সমকামী কি ? সমকামী কি মানসিক রোগ

সমকামী কি ? সমকামী কি মানসিক রোগ
5 (100%) 8 votes

সমকামী (Homosexuality) একটি যৌন প্রবৃত্তি, যার দ্বারা সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণ বোঝায়। এইরূপ আকর্ষণের কারণে সমলিঙ্গীয় মানুষের মধ্যে প্রেম বা যৌন সম্পর্ক ঘটতে পারে। সমকামী আসলে দুই ধরনের (১) Homosexual act (২) Homosexual Lifestyle

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

সমকামীদের কয়েক ভাগে ভাগে বিভক্ত করা যায়। (১) Gay বা পুরুষ সমকামী (২) Lesbian বা নারী সমকামী (৩) Shemale বা হিজড়া সমকামী (৪) Bisexual বা দ্বৈত যৌন জীবন। বাংলায় ‘সমকামিতা’ শব্দটি এসেছে বিশেষণ পদ –‘সমকামী’ থেকে। আবার সমকামী শব্দের উৎস নিহিত রয়েছে সংস্কৃত ‘সমকামিন’ শব্দটির মধ্যে। যে ব্যক্তি সমলৈঙ্গিক ব্যক্তির প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে তাকে ‘সমকামিন’ বলা হত। সম এবং কাম শব্দের সাথে ইন প্রত্যয় যোগ করে ‘সমকামিন’ (সম + কাম+ ইন্) শব্দটি সৃষ্টি করা হয়েছে।

সমকামী

আসলে সমকামিতা অনেক প্রাচিনকাল থেকে প্রচলিত আছে। “অনেক রোমান সম্রাট – যেমন জুলিয়াস সিজার, হাড্রিয়ান, কমোডাস, এলাগাবালাস, ফিলিপ দ্য এরাবিয়ান সহ অনেক সম্রাটই সমকামী ছিলেন বলে ইতিহাসে উল্লিখিত আছে। [Edward Gibbon. History of the Declineand Fall of the Roman Empire. Vol. 1, London. 1898, p. 313]” ভারতীয় সংস্কৃতিতেও সমকামিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন বিষ্ণুর মোহিনী অবতাররূপে ধরাধামে এসে শিবকে আকর্ষিত করার কাহিনী এর একটি দৃষ্টান্ত। বিষ্ণু (হরি) এবং শিবের (হর) মিলনের ফসল অয়াপ্পানকে হরিহর পুত্র নামেও সম্বোধন করা হয়। এ ছাড়া অষ্টাবক্র, শিখন্ডী এবং বৃহন্নলার উদাহরণ গুলো সমকামিতা এবং রূপান্তর কামিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে উঠে এসেছে। বর্তমান বিশ্বে নেদারল্যান্ডস হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম দেশ যেখানে সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয় ৷ ২০০১ সালের এপ্রিল থেকে সেদেশে এটি কার্যকর আছে ৷ ২০০৩ সালের জুন মাসে নেদারল্যান্ডসের প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামে সমলিঙ্গের মধ্যে বিবাহ বৈধ করা হয়। ২০০১ সাল থেকে সমলিঙ্গ যুগলের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বৈধ করেছে জার্মানি। এইতো কিছুদিন আগে আমেরিকা সমলিঙ্গ বিবাহের অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে দুই তরুণীর মধ্যে মালা বদল নিয়ে সৃষ্টিহয় ব্যাপক বিতর্ক। ২১ বছর বয়সি শিক্ষিকা সানজিদা আর তাঁর ছাত্রী, ১৬ বছর বয়সি শ্রাবন্তী রায়ের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক মোটেই স্বাভাবিক ভাবে নেয়নি সমাজ ৷ এমনকি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও রেহাই পাননি তারা৷

সমকামী

‘বিজ্ঞানী ফ্রয়েডের মতে সমকামী হলো অবিশুদ্ধ যৌনতার প্রকার।’ অধিকাংশ সমাজ বর্তমানে মেনে নেয় যে সমকামিতা একটি অস্বাভিবিক যৌনতার অনুশনীল। যদিও বাইবেলে বলা হয়েছে যে, সমকামিতা এক রকমের পাপ। (আদি পুস্তক ১৯:১-১৩; লেবীয় ১৮:২২;রোমীয় ১:২৬-২৭; ১ করিন্থীয় ৬:৯)। তারপরও অনেক খ্রিস্টান দেশ সমকামিতাকে বৈধতা দিয়েছে। ইসলাম ধর্মে সমকামিতা চরিত্র ও স্বভাব ধ্বংসকারী এক জঘন্যতম মস্ত বড় অপরাধ। এর শাস্তি যিনার শাস্তির চেয়েও কঠিন। এটি মারাত্মক এক ব্যতিক্রমি যৌনচর্চা যার ফলে জটিল মানসিক ও দৈহিক রোগের জন্ম নেয়। মুহাম্মদ (স) বলেছেন, “আমার উম্মতের মধ্যে যখন পাঁচটি জিনিস আরম্ভ হবে তখন তাদেরকে নানা প্রকার রোগ ব্যাধি ও আযাবের মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়া হবে। তন্মধ্যে একটি হল নর নারীর মধ্যে সমমৈথুন প্রচলিত হওয়া। (মুসনদে আহমদ)।”

সমকামী কি মানসিক রোগ?

সমকামী (Homosexuality) একটি মানসিক রোগ । সমকামীরা মানসিক রোগী , তাদের জন্য স্বীকৃতি বা অধিকার নয় – প্রয়োজন যথাযথ চিকিৎসার । Sexual perversion বা Psycho-sexual disorder গুলোর মধ্যে আছে- sadism (আরেকজনের ওপর টর্চার করে যৌনতৃপ্তি লাভ) , masochism (নিজেকে কষ্ট দিয়ে) , pedophilia (শিশুদের প্রতি যৌন আসক্তি ) , fetishism (বস্তুর প্রতি যৌন আসক্তি ) , transsexualism (নিজেকে ভিন্ন লিঙ্গের মনে করা ) , transvestism (বিপরীত লিঙ্গের পোষাক পড়া ) , exhibitionism (নিজের যৌনাঙ্গ প্রকাশ্যে প্রদর্শনের প্রবণতা) , zoophilia (পশুর প্রতি যৌন আসক্তি ) , voyeurism (অন্যের যৌনাঙ্গ দেখার আসক্তি ) এবং Homosexuality (সমলিঙ্গের প্রতি আসক্তি) ইত্যাদি । এগুলো মানসিক রোগ এবং এসব থেকে সামাজিক অপরাধ পর্যন্ত ঘটে থাকে । যেমন স্যাডিজম প্রবণতা থেকে ধর্ষণ ও খুন হয়ে থাকে । বর্তমান বিশ্বের প্রতি আমরা যদি নজর দেই তাহলে দেখতে পাই যে, আমেরিকা, ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে মাত্র কয়েক বছর পূর্বে এমন রোগ দেখা দিয়েছে এবং তারপর তা বিভিন্ন দেশে দ্রুত প্রসার লাভ করে অল্প সময়ে হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর রোগটির সংক্ষিপ্ত নাম (AIDS) ইংরেজীতে AIDS এর পুরা বাক্য হচ্ছে Accrued Immune Deficiency Syndrome. অর্থঃ শরীরের অর্জন করা সুরক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অব্যহতি বা বিলুপ্ত হওয়া। বর্তমান বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টিকারী মরণ ব্যাধি এই এইডস, যার পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। ১৯৮১ সালের দিকে বিজ্ঞানীরা এই রোগের খবর পেলেন। বিজ্ঞানীরা এই রোগের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে বলেন যে, এটি একটি বদমায়েশী রোগ যা শুধু মাত্র বদমায়েশদেরকে আক্রমণ করে। ডাঃ রবার্ট রেডিফিল্ড বলেন, AIDS is a sexully transmitted disease. অর্থাৎ এইডস হচ্ছে যৌন অনাচার থেকে সৃষ্ট রোগ। সারা বিশ্বের সমাজ বিজ্ঞানীসহ বিশ্বের বড় বড় ডাক্তারেরা ঐ সমস্ত ভয়াবহ যৌন সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়া এবং তা দ্রুত ছড়াবার প্রধান কারণ হিসাবে সমকামী, বহুগামী এবং অবাধ যৌনচারকে চি‎হ্নিত করেছেন। যৌন সংক্রামক রোগগুলি যেমন এইডস, সিফিসিল, গনোরিয়া, শ্যাংক্রয়েড, লিম্ফোগ্র্যানুলোমা, ভেনেরিয়াম, ডানোভেনোসিস ও অন্যান্য। এর মধ্যে এইডস সবচেয়ে ভয়াবহ। এই রোগগুলিতে আক্রান্ত রোগীর সাথে মেলামেশা বা যৌন মিলনের মাধ্যমে সুস্থ লোক আক্রান্ত হয়। অত্যন্ত আতঙ্ক ও হতাশা সৃষ্টিকারী মরণ ব্যাধি এইডস আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ১৯৭৯ সালে সমকামী এক ব্যক্তির কাছে প্রকাশ পায়। তারপর এই ভয়াবহ রোগে যারা আক্রান্ত হতে থাকে তাদের অধিকাংশ লোকই সমকামী। শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ সমকামী এবং বহুগামী পুরুষ ও মহিলাদের মাধ্যমে এইডস সমগ্র বিশ্বে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দিন দিন এইচ, আই, ভি/ এইডস এ আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। “ন্যাশনাল এলজিবিটিআই হেলথ এলিয়ানস অস্ট্রেলিয়া” এর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ অয়েলেস (সিডনি অন্তর্ভুক্ত) ও ভিক্টোরিয়া (মেলবোর্ন অন্তর্ভুক্ত) স্টেটে সাম্প্রতিক কালে সিফিলিস, গনোরিয়ার মত যৌনরোগ (গে) দের মাঝে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষনায় দেখা গেছে যে, তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে যৌনবাহিত রোগ বিপরীত কামীদের তুলনায় সমকামী মানুষের মধ্যে পাঁচগুণ বেশি। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়াতে এইডস রোগ ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সমকামী। ১৯৮৫ সালের ইংরেজী অপর এক পরিসংখানে বলা হয়েছে : ১৪,৭৩৯ জন এইডস রোগে আক্রান্ত রুগীর মধ্যে ১০৬৫৩ জন রুগীই পুরুষ সমকামী অর্থাৎ লূত আঃ এর সম্প্রদায় যে ব্যভিচার করেছিল, মহিলা বাদ দিয়ে পুরুষে-পুরুষে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছিলেন। সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,”আমি লূতকে প্রেরণ করেছি, যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বের কেউ করেনি। তোমরা তো নারীদের ছেড়ে কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ। (সূরা আরাফ, ৭ : ৮০-৮১ আয়াত)। এমনি ভাবে অন্যান্য আয়াতে তাদের সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা বর্বর সম্প্রদায়, সীমা অতিক্রমকারী, পাপিষ্ঠ ও অত্যাচারী সম্প্রদায়। এগুলোর যে কোন একটি বৈশিষ্ট্যই একটি সমাজ ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। আমেরিকার মত উচ্চ শিক্ষিত সুসভ্য এবং সর্বদিক থেকে শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার হয়ে সমকামিতার মত নিকৃষ্ট ঘৃণিত মানবতা বিরোধী অশ্লীলতাকে যদি আইন করে বৈধ করে তাহলে কি ভাবে সম্ভব অশ্লীলতা সহ মানব সভ্যতার ধ্বংসের সকল ধরণের কর্মকান্ড গুলো প্রতিরোধ প্রতিহত করে বিশ্ব সমাজে মানব সভ্যতা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা? কাম প্রবৃত্তি ও লোভ-লালসার জালে আবদ্ধ হয়ে লজ্জা-শরম ও ভাল-মন্দের স্বভাবজাত পার্থক্য বিসর্জন দিয়ে পার্লামেন্টে সমকামিতা বিল পাশ করে রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রকাশ্যে বৈধ ঘোষণা করেছে। ব্যভিচার যখন পার্লামেন্টে বৈধ ঘোষণা করা হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই তা সমাজে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। আর তখনই সেই সমাজ আল্লাহর গজবের উপযুক্ত হয়ে যায়। তারা এমন প্রকৃতির বিরুদ্ধে নির্লজ্জতায় লিপ্ত হয় যা হারাম ও গোনাহ তো বটেই, সুস্থ স্বভাবের কাছে ঘৃণ্য হওয়ার কারণে সাধারণ জন্তু জানোয়ার ও এর নিকটবর্তী হয় না। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে বলেছেন,”যারা নিকৃষ্ট বস্তু অর্জন করেছে তার বদলাও সেই পরিমাণ নিকৃষ্ট এবং অপমান তাদের চেহারাকে আবৃত করে ফেলবে। তাদেরকে আল্লাহর হাত থেকে বাঁচাতে পারবে এমন কেউ নেই। (সূরা ইউনুস, ১০ : ২৭ আয়াত)। “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এইডস প্রতিরোধে ধর্মীয় অনুশাসনের গুরুত্ব অনুধাবন করতে বাধ্য হয়েছে। তাই WHO এ মর্মে ঘোষণা করেছে :Nothing can be more helful in this preventive effort than religious teachings and the adoption of proper and decent behavior as advocated and urged by all divine religions (The role of Religion and ethics in the prevention and control of AIDS. ( Page 3, Para 9, Published by WHO) অর্থঃ “এইডস প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় ধর্মীয় শিক্ষাদান এবং যথাযথ নির্মল আচরণ প্রবর্তনের চেয়ে আর কোন কিছুই অধিক সহায়ক হতে পারে না যার প্রতি সকল ঐশ্বরিক ধর্মে সমর্থন প্রদান ও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।”

মানুষের শারিরীক গঠনের দিকে তাকালেও এটা স্পষ্ট যে, সমকামী কখনোই স্বাভাবিক আচরণ নয়,এটি একটি মানসিক রোগ । এ কারণে এ ধরনের অন্যায় আচরণ সব সমাজের ওপরই ভয়ানক প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়া অন্যতম। শরীরের গঠনতত্ত্ব অনুযায়ী সমকামিতা একেবারেই অস্বাভাবিক।

216 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন