রুপচর্চা কেন করবেন কিভাবে করবেন

রুপচর্চা কেন করবেন কিভাবে করবেন
5 (100%) 5 votes

রুপচর্চা শুধু সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যমই নয়; এটি আভিজাত্যও প্রকাশ করে। সুন্দর করে সকলের কাছে নিজেকে উপস্থাপনের কলা কৌশলের প্রক্রিয়াই হলো রুপচর্চা । একটি সুন্দর ব্যক্তিত্ব এ সার্বিক সৌন্দর্যেরই অংশ। ছেলেদের এবং মেয়েদের রুপচর্চা, ত্বকের যত্ন ও চুলের যত্ন, চোখের যত্ন,শরীরের যত্ন ইত্যাদি সবকিছুই রুপচর্চার মধ্যে পরে। জন্মগত কারণেই অনেকের ত্বক ফর্সা আবার অনেকের শ্যামলা। তবে আপনার ত্বক ফর্সা বা শ্যামলা যে কোন প্রকারের ত্বক হোক না কেন তা অনুজ্জ্বল হয়ে যায়। আপনি তরি-তরকারি ও দৈনন্দিন খাবারে ব্যবহৃত সামগ্রী দিয়েও সহজেই নিজের রূপকে অপরূপ করে তুলতে পারেন। এতে ব্যয়ও যেমন কম, আর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে যে চেহারা দিয়েছে তা পরিবর্তন করা না গেলেও সুন্দর করা সম্ভব নয়। তবে মানুষের যে চেহারা তা চিরকাল সুন্দর থাকে না। তাই চেহারার এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে আপনাকে কিছু টিপস অনুসরন করতে হবে। এতে অবশ্য আপনার চেহারা ভালো থাকবে। মানুষের ব্যক্তিত্ব ধরে রাখার জন্য রুপচর্চা খুবই প্রয়োজনীয়।

রুপচর্চা কত ধরনের

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আপনি যদি সত্যি সত্যি আপনার ত্বকের সৌন্দর্য্য বাড়াতে চান কিংবা হারানো সৌন্দর্য্য ফিরে পেতে চান, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নাই। এমনকি আপনাকে ঘন ঘন বিউটি পার্লারেও যেতে হবে না। শুধুমাত্র ঘরে বসে কিছু টিপস আর নিয়ম মেনে চললেই আপনি পেতে পারেন সুন্দর লাবন্যময় ত্বক। রুপচর্চা দুইভাবে করা যায়

প্রাকৃতিক উপায়ঃ এটাই আসলে প্রকৃত উপায়। আমরা রুপচর্চায় সাধারনত প্রাকৃতিক কিছু উপাদান যেমন শাক-সবজী, ফল এবং এগুলোর পাল্প বা মন্ড ব্যবহার করি। এটা একদিকে যেমন নিরাপদ তেমনি সাশ্রয়ীও বটে।

কসমেটিকসঃ এতে ব্যবহৃত হয় কেমিক্যাল আর কৃত্রিম উপাদান। এর মধ্যে আছে ফেয়ারনেস ক্রীম অথবা বিভিন্ন কেমিক্যালের মিক্সার। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা ত্বকের সৌন্দর্য্য চর্চায় কসমেটিকসের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পদ্ধতির পরামর্শও দিয়ে থাকেন। কসমেটিকস ব্যবহার করার সময় অবশ্যই ভালো ব্যান্ডের ব্যবহার করতে হবে অন্যথায় ত্বকের বারোটা বেজে যাবে

মেয়েদের রুপচর্চা

মধু – ত্বকের যত্নে এবং উজ্জ্বল, সুন্দর ত্বক পেতে বহুল প্রচলিত এবং উত্তম পদ্ধতি হল মধুর ব্যবহার। মধুর উপকারিতা অনেক। এক চামচ মধু নিন। মুখের ত্বকে লাগান। আস্তে আস্তে বৃত্তাকারে মেসেজ করুন। এইভাবে দিনে দুইবার সকালে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন। সপ্তাহ দুই পরে আপনি দেখবেন আপনার ত্বক কেমন উজ্জ্বল আর সোনালী রঙ ধারন করছে।

পেঁপে – আপনারা হয়তো আগেই জেনে থাকবেন পেঁপের কথা। হ্যাঁ, পেঁপে খাওয়ার উপকারিতা আমরা সবাই জানি। তবে এটা আপনার ত্বকের জন্যও আশির্বাদ স্বরুপ। এটাকে টপিক্যাল মেডিসিন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। জানেন কি টপিক্যাল মেডিসিন কি? টপিক্যাল মেডিসিন হচ্ছে যা কিছু বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের যত্নে পেঁপে যেহেতু বাহ্যিক ভাবে ব্যবহার করা হয়, সুতরাং পেঁপে এক ধরনের টপিক্যাল মেডিসিন। একটা পেঁপে নিন। খোসা ছাড়িয়ে নিন। শাঁসটা পিষে ঘন পেস্টের মত করুন। মুখে লাগান। ইচ্ছে করলে আপনি এই পেস্ট আপনার বাহু কিংবা যেসব স্থান রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে, সেসব স্থানেও লাগাতে পারেন। ১ ঘন্টা এভাবে রাখুন। আপনি যদি ব্যস্ত মানুষ হয়ে থাকেন বা আপনার হাতে সময় কম, সেক্ষেত্রে পেস্ট লাগিয়ে রেখে অন্যান্য কাজ করতে থাকুন কিংবা সকালে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকুন। ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কমপক্ষে তিন মাস ব্যবহার করুন। পার্থক্যটা দেখুন।

তুলসি –  তুলসি পাতা দিয়ে রুপচর্চা অনেক প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। যারা তুলসির রস ত্বকে ব্যবহার করেন তারা বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন, সাথে সাথে স্বাভাবিক ত্বকও হয় আরো সুন্দর আর লাবন্যময়। কাজেই রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে যাওয়া প্রতিকারে অব্যর্থ ঔষধ তুলসির রস, সাথে উপহার সুন্দর ফর্সা ত্বক। তুলসির কিছু পাতা নিন। শীল-পাটা দিয়ে বেটে কিংবা পিষে পেস্ট করুন। আস্তে আস্তে ত্বকে লাগান। কয়েক মিনিট রেখে হালকা কুসুম পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ সপ্তাহ লাগান।

গোলাপ জল – খুব দ্রুত রুপচর্চা করার জন্য গোলাপ জল একটি উত্তম জিনিস। গোলাপ জল আপনি কিনেও ব্যবহার করতে পারেন আবার নিজে তৈরি করেও ব্যবহার করতে পারেন। খুব অল্প সময়ে সুন্দর ত্বক পেতে গোলাপ জল অনন্য। গোলাপ ফুল থেকে পাঁপড়ি গুলো আলাদা করে একদিন জলে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর প্রতিদিন মুখে ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে যতবার মুখ ধোবেন, ততবারই গোলাপ জল ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন গোলাপ জলে মুখ ধোয়ার সময় কোন ধরনের সাবান ব্যবহার করবেন না।

হলুদ – রুপচর্চা করতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য্যে হলুদের ব্যবহার ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক মাত্রায় প্রচলিত।  গবেষণায় প্রমানিত যে হলুদের ত্বকের রঙ ফর্সা করার গুন আছে। যেহেতু হলুদ দামী বস্তু নয়, তাই আপনি ইচ্ছে করলে আজই এর ব্যবহার শুরু করতে পারেন। মুখে, হাতে, পায়ে নিয়মিত সকালে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হলুদ লাগান। কিছুদিন পরই পার্থক্যটা বুঝবেন। ফর্সা ত্বক! কোন ব্যাপারই না।

দই –  দই আপনার ত্বকও ফর্সা করে! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা সত্যি। প্রতিদিন সকালে ১ টেবিল চামচ দই নিন। মুখে মাখুন। ৪ সপ্তাহের বেশি লাগবে না আপনার মুখে ত্বক ফর্সা হতে। সেই সাথে ব্রণ থাকলে তাও দূর হবে। দইয়ে যাদের এলার্জি আছে তাদের ব্যবহার না করাই ভালো।

শশা – শশার রয়েছে ত্বক ফর্সা করার গুন। কম দামী সবজী হওয়ায় এটির ব্যবহার যে কারো জন্যই উত্তম পরামর্শ। শশাতে আছে এমন সব উপাদান যা মেলানিনের উপস্থিতি কমায়, ত্বকের পুড়ে যাওয়া বা তামাটে হওয়া রোধ করে। আর এসব কারনেই বিশেষজ্ঞরা শশা ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং কিছু অংশ খেতেও বলেন। এটা পেস্টের মত করে লাগাতে পারেন অথবা এর রস লাগাতে পারেন। শশা শুধু ত্বকের সুন্দর করে তা-ই নয়, শশা বাটা বা শশার রস লাগানো স্থানের তাপ কমিয়ে স্থানটি ঠান্ডা রাখে বিশেষ করে চোখের নীচ। নিয়মিত শশা ব্যবহারে কালো দাগ দূর হয়। যখন শশা পেস্ট ত্বকে লাগাবেন, চাক চাক করে কাটা শশার টুকরা চোখের উপর লাগাতে ভুলবেন না যেন। এতে আপনার চোখের নীচে কালো দাগ দূর হবে।

লেবু – লেবুর রস দিয়ে রুপচর্চা করলে ত্বকের জন্য আশ্চর্য্য ফল দেয়। এটা আপনি যে কোন সময় ব্যবহার করতে পারেন, তবে দ্রুত ও ভাল ফলের জন্য দিনে বেশ কয়েক বার লাগাতে পারেন। লেবুর রস মাখালে প্রথম কিছুক্ষন হালকা সূচ ফোঁটার মত অনুভূতি হতে পারে,তবে এটা স্বাভাবিক। কাজেই এটাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মনে করবেন না। একবারে একটা লেবুই যথেষ্ট। ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ নিয়মিত লাগান। আয়নায় পার্থক্যটা দেখুন।

টমেটোর রস – রুপচর্চা করতে যারা নিয়মিত টমেটো ব্যবহার করেন, তাদের ত্বক হয়ে ওঠে আরো সুন্দর। পৃথিবীর অনেক স্থানেই টমেটোকে রুপ চর্চার উপকরণ হিসাবে ব্যবহারের করা হয়। একটা টমেটো নিয়ে চেপে রস বের করে মুখে লাগান সাথে শাঁসটাও। প্রতিদিন এভাবে ব্যবহার করুন অন্ততঃ ৬ মাস পর্যন্ত।

আলু – আলু বা গোল আলু অন্যান্য উপকরণের মত ত্বক ফর্সা বা সুন্দর করার জন্য যতটা না ব্যবহার হয় তার চেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মুখের ত্বকের কালো দাগ দূর করার ক্ষেত্রে। রোদে মুখের ত্বক পুড়ে গেলে কালো দাগ পড়ে। আর সেই কালো দাগ দূর করায় পৃথিবীর অন্য যেকোন বস্তুর তুলনায় আলুই একমাত্র কার্যকরী উপাদান। আপনি ইচ্ছা করলে আলুর পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন।

ডাবের পানি – বাইরে থেকে ঘরে এসে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কচি ডাবের পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকে রোদের ক্রিয়া বা রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। আপনাকে দেবে প্রশান্তি আর সতেজ অনুভূতি। চাইলে আপনি কচি ডাবের শাঁসও মুখে মাখতে পারেন। এতে ত্বকের রঙ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের ব্রণও দূর হবে।

ডিম – রুপচর্চা করতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় হোম রেমেডি গুলোর মধ্যে ডিম অন্যতম। ১টি বাটিতে কুসুম নিয়ে ফেটিয়ে পেস্টের মত তৈরী করুন। ১ চামচ মধু আর ১ চামচ দই নিয়ে ভালভাবে কুসুমের সাথে মেশান। ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে সারা মুখে লাগান। শুকাতে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ২ থেকে ৩ মাস এভাবে প্রতিদিন ব্যবহার করুন আর রেজাল্ট লক্ষ্য করুন।

তরমুজ – গ্রীষ্মকালে দৈনিক কমপক্ষে তিনবার তরমুজের টুকরা নিয়ে মুখে ঘষুন। রোদে পোড়া কালো দাগ দূর হবে। তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করবেন। কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ততক্ষনাৎ ব্যবহার বন্ধ করে দিন।

দুধের সাথে জাফরান – রুপচর্চা করতে জাফরানের ব্যবহার অনেক পুরাতন। ত্বকের সৌন্দর্য্য রক্ষায় সামান্য কিছু অর্থ খরচ করতে আপনার যদি বিশেষ অসুবিধা না থাকে, তাহলে দুধ আর জাফরান ব্যবহার করতে পারেন। যদিও জাফরান বর্তমানে বেশ দামী উপাদান। ২৫০ মি.লি এর মত দুধ নিন। তাতে কিছু জাফরান ফেলে ভালভাবে মেশান। কোন ধরনের মেসেজ করা ছাড়াই মুখের সারা ত্বকে সমানভাবে লাগান। এভাবে কিছুক্ষন থাকুন। জাফরান মিশ্রিত দুধ মুখে লাগানোর পাশাপাশি খেতেও পারেন। এতে আরো ভাল ফল পাবেন। বেশ কয়েকটি গবেষনায় দেখা গেছে যে, দুধ আর জাফরান একসঙ্গে ব্যবহারের ফলে ত্বক ফর্সা হওয়ার পাশাপাশি গোলাপী আভা ধারন করে।

চন্দন – রুপচর্চা করতে চন্দনের ব্যবহার কম বেশী সবারই জানা আছে। এক চিমটি চন্দন কাঠের পেস্টই আপনার এতদিনের ফর্সা হওয়ার স্বপ্ন স্বার্থক করতে পারে। চন্দন পেস্ট ‘ফেইস প্যাকে’র মত করে একটানা ৩০ দিন ব্যবহার করুন। আর আশ্চর্য্য ফল লাভ করুন। আর একারনেই বোধ হয় স্যান্ডাল সোপ এত বেশি জনপ্রিয়।

সতর্কতা – রুপচর্চা করতে উপরোল্লিখিত বিউটি টিপস গুলো নিঃসন্দেহে সাশ্রয়ী এবং কার্যকরি। এগুলো ব্যবহারে আপনার কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবারও দরকার নেই। আর হ্যাঁ, এতসব টিপস পেয়ে আপনার মনে হয়তো সংশয় দেখা দিতে পারে যে কোনটা রেখে কোনটা ব্যবহার করবো কিংবা কেউ ভাবতে পারেন একসঙ্গে সবগুলো কিভাবে ব্যবহার করব। এর উত্তর হচ্ছে ‘না’। সবগুলো একসঙ্গে নয়। যেমন ধরুন দুধ আর লেবু একসঙ্গে কাজ করে না। যেহেতু দু’টোই বিউটি টিপস হিসাবে দেয়া আছে, আর আপনি দু’টোই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছেন, সেক্ষেত্রে বরং আপনার ত্বকে উলটো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কাজেই যেকোন একটি বেছে নিন এবং সেটাই রেগুলার ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কোন কারনে আপনি যদি একটাতে সন্তুষ্ট না হন, সেক্ষেত্রে একটা ব্যবহারের পর অন্যটা ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবে কখনোই সবগুলো একসঙ্গে ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন না।

রুপচর্চা

রাতে ঘুমানোর আগে মেয়েদের রুপচর্চা

রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করে ঘুমালে সারা রাতের লম্বা সময় ত্বক একেবারে তরতাজা। ত্বক তেলতেলে ও আর্দ্র হয়ে পড়লে মৃদু সাবান ও পানি দিয়ে মুখ ধোয়া খুব ভালো। অবশ্য শুষ্ক ত্বকে সাবানের বদলে ক্লিঞ্জিং লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা উচিত ভিজে তুলো। রুপচর্চা করতে রাত্রে লাগানোর ক্রিম ভিটামিন ই যুক্ত হলে উপকার হয়। কারণ ভিটামিন ই ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে। এছাড়া ক্রিমের মধ্যে এই ভিটামিন মেশানো থাকলে, ক্রিমটি অনেকদিন পর্যন্ত ভালো ও ব্যবহারযোগ্য থাকে। ভালো কোম্পানির ওভারনাইট ক্রিম সব বয়সের জন্যই ভালো। প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে রুপচর্চা করতে চাইলে সমপরিমাণে পুদিনা পাতা ও নিমপাতা বেটে শুধু ব্রণ ও দাগের উপর লাগিয়ে ঘুমান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারেন ফেসপ্যাকেও। ব্রণের জন্য ভীষণ উপকারী। চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে ঘুমানোর আগে কুরানো শশা বা আলু  বা ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ চোখের উপর দিয়ে রাখুন ১০-১৫ মিনিট। এছাড়া প্রতি রাতে পা ধুয়ে লোশন লাগিয়ে ঘুমাতে যান। এছাড়া নিয়মিত যত্ন হিসেবে সপ্তাহে দু-একবার যেটা করতে পারেন তা হলো- রাতে পা প্রথমে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে, ২ টেবিল চামচ কুসুম গরম অলিভ অয়েল ও ১ চা চামচ লবণের মিশ্রণ তৈরি করে সেটা পায়ে ভালো করে মাসাজ করুন। এতে মৃতকোষ ঝরে যাবে, গোড়ালি নরম হবে, রক্ত চলাচল ভালো হবে। হাতের যত্নও নিতে পারেন একইভাবে। যাদের বড় চুল, তারা বেণী করে নিন ঘুমানোর আগে। ছোট চুল হলে খোলা রেখে শুলেও অসুবিধা নেই। মাথায় তেল মাসাজ করলে ঘুম ভালো হবে। নখ ফেটে বা ভেঙে যাওয়ার সমস্যা কমাতে ঘুমানোর আগে হাত পায়ের নখে অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করে নিন। সারা রাত নখ আর্দ্রতা পাবে। নরম গোলাপি ঠোঁট পেতে প্রতি রাতে ভ্যাসলিনের সঙ্গে অল্প লবণ মিশিয়ে ঠোঁটে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। এতে ঠোঁটের মৃত কোষ ঝরে উজ্জ্বলতা আসবে।

ছেলেদের রুপচর্চা

শুধু মেয়েদের জন্যই নয়, ছেলেদেরও রূপচর্চা প্রয়োজন। কেবল ত্বক উজ্জ্বল থাকলেই চলবে না, সঠিক খাওয়া-দাওয়া আর ব্যায়ামও করতে হবে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ধুলাবালির প্রলেপে ত্বকের রং তামাটে, রুক্ষ ও মস্নান হয়ে যায়। ছেলেদের ত্বকের এ খসখসে ভাব দূর করতে নিয়মিত যত্নের প্রয়োজন। পুরুষের ত্বক মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি পুরু। তাই মেয়েদের ত্বকচর্চার সঙ্গে পুরুষদের রূপচর্চার কোনো মিল নেই।
ছেলেদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার জায়গা হলো ভ্রুরেখার ভাঁজ, চোখের কোলে কুঁচকে যাওয়া দাগ, ঝুলে পড়া গাল আর এবড়ো-খেবড়ো ছিদ্রযুক্ত অমসৃণ ত্বক। ত্বকের গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। বাইরে গরম, আবার অফিস বা ঘরের ভেতর এসি। একবার ঠান্ডা পরলে আবার গরম এই রকম মিশ্র আবহাওয়ায় বার বার যাওয়া আসা আর বিভিন্ন দূষণ ত্বককে করে তোলে শুষ্ক ও খসখসে। তাই প্রতিদিনই ত্বকের যত্ন নেয়া প্রয়োজন।

ছেলেদের ফেসিয়াল – ছেলেরা দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটায়। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে হাত-মুখ ধুয়ে সানক্রিম বা লোশন লাগিয়ে নেয়া উচিত। ব্যাগের মধ্যে একটা ফেসওয়াশ রাখা ভালো। শহরের যানজট আর ধুলাবালির মধ্যে অফিসে পৌঁছে প্রথমেই ব্যাগে রাখা ফেসওয়াশ দিয়ে হাত-মুখ পরিষ্কার করে ফ্রেশ হয়ে নিন। এতে ভালোভাবে কাজে মনোযোগ দেয়া যায়। যারা সারা দিন হাত-মুখ পরিষ্কার করার সময় পান না বললেই চলে, তারা মাসে অন্তত এক দিন কোনো বিউটি সেলুনে গিয়ে ফেসিয়াল করাতে পারেন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা করাতে পারেন অ্যালোভেরা ও গোল্ড ফেসিয়াল। আর ত্বকে ব্রণের সমস্যা থাকলে আয়ুর্বেদিক ফেসিয়াল করালে উপকার পাবেন। ঘরে বসে রুপচর্চা করতে চাইলে এবং রোদে পোড়া ভাব কমাতে চন্দনের প্যাক লাগাতে পারেন।

ত্বকের যত্ন – ছেলেদের ত্বকের প্রধান সমস্যা হলো, স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ত্বক ঝুলে পড়ে। চোখের নিচে ফোলাভাবও দেখা দেয়। অল্প গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রতিদিন এক চামচ করে মধু ব্যবহার করতে পারেন আপনার ত্বকে।

চুলের যত্ন – ত্বকের পুষ্টি থেকেই চুল পুষ্টি পায়। কারণ চুলের নিজস্ব কোনো রক্তনালি নেই। তাই সুন্দর চুলের অধিকারী হওয়ার জন্য পুরুষদেরও খানিকটা কষ্ট করতে হয়। রুপচর্চা করতে চুলে নিয়মিত তেল দেয়া, শ্যাম্পু করা, কন্ডিশনিং করা খুবই জরুরি কাজ। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত এক দিন চুলে মেহেদি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। আপনার মাথায় যদি অনেক দিনের পুরনো খুশকি থাকে তবে সেখান থেকে মুখে ব্রণ হওয়া এবং চুল পড়া সমস্যা দেখা দেয়। চুলে হালকা তেল ম্যাসাজ অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান করে। মেহেদি খুশকির সমস্যা সমাধানে সহায়ক। এর সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ, দই বা কফি অল্প গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে মাথায় লাগান। আধঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

একজন সুদর্শন পুরুষ মানেই সুন্দর ত্বক, সুন্দর চুল, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। আর এসব কিছুর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যালান্স ডায়েট ও ভালো একটা ঘুম

155 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন