারণে যে, অধিকহারে পর্ণতে আসক্তি পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত এমন হতে পারে। এছাড়া সেক্স ভিডিও আসক্তির আরো যেসব ভয়াবহতা আছে তা হলো –

▪সেক্স ভিডিও হচ্ছে এক ধরনের আসক্তি। সিগারেট, এলকোহল এবং অন্যান্য ড্রাগ গুলোর মধ্যে মিল কোথায় জানেন? বাইরে একেক রকম হলেও, দেহের ভিতরে গিয়ে সবগুলো একই কাজ করে; মাথায় ডোপামিন এর বন্যা বইয়ে দেয়। বানিয়ে দেয় আসক্ত। ভয়ংকর হলেও সত্যি যে সেক্স ভিডিও ঠিক সেই একই কাজটি করে। এটি ফ্রি। চাইলেই পাওয়া যায়। কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে এটি আরো ভয়ংকর। কারন, পূর্ণবয়স্ক দের চেয়ে কিশোরদের মস্তিস্ক ২ থেকে ৪ গুন বেশি সহজে অ্যাডিকশন রিওয়ার্ড তৈরি করে এবং বেশি পরিমানে ডোপামিন রিলিজ করে।

▪বানর, মানুষ এবং এরকম স্তন্যপায়ী প্রানীদের মস্তিকে ‘reward circuit’ থাকে। যেকোনো রিলেশনশিপ বা এক্সাইটিং অভিজ্ঞতা হলে বা মজার কোন খাবার খেলে এই রিওয়ার্ড সার্কিট “ডোপামিন” রিলিজ করে, যা ভবিষ্যতে আরো বেশি করে পাবার জন্য একটা পুরস্কারের রাস্তা তৈরি করে। সেই রাস্তা গিয়ে অতীতের ভাল লাগা অভিজ্ঞতার রাস্তাগুলোর সাথে মিশে যায়। ফলে আমরা বার বার এক্সপেরিয়েন্সটি পেতে চাই। মামার দোকানের বেশি করে দুধ চিনি দেয়া কড়া চা যেমন বার বার খেতে ইচ্ছা করে ঠিক তেমনি সেক্স ভিডিও মস্তিস্কে ডোপামিন রিলিজের মাধ্যমে আমাদের আসক্তির জালে জড়িয়ে রাখে। আসক্তির সেই জাল দিন দিন শক্ত হতে থাকে। যত বেশি পর্ণ দেখি আমাদের ব্রেইন এ ব্যাপারটি তত গুরুতর এবং গভীর ভাবে রোপিত হতে থাকে।

▪যারা অত্যাধিক সেক্স ভিডিও দেখেন, একটু খেয়াল করলে দেখবন যে, যেই জিনিসগুলো আমাদের বিরক্তির কারন ছিল অথবা আমরা নৈতিক ভাবে অনুচিত ভাবতাম সেই জিনিস গুলোই এখন আমরা করছি। রিসার্চ বলে, অত্যাধিক সেক্স ভিডিও আসক্তরা বেশি উদ্বেগ, নির্জনতা, বিচ্ছিন্নতা, এবং কর্মহীনতার স্বীকার হয়। আমি আবার বলছি যারা সেক্স ভিডিও না দেখে থাকতে পারে না, তাদের বেশিরভাগ এটির কারনে আনক্সাইটি, লোনলীনেস, আন্সোসাল এবং আরো বহু সমস্যা দেখা দিবে।

▪নিয়মিত সেক্স ভিডিও দেখলে আমাদের ব্রেইন অতিমাত্রায় কেমিক্যাল এ ডুবে থাকে, এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের ব্রেইন কিছু ডোপামিন রিসেপ্টর কমিয়ে ফেলে। ফলাফল – একই মাত্রার সেক্স ভিডিও আগের মত আর উত্তেজিত করে না। সেই আগের উত্তেজনা পাবার জন্য আমরা আরো বেশি হার্ডকোর পর্ণ এ অভ্যস্থ হয়ে পরি। যত বেশি সেক্স ভিডিও উপভোগ করি তত বেশি ব্রেইন ড্যামেজ হতে থাকে। আমাদের ইমোশনাল সমস্যা প্রচণ্ড বাড়িয়ে দেয়। আমাদের অনুভূতি গুলোতে বড় একটা ক্ষতের সৃষ্টি করে।

▪সেক্স ভিডিও আসক্তি আমাদের একাকী/বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। সত্যিকার মানুষদের প্রতি আকর্ষণ কমতে থাকে। অন্য মানুষের সাথে মিশতে আমাদের হেসিট্যাশন লাগে। সবসময় মনে হয়, আমার মধ্যে কিছু সমস্যা আছে।

▪বিবাহিতদের জন্য ব্যাপারটা আরো প্যাথেটিক হতে পারে। তার মনে হতে পারে আমি হেরে গিয়েছি। আপনার সঙ্গী আপনাকে নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা, অবিশ্বাস, অথবা ক্রোধ ফিল করতে পারে। এছাড়া ইন্টারনেট পর্ণ মানুষের যৌন জীবন ধ্বংস করে এটি নিশ্চয়ই ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।

▪পর্ণ দেখে আমরা যা শিখি তার সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমরা পর্ণ আসক্ত হয়ে পরলে, সেই মিথ্যাচার এবং ফেইক অভিনীত একটা ব্যাপারে আনন্দ পাবার চেষ্টা করবো। যেহেতু ব্যাপারগুলো ফেইক তাই ফ্রাস্টেটেড এবং খারাপ লাগতে বেশি সময় লাগবে না।

▪সেক্স ভিডিও ভালোবাসা ধ্বংস করে যারা নিয়মিত সেক্স ভিডিও দেখে তারা সবসময়, ফিল করবে যে মনে হয় আমাকে কেউ ভালোবাসে না অথবা মনে হয় আমাকে কম ভালোবাসে।

সেক্স ভিডিও দেখার আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

যে কোন আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একটা সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। আর এই সিদ্ধান্ত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নেওয়া সম্ভব। আপনাকে শুধু আসক্তি থেকে বের হয়ে আসার জন্য যাত্রাটা আরম্ভ করতে হবে। আপনি হয়তো জানেন না এ যাত্রার শেষ কবে হবে। কিন্তু আপনার নিজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস থাকতে হবে যে, একবার এ যাত্রা আরম্ভ করার পর আপনি কোনভাবেই পথ থেকে সরবেন না এবং একদিন আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আপনি পৌঁছবেন। তাই আগামীকাল আপনি কতোটা ভালো থাকবেন তা নির্ভর করছে আজ আপনি ভালো থাকার জন্য কি করছেন তার উপর। আপনি হয়তো অনেকদিন ধরে স্বপ্ন দেখছেন একজন সফল মানুষ হওয়ার, যে তার প্রবৃত্তিকে দমন করতে পারে, যার জীবনে কোন আসক্তি নেই। কিন্তু আপনার এই স্বপ্ন সবসময় স্বপ্নই থেকে যাবে যদি আপনি এই সেক্স ভিডিও দেখার আসক্তি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রথম পদক্ষেপটা না নেন। আর, হাজার মাইলের একটি যাত্রা কিন্তু একটি পদক্ষেপ দ্বারাই শুরু করতে হয়। সেক্স ভিডিও আসক্তির কুফল জানা হলো, চলুন এবার সমাধানটাও জেনে নেই।

▪সেক্স ভিডিও দেখার আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে নিজেকে নিজের প্রতি সৎ থাকতে হবে। প্রথমেই আপনার সংগ্রহে থাকা সেক্স ভিডিওগুলো ডিলিট করুন। কারণ এ ব্যাপারে আসক্তদের সংগ্রহশালা বেশ উন্নত এবং পরিবর্ধনশীল! নিয়মিত যেসব সাইটে ভিজিট করে আপনি আসক্ত হয়েছেন সেসব সাইট ব্লক করুন।

▪আপনার পরিবারের সদস্যদের পর্ণ জগতের ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রাখতে হলে Parental Controls ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে Settings > Control Panel > Family Safety > Manage settings on the family safety websites। তারপর প্রয়োজন মতো বাকি কাজ নিজের মতো করে করবেন। কিংবা আপনি চাইলে বাচ্চার কম্পিউটার টেবিল বাসার এমন জায়গায় সেট করতে পারেন যেখান থেকে তার মনিটর দেখা যায়। এতে আপনার সন্তান কিছুটা হলেও এর থেকে রেহাই পাবে।

▪অনেক আসক্তদের কিছুক্ষণ পর পর সেক্স ভিডিও দেখতে হয় কিংবা কাজের মাঝামাঝি সময়ে পর্ণ দেখতে হয়। আপনি যদি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হন তবে সেক্স ভিডিও ছাড়া আপনার পছন্দের কোনো সখ বা বিনোদনের উৎস খুঁজে বের করুন। কাজের মাঝে মাঝে পর্ণ না দেখে সেই পছন্দের কাজ করুন কিংবা গান শুনতে পারেন অথবা ৫ মিনিট হেঁটে আসতে পারেন বাহিরের মুক্ত বাতাসে। এতে আপনার মস্তিষ্ক এবং দেহ থাকবে সতেজ এবং ফুরফুরে।

▪নিয়মিত সেক্স ভিডিও দেখা যাদের অভ্যাস কিংবা ১০ – ১৫ বছরের পুরনো অভ্যাস পর্ণ দেখা, তাদের জন্য আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। এখন থেকে একটি রুটিন তৈরি করুন, চাইলে গুগল ক্যালেন্ডারের সাহায্য নিতে পারেন। আজকের তারিখ থেকে আর দেখবেন না এই প্রতিজ্ঞা করুন। চাইলে এই অভ্যাস স্ত্রীর কড়া শাসনেও করতে পারেন কারণ আপনি একজন আসক্ত।

438 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন