সমকামিতা কি? জানতে হবে, জানাতে হবে

সমকামিতা কি? জানতে হবে, জানাতে হবে
5 (100%) 9 votes

সমকামিতা বলতে আমরা সাধারন অর্থে বুঝি পুরুষ-পুরুষ বা নারী-নারী যৌন সম্পর্ক। একটু গভীরে দেখতে হলে এর অনেক রকমের প্রকারভেদ পাওয়া যায়। একটা কথা বলে রাখা ভালো, সমকামিতা কিন্তু যৌন সম্পর্কের উপর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে যৌন আকর্ষনের উপরে। একটি ছেলে কোনদিন যৌন সম্পর্ক করেনি কিন্তু করলে সে একটি মেয়েকেই বেছে নিবে। সে মেয়েদের প্রতি তীব্র আকর্ষন বোধ করে বা প্রেমে পড়ে। ছেলেটি যদি ঠিক তেমন আকর্ষন একটি ছেলের প্রতি অনুভব করে বা ছেলে হয়ে ছেলের প্রেমে পড়ে তখন সে সমকামী

সমকামিতা বিভিন্ন ধরনের হয়। বিষয়টি বেশ জটিল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

১। গে – একজন পুরুষ, নিজেকে পুরুষ মনে করে, পুরুষের পোষাক পড়ে এবং একজন পুরুষের প্রতি আকর্ষন বোধ করে। এটাই হলো পুরুষে পুরুষে সমকামিতা। ‘গে’ শব্দটির দ্বারা পুরুষ সমকামীদের বোঝানো হয়। পশ্চিমে ‘গে’ শব্দটি সমকামী অর্থে প্রথম ব্যবহৃত হতে দেখা যায় সম্ভবত ১৯২০ সালে।
এই ধরনের দুইজন পুরুষ বিয়ে করলে এদের মধ্যে স্বামীকে ‘টপ’ এবং স্ত্রী কে ‘বটম’ বলে।

সমকামিতা

২। লেসবিয়ান – একজন মেয়ে, নিজেকে মেয়ে মনে করে, মেয়েদের পোষাক পড়ে এবং একজন মেয়ের প্রতি আকর্ষন বোধ করে বা দুইটা মেয়ে নিজেদের মধ্যে **সেক্স** করে। নারী সমকামীদেরকে বোঝানো হয় ‘লেসবিয়ান’ শব্দটির দ্বারা। এই ধরনের দুইজন মেয়ে বিয়ে করলে এদের একজন স্বামীর ভুমিকা (পুরুষালী পোষাক ও আচরন) পালন করে।

৩। ট্র্যানি – একজন পুরুষ, সে নিজেকে মেয়ে মনে করে। অথবা একজন মেয়ে, সে নিজেকে পুরুষ মনে করে। সে মনে করে, সে ভুল দেহে জন্মেছে। এরা বিপরীত লিঙ্গের পোষাক পড়ে। অনেকে হরমন প্রয়োগ ও অস্ত্রপচার করে দেহের পরিবর্তন করে বিপরিত লিঙ্গের হওয়ার চেস্টা করে। মুল কথা, এদের দেহ এক লিঙ্গের কিন্তু মন আরেক লিঙ্গের। যে কোন লিঙ্গের প্রতি এদের আকর্ষন থাকতে পারে। বেশীর ভাগ হিজরা এই “ট্রানি” ক্যাটাগরীতে পড়ে।

৪। বাই – একটি ছেলে বা একটি মেয়ে, সে অপর কোন ছেলে বা মেয়ে উভয়ের প্রতি আকর্ষন বোধ করে। উদাহরন স্বরুপ, একটি ছেলে যে মেয়েদের প্রেমেও পড়ে আবার ছেলেদের প্রেমেও পড়ে।

সমকামিতা

উপরের প্রতিটি পদ্ধতিই অস্বাভাবিক যৌনচার। প্রাচীন রোম এবং গ্রীসে প্রথম সমকামিতার প্রচলন ঘটে। তখন এই বিষয়টিকে প্রাকৃতিক মনে করা হতো। পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব পড়ে ইউরোপ ,আরব এবং দক্ষিণ আমেরিকার সমাজ গুলোর উপর । প্রাচীন কাল থেকে সমকামিতা চলে আসলেও এই শ্রেনী বিভাগ কিন্তু পরিপুর্নভাবে বের হয়েছে ৭০ এর দশকে।

সমকামী হয় দুই শ্রেনীর মানুষ। এক, তারা মানসিক রোগগ্রস্থ। দুই, এটি তাদের বদ অভ্যাস। বর্তমানে সমকামিতার বদ অভ্যাস যারা শুরু করেছেন তাদের বেশির ভাগই অত্যান্ত ধনী। স্বাভাবিক উপায়ে যৌনতা এদের এত বেশী হাতের নাগালে যে এক পর্যায়ে এটি তাদের কাছে এক ঘেয়ে হয়ে যায়। সারা দেশের মানুষ কক্সবাজারে সমুদ্র দেখতে যায়। অনেকে যায় হানিমুনে। কিন্তু কক্সবাজারে থাকে এমন একজন হয়ত খুলনার এক বড় দিঘী দেখে সমুদ্র দেখার চেয়ে বেশী খুশি হবে। কারন সমুদ্র সারাদিন দেখে তার কাছে এক ঘেয়ে হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সমকামী দেশ হল অস্ট্রেলিয়া। এদেশে সমকামীদের অধিকার রক্ষায় কড়া আইন আছে। এখানকার সমকামীদের কেউ কটুক্তি করলে সোজা জেল। ইউরোপ-আমেরিকাতে সমকামিতা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার মতো এতটা অধিকার তারা পায় না। সমগ্র পৃথিবীতে থেকে অনেক সমকামী প্রতি বছর স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসে। নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যও সমকামীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পায় এদেশে। আইনের ভয়ে সমকামিতা কে খারাপ বলার সাহস হয় না কারোর। এখানকার মা-বাবা প্রার্থনা করে যেন তার সন্তান সমকামী না-হয়। সমকামী হয়ে গেলে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা ঐ দেশের আইন তাদের দেয়নি। অলিম্পিকের অয়োজক দেশ যেভাবে প্রচুর টাকা আয় করে, ঠিক তেমনি অস্ট্রেলিয়া প্রতি বছর প্রায় একই পরিমাণ টাকা সমকামিতাদের সমর্থন করে আয় করে। সমকামী বার, সমকামী ক্লাব, প্রতি বছর কয়েক হাজার ধনী সমকামী স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য তাদের নিজেদের দেশের সমস্ত সম্পদ নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে চলে আসে । সমকামিতা ঐ দেশের সরকারের আয়ের এক বড় উৎস। অনেকে মনে করেন যে কয়টি দেশে সমকামিতা বৈধ, সব দেশেই ব্যবসার জন্য সমকামিতা বৈধ করা হয়েছে। প্রতিটি দেশে মোট জনসংখ্যার শতকরা তিন থেকে পাঁচ জন সমকামী। সমকামিতা পুরুষ এবং নারীরি এক প্রকার মনোদৈহিক এবং আবেগ ঘটিত সমস্যা। অনেকে আবার সমকামিতা এবং উভকামিতা পছন্দ করে। ফ্রয়েডের মতে সমকামিতা হলো অবিশুদ্ধ শারীরিক মিলনের প্রকার। ফ্রয়েডের ব্যাখ্যা হলো সমকামি পুরুষ মনে করে অপর একজন পুরুষের স্পর্শ এবং আনন্দ অনুভবের দিক থেকে তার সমান এবং পুরুষের কোথায় স্পর্শে এবং কতটুকু স্পর্শ শারীরিক মিলন আনন্দ এবং উদ্দীপনা লাভ করা সম্ভব তা নারীর চাইতে অন্য একজন পুরুষ ভালো জানবে। এই মনোসমীক্ষণটিকে রপ্ত করেই শতকরা আশি ভাগ পুরুষ সমকামী হয়ে থাকে। নারীর ক্ষেত্রেও এই একই প্রকার মনোভাব কাজ করে থাকে।

সমকামিতা কি মানব সমাজের জন্য উপকারী?

ইস্টার্ন সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত “Federal distortion of the homosexual footprint” এ ড: পল ক্যামেরুন দেখিয়েছেন পুরুষ ও মেয়ের বিবাহ সম্পর্ক আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দেয় যেখানে সমকামীদের বিয়ের ক্ষেত্রে আয়ুষ্কাল ২৪ বছর কম। পল ক্যামেরুন ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল, কানাডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল, পোস্ট-গ্রাজুয়েট মেডিক্যাল জার্নালের সম্পাদনা করে থাকেন। তার নিজের ৪০ টার মতো আর্টিকেল আছে সমকামিতার উপর। ১৯৯০ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ডেনমাকর্কে স্বাভাবিক যৌনাচারীর গড় আয়ু যেখানে পাওয়া গেছে ৭৪, সেখানে ৫৬১ গে পার্টনার এর গড় আয়ু পাওয়া যায় ৫১ ! সমকামী মহিলাদের ক্ষেত্রেও এই গড় আয়ুর হার কম, আনুমানিক ২০ বছর কম! অপরদিকে ধুমপায়ীদের ক্ষেত্রে এই আয়ুষ্কাল কমে যাবার হার মাত্র ১ থেকে ৭ বছর! ১৯৭৩ সালের আগে পর্যন্ত একে মানসিক অসুস্থতা হিসাবেই দেখা হত। পরে অবশ্য ১৯৭৩ সালে আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন সমকামিতাকে মানসিক অসুস্থতা থেকে অব্যহতি দেয়। অনেকে মনে করেন সমকামিতা একটি অত্যাধিক ভোগবাদিতার উপকরণ। স্বাভাবিক যৌনসম্ভোগের উপায় না-থাকলে সমকামিতা হয়ে উঠে অপরিহার্য যৌনাচার। ইসলাম ধর্মে সমকামিতা জঘন্যতম মস্ত বড় অপরাধ। এর শাস্তি যিনার শাস্তির চেয়েও কঠিন। বাংলাদেশে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সঙ্গে, প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করে সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যে-কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে – যার মেয়াদ দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

376 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন