মেয়েদের মন জয় করার সহজ উপায়

মেয়েদের মন জয় করার সহজ উপায়
4.9 (97.65%) 17 votes

মেয়েদের মন বোঝা সহজ কাজ নয়। বলা হয়ে থাকে মেয়েদের মন আর আকাশের রং ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। মেয়েদের মন কখন যে কেমন আচরণ করে তা বলা মুশকিল। সে আসলে কী বলতে চাচ্ছে? সরাসরি কথা বলা মেয়েদের ছেলেরা খুবই পছন্দ করে। কিন্তু ছেলেরা এটাও ভালো করে জানে যে, মেয়েরা যা বলছে তার মধ্যে কিছু লুকানো কথা থাকে। যা ছেলেরা বুঝতে পারে না। আর ছেলেদের এই বিষয়ে আগ্রহেরও কমতি থাকে না। আসলে সে কী বলতে চাচ্ছে? এই প্রশ্নটা সবসময়ই ছেলেদের মাথায় ঘোরে। কিন্তু আফসোস, এর উত্তর সহজে তাদের কপালে জোটে না! কেমন ছেলে তার পছন্দ? ছেলেদের সবচেয়ে বেশি জানার আগ্রহ থাকে এই বিষয়ে। কেমন ছেলে তার পছন্দ? সে আদৌ আমার মতো ছেলেকে পছন্দ করবে তো? না কি আমাকে ফিরিয়ে দেবে? এই বিষয়টিতে ছেলেদের আগ্রহের পাশাপাশি অস্থিরতাও বেশি কাজ করে। সিনেমা দেখা অথবা রাতে একসঙ্গে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা থাকুক না কেন মেয়েরা সবসময়ই দেরি করে। আর ছেলেরা অসহায়ের মতো অপেক্ষা করে। কেন মেয়েরা সবসময় দেরি করে? এই প্রশ্নের উত্তর কখনো জানতে পারবে না জেনেও ছেলেদের জানার আগ্রহ শেষ হয় না। আপাতদৃষ্টিতে মেয়েদের মন পুরোপুরি না বুঝা গেলেও কিছু উপায় অবলম্বন করে তাদের মনের মতিগতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। আসুন উপায়গুলো জেনে নেই-

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মেয়েদের

♡ নারীরা সব সময়েই প্রশংসা শুনতে চায়। বিশেষ করে কোনো নারী যদি আপনার জন্য সাজে, রাঁধে কিংবা অন্য কিছু করে তাহলে সে আপনার থেকে প্রশংসা আশা করে। তবে আপনার প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীর সামনে ভুলেও অন্য নারীর প্রশংসা করবেন না। এই বিষয়টি মেয়েদের একেবারেই সহ্য হয়না।

♡ মেয়েদের যা কিছুই বলবেন সরাসরি বলবেন। সরাসরি কথা শুনতে তাঁরা ভালোবাসে। এমনকি আপনি যদি কোনো মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেন তাহলে সেই কথাটিও তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে না বলে সরাসরি বলে ফেলুন। তাহলে তার সাথে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

♡ ছোট ছোট বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। যেমন-পুরুষের দায়িত্ব হচ্ছে নারী সঙ্গীটিকে নিরাপদে রাস্তা পার হতে সাহায্য করা। কখনোই তাকে পেছনে ফেলে নিজে এগিয়ে না যাওয়া। বেড়াতে যাওয়া বা খাবার এমন বিষয়ে তার পছন্দের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করা ,গুরুত্ব দেয়া। মনে রাখতে হবে নারীরা গুরুত্ব পেতে ভালোবাসে। তারা সবসময় পুরুষ সঙ্গিটিকে নিজের সর্বোত্তম আশ্রয় ও প্রাপ্তির নিশ্চিত সীমান মনে করে। মেয়েরা তার পুরুষ সঙ্গীর দায়িত্ববোধ নিয়ে সহপাঠী,সমবয়সী ও আত্মীয়দের মাঝে গর্ব করতে ভালবাসে।

♡ মেয়েদের কাছে কৃপনতা একেবারেই পছন্দের জিনিসনা। বিশেষ করে প্রথম ডেটে কিংবা সম্পর্কের শুরুর দিকে একেবারেই কিপটামি করবেন না। তাহলে ভুলেও সেই মেয়ে আপনার ধারে কাছে ঘেঁষবে না আর কোনোদিন।

♡ মেয়েদের মাঝারী ধরনের সামাজিক পুরুষদেরকে বেশী পছন্দ হয়। একেবারেই কারো সাথে মিশে না কিংবা কথা বলতে জানে না যেসব পুরুষ তাদেরকে নারীরা একেবারেই পছন্দ করেন না। আবার যেসব পুরুষ সারাদিন বন্ধু বান্ধব হইহুল্লোড় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাদেরকেও নারীরা অপছন্দ করেন। নারীরা মাঝারী সামাজিকতার পুরুষদেরকে পছন্দ করেন যারা তাদেরকেও সময় দিবে আবার সামাজিকও হবে।

♡ মেয়েদের স্টাইলিশ পুরুষদের বেশী পছন্দ। স্টাইলিশ বলতে শুধুমাত্র পোশাকে স্টাইলিশ বোঝে না তাঁরা। কথাবার্তা, চাল চলন, পোশাক, পরিচ্ছন্নতা, চুল সব কিছু মিলিয়েই স্টাইলিশ পুরুষদেরকে পছন্দ করেন নারীরা। কোনো পুরুষের শরীর থেকে কিংবা মুখ থেকে দূর্গন্ধ একে সেই পুরুষের ধারে কাছে ঘেঁষতে পছন্দ করেন না নারীরা।

♡ প্রিয়তমাকে প্রশ্ন করার সুযোগ করে দিতে হবে। সে কি জানতে চায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে আপনার প্রতি তার মনোযোগ বাড়বে। তার মন পাওয়া আপনার জন্য একটু সহজ হবে।

♡ নিজের পরিবারের সম্পর্কে তার সামনে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। এতে মেয়েরা নিজেদের অনেকটা নিরাপদ মনে করে। আপনাকে সৎ ভাবতে শুরু করবে। আপনার প্রতি সে দুর্বল হয়ে যাবে।

♡ ফেলে আসা জীবনে যেসব মেয়েদের সঙ্গে আপনার প্রেম ছিল সেই সব গল্প নাইবা বললেন আপনার প্রিয়তমাকে। যদি সে কখনো জানতে চায় তবেই বলা যেতে পারে। আপনার পুরানো প্রেমের কথা শুনে
আপনার প্রিয়তমার মন খারাপ হয়ে যেতে পারে প্রচন্ড ভাবে।

♡ আপনাকে একজন ভাল শ্রোতা হতে হবে কারণ, মেয়েরা কথার ছলে গল্প বলতে ভালোবাসে। আপনার প্রিয় মানুষটির গল্পে বিরক্ত হবেন না যেন। তাহলে সে আপনার উপরে চটে যাবে।

♡ প্রিয়তমার সঙ্গে কথা বলার সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে আবেগ প্রকাশ করে কথা বলুন। এতে মেয়েরা খুশি হয়। এটি মেয়েদের ভিশন পছন্দ।

♡ ধরুন আপনার প্রেমিকা/স্ত্রীকে খারাপ দেখাচ্ছে কিংবা তার রান্না করা খাবারটিতে লবণ বেশি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আপনি কি করবেন? তাকে সরাসরি বলে ফেলবেন বিষয়টি? যদি এই কাজটি করেন তাহলে বুঝে নিন আপনি বেশ বড় একটি বিপদে পড়তে যাচ্ছেন। আপনার নারী বন্ধু/প্রেমিকা/স্ত্রীকে ভুলেও নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করবেন না কখনই।

♡ আপনি যেই আশ্বাসটি আপনার প্রেমিকা কিংবা স্ত্রীকে দিবেন সেটি মন থেকেই দিন। আপনার পক্ষে করা সম্ভব না এমন কোনো আশ্বাস তাকে না দেয়াই ভালো। কারণ সে যদি আপনার উপর একবার নির্ভরশীলতা হারিয়ে ফেলে, কোনো দিনও সেটি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব না।

হ্যাপি নিউ ইয়ার,জন্মদিন,ভালোবাসা দিবস এইসব দিনে মেয়েদের আবেগ একটু বেশি থাকে। তাই এই সব দিনে যদি একটা গিফ্ট  ভালোবাসার এস এম এস আপনার প্রিয়জনকে দিতে পারেন তাহলে তার সাথে আপনার সম্পর্ক আরো ভাল হবে। কিন্তু মনে রাখবেন বেশি আবেগ দেখাতে গিয়ে অকারণে বার বার উপহার দিবেন না।

♡ আপনার প্রিয়তমাকে তার দূর্বলতার কথা তুলে রাগানো যাবে না। এটা মেয়েদের একদম পছন্দ না।

♡ কখনো যেন আপনার সঙ্গী বুঝতে না পারে যে আপনি তাকে এড়িয়ে চলছেন কারণ ,নিজের অর্থ সম্পদের চেয়ে তাকে বেশি ভালবাসতে হবে। প্রত্যেক নারী তার প্রিয়জনের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ভালবাসা পেতে চায়। মেয়েদের চাওয়া তার প্রিয় মানুষ তার প্রতি যত্মবান হোক। সব কিছুর উর্ধ্বে তাকে দেখুক।

♡ আপনার ব্যক্তিত্ব কি কমিডি তাহলে আপনার প্লাস পয়েন্ট কারণ,মেয়েদের পছন্দ হাস্যরসাত্নক মানুষ। যে সব ছেলেরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসি তামাশা করতে পারে, মেয়েরা ঐসব ছেলেদের পছন্দ করে।

♡ কেবল যৌন মিলন করার জন্য সম্পর্ক কিনা ভেবে দেখুন কেবল যৌনতার জন্য সম্পর্ক হলে তাঁর কোন ভবিষ্যৎ হয় না। কখনোই হয় না। এই কথাটা কখনোই ভুলবেন না।

♡ আপনি কি একটু রাগী তবে, রাগটা আড়াল করে রাখুন। রাগী ছেলেদের মেয়েদের পছন্দ না।

♡ পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে মেয়েদের মন জয় করার আবার সম্পর্ক কী? কিন্তু বিষয়টি আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, আপনি যদি পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হন তাহলে অন্যের ভালোবাসা পাওয়া আপনার পক্ষে সহজ। ২০১৬ সাত দলের এক গবেষণাতেও বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে, আপনি যদি পরিবেশ বান্ধব সামগ্রী ক্রয় করেন তাহলে তা অন্যদের আপনার প্রতি আগ্রহী করতে পারে। আর এটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং মন জয় করার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

♡ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনার সঠিক মুখভঙ্গি অপর মানুষকে আকর্ষণ করতে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর বিষয়টি ভিন্নভাবে কাজ করে। সুখী নারীর মুখভঙ্গি পুরুষকে আকর্ষণ করলেও গর্বিত মুখভঙ্গি আকর্ষণ করে না। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে সুখী মুখভঙ্গি নয় বরং গর্বিত মুখভঙ্গি বাড়তি আকর্ষণ যোগায়।

♡ আপনার প্রিয়তমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় চক্ষু সংযোগ ঘটলে আকর্ষণ তৈরি হতে পারে স্বাভাবিকভাবেই। এ ক্ষেত্রে গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার যদি কারো সঙ্গে দুই মিনিট চক্ষু সংযোগ হয়ে যায় তাহলে তা আকর্ষণ বৃদ্ধি করে। তবে সাপের মতো পলকহীন তাকিয়ে থাকলে হবে না, এ জন্য চক্ষু সংযোগে কিছুটা প্রাণ যেন থাকে।

569 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About আলোকিত আধারে

কেউ হয়ত জানতেই চাইবেনা কোথায় বাঁধা ছিল এ হৃদয়। শুধু রচিত হবে আমার এপিটাফ - মৃত্যু হবে আমার সকল আবেগের, ভালবাসার, যন্ত্রণার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন