মোবাইল ফোনের প্রয়জনীয় কিছু টিপস

মোবাইল ফোনের প্রয়জনীয় কিছু টিপস
5 (100%) 1 vote

মোবাইল ফোন নিঃসন্দেহে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে পুরোপুরি পরিবর্তন করেছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যবহার করেন না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত জিনিস হচ্ছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনের বর্তমান বিস্তার এতো বেশি হয়ে গেছে যে তা বলে শেষ করা যাবে না। এর অনেক রকম ব্যবহার রয়েছে। তবে এর কিছু ভালো দিক যেমন আছে তেমনি ক্ষতির দিকও রয়েছে। আর দশটা প্রয়োজনীয় জিনিসের মতো এরও প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার আপত্তিকর নয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মোবাইল

মোবাইল ফোনের ইতিহাস

পৃথিবীতে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি প্রয়োজনীয় যোগাযোগ মাধ্যম যন্ত্র মোবাইল ফোন। ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল মোবাইল ফোন থেকে প্রথমবার কল করা হয়েছিল। মটোরোলার জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মার্টিন কুপার প্রথমবারের মতো সেলুলার টেলিফোনে বিশ্বের প্রথম ফোনকলটি করেছিলেন। তারপর এখন তা বিশ্বব্যাপী রীতিমত বিপ্লবে পরিবর্তিত হয়েছে। গত ২০১২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের এক তথ্য অনুযায়ী, ৬০০ কোটিরও বেশি মোবাইল সাবস্ক্রিপশন হয়েছে বিশ্বজুড়ে। ওই সময় পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৭০০ কোটি। মার্টিন কুপারকে মোবাইল ফোনের জনক বলা হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৫ বছর। আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে মানুষের হাতে এসেছিল প্রথম মোবাইল ফোন সেট। সেটি ছিল মটোরোলার গবেষক মার্টিন কুপারের আবিষ্কৃত ডায়না টিসি। কুপার সেই ফোন দিয়ে প্রথম কথা বলেছিলেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বেল ল্যাবসের গবেষক জোয়েল এনজেলের সঙ্গে। ফোন সেট তৈরির জন্য তখন আলাদা ভাবে কাজ করেছিলেন মটোরোলার গবেষক মার্টিন কুপার ও বেল ল্যাবসের জোয়েল এনেজেল। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন কুপার। মটোরোলা কোম্পানিতে কাজ করতেন মার্টিন কুপার। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্রযুক্তিবিদ জন মিশেল। তিনি একদিন কুপারের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিশ্বের প্রথম মুঠোফোন তৈরি করবে মটোরোলা আর আবিষ্কারক হবেন কুপার। কুপার সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে জয়ী হয়ে গর্বিত করেছিলেন জন মিশেল ও তাঁর প্রতিষ্ঠান মটোরোলাকে। মার্টিন কুপার ডায়না টিএসি তৈরিতে সফল হয়েছিলেন ১৯৭৩ সালের ৩ এপ্রিল। সেটি বর্তমান সময়ের হালকা পাতলা স্মার্টফোনের মতো ছিল না। সোয়া এক কেজি ওজনের সেই সেলুলার ফোনটি লম্বায় ছিল ১০ ইঞ্চি। একবার ব্যাটারি চার্জ হলে ২০ মিনিট কথা বলা যেত। আর ব্যাটারি চার্জ করতেও লাগত অনেক সময়। একসময় এর পরিচিত দাঁড়ায় ব্রিক ফোন বা ইট আদলের ফোন। নিউইয়র্ক সিটির সিক্সথ অ্যাভিনিউতে হাঁটতে হাঁটতে প্রথমবারের মতো সেলুলার নেটওয়ার্কে ফোনকল করেন কুপার। টেলিফোনে বিশ্বের প্রথম ফোনকলটি গ্রহণ করেছিলেন বেল ল্যাবসের প্রধান গবেষক জোয়েল এনজেল। সেসময় সেলুলার নেটওয়ার্কে স্থানান্তরযোগ্য মুঠোফোন তৈরিতে কাজ করছিলেন জোয়েল এনজেল। জোয়েলের অফিসে সরাসরি ফোনকল করার এ ঘটনাটিই বিশ্বের প্রথম  মোবাইল ফোন আলাপ।

মোবাইল ফোন চার্জ নিয়ে ভুল ধারণা

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের প্রতিদিনই নিজের ফোনটিকে চার্জ দিতে হয়। এটি একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ব্যবহারকারীদের। তবে এই চার্জ দেওয়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণা আমরা লালন করি, বা পালন করি। মানে বলা হয়, এটা করলে ফোনের ক্ষতি হবে, ওটা করলে ব্যাটারির সমস্যা হবে ইত্যাদি। প্রায় সব স্মার্টফোনেই থাকে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। আর মাঝে মধ্যেই এসব ব্যাটারির বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেই স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭ মোবাইল ফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণ প্রসঙ্গটি আলোচনায় এসেছে। ফলে ব্যাটারি সংক্রান্ত ভুল ধারণাগুলো আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। যদিও  স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭-এর ব্যাটারি বিস্ফোরণ নির্মাণ জনিত ত্রুটি ছাড়া আর কিছুই নয়। মোবাইল ফোনে যেন আগুন না ধরে যায় সেভাবেই যন্ত্রটির ব্যাটারি বানানো হয়। আর সঠিক ভাবে নির্মিত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি অন্তত আপনার পকেটে জ্বলে উঠবে না। কাজেই অযথা ভয় না পেয়ে চলুন জেনে নিই চার্জ দেওয়া নিয়ে কিছু ভুল ধারণার কথা।

▪ অনেকে মনে করেন সারারাত  ফোনে চার্জ দেওয়া খারাপ। কিছু পুরোনো মডেলের ফোন ছাড়া বেশির ভাগ স্মার্ট ফোন নিজে থেকেই বুঝে নেয় যে তার চার্জ পরিপূর্ণ হয়েছে। যখন চার্জ পূর্ণ হয় তখন নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয় ফোন। স্মার্টফোনের এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই আপনি নিরাপদ।

▪ প্রায় মানুষের ধারণা সম্পূর্ণ চার্জ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন ভাবে চার্জ দেওয়া যাবে না। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি আপনার টিভির রিমোটের ব্যাটারির মতো নয় যে ব্যাটারির শক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন ব্যাটারি ব্যবহার করা যাবে না। অথবা ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে না গেলে নতুন ভাবে চার্জ দেব না এরকম ধারণা রাখাই উচিত নয়। পুরোনো নিকেল মেটাল হাইড্রাইড ব্যাটারির মতো মেমোরি এফেক্ট (পুরোনো ব্যাটারির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ চার্জ শেষ না হলে নতুন ভাবে চার্জ না নেওয়াকে বলে মেমোরি এফেক্ট) আপনার নতুন স্মার্টফোন এবং মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ক্ষেত্রে নেই। বরং এ রকম মনে করে সম্পূর্ণ চার্জ শেষ করে চার্জ দিলে আপনার মোবাইল ফোনের ক্ষতি হতে পারে। তাই যখন খুশি তখন, উপযুক্ত জায়গা পেলে, সেখানেই চার্জ দেবেন।

▪ অনেকের ধারণা মোবাইল ফোন চার্জের সময় তা ব্যবহার করা যাবে না। চার্জের সময় ফোন ব্যবহার করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও অনেকে পরামর্শ দেন এটি না করার জন্য। কারণ তারা মনে করেন এটি করলে তা ফোনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। যদিও অন্যসব ভুল ধারণার মতো এটিরও কোনো ভিত্তি নেই। এই ভুল ধারণাটি আরো শক্ত হয় ২০১৪ সালে, সেসময় চার্জ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোন ব্যবহারকারী এক নারীর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটে অস্ট্রেলিয়ায়। যদিও কর্তৃপক্ষ পরে দেখেছেন, কম দামি ইউএসবি চার্জার ব্যবহার করার জন্যই এ ঘটনা ঘটেছিল। তাই চার্জ দিয়ে ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবে সস্তা চার্জার থেকে সাবধান। আর ভেজা হাতে চার্জ লাগানো মোবাইল না ধরাই ভালো। চার্জার আপনার  ফোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, এটার মধ্যে আর কতটুকু বৈচিত্র্য থাকতে পারে? চার্জার নিয়ে এ রকম ধারণা অনেকেরই আছে। কিন্তু আসলে একটি ভালো চার্জারের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তাই নকল চার্জার ব্যবহার করা উচিত নয়। নামকরা ব্র্যান্ডের চার্জার না কিনলেও চার্জারের ভালো মন্দ দেখে সেটা কেনা উচিত। ভালো চার্জার মানেই আপনার মোবাইল দ্রুত চার্জ হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের অতিরিক্ত তাপে তা গলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

▪ অনেকেই মনে করেন সপ্তাহে সাতদিন ২৪ ঘণ্টা মোবাইল চালু রাখা যাবে না। সারাক্ষণ মোবাইল খোলা রাখলে আপনার ব্যাটারির জীবনের মেয়াদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে কিন্তু ফোনটি বন্ধ করে রাখা এর কোনো সমাধান নয়। এ জন্য সপ্তাহে একবার মোবাইল রিবুট অপশন থেকে পুনরায় বুট করে নেওয়া উচিত। এতে আপনার মোবাইলের কর্মক্ষমতা উন্নয়নেও তা সহায়ক হবে।

মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখবেন যেভাবে

মোবাইল ফোনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো ব্যাটারি। যদি ব্যাটারি সঠিক ভাবে চার্জ করা না হয়ে থাকে তাহলে কম সময়ে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট জীবন মেয়াদ থাকে। ফোন ব্যবহারের উপর ব্যাটারির আয়ু অনেকাংশ নির্ভর করে। অনেকেই জানেন না, কিভাবে ফোনটি চার্জ দিতে হবে। এছাড়া কোন চার্জার দিয়ে চার্জ দেয়া উচিত বা উচিত নয় তাও অজানা অনেকের। ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখতে তেমনটি কিছু টিপস দেখে নিন।

▪আপনার ফোনটি যদি সেই ফোনের সাথে পাওয়া চার্জারে চার্জ দেওয়া হয় তবে ব্যাটারির আয়ু বাড়বে। এখন অবশ্য ফোনে চার্জ দেওয়ার জন্য রয়েছে মাইক্রোইউএসবি পোর্ট। তাই যে কোনো চার্জার দিয়ে ফোনে চার্জ দেওয়া যায়। তবে যদি চার্জিংয়ের সময় ফোনের নিজস্ব চার্জার ব্যবহার না করা হয় তাহলে ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে থাকে। কেননা ফোনের সঙ্গে থাকা চার্জারে নির্দিষ্ট পরিমাণ আপটপুট ভোস্টেজ এবং কারেন্ট রেটিং থাকে। যা ফোনের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। সস্তা চার্জার ব্যবহার না করা অনেক সময় ফোনের জন্য নির্ধারিত চার্জারটি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যখন ফোনে চার্জে দেওয়া হয় তখন ব্যাটারি কিছুটা গরম হয়ে যায়। ব্যাটারি গরমের প্রভাব ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। তাই ফোনকে অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনের নিরাপত্তামূলক কেসিং বা কভার খুলে রাখা উচিত ।

▪ অনেক থার্ডপার্টি ব্যাটারি অপটিমাইজ অ্যাপ রয়েছে। এই অ্যাপগুলো মোবাইল ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে। এতে করে ফোনের চার্জ আরও বেশি ব্যয় হয়। এছাড়া লকস্ক্রিনটি অ্যাপগুলো এড লোড করে থাকে। তাই ফোনে আলাদা কোনো ব্যাটারি অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত নয়।

মোবাইল ফোনের আঁচড় দূর করবেন যেভাবে

আপনার শখের ফোনটিতে ছোটখাটো আঁচড় লেগে গেলে  নিশ্চয়ই মন খারাপ হয়। আঁচড় বা দাগ সারাতে আপনি কিন্তু নিজেই হয়ে যেতে পারেন মেকানিক। কোনো কিছুর ঘষা লেগে কিংবা হাত থেকে পড়ে মোবাইল ফোনে যে দাগ বা আঁচড় পড়ে, তা সারানোর উপকরণ আপনার হাতের কাছেই পাবেন। হাতের কাছের সহজলভ্য এই উপকরণ ব্যবহার করে মোবাইলের আঁচড় দূর করার সহজ কিছু উপায় দেখে নিন।

▪মোবাইল ফোনের ছোটখাটো আঁচড় দূর করার প্রস্তুতি হিসেবে আপনাকে প্রথমে  ফোনটি বন্ধ করে ফেলতে হবে এবং ব্যাটারি খুলে রাখতে হবে। মোবাইল ফোনের ভেতরে যাতে তরল পদার্থ না ঢুকতে পারে সেজন্য হেডফোন, চার্জার ও অন্যান্য পোর্টগুলো টেপ ব্যবহার করে সিল করে নিতে হবে।

▪একটি কটনবাড অথবা এক টুকরো নরম সুতি কাপড়ে সামান্য পরিমাণ টুথপেস্ট নিয়ে আঁচড় পড়া স্থানে আলতোভাবে ঘষতে পারেন। এতে দাগ উঠে যাবে। দাগ উঠে গেলে আরেকটি ভেজা কাপড় দিয়ে বাড়তি টুথপেস্ট মুছে ফেলতে হবে। তবে জেল জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহার করা যাবে না।

▪একটি পাত্রে ২ ভাগ বেকিং সোডা ও ১ ভাগ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে আঁচড়ের ওপর লাগাতে হবে। পরে আরেকটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সেই পেস্ট মুছে ফেলতে হবে।

▪মোবাইল ফোনের দাগ দূর করতে বেবি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে অল্প বেবি পাউডারের সঙ্গে পানি মিশিয়ে টুথপেস্টের মতো পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে, যা দাগ ঢাকতে সক্ষম হবে।

▪ছোট ও লুকানো আঁচড়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে ভেজিটেবল অয়েল, যা সাময়িক সমাধান হিসেবে ভালোই কাজ করে। আঁচড়ের ওপর এক ফোঁটা অয়েল নিয়ে মুছে ফেললে দ্রুত কসমেটিক ফিক্স হিসেবে কাজ করে।

মোবাইল ফোনের দাগ, আঁচড় দূর করার জন্য আরও বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে গাড়ির আঁচড়ের দাগ দূর করার ক্রিম টার্টল ওয়্যাক্স, ৩এম স্ক্র্যাচ ও সোয়ার্ল রিমুভার ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়াও ডিম ও পটাশিয়াম অ্যালুমিনিয়ামের মিশ্রণ কাজে লাগে।

আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইল স্লো হয়ে যাচ্ছে জেনে নিন সমাধান

আজকাল অনেককেই এ ধরণের অভিযোগ করতে শোনা যায় যে তাদের মোবাইল ফোন স্লো কাজ করছে যদিও ফোনগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই দেখে নিন কিছু কার্যকর পদ্ধতি যা আপনার এন্ড্রয়েড এর গতি বাড়াবে।

▪যে সব অ্যাপ আপনি ব্যবহার করছেন না তা মুছে ফেলাই শ্রেয়। মোবাইলের স্টোরেজ পরিষ্কার রাখুন।

▪অপ্রয়োজনীয় সব ইমেজ, সাউন্ড ক্লিপ, জিপ ফাইল ইত্যাদি মুছে ফেলতে পারেন।

▪ক্যাশড ডেটা পরিষ্কার রাখুন কেননা এগুল শুধু জায়গাই নস্ট করে না বরং বিভিন্ন অ্যাপ এর অদ্ভুত আচরণের কারন হয়ে দাঁড়ায়।

▪আপনার এসডি কার্ড এর দিকে খেয়াল রাখুন; আপনি যদি স্লো এসডি কার্ড ব্যবহার করেন তবে এটি আপনার ডিভাইসকে স্লো করে দিবে। একটি সহজ উপায় হল আপনার এসডি কার্ডের সব ডেটার কপি কম্পিউটারে রেখে এসডি কার্ড মোবাইলে নিয়ে ফরম্যাট দিবেন। এতে আশা করা যায় এসডি কার্ডের গতি কিছুটা হলেও বাড়বে।

যদি উপরে উল্লিখিত সকল পদ্ধতি বিফল হয় তবে ডিভাইসের ফ্যাক্টরি রিসেট অপশন ব্যবহার করুন যা আপনার ফোনকে নতুন অবস্থায় যে রকম ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে নিবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই কাজটি করার আগে অবশ্যই মোবাইল ফোনের কনটেন্ট গুলোর ব্যাকআপ রেখে নিতে হবে।

মোবাইল ফোন পানিতে পড়ে গেলে যা করবেন

প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। এই ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে পড়তে হতে পারে নানা সমস্যায়। যার মধ্যে অন্যতম হলো অসাবধানতাবশত মোবাইল পানিতে পড়ে যাওয়া। ফোন পানিতে পড়ে গেলে এক্ষেত্রে কী করণীয় জেনে নিন।

▪মোবাইল ফোন পানিতে পড়ে গেলে প্রথমেই ফোন পানি থেকে তুলে অফ করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় পানিতে পড়ে গেলেও ফোন অন থাকে। তাই পানি থেকে তুলে অফ করতে হবে। ফোন অফ করার পরই ফোনের সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ফোন থেকে খুলে ফেলতে হবে।

▪ব্যাটারি, সিম কার্ড, মেমোরি কার্ড খুলে ফেলার পরই মোবাইল ফোন ভাল করে ঝাঁকাতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ফোন পানিতে পড়ে গেলে ভেতরে পানি ঢুকে যায়। তাই ফোন ভাল করে ঝাঁকালে ভেতরের পানি বেরিয়ে আসে।

▪ফোন ঝাঁকানোর পর কোন শুকনো কাপড় দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করুন এবং ফোনটি বাড়ির চালের বস্তার ভেতরে ঢুকিয়ে রাখুন। চাল ভর্তি বস্তার ভেতর ফোনটি ২৪ ঘণ্টা রাখুন।

▪এবার আপনি যখন ফোন চালের বস্তার ভেতর থেকে বের করে যখন অন করবেন তখন দেখা যাবে আপনার ফোন পূর্বের মতোই সক্রিয় রয়েছে।

পকেটে মোবাইল রাখলেই সর্বনাশ

বাসার বাইরে গেলে বেশির ভাগ পুরুষ মোবাইল ফোনটি তাদের বুক পকেট কিংবা প্যান্টের পকেটে রাখেন। আর নারীদের ক্ষেত্রে পকেটযুক্ত জামা পরার প্রচলন কম থাকায়, অনেকেই বক্ষবন্ধনীর ভেতরে শখের মোবাইলটি রেখে দেন। তবে শরীরের কাছাকাছি এভাবে মোবাইল রাখলে ক্ষতির পরিমাণটা অনেকের অজানা। সবার সামনে মোবাইলের এই ক্ষতিকর দিকটি তুলে ধরেছে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম।  তাদের খবরে তুলে ধরা হয়েছে এ সম্পর্কিত বিজ্ঞানী ও গবেষক ডা. দেবরা ডেভিসের গবেষণা। ডা. দেবরা ডেভিস কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোন বিকিরণের প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করছেন। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের এক অনুষ্ঠানে আলাপচারিতায় ডা. ডেভিস  বলেন, মোবাইল ফোনের বিকিরণ মানুষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই সঙ্গে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ছাড়া মস্তিষ্কেরর ওপরেও পড়ে বিরূপ প্রভাব। ডেভিস বলেনছেন, মোবাইল ফোন দিয়ে সৃষ্ট বিকিরণের কারণে বিষণ্ণতা, ডায়বেটিসসহ হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক নারী তার বক্ষবন্ধনীতে মোবাইল ফোন রাখতেন। পরবর্তীতে দেখা যায় যেদিকে তিনি মোবাইল রাখতেন, সেদিকের স্তনে বেশ বড় আকৃতির টিউমার সৃষ্টি হয়। পকেটে মোবাইল রাখলে পুরুষদের গোপনাঙ্গ ও শরীরের হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এই গবেষক আরও বলেছেন, তবে শুধু বক্ষবন্ধনীতে নয়, পকেটে মোবাইল ফোন রাখাও সমান বিপদজনক। তাই মোবাইল পকেটে কিংবা বক্ষবন্ধনীতে না রেখে ব্যাগে রাখা পরামর্শ দেন তিনি।

আপনার মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে কি করবেন

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের নিত্যসঙ্গী। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও রুচি অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন ব্রান্ড ও মডেলের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু চলার পথে প্রায়ই নানা কারণে আমাদের এই প্রয়োজনীয় ফোনটি হারিয়ে যেতে পারে। চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে অনেক সময় ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। যেমন চুরি বা ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি কখনো কখনো  অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। সেক্ষেত্রে মোবাইল এবং সিমের রেজিস্ট্রি মতে এর প্রকৃত মালিক গ্রেফতার বা হয়রানির স্বীকার হতে পারেন। তাই  ফোন হারালে বা চুরি হলে, বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুলিশকে জানাতে হবে। তবে যে কারণেই ফোন হারাক না কেন, পুলিশের সহায়তায় একজন নাগরিক তার প্রিয় ফোনটি ফিরে পেতে পারেন। জেনে নিই হারানো ফোন উদ্ধারের প্রক্রিয়া।

▪আপনার মূল্যবান মোবাইল ফোনটি হারিয়ে গেলে বা ছিনতাই হলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় গিয়ে একটা সাধারণ ডায়রি করতে হবে। সেই সাথে আপনার মোবাইল ফোনটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন : ক্রয়ের রশিদ, সিম রেজিস্ট্রেশন, ফোনের আইএমই নম্বর, ফোনের সক্রিয় সিমের নাম্বার প্রভৃতি কাগজ অথবা এর ফটোকপি জিডির সাথে থানায় জমা দিয়ে হবে। এরপর ডিউটি রত অফিসার আবেদনকারীকে একটি জিডি নাম্বার প্রদান করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোবাইলটির আইএমইআই নম্বর দিয়ে ট্র্যাক করে সেটটি উদ্ধার করার চেষ্টা করবে। পরবর্তীতে যদি হারানো মোবাইল ফোনটি  খুঁজে পাওয়া যায় তাহলে ওসির মাধ্যমে আবেদনকারী তা ফেরত পাবেন। খুঁজে না পেলেও ব্যবহারকারীকে থানা থেকে জানিয়ে দেয়া হবে। এবার দেখে নিন হারানো মোবাইল উদ্ধারে পুলিশের সেবার বিবরণ।

সেবা প্রাপ্তির যোগ্যতা            :  বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র           :  আবেদন পত্র (জিডি)

প্রয়োজনীয় খরচ                  :  বিনামূল্যে এই সেবা প্রদান করা হয়

প্রয়োজনীয় সময়                  :  ২ থেকে ৭ দিন

কাজ শুরু হবে                     :   নিকটস্থ থানা

আবেদনের সময়                  :   সারা বছর যে কোন সময়

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা               :   ওসি, এসআই/এএসআই

সেবা না পেলে কোথায় যাবেন  :  সার্কেল এ এস পি

বিস্তারিত তথ্যের জন্য            : ১০০ (পুলিশ কন্ট্রোল রুম), ৯৯৯ (ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক)

প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট           :  http://www.police.gov.bd

191 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About আফরিন নীলা

ভালোবাসা আসলে কী জিনিস? ভালোবাসার সত্যিকারের সংজ্ঞা কী? ভালোবাসার আসলে কোনো সংজ্ঞা নেই ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন