যোগ ব্যায়াম কেন করবেন কিভাবে করবেন

যোগ ব্যায়াম কেন করবেন কিভাবে করবেন
5 (100%) 3 votes

যোগ ব্যায়াম শরীর এবং মনের জন্য উপযোগী একটা ব্যায়াম। যোগের অর্থ হল মন ও শরীরের সংযোগ। যোগের মাধ্যমে শান্ত মন ও সুস্থ্য শরীর পাওয়া যায়। যোগ ব্যায়াম শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিনকে দূর করে শরীরের মধ্যে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। অনেকেই ভাবেন যোগ আর ব্যায়াম এক। কিন্তু, আসলে তা নয়। ব্যায়াম হল শরীরচর্চা। আর যোগ ব্যায়ামের (Yoga) মাধ্যমে শরীর, মন দুটোরই চর্চা। যোগ সাধনার মূলত দুটি ভাগ – হঠযোগ এবং রাজযোগ। হঠযোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে শরীরকে সুস্থ-সবল করা। রাজযোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে জীবাত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করা। ২১ জুন বিশ্ব আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ঘটা করে পালন করা হয়।

যোগ ব্যায়াম

যোগ ব্যায়াম কেন করবেন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

শরীর সুস্থ রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী যোগ ব্যায়াম। বিশেষ করে ফুসফুসের ক্রনিক রোগাক্রান্ত রোগীদের ইয়োগার বা যোগ ব্যায়াম বেশ উপকারী বলে গবেষকদের মত। ‘চেস্ট’ নামে একটি জার্নালে সম্প্রতি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। গবেষকরা জানান, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে যোগ ব্যায়াম কার্যকর ভূমিকা রাখে। জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফোকাসের অভাবে সহবাস করার বিষয়টি নারীদের কাছে একঘেয়ে গৃহস্থালি কর্মের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু যৌন জীবনে অসন্তুষ্ট এই নারীরা যদি নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করেন এবং মেডিটেশন করেন তাহলে তাদের যৌন আকাঙ্খা এবং চুড়ান্ত যৌন সুখানুভুতি লাভের হারও বাড়ে। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলে দীর্ঘ সময় ধরে লিঙ্গোত্থান ধরে রাখার ক্ষমতা এবং টেস্টোস্টেরন হরমোন উৎপাদন বাড়ে। যোগ ব্যায়ামের সঠিক ভঙ্গি গুলো রপ্ত করে আরো পরিপূর্ণ তৃপ্তিকর যৌন জীবন উপভোগ করা যায়। এছাড়া যোগ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায়। মানসিক চাপ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি খারাপ। মানসিক চাপের কারণে আমরা অনেকেই অসুস্থ বোধ করি। এতে আমাদের মস্তিষ্কে অনেক চাপ পরে এবং মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। যোগ ব্যায়াম মানসিক চাপ মুক্ত করার সব চাইতে ভালো একটি উপায়। সকালের স্নিগ্ধ আলোয় ঠাণ্ডা কোনো স্থানে বসে অথবা সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে মাত্র ১০ মিনিটের যোগ ব্যায়াম মানসিক চাপ মুক্ত করবে নিমেষেই। মানসিক স্বস্তি আমাদের দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এতে করে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের দেহ যে কোন ধরণের রোগ প্রতিরোধ করতে পারে। এবার একনজরে দেখে নিন যোগ ব্যায়াম আরো কি কি উপকার করে।

রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে – যোগ ব্যায়ামের ফলে আমাদের দেহের রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এতে আমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত সঞ্চালন হয় ঠিক ভাবে। ফলে আমাদের দেহ সচল এবং মস্তিস্ক কর্মক্ষম থাকে।

দেহের বাড়তি মেদ দূর করে – নিয়মিত যোগ ব্যায়ামের ফলে আমাদের দেহের বাড়তি মেদ দূর হয়। এতে করে আমরা ওজন সংক্রান্ত যে কোন ধরনের জটিলটা থেকে আমাদের দেহকে রাখতে পারি মুক্ত। যোগ ব্যায়াম আমাদের দেহকে ফিট রাখতে সহায়তা করে। দেহের বাড়তি মেদ এবং ভুরি কমানোর উপায় হিসাবে করতে পারেন যোগ ব্যায়াম।

হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় রাখে – যোগ ব্যায়ামের বিভিন্ন আসনের ফলে আমাদের দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের নালীর ভালো ব্যায়াম হয়। নিয়মিত যোগ ব্যায়ামের ফলে দেহের বিভিন্ন শিরা উপশিরায় সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালনের ফলে হৃদপিণ্ডে কোন ধরণের ব্লক হওয়া থেকে মুক্ত থাকা যায়।

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে – গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যোগ ব্যায়াম শুধু মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে তাই নয়, সেই সঙ্গে বাড়িয়ে দেয় স্মৃতিশক্তিকেও৷ তাই গবেষকদের দাবি, শুধু শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে নয়, মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতেও ব্যায়াম করা দরকার৷ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ২০ মিনিট ব্যায়াম করলেই একজন মানুষের মানসিক শক্তি বেড়ে যেতে পারে অনেকটাই৷ ৩০ জন শিক্ষার্থীদের উপর গবেষণাকারীরা এই গবেষণা করে৷ সেখানেই এই সাফল্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষণাকারীরা৷ তারা আরও জানিয়েছেন, ভারি ব্যায়াম করার থেকে যোগ ব্যায়াম করা অনেক সহজ ও সুবিধাজনক৷ যারা সারাদিন ব্যস্ত থাকেন কাজের মধ্যে তাদের ভারি ব্যায়াম না করাই ভালো৷ তাদের পক্ষে হালকা যোগ ব্যায়াম করাই অনেক বেশি উপকারি৷

ব্যথা দূর করে – হাড়ের জয়েন্ট, পিঠ এবং মেরুদণ্ডের ব্যথা থেকে মুক্ত রাখে যোগ ব্যায়াম। এটি আমাদের দেহের বিভিন্ন হাড়ের জয়েন্টকে মজবুত করে তোলে। প্রতিদিন নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করলে আমাদের হাড়ের নমনীয়তা ঠিক থাকে এবং আমাদের হাড়ের জয়েন্ট,পিঠ এবং মেরুদণ্ড ব্যথা জনিত সমস্যার সমাধান হয়।

কখন যোগ ব্যায়াম করা উচিত

যে কোনো সময়ই যোগ ব্যায়াম করা যায়। সকাল-সন্ধ্যা যে কোনো সময় যোগাসন করা সম্ভব। খাবার খাওয়ার ৩/৪ ঘণ্টা পরে, হালকা খাবারের পরে, চা বা এই জাতীয় পানীয়ের ৩০ মিনিট পরে এবং পানি খাওয়ার ১০-১৫ মিনিট পরে করলে উপকৃত হবেন।

কে কে যোগ ব্যায়াম করতে পারেন

৩ বছরের ঊর্ধ্বে যে কেউ যোগ ব্যায়াম করতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে খেলাধুলার মাধ্যমেই যোগ করানো সম্ভব। ১২ বছরের নাবালক/নাবালিকাদের জন্য হালকা যোগাসন ও প্রাণায়ম প্রয়োজনীয়।  তবে গর্ভবতী মায়েদের এবং হার্টের রোগীদের যোগ শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। হারনিয়া, হাঁটু, কোমরে ব্যথার ক্ষেত্রেও সামনে এবং পিছনে ঝুঁকে দাঁড়ানোর বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

লম্বা হতে সাহায্য করে যোগ ব্যায়াম

শরীরের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য যে হরমোনের প্রয়োজন সেই হরমোন শরীরে নিসৃত হয় মনে শান্তি থাকলে। শরীরের সঠিক ভঙ্গিমাও এক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। লম্বা হওয়ার উপায় হিসাবে প্রতিদিন কয়েক মিনিট যোগ ব্যায়াম করলে উপকার পাবেন। নিচে যে আসন গুলো দেওয়া হল সেগুলো শরীরে উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

ভুজঙ্গাসন – উপুড় হয়ে শুয়ে সামনে মাথা তুলে যে ভুজঙ্গাসন করা হয় তাতে বুক, পেট ও কাঁধের পেশীতে টান পড়ে ও এই আসন লম্বা হতে সাহায্য করে।

তাড়াসন – গাছের মতো ভঙ্গি মেরুদন্ডকে সোজা করে, শরীরকে টান টান করে। এই আসন লম্বা হবার জন্য খুব উপযোগী।

নটরাজাসন – শুয়ে পড়ে শরীরকে মোচড় দেওয়া এই আসন পা, পায়ের পেশী, হাত, কবজি, মেরুদন্ড -এ সব কিছুকে টানটান করে, বুকের পেশীকেও লম্বা করে টেনে ধরে, এই আসনও শরীরকে লম্বা করে।

মুখের ত্বক ভালো রাখতে যোগ ব্যায়াম

যতদিন যায় ততই আমরা বার্ধক্যের দিকে এগোতে থাকি। আর সবার আগে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে আমাদের মুখে। সেই সব ছাপকে আমরা যতটা সম্ভব দূর করতে চাই মুখ এবং জীবন থেকে। যার জন্য শরণাপন্ন হই নানা রকম ক্রিম, সিরাম ইত্যাদির ওপর। যদিও কেমিকালে ঠাঁসা এইসব প্রসাধনী আমাদের ত্বককে আরও খারাপ করে তোলে। ফলে অধরাই থেকে যায় মুখ থেকে বার্ধক্যের ছাপ সরানো। তবে হতাশ হবেন না। এমন কিছু ম্যাজিক আছে, যা আমাদের ত্বককে রাখবে দাগ, ছোপ এবং বার্ধক্যের থেকে অনেক দূরে। কিন্তু কি সেই ম্যাজিক? এই ম্যাজিক হল, ফেসিয়াল বা মুখের যোগ ব্যায়াম। এই ব্যায়াম মুখ থেকে বার্ধক্যের ছাপ যেমন সরাবে, তেমনই আরাম দেবে আপনার মুখের যাবতীয় সমস্যায়। তাহলে দেখে নিন।

স্মাইলিং ফিশ ফেস – গালের যত্নে এই যোগ ব্যায়াম খুবই উপকারি। এই ফেসিয়াল যোগটি নিয়মিত করলে গালের চামড়া টানটান থাকে এবং মুখের লাবণ্য বৃদ্ধি পায়। ঠোঁটের মাধ্যমে এই ব্যায়াম করতে হয়। তারপর হাসির মতো মুখ করতে হয়। এইরকম ভাবে পাঁচবার এই ব্যায়াম অনুশীলন করতে হবে।

মেরিলিন – মেরিলিন বলতে কি বোঝেন আপনারা? সেই চিরন্তন হাসি। সেই সারল্যে ভরা ভঙ্গিমা। তিনি মেরিলিন মনরো। এই ফেসিয়াল যোগ ব্যায়ামটিরও ওনার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। ঠোঁটকে চুমু খাওয়ার মতো করে সরু করুন। এবার হাতের মাধ্যমে ঠোঁটকে চাপুন আর ছেড়ে দিন। এই ভাবে বেশ কয়েক বার করুন।

বেবি বার্ড – এই ফেসিয়াল যোগ ব্যায়াম করলে গলার মাংসপেশি ভাল থাকে। ফলে গলার চামড়ায় ভাঁজ পরা, ডবল চিনের সমস্যা দূর হয়। এক্ষেত্রে প্রথমে ডানদিকে মাথা উপরের দিকে তুলুন। এবার জিভ বার করে ঠোঁটের উপরিভাগ স্পর্শ করুন। এবার হাসির মতো মুখ করুন এবং ঢোক গিলুন। এবার বামদিকে এবং মাঝখানে এই ব্যায়াম পুনরায় করুন।

স্যাচমো – এক ধরণের বাদ্যযন্ত্র আমাদের চোখে প্রায়ই পরে। গাল ফুলিয়ে মুখে হাওয়া ভরে তাকে বাজাতে হয়। ঠিক একই ভাবে মুখের ভিতর বাতাস ভরে একদিকের গাল থেকে অন্যদিকের গালে হাওয়া ঠেলে দিতে হবে। মুখের থেকে পুরো হাওয়া বেড়িয়ে না যাওয়া অবধি এই ব্যায়াম করতে হবে। একই রকম ভাবে আরও দশবার এই ফেসিয়াল যোগ ব্যায়াম অনুশীলন করতে হবে।

টেম্পল ড্যান্সার – পুরো মুখ স্থির রেখে চোখ দুটিকে যতটা সম্ভব বড় করতে হবে। এবার চোখের মনি বামদিক থেকে মাঝখানে, তারপর ডানদিকে এবং ডানদিক থেকে মাঝখানে নিয়ে আসতে হবে। এইভাবে দশবার এটি করতে হবে।

বুদ্ধ – চোখ হালকা করে বন্ধ করে মুখে স্ফিত হাসি আনতে হবে। যাতে সেই প্রশান্তির চিহ্ন পুরো মুখে ছড়িয়ে পরে।

লায়ন ফেস – (১) প্রথমে নাক দিয়ে ভাল করে শ্বাস নিয়ে নিন। এই অবস্থায় মুখ কুঁচকে কিছুক্ষণ রেখে দিন।

(২) মুখ দিয়ে হাওয়া বের করে, জিভ যতটা সম্ভব বাইরে করে নিন। এবার চোখ বড় বড় করে খুলুন। এই সময় হাত খোলা রাখতে হবে। এই ফেসিয়াল ব্যায়ামটি তিনবার অনুশীলন করুন।

ঘুমের সমস্যা দূর করতে যোগ ব্যায়াম

আমাদের এই ব্যস্ত জীবনের বিভিন্ন মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা এবং দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পরও রাতে ঘুম আসে না। অনেকের তো নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যেতে হয়। আসুন আজ থেকে রাতে ভাল ভাবে ঘুমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া যোগ ব্যায়াম শিখে নেই। খাটে বসেই সহজে করে ফেলুন কয়েকটা আসন এবং ঘুমিয়ে পড়ুন।

১. প্রথমে আরামদায়ক ভাবে বিছানায় বসুন। তারপর পিঠ সোজা করে পদ্মাসনে বসুন। পদ্মাসনে বসে কাঁধটাকে একটু পিছনের দিকে টেনে ধরুন। আপনার দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রেখে ৩ বার গভীর শ্বাস নিন। এই প্রক্রিয়াটি দুই তিন বার করুন। এই আসনকে বলা হয় ইজি পোজ।

২. প্রথমে সোজা হয়ে খাটের উপর বসে পা দুটো সামনে নিয়ে এসে জড়ো করুন। পা দুটো জড়ো করে এমন ভাবে বসুন যাতে গোড়ালি খাটের ওপর থাকে। এবার দুই পায়ের পাতা জড়ো করে ৫ বার গভীর শ্বাস নিন। এবার আপনার শরীরে উপর ভাগ সামনের দিকে ঝোঁকান এবং আবার সোজা করুন। এই আসনের নাম বাটারফ্লাই পোজ। সারা দিন এক ভাবে বসে থাকার পর এই আসন খুবই কার্যকর।

৩. এই আসনের জন্য আপনার পা দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে বসুন। এবার আপনার হাত দুটো দু’পাশে রেখে শরীরের উপরিভাগকে ধীরে ধীরে সামনের পায়ের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। এবার এই অবস্থায় ৫-১০ বার গভীর ভাবে শ্বাস নিন। এই সিটেড ফরওয়ার্ড বেন্ড আসনটি হ্যামস্ট্রিং,কোমর ও শিরদাঁড়ার ব্যথার জন্য খুবই কার্যকর।

৪. এই আসন এ বসার জন্য একটি পরিচ্ছন্ন জায়গায় ম্যাট বিছিয়ে নিন। এই ম্যাটের উপুর হয়ে হাঁটু ও হাতের উপর ভর রাখুন। এবার একটা হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন। হাঁটু যোগাসন করার ম্যাটের উপর রেখে হাত হাঁটুর দু’পাশে রেখে সামনের দিকে ঝুঁকুন। এই পিজিয়ন পোজ আসনটি নিতম্বের নমনীয়তা বাড়ায় এবং নেগেটিভ টেনসন কমাতে সাহায্য করে।

৫. প্রথমে হাঁটু ভাঁজ করে বসুন। এবার হাত দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন। এবার আস্তে আস্তে মাথা ঝুঁকিয়ে শরীরের উপরিভাগ দুই উরুর মাঝে সামনের দিকে এগিয়ে নিন। এই অবস্থায় ৫ বার গভীর শ্বাস নিন।

৬. বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটোকে ভাঁজ করে হাঁটু বুকের কাছে নিয়ে আসুন। এবার দুই হাত দিয়ে হাঁটু জড়িয়ে ধরে একটু চাপ দিন। এখন এই অবস্থায় আস্তে আস্তে ডান দিকে এবং বাঁ দিকে ঘুরতে থাকুন। দুই তিন বার এটি রিপিট করুন।

৭. উপরের সবগুলো শেষ করার পর শবাসন আসন আপনাকে মেডিটেটিভ স্টেটে নিয়ে যাবে। এই আসনে আপনি আপনার পা দুটো নামিয়ে বিছানায় রাখুন। আপনার হাত দুটো রিল্যাক্সড করে শরীরের দু’পাশে সোজা করে নামিয়ে রাখুন। এবার চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। এভাবেই শান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকুন।

এবার চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে আজকের দিনের আপনার সমস্ত সুখ স্মৃতিগুলো রোমন্থন করুন। আপনার সারাদিনের সমস্ত ইতিবাচক কাজের অর্জনের জন্য আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করুণ। এবার চেষ্টা করুন ঘুমানোর।

310 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন