যৌন গল্প আপনার যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়

যৌন গল্প আপনার যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়
পোস্টে রেটিং দিন

যৌন গল্প পড়তে অনেকেই ভালবাসেন। যৌন গল্প মনে এক অদ্ভুদ শিহরণ তৈরি করে। একটা নিষিদ্ধ আকর্ষণ আমাদের যৌন গল্প পড়তে আকৃষ্ট করে। নতুন নতুন কাহিনী পড়তে মন চায় সর্বদা। যৌন গল্প নারী ও পুরুষের মনে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এই উত্তেজনার ক্রমাগত আঘাত মানুষের স্নায়ুচক্রের অনুভূতিকে ভোঁতা করে দেয়। তাই, পুরুষ যখন কোন জীবন্ত নারীর নগ্নদেহের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসে—তখন তাঁর মধ্যে যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, সেই উত্তেজনাই তাঁর স্নায়ু বিকল এবং অনুভূতিহীন করে দেয়। এবার দেখে নিন যৌন গল্প পড়লে আপনার কি কি সমস্যা হতে পারে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

যৌন গল্প

যৌন গল্প এবং ব্রেইন

যৌনতা হচ্ছে জীবের আদিম প্রবৃত্তি, যা টিকে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য প্রকৃতিরই গড়া নকশা। তাই মানুষের মস্তিষ্ক যৌন ইঙ্গিত বা যৌনতা প্রকাশ করে এমন ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে খুব সহজেই সাড়া দেয়। যৌন গল্প ও এর ব্যতিক্রম না। একটা স্বাভাবিক সুস্থ সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌন সঙ্গমের চাহিদাটাই শুধু মুখ্য নয়; সেখানে স্পর্শ থাকে, পরস্পরের চোখে তাকানো থাকে, পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে। কিন্তু যৌন গল্প যেখানে বাস্তবতার চেয়ে দর্শককে আকৃষ্ট করার উপায়ই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাই বাস্তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা সাধারণত হয় না, এমন ধরণের ভঙ্গিমা এবং উপায়ে যৌনতাকে যৌন গল্প গুলোতে তুলে ধরা হয়। তাই একশন বা এডভেঞ্চার ফিল্মের মত মানুষ সহজেই যৌন গল্প বা পর্নোগ্রাফিতে আকৃষ্ট হয়। বরং এর সাথে দৈহিক ও মানসিক সুখের অনুভূতি যুক্ত থাকায় মানুষ এটি বেশি পড়ে। যৌন গল্প পড়ার সময় আমাদের মস্তিষ্কে হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোনের উচ্ছ্বাসই আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি দিয়ে থাকে। ডোপামিন এমন একটি হরমোন। যৌন গল্প পড়ার সময় যা হয় তা হলো, শুরুর দিকে যৌন গল্প পড়ার সময়  আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ স্বাভাবিক ক্ষেত্রে যা হওয়ার কথা, তার তুলনায় অনেক বেশি হয়। এই বেশি বেশি ডোপামিনের উচ্ছ্বাস পাঠককে খুব বেশি উদ্দীপ্ত করতে পারে, যাকে ‘ডোপামিন স্পাইক’ বলে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যৌন গল্প পড়তে পড়তে আমরা সেগুলোতে খুব বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই তখন স্বল্প সময় ধরে বা ভালোবাসাপূর্ণ রোমান্সকে প্রকাশ করে, এমন ধরনের পর্ন দেখায় আমাদের এই ডোপামিনের নিঃসরণ হয় না, বা নিঃসরণের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু ততদিনে আমাদের মস্তিষ্কের “ডোপামিন রিসেপ্টর”গুলো বেশি বেশি ডোপামিনের প্রবাহে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই কম পরিমাণ ডোপামিন তাকে আগের সেই ভালোলাগার অনুভূতি দিতে পারে না। তাই সেক্স গল্প পড়তে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং আসক্তিতে পরিণত হওয়া মানুষগুলো ক্রমাগতই অতিরিক্ত ডোপামিনের স্বাদ পাবার জন্য যৌন গল্প পড়ার সময়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং স্বাভাবিক সম্পর্কের বাইরে যেয়ে শুধুমাত্র নাটকীয় আবহে তৈরি চটি গল্প গুলোই বেশি বেশি খুঁজতে থাকে।

যৌন গল্প যৌন ক্ষমতা নষ্ট করে

যৌন গল্পের জালে খুব বেশি জড়িয়ে গেলে যেটা হয় তা হলো, স্বাভাবিক সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কে আর ‘ওই পরিমাণ’ ডোপামিনের উচ্ছ্বাস থাকে না, যেটা তাকে সুখের অনুভূতি দিতে পারে। কারণ বাস্তবের সম্পর্ক গল্পের মত না। তাই যৌন গল্প পড়ায় সুখ খুঁজে পেলেও বাস্তবে আর সুখের অনুভূতি পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলে “একমুখী নিউরোলজিক্যাল সুপার হাইওয়ে”, যেটা কাজ করে পাহাড়ি রাস্তায় মোটর সাইকেল রেস বা বরফের মাঝে স্কি করার মত। এসব ক্ষেত্রে একটা বাধা পেরোলেই পরের বাধা আরও উঁচুতে থাকে। ড্রাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এইরকম ব্যাপারই ঘটে। তাছাড়া যৌন গল্প বা পর্ন আমাদের যৌন ফ্যান্টাসিকে ডাল পালা ছড়াতে সাহায্য করে। মানুষ যৌন গল্পে দেখানো স্টাইলগুলো নিয়ে বেশি বেশি ভাবতে থাকে এবং যেই জিনিস মানুষ যৌন গল্পে পড়ে অভ্যস্ত, বাস্তবেও তার প্রতিফলন ঘটাতে চায়। ফলাফল হিসাবে বাস্তবে সেটা প্রায়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে পার্টনারের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ওই ধরনের স্টাইল ছাড়া সেও আর তৃপ্তি পায় না। এছাড়া যৌন গল্পে বিভিন্ন ধরনের “ফেটিজম”কে খুব বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাই যৌন গল্পের আসক্তরা বিভিন্ন ধরনের ফেটিজমেও অভ্যস্ত বা আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে! কারণ মানুষের মাঝে অনুকরণ করার প্রবণতা খুব বেশি। একে বলা হয় “মিরর-নিউরন ইফেক্ট”। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সঙ্গীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গমের ফলে সঙ্গমের সময়কাল বাড়ে যেটা হয়ত আনন্দদায়ক, কিন্তু প্রায়ই আলাদা আলাদা সঙ্গীর সাথে মিলনের ফলে মিলনের সময়কাল কমে যায়। যৌন গল্পে আলাদা আলাদা মানুষকে প্রতিদিন দেখতে থাকলে আসক্তরা তাই সাধারণত দ্রুত অর্গাজম/ইজাকুলেশনের শিকার হয়। এছাড়াও যেটা হয় তা হলো, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, হতাশাকে পাশ কাটাতে গল্প পড়তে বা পর্ন দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে উদ্বেগ বা হতাশ থাকলেই পর্ন দেখতে ইচ্ছে করে এবং পর্নের সাথে সাধারনত মাস্টারবেশনও যুক্ত থাকে। তাই যৌন গল্পের আসক্তরা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে হস্তমৈথুন করে থাকে এটা উদ্বেগ বা হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, এবং মানুষ শেষ পর্যন্ত “কম্পালসিভ-আচরণে” আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

যৌন গল্প এবং পর্নোগ্রাফি জনপ্রিয়তা পায় পৃথিবী ব্যাপি ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হবার পরই। একে একে প্রায় সব দেশেই পর্ন ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা গড়ে উঠতে থাকে। এটা সাধারণত হয় ১৯৯৫ সালের পরে। তাই পর্নোগ্রাফি এবং এর সাথে আসক্তির বা অন্যান্য সমস্যার শনাক্তকরণের ব্যাপারটাও খুব বেশিদিন আগের নয়। এজন্য এই সেক্টরে এখনও যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা হয়নি। তাছাড়া পর্ন ইন্ডাস্ট্রিগুলোর চাহিদা এবং আয়ের পরিমাণও ভয়াবহ রকমের বেশি। তাই তাদের এই শিল্প ধংস হয়ে যাক, সেটা নিশ্চয় ইন্ডাস্ট্রি মালিকরা চাইবে না। এজন্য “পর্নোগ্রাফি আসক্তি” এবং এর “খারাপ প্রভাব” বলে কিছু নেই, এমন মতবাদও বাজারে প্রচলিত আছে।

71 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন