যৌনতা কি কেন এবং কতটা প্রয়োজন

যৌনতা কি কেন এবং কতটা প্রয়োজন
4.9 (97.5%) 8 votes

যৌনতা মানব জীবনের আদিম প্রবৃত্তি। বংশ বৃদ্ধির জন্য যৌনতা প্রয়োজন। মানুষের আট দশটি চাহিদার মত যৌনতা একটি মৌলিক চাহিদা। বলা যেতে পারে। এটি একটি ক্ষুধা। অথবা তৃষ্ণাও বলা যেতে পারে। আমরা যেমন খিদে পেলে ভাত, রুটি ইত্যাদি খাই। তৃষ্ণা পেলে চা, পানি পান করি। যৌনতাও তেমন। এরও ক্ষুধা আছে, আছে তৃষ্ণাও। বায়োলজিক্যাল দিক থেকে যৌন চাহিদা নির্ভর করে যৌনতা নিয়ন্ত্রক হরমোন (এন্ড্রোজেন, ভেসোপ্রেসিন, অক্সিটোসিন), এবং নিউরট্রান্সমিটার নামে পরিচিত মন মানসিকতা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের (ডোপামিন, সেরোটনিন, নরএপিনেফ্রিন) ভারসাম্যের উপর। এছাড়া সামাজিক দিক, যেমন – পরিবার এবং কাজ; মানসিক দিক, যেমন – ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, মানসিক চাপ, হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ প্রভৃতি যৌন আকাঙ্ক্ষার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 যৌনতা

যৌনতা কত ধরনের

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

যৌনতা (Sexuality) সাধারণত দুই ধরনের। স্বাভাবিক যৌনতা এবং বিকৃত যৌনতা। বিকৃত যৌনতা আরও নানা ধরনের রয়েছে। যেমন— জুফিলেস (Zoophiles) অর্থাৎ পশু-পাখির সাথে যৌন মিলন , ভয়েরিজম (লুকিয়ে অন্যের যৌন সঙ্গম দেখা), নেক্রফিলিয়া (মৃত দেহের বা কঙ্কালের প্রতি যৌন আকর্ষণ), সেলিব্রিফিলিয়া (সেলিব্রেটি নায়ক নায়িকার প্রতি যৌন কল্পনা) সহ ইত্যাদি। এ ছাড়াও পরিবার-পরিজন এবং নিকট আত্মীয়ের সাথে যৌন মিলনকে ইনসেস্ট (Incest) বলে। যেমন— বাবা মেয়ের সঙ্গে যৌনতা, চাচা ভাইঝির সাথে যৌনতা ইত্যাদি। আবার আরেক প্রকার বিকৃত যৌনাচরণ রয়েছে, যাকে স্যাডিজম বলা হয় (Sadism)। এই যৌনতা যারা করে তাদের মাঝে যৌনতার সময় অপরকে ব্যথা দেওয়ার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। আবার ঠিক এর উল্টোটিও আছে একে বলে ম্যাসোকিজম (Masochism)। এখানে আবার যৌনতায় নিজে ব্যথা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে। এই জাতীয় যৌনাচরণকে অসুস্থ যৌন মানসিকতা বলাই শ্রেয়। আমেরিকান মনোবিজ্ঞান সংস্থার মতানুসারে, বিকৃত যৌনতা বা প্যারাফিলিয়া হল সমাজের প্রচলিত সংস্কৃতি বা নিয়মের সাথে মেলে না এমন যৌন আচরণ। যেমন- শিশু, বৃদ্ধ, পশু/প্রাণী, মৃত মানুষ, বস্তু, গাছ ইত্যাদির প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করা। অনেক ধরনের প্যারাফেলিয়ার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

পেডোফেলিয়া (Pedophilia) – এই অসম্ভব বিকৃত যৌনতা রুচিতে যারা আক্রান্ত তারা তাদের যৌন আকাঙ্খা পূরণের জন্য বাচ্চাদেরকে পছন্দ করে।

ফেটিশিজম (Fetishism) – এই ধরনের রুচিতে যারা অভ্যস্ত তারা সাধারণত জড় বস্তুর প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয়। যেমন- আন্ডারওয়ার, মেয়েদের পোশাক নিয়ে খেলা করা ইত্যাদি।

ফ্রটারিজম (Frotteurism) – এই ধরনের যৌনতা লোকজন পূর্ণ এলাকায় বেশি হয়। এই ঘৃণ্য রুচিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত অপরিচিত মানুষের প্রতি যৌন আকৃষ্ট হয়ে মানুষের শরীরে অনুমতি ছাড়াই অশ্লীল ও ইচ্ছেকৃত ভাবে হাত দিয়ে থাকা, গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়ানো, প্রভৃতি ঘটনার সাথে জড়িত থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রেই এটা বেশি দেখা যায়।

রকমারি যৌনতা

শুধু আমাদের দেশ এবং সমাজেই কেবল নয় বরং সমগ্র পৃথিবী জুড়েই রকমারি যৌনতা পরিলক্ষিত হয়। যৌনতা উপভোগের নানারকম কলাকৌশলের আরেকটি নাম হলো রকমারি যৌনতা। বিভিন্ন দেশে বা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে যৌনতা উপভোগের বিভিন্ন পন্থা প্রচলিত রয়েছে। মানুষের যৌনাচরণের বিভিন্ন রকম পার্থক্য তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে,যে কারণে আমরা বিভিন্ন প্রকার যৌনাচরণ দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশে কিংবা আমাদের দেশেও সমকামী পুরুষ এবং নারী, বিপরীতকামী পুরুষ এবং নারী, উভকামী পুরুষ এবং নারীর দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাই তাদের বৈচিত্র্যপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক কারণে নানা প্রকার যৌন আচরণের সাথে সম্পৃক্ত। পাশ্চাত্যে সমকামী পুরুষদের ‘গে’ এবং নারীদের ‘লেসবিয়ান’ নামে অভিহিত করা হয়।

কোন বয়সে কতটা যৌনতা প্রয়োজন

স্ত্রী এবং স্বামীর সম্পর্কে যৌনতার ভূমিকা অনস্বীকার্য।  এই সম্পর্কের মধ্যে যৌনতার পরিমান বয়স অনুযায়ী কম বেশি হতে পারে। নব বিবাহিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আকাংখ্যার আগুন জ্বলে দুর্নিবার। বার্ধক্যের দুয়ারে এসে সেটাই পরিণত হয় শুধুমাত্র অন্তরঙ্গতায়। সম্প্রতি আমেরিকার ইন্ডিয়ানা উনিভার্সিটির অধীনস্থ কিনসে ইনস্টিটিউট, আমেরিকানদের যৌন জীবনের ওপর সমীক্ষা করে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। রিপোর্টটিতে গড়পড়তা আমেরিকানদের বয়স-ভিত্তিক যৌনতার যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তা এইরকম – আপনার বয়স যদি ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হয় তবে আপনার পক্ষে স্বাভাবিক যৌনাচার হল বছরে ১১২ বার অথবা সপ্তাহে ২ বার। ৩০ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে হলে বছরে ৮৬ বার অথবা সপ্তাহে ১.৬ বার। ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়েসীদের ক্ষেত্রে এটাই হয়ে যায় বছরে ৬৯ বার।

যৌনতা কে বেশি চায় – নারী না পুরুষ

সাধারণত কাউকে এই প্রশ্ন করলে হয়তো উত্তর পাবেন, পুরুষরাই যৌনতায় বেশি আগ্রহী। কিন্তু এই ধারণা এখন শুধু পুরনোই নয়, বাতিলও বটে। সম্প্রতি Voucher Codes Pro সংস্থার তরফে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি নারী ও পুরুষের উপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে জানতে চাওয়া হয়, সম্পর্কে কে বেশি যৌনতা চায়? নারী না পুরুষ? যাদের এই প্রশ্ন করা হয়েছে, তারা প্রত্যেকে প্রাপ্তবয়স্ক। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মহিলাদেরই যৌনতার দাবি বেশি। অন্তত বর্তমান যুগে। প্রায় ৫৯ শতাংশ মহিলা জানিয়েছেন, প্রেম করার সময় তারাই পার্টনারের মনে যৌনতার আগুন উসকে দিয়েছেন। মুখ ফুটে না বললেও হাবেভাবে নিজেদের যৌন চাহিদা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, শতকরা মাত্র ৪১ জন পুরুষই সম্পর্কে থাকাকালীন যৌনতায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সমীক্ষায় আরও বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। যেমন, ২১ শতাংশ দম্পতি নিজেদের মধ্যে অতীতের যৌনজীবন নিয়ে ঝগড়া করেন। শুধু তাই নয়, অনেকেই তাদের পার্টনার ‘লেজি’ বলে অভিযোগ করেছেন। শতকরা ৩২ জন মহিলা দাবি করেছেন, স্রেফ আলসেমির জন্য তাদের স্বামী বা বয়ফ্রেন্ড সহবাস করতে চান না।

যৌনতা ও বয়স

মধ্য বয়সে এসে পুরুষ এবং নারী যৌনতার প্রতি বেশি আকর্ষণ এবং চাহিদাবোধ করেন। কৈশোর পেরিয়ে যৌবন প্রাপ্তির পর থেকে নারী এবং পুরুষ উভয়ে মোটামুটি ৪০-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তারা যৌন মিলনে সক্রিয় থাকে। তবে মধ্য বয়সে যৌনতার প্রতি আকর্ষণ থাকে তুলনামূলকভাবে বেশি। নারীর মেনোপজের সময় তার রজঃনিবৃত্তির সূচনা হয়। এটি অনেক নারীকেই যৌনতার প্রতি উদাসীন করে তোলে। আমাদের দেশে প্রায় ক্ষেত্রে ৪৫ বছরের পর নারীদের যৌনভাবে নিষ্ক্রিয় দেখা যায়। পুরুষের ক্ষেত্রে এই সময়ের কাছাকাছি বা ৫০ বছর বয়সের পরেও যৌনভাবে সক্ষম থাকতে দেখা যায়। মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যৌন ইচ্ছার কমতির কারণ হলো যৌন হরমোন কমে যাওয়া। তবে নানাবিধ শারীরিক এবং মানসিক কারণেও পুরুষ এবং নারীর যৌন ইচ্ছা এবং যৌনশক্তি কমে যেতে পারে। আর্থ্রাইটিস, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ক্যান্সার জাতীয় শারীরিক অসুস্থতা যৌনতার ওপর প্রভাব ফেলে। তেমনি নানাবিধ মানসিক অসুস্থতাও যৌন ইচ্ছা ও যৌনতা নষ্ট করে দিতে পারে এবং যে সমস্যায় পুরুষ ও নারী উভয়ই আক্রান্ত হতে পারে।

যৌনতা

সুস্বাস্থ্যের জন্য যৌনতা

যৌনতা শুধু সাময়িক উপভোগের জন্য না। গবেষকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত যৌন সম্পর্ক সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। জেনে নিন নিয়মিত যৌনতা কীভাবে শরীরকে সুস্থ রাখে।

প্রাকৃতিক ব্যথানাশক – শারীরিক মিলনের সময় অক্সিটোসিন নিঃসরণ হয়। এ কারণে নিয়মিত যৌনতা প্রাকৃতিক ব্যথানাশকের ভূমিকা রাখে।

মজবুত সম্পর্ক – অক্সিটোসিন হলো বিশ্বাস এবং বন্ধন মজবুত করার হরমোন। যৌন মিলনের সময় এই হরমোন নিঃসরণ হওয়ার ফলে দম্পতিদের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত হয়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ – যৌনতা উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। আমাই ওয়েলনেসের মেডিক্যাল ডিরেক্টর জোসেফ জে পিনজোন এর গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সহবাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

দীর্ঘায়ু – সুস্থ যৌন সম্পর্ক মানেই সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবন। নিয়মিত যৌনতায় মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

মানসিক প্রশান্তি – গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে। যৌন মিলনের সময় মন ভালো রাখার সবগুলো হরমোন শরীর থেকে নিঃসরিত হয়। তাই নিয়মিত যৌনতায় বিষণ্ণতা কমে।

ভালো ঘুম – শারীরিক মিলনের সময় নিঃসৃত ডোপামেইন হরমোন মস্তিষ্কের চাপ কমিয়ে রাতে ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে।

সুঠাম দেহ – শরীর সুঠাম ও শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত যৌন জীবনের জুড়ি নেই। যৌন মিলনের মাধ্যমে বেশ খানিকটা শক্তি ক্ষয় হয়। ফলে দেহের বাড়তি মেদ ঝরে যায় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

নিয়মিত পিরিয়ড – নিয়মিত যৌন মিলনের মাধ্যমে নারীদের পিরিয়ড স্বাভাবিক রাখার হরমোন নিঃসরণ স্বাভাবিক থাকে। এতে পিরিয়ড নিয়মিত হওয়ার নিশ্চয়তা বাড়ে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা – রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে নিয়মিত যৌন মিলন। নিয়মিত যৌনতায় ইমুনোগ্লোবুলিন এ নিঃসরিত হয়। এই অ্যান্টিজেনটি শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখে।

যৌনতা বিয়ে এবং সামাজিকতা

সভ্যতার আদি থেকেই যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য সমাজ পতিতালয় তৈরি করেছে। সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন কিছু কুরুচিপূর্ণ মানুষ। তারা  সেভাবেই শারীরিক চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু যৌনতা কি শুধু শারীরিক বিষয়? যৌনতা কি শুধু যে কোন নারী বা পুরুষের সাথে একটি নির্দিষ্ট সময় কাটিয়ে শরীর হাল্কা করা? সেটি পশুত্বের সামিল। যৌনতা মানব সৃষ্টির জন্য একটি বিশেষ কর্ম। এখানে শরীর, মন, আন্তরিকতা, পরস্পরের চাহিদা এবং এক ধরনের আত্মিক বিষয় জড়িত। এজন্যই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গড়ে ওঠে এক গভীরতম সম্পর্ক। অথচ বিয়ের পূর্বে তাদের সাথে কোনো ধরনের পরিচয়ই হয়তো ছিল না। যৌনতা যাতে পশুত্বে পরিণত না হয় সেদিকে আমাদের বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো পশু একমাত্র কুকুর ছাড়া যৌনক্রিয়া করার সময় একটু আড়াল খোঁজে, আড়ালে কাজটি সম্পাদন করে। অথচ পশ্চিমা দেশগুলোতে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর আদলে প্রাচ্যের যেসব দেশ এগিয়ে যাচ্ছে সেসব দেশেও যৌনতা খোলামেলাভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। আমাদের দেশের বিভিন্ন পার্কে যাবেন কম-বেশি অশ্লীল দৃশ্য চোখে পড়ে। পশ্চিমা দেশ থেকে আগত এসব কালচার কতটা আমাদের সাথে মানানসই? আর তাই সেখানে পারিবারিক বন্ধন সাময়িক ব্যাপার, অত্যন্ত ঠুনকো। সেখানে লিভ টুগেদার প্রচলিত আর লিভ টুগেদার মানেই তো এক ধরনের বিকৃত যৌনতা। একটি সংসারে অবহেলিত যৌনতা মারাত্মক করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এর মূল কারণ হচ্ছে যৌনতা সম্পর্কে স্বামী কিংবা স্ত্রীর উদাসীনতা। যে সংসারে স্ত্রী তার স্বামীকে কিংবা স্বামী তার স্ত্রীর যৌনসুখ মূল্যায়ন করে না, উদাসীন থাকে সেখানেই দেখা দেয় সমস্যা। স্ত্রী সুযোগ পেলে অন্য পুরুষের এবং স্বামী সুযোগ পেলে অন্য মেয়ের সান্নিধ্য পেতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায় তখন। প্রথম দিকে চুপি চুপি কিছু করা হলেও পরে তা বিদ্রোহী রূপ নেয় এবং এক সময় সংসারভাঙ্গা, হত্যা ইত্যাদি পর্যন্ত গড়ায় আর সংসার যদি টিকিয়ে রাখার চেষ্টাও করা হয় তাহলে সেটি  চলে অবিশ্বাসের মধ্যে, এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে । কাজেই স্বামী স্ত্রী উভয়কেই এই বিষয়ে সজাগ ও সচেষ্ট থাকা দরকার।

যৌনতা প্রাকৃতিক বিষয়, মানুষের অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা। এখানে শরীর ও মনের সাথে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। একটি ছাড়া অপরটি প্রকৃত সুখকর, উপভোগ্য এবং সার্থক হয় না। তাই প্রাকৃতিক নিয়মেই এটি সম্পন্ন করতে হয়। মানুষ যখন এটি অবাধে, স্বেচ্ছারিতার মনোভাব নিয়ে ভোগ করার চেষ্টা করে, বিকৃত যৌনাচারে লিপ্তা হয় প্রকৃতি তখন বিরূপ হয়। যেমন অবাধ যৌনাতা ও বহুগামিতা মানুষের জন্য মরণব্যাধি ‘এইডস’ নিয়ে এসেছে। বিশ্বের মানুষকে এক ভীতিকর অবস্থায় নিক্ষিপ্ত করেছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সঠিক পারিবারিক এবং বৈধ যৌনচার করার জন্য পশ্চিমা চিকিৎসকগণ তাদের দেশের মানুষদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সুস্থ যৌনতা এর একমাত্র সমাধান। পশ্চিমা গবেষকরা  আবিষ্কার করেছেন যে, সুস্থ যৌনচারই এইডস-এর মতো মরণব্যাধি এড়ানোর সঠিক পথ যা আমাদের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইদানিং সমকামিতা নামে আর এক যথেচ্ছারিতা, অবাধ ও বিকৃত যৌনাচার শুরু হয়েছে। এর ব্যাপ্তি গোটা বিশ্বে। এটি প্রকৃতিবিরোধী কাজ। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ, বিপরীত লিঙ্গের সাথে মিলন তো প্রকৃতির অবদান, প্রাকৃতিক সুখ ও তৃপ্তি সেখানে নিজেদের তৈরি নিয়ম পুরুষে-পুরুষে, নারীতে-নারীতে যৌনক্রিয়া সেটি কতবড় কুরুচির পরিচয় তা মানুষ হিসেবে আমাদের ভেবে দেখা উচিত!

491 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন