রেপ করার মনস্তাত্বিক কারণ ও প্রতিকার

রেপ করার মনস্তাত্বিক কারণ ও প্রতিকার
5 (100%) 11 votes

রেপ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশী পরিচিত। মাঝে মধ্যেই খবরের কাগজে রেপ সম্পর্কিত সংবাদ পাওয়া যায়। রেপ নারীর একার সমস্যা নয়। এটা গোটা সমাজের সমস্যা, রাষ্ট্রের সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের দায় প্রতিটি নাগরিকের। বাংলাদেশে রেপ বা ধর্ষণের সংখ্যাধিক্যের একটি মূল কারণ হল ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রয়োগের অভাব। অপরাধের সংঘটন এবং তার শাস্তি বাস্তবায়নের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। ধর্ষণের ভয়াবহতা যে কতটা ব্যাপক তা আমরা জানি। জানি না এটি কি পরিমাণে রোজ ঘটছে। কারণ ধর্ষণের বেশিরভাগ ঘটনাই ধামাচাপা দেয়া হয়। বিচ্ছিন্নভাবে দু’একটি ঘটনা মিডিয়াতে এলে আমরা দু’চার কথা বলি। তারপর যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে জানার, কেন মানুষ রেপ করে? এর প্রতিকারই বা কি?

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

রেপ

রেপ করার মনস্তাত্বিক কারণ

রেপ সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের দেশে ধর্ষণের সংখ্যাধিক্যের একটা বড় কারণ। রেপ যে একটি গুরুতর আইনগত অপরাধ এবং এর কঠোর শাস্তি রয়েছে তা ধর্ষণকারীর মনে জায়গা করে নেয়নি এখনও। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষণকারী মনে করে নির্যাতনের শিকার নারীটি মুখই খুলবে না এবং এই অপরাধের কোনো বিচার বা শাস্তি হবে না। আর একবার রেপ করে শাস্তি এড়াতে পারলে তার মধ্যে দ্বিতীয়বার অপরাধ করার প্রবণতা সৃষ্টি হয়। আবার দেখা যায়, গ্রাম্য সালিশে সম্পূর্ণ বেআইননি ভাবে ধর্ষককে সামান্য জুটাপেটা বা অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিরস্কার করা হয় ধর্ষণের শিকার নারীকেই। কখনও কখনও ধর্ষকের সঙ্গে ভিকটিমের বিয়ের আয়োজন করা হয়। এ সবই গুরুতর অপরাধের গুরুত্ব হ্রাস করে জনমনে একে একটি হালকা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে সমাজে তার অবস্থান হয়ে পড়ে ভীষণ নাজুক। অবিবাহিত হলে ভবিষ্যতে তার বিয়ে হওয়া দুষ্কর হয়। আর বিবাহিত হলে স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়নের আশংকা থাকে প্রবল। সমাজে সর্বত্র নারীটিকে হেয় চোখে দেখা হয়। ফলে গুরুতর আহত না হলে ভিকটিম ও তার পরিবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনা চেপে যাওয়া শ্রেয় মনে করে। অপরাধী মানসিকতার লোকেরা খুব সহজে, বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ না থাকার কারণে নির্দ্বিধায় রেপসহ যে কোনো অপরাধ করতে পারে, করে। এটি রেপের প্রধান কারণ। এছাড়া আরো যেসব কারণ আছে তা হলো –

▪আমাদের দেশের পুরুষরা বিয়ের আগে সেক্স করতে পারে না সমাজের নিষেধের কারণে। সবার প্রেমিকা থাকে না, থাকলেও পূর্ণ তৃপ্তির সুযোগ থাকে না। পতিতালয় আছে। সেখানে যাওয়ার মানসিকতা, সুযোগ, সামর্থ্য সবার থাকে না। পরকীয়া বা রেপ করাও ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু শরীরের চাহিদাটা থেকে যায় মোক্ষম ভাবেই। ফলে তারা সুযোগ খোঁজে। যে কোনো মেয়ে, শিশু এমন কি অতি কাছের কোনো আত্মীয়কে একা পেলে রেপ করে।

▪ধর্ষকদের মধ্যে বিকৃত কাম প্রবৃত্তি (অন্যকে নির্যাতন করে যৌনসুখ লাভের মানসিকতা) থাকতে পারে, থাকে যা রেপের আরেকটি কারণ। যেমন সাইকোপ্যাথিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী লোকেরা রেপ করে। ধারাবাহিক রেপের কারণও এটি।

▪মাদকাসক্তি মানুষের স্বাভাবিক বিবেচনাবোধ লোপ করে। এটিও রেপের আরেকটি কারণ।

▪ধর্ষকদের মনে মেয়েদের প্রতি তীব্র অশ্রদ্ধা, ক্রোধ, আক্রমণাত্মক মনোভাব ও প্রতিহিংসা পরায়ণতা (যার কারণ হতে পারে অতীতে কোনো মেয়ে দ্বারা প্রতারিত, অপমানিত প্রত্যাখ্যান হওয়া, ইত্যাদি), থাকলে তারা রেপ করে।

▪একাকিত্ব বোধ, অক্ষমতাবোধ, রাগ, অপমানজনক অনুভূতি, হতাশা, ব্যর্থতা বা ব্যক্তি জীবনে কষ্ট, অপ্রাপ্তি এসব থাকলে ধর্ষণের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায়।

▪যে সমাজে দ্বন্দ ও সামাজিক সমস্যার সমাধানের জন্য বলপ্রয়োগ বা প্রচণ্ডতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়, সে সমাজে রেপ হওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে। তাই সামাজিক প্রতিরোধ ও আইনের শাসনের অভাব রেপসহ সব ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী।

▪যেসব পর্নোচিত্রে মেয়েদের সঙ্গে জবরদস্তিমূলক যৌন সম্ভোগে মেয়েদের তা উপভোগ করতে দেখানো হয় বা মেয়েদের প্রতিবাদ করতে দেখানো হয় না, সেসব দেখে অনেক পুরুষ রেপ করতে উৎসাহিত বোধ করে। অথবা রেপ সম্পর্কিত চটি গল্প পড়ে অনেকের মধ্যে রেপ করার ইচ্ছা জাগ্রত হতে পারে।

▪কোনো মেয়ে প্রেমে বা বিয়ের আগে যৌন সম্পর্কে রাজি না হলে মেয়েটির ‘না’- কে সহ্য করতে না পেরে রেপ করে।

▪মেয়েদের ওপর আধিপত্য বিস্তার ও ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার মানসিকতাও রেপ করার অন্যতম কারণ। কখনো কখনো রেপকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, বিশেষ করে যুদ্ধের সময় রেপকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে যুগে যুগে দেশে দেশে। যেমন- ব্রাউনমিলার  তার বইতে দেখিয়েছেন যে, ইতিহাসের বিভিন্ন যুগে বিজেতারা বিজিতদের শাস্তি দিতে বা ভয় দেখাতে ধর্ষণকে রাজনীতির অঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেছে। একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ক্রুসেডের সময় ক্রুসেডররা ইউরোপের মধ্য দিয়ে ভ্রমণের সময় জেরুজালেমকে মুসলমানদের দখলমুক্ত করার সময় প্রচুর রেপের ঘটনা ঘটে। প্রথম মহাযুদ্ধের সময় জার্মান সৈন্যরা বেলজিয়ামের মহিলাদের, আমেরিকান সৈন্যরা ভিয়েতনামে আগ্রাসন চালানোর সময় ভিয়েতনামী মহিলা ও বালিকাদের, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের দেশের মেয়েদের, সার্বীয় সৈন্যরা বসনীয় মেয়েদের, ১৯৯০ সালে কুয়েত দখলের পর ইরাকি সৈন্যরা কুয়েতি মেয়েদের রেপ করে। এখনো কাশ্মির, আফগানিস্তান, সিরিয়া, বার্মা, এসব দেশে প্রচুর রেপ হয়।

▪ক্ষমতাশীল ব্যক্তি সুযোগ পেয়ে কোনো দুর্বল মেয়ে, শিশু বা ছেলের ওপর ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটায় রেপের মাধ্যমে।

▪কখনো কখনো বন্ধুবান্ধবরা একসঙ্গে হয়ে বা শক্তিশালী হয়ে আকস্মিকভাবে কোনো অসহায় মেয়েকে একা পেয়ে আনন্দ-ফুর্তি করার জন্য রেপ করে।

▪আজকে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমান শতাব্দীকে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগ বলা হয়। ইন্টারনেট প্রযুক্তির ব্যবহার আজকে যেমন মানুষের কাছে পৃথিবীটাকে হাতের নাগালের মধ্যে এনে দিয়েছে ঠিক, কিন্তু তা মানুষের মাঝে অবাধ যৌনাচারকেও লেলিয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তির ফলে আজকে পর্নোগ্রাফি যেভাবে বাড়ছে, তাতে শিশু-কিশোররা ব্যাপকহারে যৌন অপরাধের শিকার হচ্ছে। স্কুলগামী টিনেজারদের মোবাইলে পর্নোগ্রাফি ছবি অভিভাবকদের অসহায় ও শঙ্কিত করে তুলেছে। অনেকেই রেপ করে সেই ছবি ধারণ করে নেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ছে শিশু-কিশোররা।

▪আজকে ইয়াবাসহ নতুন নতুন মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নিত্যনতুন নামে যে হারে মাদকের ছড়াছড়ি চলছে, তা এদেশের ভাবী প্রজন্মকে নৈতিক ভাবে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক মানুষের সাধারণ চিন্তাশক্তি লোপ করে দেয়। এছাড়া আরো যেসব কারণ থাকে রেপ হওয়ার পেছনে তা হলো।

▪নিরাপত্তাহীন ও অবৈধ কর্মক্ষেত্রে নারী-এনজিও, পার্লার, বাণিজ্য, হোটেল-মোটেল।

▪নানা অনুষ্ঠান উৎসবে বিভিন্ন মাত্রায় অশ্লীল গান, নৃত্য, থার্টি-ফার্স্ট নাইট,  ভ্যালেন্টটাইন ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবসে নারীকে খোলামেলা উপস্থাপন।

হুজুরদের (এমনকি হাফেজদের) দ্বারাও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের রেপড হওয়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। মাদ্রাসার বা এতিমখানার কোমলমতি অসহায় শিশুগুলোর ওপর বর্বর নির্যাতন করলেও হুজুরদের বিরুদ্ধে সহজে কেউ মুখ খোলে না বলে তারা এসব জঘন্য অপরাধ করতেই থাকে। তারা কেন রেপ করে? উত্তর হতে পারে এরকম-

১. তাদের দাম্পত্য জীবনের যৌন অতৃপ্তি কখনো কখনো রেপের কারণ হতে পারে।
২. মাদ্রাসার বা এতিমখানার আবাসিক পরিবেশ, অভিভাবকদের অসহায়ত্ব ও হুজুরদের প্রতি তীব্র আনুগত্য হুজুরদের সাহস বাড়ায়। ফলে তারা রেপ এর মতো
এমন অপকর্ম করতে ভয় পায় না।
৩. ধর্মীয় অনুশাসন ভাঙার ইচ্ছা কখনো কখনো রেপের কারণ।
৪. আমরা বিভিন্ন মুসলিম দেশের, বিশেষ করে সৌদি আরবের মানুষদের জীবন প্রণালি অনুকরণ করি। সৌদি আরবের অনেকেই যেহেতু বহুগামী এবং যৌন জীবনে খুবই অসংযমী, তাই আমরাও তাদের মতো হওয়ার চেষ্টা করি।
৫. ধর্মীয় আইনের ভুল ব্যাখ্যাও দায়ী। অনেক হুজুর মনে করে, আল্লাহর কাছে তওবা পড়ে মাফ চাইলেই বা হজ করলেই যে কোনো পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

রেপ এবং তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

প্রতিটা শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম প্রতিষ্ঠান হলো তার বাড়ি, তার পরিবার। এটিই তার আচরণ, মূল্যবোধ, ধারণা, বিশ্বাস, নৈতিকতা, সাহস, শিক্ষা ইত্যাদির ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এই ভিত্তিই তার সারা জীবনের আচরণের মূল চাবিকাঠি। এখান থেকে সে যা শিখবে, সারাজীবন সে তাই করবে। পরিবারে সে ভালো কিছু শিখলে সে ভালো হবে, না হলে খারাপ। তাই ছোটবেলা থেকে আমাদের উচিত আমাদের শিশুদের প্রতিবাদ করতে শেখানো। কখনো যেন তারা কোনো অন্যায় মেনে না নেয়। তাহলে তারা ভয় পাবে না, কিছু গোপন করবে না, সাহসী হবে, যে কোনো অন্যায়ের শুরুতেই প্রতিবাদ করতে শিখবে। এটা খুব জরুরি। আরো জরুরি শিশুকে নিজে অন্যায় না করতে শেখানো যাতে বড় হয়ে সে নিজে যেন অপরাধী না হয়।

পরিবারের উচিত, রেপ এর মতো এ রকম যে কোনো জঘন্য অপরাধ গোপন না করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তার কাছের জনেরা তাকে সাহায্য করুন, চিকিৎসা দিন, মানসিক শক্তি জোগান। রেপ এর মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ভুলতে সাহায্য করুণ। কিছু করতে না পারলে অন্তত মন দিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে তার কষ্টের কথা শুনুন, সমব্যথী হোন। ভিকটিমকে সান্তনা দিন। বলুন যে দুর্ভাগ্যজনক হলেও এমন ঘটনা আরো অনেকের সঙ্গেই ঘটেছে। দরকার হলে পরিবেশ বদলানো দরকার। এতে ঘটনার তীব্রতা কম অনুভূত হয়। পজিটিভ ভাবতে সাহায্য করুন। যাই ঘটুক, তাকে কাটিয়ে ওঠে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিন। সর্বোপরি, প্রতিবাদ করার জন্য মানসিক শক্তি জোগান ও প্রতিবাদের উপায় দেখিয়ে দিন, সঙ্গে থাকুন।

মনে রাখবেন রেপ সহ যে কোনো অপরাধের প্রতিবাদ ও প্রতিকার হওয়া জরুরি। অন্যায়ের প্রতিকার না পেলে মানুষের মনে যে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তা সারাজীবন তাকে কষ্ট দেয় যার যন্ত্রণা শুধু সেই জানে। অন্যায়ের প্রতিকার না পেলে বা প্রতিবাদ করতে না পারলে তা মানুষের মনের ওপরে চাপ ফেলে, মানুষ নিজেকে অপমানিত বোধ করে, ওই কষ্টকর বা অসম্মানজনক অবস্থার কথা ভুলতে পারে না। ফলে স্বাভাবিক ও আনন্দময় জীবন ব্যাহত হয়। নিকটজনদের তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার করতে না পারার অপরাধে কখনো ক্ষমা করতে পারে না। কোনোদিন শ্রদ্ধা করবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির মানসিক শক্তি, ক্ষমতা বা সৃজনশীলতা, কাজ করার স্পৃহা, জীবনে কিছু করার বা হওয়ার স্বপ্ন, স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার আনন্দ এগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। কেউ কেউ অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে। কেউ না মরে বেঁচে থাকে। রেপ করার পর অপরাধীকে বুক উঁচিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে দেখে ভিকটিমের কষ্ট আরো বাড়ে। অপরাধী শাস্তি পায় না বলে আরো অপরাধ করার স্পর্ধা ও সুযোগ পেয়ে যায় এবং বীরদর্পে অপরাধ করে। তাকে দেখে অন্যরাও অপরাধ করতে উৎসাহিত বোধ করে। আরো মানুষ অপরাধ করে। এভাবে সমাজ, দেশ কলুষিত হয়। রেপ হওয়ার পর ভিকটিম ন্যায়বিচার না পাওয়ার কারণে আত্মগ্লানিতে ভোগে, নিজেকে অসহায় ও অপরাধী ভাবে, আত্মহত্যা করে, কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না, মানুষের প্রতি আস্থা হারায়, অনেকে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়। ভিকটিমের মনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট, ভয়, লজ্জা, আতঙ্ক, ঘৃণা ইত্যাদি সৃষ্টি হয় যা তাকে প্রতিনিয়ত মানসিক যন্ত্রণা দেয়।

মানুষ স্বভাবগত ভাবে ন্যায়পরায়ণ। তাই তার প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধ দগদগে ঘায়ের মতো চিরস্থায়ী ভাবে থেকে যায় যা কোনোদিনও শুকায় না, ভিকটিম কখনোই তা ভুলতে পারে না। অপরাধী শাস্তি পেলে ভিকটিম সান্তনা পায়, কষ্ট চলে যায়, নতুন করে বাঁচার উদ্যম সৃষ্টি হয়, মানসিক ভারসাম্য ফিরে আসে।আমরা আশা করবা সমাজে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, যেখানে কোনো অপরাধীই অপরাধ করে পার পাবে না।

456 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে
  • 15
    Shares

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন