যৌন অধিকার কি এবং ইসলাম ধর্মে নারীর যৌন অধিকার

যৌন অধিকার কি এবং ইসলাম ধর্মে নারীর যৌন অধিকার
5 (100%) 3 votes

যৌন অধিকার প্রত্যেকটি মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। মানুষ ব্যতীত অন্য কোনও প্রাণীর যৌন অধিকারে সীমা নেই। যৌন জীবনের সামাজিক ও আইনগত স্বীকৃতির নাম বিয়ে। বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দেওয়ার অর্থ মানুষ নামক প্রাণিটির যৌন অধিকারেরও একটি সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া। মানুষের যৌনতায় সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য সুখের সমাজ গড়া। সুখের সঙ্গে সুন্দরের অন্বেষা, প্রেমের অন্বেষাও রয়েছে। বাধ বিচারহীন যৌনতায় ওই প্রাণিগুলোর বিকাশ, দৈহিক বৃদ্ধি, রোগ-ব্যাধি, মনোবৃত্তি, সামাজিকতা ইত্যাদির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

যৌন

যৌন অধিকার এবং বিয়ে

বাংলাদেশের সরকার মানুষ ও সমাজের সুখের জন্যই মেয়েদের বিয়ের বয়স সীমা ১৮ বছর ছেলেদের বিয়ের বয়স ২১ বছর করা হয়েছে। বাংলাদেশে কোনও নারী বা পুরুষের যৌন ইচ্ছা জেগে উঠলেই সে ইচ্ছা পূরণ করা যায় না। দু’জন নারী ও পুরুষ পরস্পরের প্রতি অনুরক্ত কিংবা সম্মত হলেও স্বাধীন ভাবে **যৌন মিলন** করতে পারে না। সেক্ষেত্রে কেবল সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বাধা নয় -কিছু আইনি বিধি নিষেধও রয়েছে। পৃথিবীর সকল দেশেই যৌনতার সীমানা সেখানকার আইন, সামাজিকতা ও সাংস্কৃতিক বোধের দ্বারা নির্ধারিত। তবে সীমানাটি কোথাও বিস্তৃত, কোথাও সংকীর্ণ। যৌনতার ক্ষেত্রে অতি প্রাচীনকাল থেকে গড়ে ওঠা একটি সীমানা হচ্ছে বিয়ে। বাংলাদেশে বিয়ের বয়স নির্ধারণের মৌলিক আইন হচ্ছে “বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ১৯২৯।” এছাড়াও দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯৫, নারী ও ‍শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০০৩, আদালতের রায় ও ব্যাখ্যা, বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাস এবং প্রচলিত প্রথাসমূহ নর-নারীর যৌনজীবন এর সাথে সম্পর্কিত। সরকার সম্প্রতি বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে যেসব সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে তার সবগুলোই অভিজ্ঞতা পুষ্ট এবং প্রয়োজনীয়।

১৯৯৫, ২০০০ এবং ২০০৩ সালের নারী ও নির্যাতন দমন আইনে স্ত্রীর সঙ্গে সম্মতি ছাড়া (জোরপূর্বক) যৌনকর্ম আইনত ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয় না। তবে দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৫ এর “ব্যতিক্রম” অনুযায়ী ”যদি কোনও পুরুষ তার স্ত্রীর সাথে যৌন সহবাস করে এবং স্ত্রীর বয়স যদি ১৩ বৎসরের কম না হয় তবে ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না।” অর্থাৎ স্ত্রীর ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য বয়স হচ্ছে ১৩ বৎসর। দেখা যাচ্ছে প্রচলিত আইন গুলোতে ১৩-১৬ বৎসরের মেয়েদের বিয়ে একেবারে নিরুৎসাহিত করা হয়নি। কিন্তু বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ফলে দণ্ডবিধি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের মধ্যে বিয়ের বয়স নিয়ে বিরোধ আছে। এ বিরোধের ফলে একটি মেয়েকে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন, প্রেমঘটিত কারণে কোনও কিশোরী যদি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া তার প্রেমিককে বিয়ে করে তবে মেয়ের অভিভাবক অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উক্ত প্রেমিক এবং তার অভিভাবকদের বিরুদ্ধে অপহরণ বা ধর্ষণ অথবা উভয় ধরনের মামলা করে এ অজুহাতে যে, তাদের মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক। বয়স প্রমাণের জন্য কোনও সনদপত্রের আইনগত বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা ও এর প্রয়োগ নেই বিধায় মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্কও হয় তবুও এ ধরনের মামলা করার সুযোগ আছে। মামলা হবার পর মেয়েটিকে নিয়ে তার অভিভাবক, পুলিশ এবং তার প্রেমিক পক্ষের লোকজনদের মধ্যে টানাহেঁচড়া শুরু হয়। এর পরিণতিতে মেয়েটিকে প্রায়শঃ নিরাপদ হেফাজতের নামে জেলখানায় যেতে হয়।

যৌন আক্রমন এবং যৌন হয়রানি

যৌন আক্রমণ হচ্ছে কোন যৌন বা কামান্বিত কাজ যা কোন ব্যক্তিকে অস্বস্তিবোধ করায়, ভয় দেখায় বা আতঙ্কিত করে। এটা এমন আচরণ যা কোন ব্যক্তি পছন্দ করেন না। যৌন আক্রমণ হচ্ছে বিশ্বাসের প্রতারণা এবং প্রত্যেক ব্যক্তির তাঁর শরীরে কি ঘটবে তা বলার অধিকারকে অস্বীকার করা। যৌন আক্রমণ হচ্ছে হকদারিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। যৌন আক্রমণ বয়স্ক ও শিশুদের উপর, নারী ও পুরুষের উপর, এবং সকল পারিপার্শ্বিক অবস্থার লোকজনের উপর করা হতে পারে। যৌনহয়রানি বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন-

▪অবাঞ্ছিত ছোঁয়া বা চুম্বন
▪দমনমূলক বা জোরজবরদস্তি যৌন কাজকর্ম বা যৌনতা-সম্পর্কিত কাজকর্ম, হিংস্রতা বা ব্যথা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কাজকর্ম।
▪যৌনাঙ্গ প্রদর্শন করা।
▪আপনি যখন উলঙ্গ বা যৌন কাজকর্মে নিযুক্ত তখন আপনার অনুমতি ছাড়া কারো দ্বারা পর্যবেক্ষিত হওয়া।
▪সম্মতি ছাড়া ইন্টারনেটে যৌনতামূলক ছবি পাঠান।
▪কারো দ্বারা দমন বা জোরজবরদস্তি করে অশ্লীল যৌন ছবি দেখান বা তাতে অংশ গ্রহণ করান।
▪ঘুমন্ত, এ্যালকোহল এবং/অথবা অন্য মাদক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে প্রভাবিত ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সঙ্গম করা।
▪ইঙ্গিতপূর্ণ অশ্লীল গল্প বলা বা কামান্বিত ছবি দেখান।
▪ধর্ষণ (অঙ্গের যে কোন ছিদ্রে যে কোন বস্তু জোর করে ঢোকান)।
▪কোন শিশুকে যে কোন প্রকার যৌন কাজে লিপ্ত করা।

তবে একটা বিষয় উল্লেখ্য যে যৌন আক্রমণ ও যৌনতার প্রকাশ এক বিষয় নয়। যৌন আক্রমণ হচ্ছে অপ্রার্থিত যৌনআচরণ, বা ভয় দেখান, দমন বা জোর জবরদস্তির মাধ্যমে ক্ষমতার ব্যবহার বা কাউকে তাঁর অধিকার পছন্দ করতে না দেওয়া।

ইসলামে নারীর যৌন অধিকার

ইসলামের সমালোচকরা অনেকে বুঝাতে চান যে, ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোনো মূল্য নেই, বরং এই ব্যাপারে পুরুষকে একতরফা অধিকার দেওয়া হয়েছে, পুরুষ যখন ইচ্ছা তখন যৌন চাহিদা পূরণ করবে আর স্ত্রী সেই চাহিদা পূরণের জন্য সদা প্রস্তুত থাকবে। এ ধারণার পেছনে কুরআন ও হাদিসের অসম্পূর্ণ পাঠের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বস্তুত কুরআনের কিছু আয়াত বা কিছু হাদিস দেখে কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষাকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, বরং তা অনেক ক্ষেত্রেই পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারে। কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষাকে সঠিক ভাবে উপলদ্ধি করতে হলে সেই সংক্রান্ত কুরআনের সবগুলো আয়াত এবং সবগুলো হাদিসকে সামনে রাখতে হবে। যাই হোক, এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য শুধু এতটুকু দেখানো- ইসলামে নারীদের যৌন চাহিদার কোনো স্বীকৃতি আছে কি-না। এবার আসুন মূল আলোচনায়।

কেন এই দাবি – সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর।’ হঠাৎ করে এই আয়াতাংশ কারো সামনে পেশ করা হলে মনে হতে পারে যে, এখানে পুরুষকে যখন ইচ্ছা তখন তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌনাচার অবাধ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি স্ত্রীর সুবিধা-অসুবিধার দিকেও তাকানোর কোনো প্রয়োজন যেন নেই। যারা এ ধারণার প্রচারণা চালান তারা সাধারণত এই আয়াতটি উল্লেখ করার পর তাদের ধারণার সমর্থনে কিছু হাদিসও উপস্থাপন করেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো স্ত্রী যদি তার স্বামীর বিছানা পরিহার করে রাত কাটায় তবে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ দিতে থাকে।’ (মুসলিম)। উপরোক্ত আয়াতাংশ এবং এই ধরণের কিছু হাদিস পেশ করে অনেকই এটা প্রমাণ করতে চান যে, ইসলাম কেবল পুরুষের যৌন অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে এবং নারীকে যৌন মেশিন হিসেবে যখন তখন ব্যবহারের ফ্রি লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে। সোজা কথায় ইসলামে যৌন অধিকার যেন একতরফা ভাবে পুরুষের। কিন্তু আসলেই কি তাই?

উপরোক্ত আয়াত সংক্রান্ত বিভ্রান্তির নিরসন – মদিনার ইহুদিদের মধ্যে একটা কুসংস্কার এই ছিল যে, কেউ যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে পেছন দিক থেকে যোনিপথে সঙ্গম করত তবে বিশ্বাস করা হতো যে, এর ফলে ট্যারা চোখ বিশিষ্ট সন্তানের জন্ম হবে। মদিনার আনসাররা ইসলাম পূর্ব যুগে ইহুদিদের দ্বারা যথেষ্ট প্রভাবিত ছিল। ফলে আনসারাও এই কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিলেন। মক্কাবাসীদের ভেতর এই কুসংস্কার ছিল না। মক্কার মুহাজিররা হিজরত করে মদিনায় আসার পর, জনৈক মুহাজির যখন তার আনসার স্ত্রীর সঙ্গে পেছন দিক থেকে সঙ্গম করতে গেলেন, তখন এক বিপত্তি দেখা দিল। আনসার স্ত্রী এই পদ্ধতিকে ভুল মনে করে জানিয়ে দিলেন রাসুল (সা.) এর অনুমতি ব্যতিত এই কাজ তিনি কিছুতেই করবেন না। ফলে ঘটনাটি রাসুল (সা.) পর্যন্ত পৌঁছে গেল। আর এ প্রসঙ্গেই কুরআনের উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়, যেখানে বুঝানো হচ্ছে, সামনে বা পেছনে যেদিক দিয়েই যোনিপথে গমন করা হোক না কেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। শস্যক্ষেত্রে যেদিক দিয়ে বা যেভাবেই গমন করা হোক না কেন তাতে শস্য উৎদনে যেমন কোনো সমস্যা হয় না, তেমনি স্বামী তার স্ত্রীর যোনিপথে যেদিক দিয়েই গমন করুক না কেন তাতে সন্তান উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয় না এবং এর সঙ্গে ট্যারা চোখবিশিষ্ট সন্তান হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, পায়ুপথে গমন (Anal Sex) করা হারাম।

কাজেই এই আয়াতের উদ্দেশ্য ইহুদিদের প্রচারিত একটি কুসংস্কারের মূলোৎপাটন, স্ত্রীর সুবিধা অসুবিধার প্রতি লক্ষ্য না রেখে যখন তখন অবাধ যৌনাচারের অনুমোদন নয়। এবার ফেরেশতাদের অভিশাপ করা সংক্রান্ত ওপরের হাদিসটার কথায় আসি। এই হাদিসটা বুখারিতেও এসেছে আরেকটু পূর্ণরূপে এভাবে- যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে (যেমন- সঙ্গম করার জন্য), আর সে প্রত্যাখান করে ও তাকে রাগান্বিত অবস্থায় ঘুমাতে বাধ্য করে, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ করতে থাকে। একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন, স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ায় স্বামী রাগান্বিত হয়ে কী করছে? স্ত্রীর ওপর জোর-জবরদস্তি করে নিজের যৌন অধিকার আদায় করে নিচ্ছে? নাকি ঘুমিয়ে পড়েছে? এই হাদিসে নারী কর্তৃক স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়ার কারণে স্ত্রীর সমালোচনা করা হলেও পুরুষকে কিন্তু জোর-জবরদস্তি করে নিজ অধিকার আদায়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে না। আবার স্ত্রী যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো সঙ্গত ওজরের কারণে যৌনাচার হতে বিরত থাকতে চান, তবে তিনি কিছুতেই এই সমালোচনার যোগ্য হবেন না, কেননা ইসলামের একটি সর্বস্বীকৃত নীতি হচ্ছে, ‘আল্লাহপাক কারো ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপান না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)

এটা ঠিক যে, ইসলাম স্ত্রীদেরকে স্বামীর যৌন চাহিদার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেছে, কিন্তু স্বামীকে নিজ চাহিদা আদায়ের ব্যাপারে উগ্র হওয়ার কোনো অনুমতি যেমন দেয়নি তেমনি স্বামীকেও স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি যত্মবান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলাম স্ত্রীকে বলেছে, যদি রান্নরত অবস্থায়ও স্বামী যৌন প্রয়োজনে ডাকে তবে সে যেন সাড়া দেয়, অন্য দিকে পুরুষকে বলেছে, সে যেন তার স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করে, স্ত্রীর কাছে ভালো সাব্যস্ত না হলে সে কিছুতেই পূর্ণ ঈমানদার বা ভালো লোক হতে পারবে না। এই কথা জানার পরও কোনো পুরুষ কি স্ত্রীর সুবিধার প্রতি কোনোরূপ লক্ষ্য না রেখেই যখন তখন তাকে যৌন প্রয়োজনে ডাকবে? ইসলাম পুরুষকে এব্যাপারেও সাবধান করে দিয়েছে যে, নিজের যৌন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে স্ত্রীর যৌন চাহিদার কথাকে সে যেন ভুলে না যায়।

138 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন