যৌন সমস্যা ও যৌন অক্ষমতার কারণ এবং প্রতিকার

যৌন সমস্যা ও যৌন অক্ষমতার কারণ এবং প্রতিকার
5 (100%) 6 votes

যৌন সমস্যা যৌন অক্ষমতা আজকাল প্রকট আকার ধারণ করেছে। তরুণ থেকে শুরু করে যে কোন বয়সী পুরুষের মাঝে দেখা যাচ্ছে যৌন সমস্যা । অনেক পুরুষ অকালেই হারিয়ে ফেলছেন নিজের সক্ষমতা, উঠতি বয়সের যুবকরা রীতিমতো হতাশ হয়ে পড়ছেন। বাড়ছে দাম্পত্যে অশান্তি,সত্যি বলতে কি বাড়ছে ডিভোর্সও। কিন্তু কি কারণে পুরুষদের ক্রমশ যৌন সমস্যা বা যৌন দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। কারণ লুকিয়ে আছে আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রার মাঝেই। হ্যাঁ, আপনার প্রতিদিনের স্ট্রেসভরা অস্বাস্থ্যকর জীবন, আপনার নিজের কোন একটা ভুলই হয়তো আপনাকে ক্রমশ ঠেলে দিচ্ছে পুরুষত্বহীনতার দিকে। পুরুষ এবং নারীর নানাবিধ এবং ব্যতিক্রমী যৌন সমস্যা এবং যৌন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অসুবিধা দেখা দিলেও এগুলোর চিকিৎসা এবং সমাধানের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তা গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ এবং নারী যৌন অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে সংকোচবোধ করেন। এতে করে তাদের শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে এবং যৌনজীবনে এর প্রচণ্ড প্রভাব পড়তে পারে।

যৌন সমস্যা

পুরুষের যৌন সমস্যা কত ধরনের

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

পুরুষের যৌন সমস্যা (sex problem) একটি গভীর মনোদৈহিক জটিল অবস্থা। তাই কোনো সহজ-সরল পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা করা সম্ভব নাও হতে পারে। সমস্যাগুলোর মূলে মানসিক, দৈহিক ও হরমোনজনিত তারতম্য ব্যাপক ভাবে সংশ্লিষ্ট থাকে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে সবকয়টি একই সাথে জড়িত থাকে। যৌনতার প্রতি আকর্ষণ এবং যৌনক্ষমতা অনেক সময় নানা পারিপার্শ্বিক কারণে বিঘ্নিত হতে পারে। যৌন সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতাকে মোটামুটি ৩ ভাগে ভাগ করা যেতে পারে-

১) ইরেকশন ফেইলিউর : পুরুষ লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা।

২) পেনিট্রেশন ফেইলিউর : লিঙ্গের যোনিদ্বার ছেদনে ব্যর্থতা, বা যোনিতে প্রবেশের মত পর্যাপ্ত উথিত না হওয়া

৩) প্রি-ম্যাচুর ইজাকুলেশন : সহবাসে দ্রুত বীর্য-স্খলন, তথা স্থায়িত্বের অভাব।

এছাড়া আরো আছে অসুস্থতা জনিত যৌন সমস্যা। কেন্দ্রীয় এবং পেরিফেরাল স্নায়ু ব্যবস্থার ত্রুটি,স্পাইনাল কর্ডের আঘাত এবং টিউমারের কারণে যে সব সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে যেমন—

প্রোস্টেটেকটোমির ফলে স্নায়ুবৈকল্য দেখা দেয়। যার ফলে যৌন ইচ্ছা কমে যায় এবং যৌন সমস্যা দেখা দেয়।
ডরজোটোমির ফলে পুরুষত্বহীন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ডায়াবেটিস সমস্যার ফলে পুরুষ এবং নারীর যৌন জীবনে নানা যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া থাকতে পারে আরো অনেক গুলো কারণ যেমন – লিঙ্গে জন্মগত কোন ত্রুটি, সেক্স হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, গনোরিয়া বা সিফিলিসের মত যৌনরোগ ইত্যাদি। শারীরিক সমস্যা ছাড়াও প্রচণ্ড কাজের চাপ, মানসিক অশান্তি, দূষিত পরিবেশ, ভেজাল খাওয়া দাওয়া, কম বিশ্রাম ও ব্যায়াম ছাড়া অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ইত্যাদি অনেক কারণই আছে যৌন সমস্যা হওয়ার পেছনে। শারীরিক বা দৈহিক নানা কারণে যেমন লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হতে পারে ঠিক তেমনি মানসিক সমস্যার কারণে বা আবেগজনিত বা সাইকোসেক্সুয়াল (মানসিক যৌন সমস্যা) ইত্যাদির কারণেও পুরুষত্বহীনতা হতে পারে।

সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক যৌন সমস্যা

নানা ধরনের মানসিক বিকারজনিত কারণে মানসিক যৌন সমস্যা বা পুরুষত্বহীনতা ঘটে থাকে।
আবার অনেকের লিঙ্গ উত্থানজনিত নানা সমস্যার পেচনে রক্তনালী, নার্ভ বা স্নায়ু, নানা ধরনের সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক কারণ জনিত ফ্যাক্টর দায়ী থাকতে পারে। এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন ইরেকশন হলো এক ধরনের ভাসকুলার বা রক্তনালীতে পর্যাপ্ত রক্ত সংবহনজনিত ঘটনা। যদি স্নায়ুতন্ত্র যৌন শিহরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাতে না পারে তাহলে পেনিসের রক্তনালী গুলোতে ইরেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে রক্ত আসে না ফলে লিঙ্গ উত্থান ঘটে না। গবেষণা সমীক্ষায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, শতকরা ৪৮ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার মূল কারণ ভাসকুলার বা রক্তনালী সম্বন্ধীয় নানারকম যৌন সমস্যা। শতকরা ১৪ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার ক্ষেত্রে নার্ভকে দায়ী করা হয়েছে। নানা ধরনের নিউরোলজিক বা স্নায়ুবিক সমস্যার কারণে যৌন অক্ষমতা ঘটতে পারে। শতকরা ৩ ভাগ ক্ষেত্রে পেনিসের কাঠামো অথবা এর পার্শ্ববর্তী কোষ কলাকে ইরেকশনের প্রবলেমের জন্য দায়ী করা হয়েছে। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জনিত কারণে যেমন-যারা উচ্চ রক্তচাপ বিরোধী ওষুধ সেবন বা বিষন্নতাবিরোধী ওষুধ সেবন করছেন তাদের ক্ষেত্রেও সাময়িক যৌন সমস্যা বা যৌন অক্ষমতা ঘটতে পারে। হরমোনাল ফ্যাক্টরস বা হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে পুরুষত্বহীনতা শিকার অনেকেই হতে পারেন। জিষ্কের স্বল্পতাজনিত কারণে অনেকের পুরুষত্বহীনতা হতে পারে। সাধারণত শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতা গুলোকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। দৈহিক বা শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা হতে পারে। ঠিক তেমনি মনোগত নানা সমস্যায়ও যৌন অক্ষমতা হতেই পারে। এগুলোর মাঝে রয়েছে ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা এ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা, মনোদৈহিক চাপ বা স্ট্রেস, দীর্ঘমেয়াদি অনুশোচনাবোধ অথবা নারী-পুরুষের আন্তঃসম্পর্কজনিত নানা সমস্যা। এসকল নানা সমস্যায় যৌন সঙ্গম বা যৌন মিলন এর সময় পুরুষ একটু অন্যমনস্ক হয়ে থাকে ফলে স্বাভাবিক যৌনতার জন্য যে শিহরণ লাভ করা উচিত তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায় ফলে ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান ঘটে না। সাইকোলজিক্যাল নানা সমস্যার জন্য শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হয়। যেসব পুরুষের বয়স ৫০ বছরের নিচে তাদের ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার মূল কারণ সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক সমস্যা। নারী পুরুষের মাঝে আন্তঃসম্পর্কজনিত নানা দ্বন্দ্ব ,দাম্পত্য কলহ,দুজনের মাঝে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের অনুপস্থিতি,একজন আরেক জনের নিকট নানা ব্যক্তিগত বিষয় গোপন করা ইত্যাদি নানা কারণে যৌন পার্টনারদের মাঝেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার এটাও ঠিক যে, কোনো পুরুষ যদি নির্দিষ্ট কোনো নারীর প্রতি যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে তার ক্ষেত্রেও ইরেকশনের সমস্যা হতে পারে। যে পুরুষের হঠাৎ করে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তারও লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হতে পারে। কতক পুরুষের আবার স্ত্রীর প্রথম সন্তান জন্মের পর সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

যৌন সমস্যা এবং তার নানারকম উপসর্গ

পুরুষের পুরুষঙ্গ যখন উত্থিত না হয় তখন লিঙ্গ সম্পর্কীয় কতক উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। এগুলো হলো – পুরুষ ইচ্ছা করলে পার্টনারের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে লিঙ্গ উত্থান ঘটাতে পারে না। এর মানে হলো পুরুষ যদি পার্টনারের অনুপস্থিতিতে হস্তমৈথুন করতে চায় তথাপিও তার লিঙ্গ উত্থিত হয় না। একবার ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান হলেও উত্থান জনিত অবস্থা একেবারে ধরে রাখতে না পারা। এর ফলে লিঙ্গ একবার শক্ত হলেও একটু পরে আবার আগের মত স্বাভাবিক নরম অবস্থায় চলে যায়। যৌন সঙ্গম বা ইন্টারকোর্সের সময় সঙ্গমকে পরিপূর্ণতা দান করতে বা সঙ্গমে সন্তুষ্টি লাভ করতে যে পরিমাণ ইরেকশনের প্রয়োজন তা না হওয়া। যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছা ইত্যাদিতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পুরুষের চরমপুলক জনিত ব্যর্থতা এবং বীর্যস্খলন জনিত যৌন সমস্যা একই সঙ্গে বিরাজ করতে পারে।

যৌন সমস্যা

কখন যৌন সমস্যা বেশি হয়

যৌন সমস্যা যে কোন বয়সেই দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ পুরুষের প্রফেশনাল বা হঠাৎ করে দু-একবার লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা হতেই পারে। কিন্তু এই লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা যখন দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে এবং অব্যাহত থাকে তখনই তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের ওপরে এবং ব্যক্তির যৌন জীবনে নানা ধরনের শষ্কা ও নেতিবাচক অনুভূতির জন্ম দেয়। এখানে একটি কথা বিশেষ ভাবে বলা দরকার একবার যাদের লিঙ্গ উত্থান জনিত সমস্যা হয়ে পড়ে তারা বারবার মনে করতে থাকে পরের বার যৌন মিলনে সমস্যাটি বুঝি আবার হবে। এই অতিরিক্ত আগাম যৌন দুশ্চিন্তার কারণে যৌন মিলনের সময় লিঙ্গ উত্থান নাও ঘটতে পারে। একে মেডিক্যালের ভাষায় বলে পারফরমেন্স এ্যাংজাইটি। এই এ্যাংজাইটি জনিত কারণে সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেক পুরুষ রয়েছে যাদের সহবাস করার সময়ে লিঙ্গ ঠিকই উত্থিত হল কিন্তু বর্ধিত যৌন চাপের কারণে সাথে সাথেই বীর্যস্খলিত হয়ে গেল। এরও মূল কারণ এ্যাংজাইটি, এটাকে বলে প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন। আবার কতক পুরুষ রয়েছে যাদের সন্তোষজনক যৌন সঙ্গমের জন্য অনেকক্ষণ লিঙ্গকে যোনির ভেতরে ক্রমাগত ভাবে ঢুকাতে এবং বের করতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি পুরুষাঙ্গে ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। যেহেতু এ ধরনের পুরুষদের ইজাকুলেশন বা বীর্যস্খলনে অনেক সময় প্রয়োজন হয় তাই তারা এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেননা বীর্যস্খলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এরা চরম পুলক লাভ করতে পারে না। এত কিছুর পরেও সৌভাগ্যের কথা এই যে, পুরুষত্বহীনতা বা যৌন অক্ষমতার জন্য শারীরিক ও মানসিক যে কারণেই দায়ী হোক না কেন উপযুক্ত এবং বর্তমানে প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।

যৌন সমস্যা হলে কী করবেন

যৌন সমস্যা হলে প্রথমেই যা করবেন, সেটা হলো একজন ভালো ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। লজ্জা না করে নিজের সমস্ত সমস্যা খুলে বলুন ও ডাক্তারের পরামর্শ মত প্রয়োজনীয় সকল চিকিৎসা নিন। যৌন সমস্যা হলে লজ্জার কিছুই নেই। একটাই জীবন। লজ্জার চাইতে নিজেকে সুস্থ ও সক্ষম রাখা জরুরী। আপনার ডায়াবেটিস থাকলে প্রয়োজনীয় সকল নিয়ম কানুন মেনে চলুন। নিজের জীবন ধারাকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনে বদলে ফেলুন। যৌন সমস্যা হলে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খান, ব্যায়াম করুন, রাতে পর্যাপ্ত ঘুমান, চেষ্টা করুন কাজের চাপের মাঝেও বিশ্রাম নিতে। আপনার শরীর যখন সুস্থ ও সক্ষম থাকবে, যৌন জীবনও থাকবে সুন্দর। সঙ্গীর সাথে রোমান্টিক জীবনের উন্নতি করুন। এক ঘেয়ে যৌন জীবনে নানান রকমের চমক ও আনন্দ নিয়ে আসুন। তাঁকেও বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন যে নতুন চমক এলে আপনার মানসিক ভাবে সাহায্য হবে। রোমান্টিক বেডরুম, আকর্ষণীয় অন্তর্বাস ইত্যাদি এসব ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। যদি সঙ্গীকে অপছন্দ করার কারণে সমস্যা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে চেষ্টা করুন সঙ্গীকে ভালবাসতে। তার সাথে দূরে কোথাও নিরিবিলি বেড়াতে যান,তাঁকে গভীর ভাবে জানার চেষ্টা করুন। আস্তে আস্তে তার প্রেমে পড়ার চেষ্টা করুন। মানসিক ভাবে প্রেমে পরলে শরীরটাও সাড়া দেবে। একটা জিনিষ মনে রাখবেন,বাস্তবের নারীর সাথে সিনেমার নায়িকা বা পর্ণ স্টারদের মিল খুঁজতে যাবেন না। নিজের দিকে তাকান,নিজের সাধারণত্ব দেখুন। দেখবেন,সঙ্গীকেও আর খারাপ লাগছে না।

যৌন সমস্যা থেকে বাঁচতে কি করবেন

যৌন সমস্যা থেকে বাঁচতে অবশ্যই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। **নীল ছবি** দেখা,**বাংলা চটি গল্প** পড়া,অতিরিক্ত হস্ত মৈথুন করা, যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হাবিজাবি ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণে অধিক পরিমাণে যৌন সমস্যা সৃষ্টি হয়। নিয়মিত পতিতালয় গমনের ফলে অনেকের পরবর্তীতে যৌন সমস্যা দেখা যায়। অতএব পতিতাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করবেননা। এছাড়া বয়স জনিত অসুস্থতা, সঙ্গিনীর সাথে বয়সের পার্থক্য বা সঙ্গিনীকে পছন্দ না করা, এইডস ভীতি,পর্যাপ্ত যৌন জ্ঞানের অভাব যৌন অক্ষমতার জন্য দায়ী হতে পারে। অতিরিক্ত মাস্টারবেসন করার অভ্যাস থাকলে অবিলম্বে ত্যাগ করুন। আর যাদের স্ত্রী আছে তাঁরা স্ত্রীর সাথেই যৌনজীবনে অভ্যস্ত হয়ে উঠুন। যৌন সমস্যা হলে বা যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হবেন না বা কোন টোটকা ব্যবহার করবেন না। কোন তেল বা ওষুধ কিছুই ব্যবহার করবেন না হাতুড়েদের কথায় প্রভাবিত হয়ে। বাজারে সাময়িক ভাবে যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর কিছু ওষুধ পাওয়া যায়, যেগুলো সেবনে ২৪ ঘণ্টার জন্য যৌন ক্ষমতা বাড়ে। এই ধরনের ওষুধ মোটেও ব্যবহার করবেন না। এতে সাময়িক ক্ষমতা বাড়লেও, ক্রমশ আসলে ক্ষমতা কমতেই থাকবে।

যৌন সমস্যা সমাধানে যা খাবেন

কিছু সাধারণ খাবারেই আছে অধিকাংশ যৌন সমস্যার ভালো সমাধান।

◇ দেশি সবুজ শাক, পালং শাক, লাল শাক ইত্যাদি পাতা অবহেলা করবেন না। ব্রুকলি, স্পিনেচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি এসব সবজিতে রয়েছে ভিটামিন বি সহ অন্যান্য এন্টি অক্সিডেন্ট যেগুলো সুস্থ যৌন জীবনে যৌন সমস্যা সমাধানের জন্য অপরিহার্য। শিমের বীচিতে প্রচুর ফাইটোস্ট্রোজেন থাকে। এটা আপনার যৌন ইচ্ছা এবং যৌন সামর্থ্য বাড়ায়। জাপানিরা যৌন ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য খাবারে প্রচুর শিমের বীচি ব্যবহার করে থাকে।

◇ নিয়মিত সকালে খালিপেটে তিন কোয়া কাচা রসুন খাবেন সাথে দুই চামচ খাটি মধু। নিশ্চই সবারই জানা আছে সেক্সে মধুর উপকারিতা অনেক।

ডিম খাবেন। ডিমে পাবেন শরীরের বৃদ্ধির জন্য আমিষ এবং বিভিন্ন ভিটামিন। সুস্থ যৌন জীবন যাপনে আমিষের প্রয়োজন রয়েছে। আমিষ ছাড়া দেহের বৃদ্ধি ও ক্ষয় পূরণ হয় না।

◇ প্রতিদিন ফল খেতে হবে। দেশি টক ফল খেতে পারেন। লেবু, বাতাবি লেবু, কমলা লেবু, মাল্টা ,আঙ্গুর ইত্যাদি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল প্রয়োজন প্রতিদিন। গরমের দিনে খাবেন তরমুজ। তরমুজে রয়েছে মহা উপকারী এক রাসায়নিক সিট্রুলিন; পুরুষের জন্য যার ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত। তরমুজকে ভায়াগ্রার সাথে তুলনা করা হয়। তাই যৌন সমস্যা সমাধানে বেশী বেশী তরমুজ খান। দেশি জাম, বিদেশি স্ট্রবেরি ইত্যাদি ফলেও রয়েছে প্রচুর গুণাবলী।

◇ চা পান করুন প্রতিদিন। দিনে এক বা দুই কাপ চা পান করলে দেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন এন্টিঅক্সিডেন্ট যা পুরুষের নানা সমস্যার সমাধানে সিদ্ধহস্ত।

◇ পুরুষের সক্ষমতার পেছনে জিঙ্ক বা দস্তার বিশাল ভূমিকা রয়েছে। মাংসে পাবেন জিঙ্ক। অনেকেই খাবারের মেন্যু থেকে প্রাণীজ আমিষ তথা মাংস বাদ দিয়ে দেন, এটা ঠিক না। মাংস খাবেন পরিমিত পরিমাণে। এর সাথে সুষম খাদ্য দুধ পান করবেন। দুধেও পাবেন জিঙ্ক। যৌন সমস্যা সমাধানে জিঙ্কের অনেক বড় ভূমিকা।

◇ নিয়মিত বাদাম খাওয়া খুব ভালো একটা অভ্যাস। বাদামের তেল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। এটা পুরুষদের যৌন সমস্যা কমাতে খুব উপকারী। দেশি বাদাম, কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি যেকোনো বাদামেই এই উপকার পাবেন। বাদামে আরো রয়েছে ভিটামিন ই যার সুনাম রয়েছে বার্ধক্যের সাথে যুদ্ধের। এছাড়া খোরমা খেজুর খেতে পারেন নিয়মিত। রাসূল (সঃ) প্র‌তি‌দিন সকা‌লে নাস্তা হি‌সে‌বে খেজুর খে‌তেন। খেজু‌র যৌন শ‌ক্তি ও সুস্বাস্থ্যর ট‌নিক হি‌সে‌বে কাজ ক‌রে। তাই নাস্তা হি‌সে‌বে প্র‌তি‌দিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস গ‌ড়ে তুলুন। মাখনের সাথে খেজুর মিলিয়ে খেলে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়, সেই সা‌থে শরীরের গঠন বাড়ে ও কন্ঠস্বর পরিস্কার হয়। রাসূল (সঃ) এঁর প্রিয় খাবার ছিল এ‌টি।

◇ সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা সুস্থ জীবনের অন্যতম উপাদান। ইলিশ মাছ এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডে ভরপুর, অন্যান্য সামুদ্রিক মাছেও পাবেন প্রচুর পরিমাণে এই তেল। মাছে আরো রয়েছে আরজিনিন নামে এক ধরনের যৌগ যার একটি কাজ হচ্ছে পুরুষদের সক্ষমতায় সহায়তা করা।

◇ চকোলেটের মাঝে ডার্ক বা কালো রঙের চকোলেটে রয়েছে ফেনথায়লামিন নামের রাসায়নিক পদার্থ যা যৌন সমস্যা কমিয়ে বাড়তি উদ্দিপনা জোগায় শরীরে।

এই খাবারগুলো আমরা সহজেই পেতে পারি হাতের নাগালে। একটা কথা মনে রাখবেন, পুরুষদের অধিকাংশ যৌন সমস্যা আসলে কোনো সমস্যাই নয়, আত্মবিশ্বাসের অভাবই মূল কারণ। নিজের ওপরে আস্থা রাখুন আর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন। সুখী দাম্পত্য জীবনের স্বাদ গ্রহণ করুন।

369 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন