মানুষ চেনার সহজ কিছু উপায়

মানুষ চেনার সহজ কিছু উপায়
4.3 (85%) 4 votes

মানুষ বড়ই বিচিত্র প্রাণী। পৃথিবীতে অনেক মানুষ বসবাস করে। এরা একেকজন একেক রকম হয়ে থাকেন।ব্যক্তিত্ব ও আচরণের দিক থেকে প্রতিটি মানুষ আলাদা। প্রতিটি মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাবনা ও স্বতন্ত্র স্টাইল যা তাকে অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করে। একজনের সাথে আরেক জনকে মেলানো বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সঠিক মানুষ চিনতে পড়ুন এই লেখাটি।

মানুষ

হাত দেখে মানুষ চেনার  উপায়

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

হঠাৎ করে যদি আলাপ হয়ে যায় নতুন কোনও মানুষের সঙ্গে। সে যে আপনার বন্ধু বুঝবেন কি করে? কে বলতে পারে হঠাৎ দেখা হওয়া মিষ্টি হাসির মানুষটি বিপদ ডেকে আনতে পারে আপনার জীবনে। ভাবছেন কিভাবে বুঝবেন সে কেমন মানুষ? তাই আবার সম্ভব নাকি? আরে সম্ভব। এবং খুব সহজেই চেনা যাবে মানুষ। শুধু ভাল করে দেখে নিন তাঁর হাতের আঙুল।

অনামিকা যখন লম্বা (মিষ্টভাসি) – এই ক্ষেত্রে অনামিকা তর্জনির চেয়ে লম্বায় বেশি হয়। যাদের অনামিকা বেশি লম্বা তাঁরা মিষ্টভাসি মানুষ। খুব চার্মিং। কথা বলতে ভালবাসেন। অবশ্যই মিষ্টভাসি হওয়ায় বন্ধুরাও তাঁদেরকে খুব পছন্দ করে থাকে। বিপদে পড়লে বন্ধুকে সাহায্যের জন্যও প্রস্তুত থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে পছন্দ করেন আর খুব সহজেই যে কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

তর্জনি যদি বেশি লম্বা হয় (আত্মবিশ্বাসী) – অনামিকার চেয়ে যাঁদের তর্জনি বেশি লম্বা তাঁরা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকে। আর এই আত্মবিশ্বাস থেকে অনেকের মধ্যেই অহংকার বোধ দেখা যায়। এই ধরণের মানুষ অন্তর্মুখী হন না। তবে অনেক ক্ষেত্রে চুপ থেকে নিজের কাজ করতে পছন্দ করেন। লক্ষ্য স্থির করে এগোতেই ভালোবাসেন। চট করে নতুন সম্পর্কে আবদ্ধ হতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে এঁরা মূলত লাজুক। যা আছে তা নিয়ে সুখী হলেও সব সময়ই আরও বেশি কিছু পাওয়ার আশা রাখে।

তর্জনি আর অনামিকার দৈর্ঘ্য যদি সমান হয় (শান্তিপ্রিয়) – ঠিক করে দেখুন তো আপনি এই শ্রেণীর মধ্যে পড়েন কি না। যাঁদের তর্জনি এবং অনামিকার দৈর্ঘ্য সমান বা তর্জনি অনামিকা ছুই ছুই তাঁরা মূলত শান্তিপ্রিয় মানুষ। বাকবিতণ্ডা, তর্কাতর্কি, ঝগড়া এড়িয়ে চলেন। যে কোনও পরিস্থিতিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। এই শ্রেণীর লোকেদের খুব সহজেই বিশ্বাস করা যায়।

নাক দেখে মানুষ চেনার উপায়

গবেষকরা বলছেন, যখন কারো সঙ্গে আপনার প্রথম দেখা হবে তখন ভালো করে খেয়াল করবেন তাঁর নাকের গঠন। আর তাতেই নাকি আপনি বুঝতে পারবেন মানুষটি কী রকম! তো চলুন জেনেনেই, নাক দেখে মানুষ চেনার পদ্ধতি।

সোজা নাক – সোজা নাকের অধিকারী মানুষ সাধারণত ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ী হন। স্বভাবে এরা গোছানো এবং কাজে দক্ষ। এমনকি সংকটের সময়েও এরা নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারেন।

চওড়া নাক – যাঁদের নাক চওড়া হয়, তাঁদের থাকের নেতৃত্বের দারুণ গুণ। সেই সঙ্গে এঁদের ব্যক্তিত্বও হয় কঠিন।

মাংসল নাক – এই ধরনের নাকের গোড়টা সরু হলের পুরো নাকের দৈর্ঘ্য বেশ বড় হয়। এই ধরনের আকৃতির নাক যাঁদের, তাঁরা খুব দ্রুত চিন্তা করতে পারেন এবং জানেন কীভাবে জলদি কাজ করতে হয়। বেশির ভাগ সময়ই এসব মানুষ খুব চালাক হয়।

চ্যাপ্টা নাক – চ্যাপ্টা নাকের অধিকারীরা হন দয়ালু আর আশাবাদী স্বভাবের। এঁরা সেই ধরনের মানুষ, যাঁদের ভালোবাসা দেওয়ার ও নেওয়ার ক্ষমতা প্রচুর। এই ধরনের নাকওয়ালা মানুষ পরীক্ষামূলক কাজ করতে ভালোবাসেন। এঁরা উদ্যমী স্বভাবেরও হন।

বাঁকা নাক – নিচের দিকে বাঁকানো নাক থাকে যেসব ব্যক্তিদের, তাঁরা সাধারণত নিজের মতো করে জীবন যাপন করেন। কোনো নেতাকে অনুসরণ করা এদের স্বভাবে নেই। বেশির ভাগ সময় এইসব মানুষ বিদ্রোহী স্বভাবের হন।

চিন্তাধারা দিয়ে মানুষ চেনার উপায়

প্রাচীন সামুদ্রিক শাস্ত্রে এ বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে যা দেখে একজন মানুষের প্রকৃতি ও তার ব্যক্তিত্ববোধ সম্পর্কে জানা যায়। আপনি যদি সচেতন হন তবে প্রথম সাক্ষাতেই অন্যের ব্যক্তিত্ব ও চিন্তা ভাবনার স্তর সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। এছাড়া হাতের লেখা কিংবা গ্রাফোলজির মাধ্যমেও আপনি মনোবিক্ষণ করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ায় পেশাক্ষেত্রে উপযুক্ত মানুষ নির্বাচন কিংবা ব্যবসায়িক পার্টনার নির্বাচন সহজ হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক তেমন কিছু তথ্য।

চলার ধরণ – প্রতিটি মানুষের মুখের গড়ন যেমন আলাদা, তেমনি চলার ধরনও আলাদা। ধরুন, পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুদের নিয়ে কোথাও বেড়াতে গেলেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন কেউ একজন সাথে নেই। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গেছেন বেশ দূরত্বে। যারা সাধারণত দ্রুত গতিতে হাঁটেন তারা সাধারণত আত্মবিশ্বাসী ও মানসিক ভাবে শক্তিশালী হন। এই ধরণের মানুষ কোনো কিছু দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করেন। শারীরিক গঠন যাই হোক না কেন, এরা যথেষ্ট প্রাণবন্ত ও মনোদৈহিক ভাবে শক্তিশালী। এরা দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ও সহজেই রেগে যায়। আর যারা ধীর গতিতে হাঁটেন তারা কিছুটা শান্ত ও ভাবুক প্রকৃতির। এরা সাধারণত কোনো ধরনের ঝামেলায় জড়াতে পছন্দ করেন না। এছাড়া হুট করে কোনো বিষয়ে এরা সিদ্ধান্ত নেন না। যে কোনো কাজ ধীরস্থির ভাবে করতে পছন্দ করেন। প্রায়ই দেখা যায় কিছু মানুষ আছেন যারা হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যান। মুহূর্ত পর আবার হাঁটতে শুরু করেন। পথিমধ্যে পকেট কিংবা ব্যাগ হাতড়ে নিশ্চিত হয়ে নেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কিংবা অন্যান্য জিনিস ঠিক আছে কিনা। এরা কিছুটা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও ভুলোমনা। এই ধরনের মানুষ মাঝে মধ্যে শিশুসুলভ আচরণ করেন। প্রায়ই ভুল করে দরকারি কাজ ফেলে অন্যকাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ছেলে বুড়ো যে কারো মধ্যে এমন আচরণ লক্ষ্য করা যেতে পারে।

হাতের লেখা বা গ্রাফোলজি – যারা হাতের লেখা নিয়ে গবেষণা করেন তাদের গ্রাফোলজিস্ট বলে। হাতের লেখা দেখেই তারা ব্যক্তিত্ব অভিক্ষণ চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে সচেতনতারও দরকার রয়েছে। হাতের লেখার মাধ্যমে কমপক্ষে ৫ হাজার ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। মনোবিজ্ঞান ও অপরাধ বিজ্ঞানেও এর যথেষ্ট ব্যবহার রয়েছে। হাতের লেখায় বিশেষ কিছু বর্ণের ব্যবহারের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়। যেমন ইংরেজি অক্ষর ‘আই’।
এ অক্ষরটির মাধ্যমে একজন মানুষের শৈল্পিক চিন্তা ভাবনা প্রকাশ পায়। অনেকে ‘আই’ লেখার ক্ষেত্রে উপরে ফোটার পরিবর্তে ছোট বা বড় করে শূণ্য দেন। অনেকের ক্ষেত্রে তা হয় প্রদীপের শিখা কিংবা ভালোবাসার চিহ্নের মতো। এদের ক্ষেত্রে দেখা যায় এরা যে কোনো কাজ আনন্দ নিয়ে করেন। নতুন নতুন চিন্তা ও ধারণা দিয়ে চমকে দেন পরিচিতদের। সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করেন। এদের মধ্যে শিশুসুলভ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় এবং হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করেন। হাতের লেখার মধ্যে যদি প্রয়োজনীয় স্পেস সঠিক ভাবে না থাকে তবে সে লেখা পড়তে যেমন অস্বস্তিকর মনে হয়, তেমনি লেখক সম্পর্কেও ভিন্ন ধরনের ধারণা পাওয়া যায়। হাতের লেখায় স্পেস কম থাকলে ধরে নেওয়া হয় তারা কোনো কাজ পরিকল্পনা মতো করতে পারেন না। সময় ও প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা অসচেতন। এরা অনেক সময় পরিকল্পনা ছাড়াই কাজে নেমে পড়েন। ফলে কাজ থেকে আশানুরূপ ফল পান না। যাদের লেখার মধ্যে প্রয়োজনীয় স্পেস থাকে ধরে নেওয়া হয়, তারা পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করতে পছন্দ করেন এবং নিজের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। এরা স্বাধীনচেতা, যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে অন্যের কাছে কীভাবে তা সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকেন। অনেকে এক পৃষ্ঠায় লিখলে তার ছাপ পরবর্তী কয়েক পাতায় চলে যায়। এমন লেখা মানসিক অবসাদ কিংবা জেদের বহিঃপ্রকাশ। এই ধরণের মানুষ কোনো বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করলে তা রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কখনো কখনো এমন লোকেদের একগুঁয়ে প্রকৃতির হতে দেখা যায়। এদের কোনো কিছু বুঝাতে হলে যুক্তি ও বুদ্ধির প্রয়োগ করতে হয়। কোনো কিছু লেখার সময় যদি তা ডানদিকে হেলে থাকে তবে তারা সাধারণত আবেগ প্রবণ ও বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে থাকেন। লেখা যদি কোনো দিকে হেলে না থেকে সোজা হয়, তবে তারা যথেষ্ট যুক্তিবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হয়ে থাকেন। বাস্তব ভিত্তিক চিন্তা ও পরিকল্পনা করতে পছন্দ করেন। আবেগ দিয়ে তারা পরিচালিত হন না। লেখার সময় যদি অক্ষর গুলো বাম দিকে হেলে থাকে তারা সাধারণত আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকেন। সহজে অন্যদের সঙ্গে মিশতে পারেন না। তাদের বন্ধু বান্ধবের সংখ্যাও কম হয়ে থাকে। যাদের লেখা খুবই হালকা হয় তাদের মধ্যে জীবনী শক্তির অভাব থাকতে পারে। আলস্য কিংবা খেয়ালীপনা লক্ষ্য করা যেতে পারে। এই ধরণের মানুষ কোনো বিষয়ে পরিপূর্ণ রূপে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। যাদের লেখার গতি বেশি তারা সাধারণত সময় সচেতন হয়ে থাকেন। দ্রুত চিন্তা ও কাজ করতে পছন্দ করেন। তবে, পরীক্ষার খাতায় শেষ সময়ের দিকে দ্রুত গতিতে লেখা ও প্রথম থেকেই দ্রুত গতিতে লেখার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

বাচন কিংবা শব্দচয়ন – শৈল্পিক বাচন সাধারণকেও করে তোলে অনন্য, হয়ে ওঠেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। মানব প্রকৃতির নিগুঢ় তত্ব উদঘাটন করা যায় বাচনের মাধ্যমে। একেক জনের বাচনভঙ্গি একেক রকম। কেউ দ্রুত কথা বলতে পছন্দ করেন আবার কারো পছন্দ ধীরে ধীরে কথা বলা। কারো পছন্দ অন্যকে খোঁচা দিয়ে কথা বলা, কারো বা পছন্দ অন্যকে অনুপ্রাণিত করা। খেয়াল করলে দেখা যাবে, যেসব মানুষ দ্রুত কথা বলেন তাদের মধ্যে মানসিক স্থিরতার অভাব থাকে। অনেক সময় গোপনীয় বিষয় এরা মনের অজান্তেই প্রকাশ করে ফেলে। অবচেতনে নিজের দুর্বল দিক প্রকাশ করে ফেলায় কখনো কখনো তা নিজের ক্ষতির কারণ হয়। যারা ধীরে কথা বলেন তারা যে কোনো বিষয় গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারেন। যে কোনো জটিল বিষয় যুক্তি ও বুদ্ধির মাধ্যমে সহজবোধ্য করে তুলতে পারেন।

নাম মনে রাখা – এটি একটি ভালো গুণ। যদিও অধিকাংশ মানুষ এ বিষয়ে খুব একটা সচেতন নন কিংবা নাম মনে রাখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন না। কিছু মানুষ থাকে যারা আপনার নাম একবার শোনার পর তা মনে রাখে। পরবর্তীতে দেখা হলে নাম ধরেই সম্বোধন করে। এই ধরনের মানুষ সাধারণত খুবই বুদ্ধিমান ও যোগাযোগে দক্ষ হয়ে থাকে। সংগঠক কিংবা নেতা হিসেবেও তারা সফল হন। এদের আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে এরা সহজেই যে কারো সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

চোখে চোখ রেখে কথা বলা – কথা বলার সময় আই কন্ট্যাক্ট গুরুত্বপূর্ণ। যেসব মানুষ চোখে চোখ রেখে কথা বলেন তারা প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী হন। এরা যে কোনো উপায়ে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে সচেষ্ট থাকেন। এদের সঙ্গে মিথ্যা কিংবা ছলনার আশ্রয় নিলে ক্ষতিটা নিজেরই হয়।

লোভী মানুষ চেনার উপায়

লোভ মানুষের জীবন থেকে সুখ কেড়ে নেয়। লোভী মানুষ আল্লাহ তায়ালার কোনো নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করে না, বরং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তার চেয়ে সে আরও অনেক বেশি কিছু চায়। যদি সেটা পূর্ণ হয়ে যায়- তাহলে সে আবার নতুন করে আরেক জিনিসের প্রতি দৃষ্টি দেয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তি একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। যদি সে লোভী হয় এবং আল্লাহর শোকর গোজার না হয়- তখন সবসময় তার এই চিন্তা থাকে যে, আরো উন্নত একটি বাড়ি ভাড়া নিতে হবে। যখন পূর্বের চেয়ে আরো উন্নত বাড়ি সে ভাড়া নিতে সক্ষম হয়, তখন সে আবার নতুন করে অন্যের সম্পত্তির প্রতি দৃষ্টি দেয়। মনে মনে ভাবে, এবার যদি অমুকের মতো একটি সুন্দর বাড়ি বানাতে পারতাম। এভাবেই চলতে থাকে তার লোভের চক্র। পক্ষান্তরে আল্লাহর মুমিন বান্দারা যে সব নেয়ামত তাদেরকে দান করা হয়েছে সেগুলোর জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে ও তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। আর যদি পরবর্তীতে কিছু তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় তার জন্যও সে আল্লাহর দরবারে পূর্বাপেক্ষা অধিকে কৃতজ্ঞতা আদায় করে। সে ভুলেও অন্যের সম্পদের প্রতি দৃষ্টি দেয় না। মুমিনদের এ দলটি সর্বদাই সুখে ও শান্তিতে বসবাস করে। কেননা তারা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য বৈকি অন্য কিছু চায় না। লোভের নিন্দা করেছেন জ্ঞানী ও বুজুর্গরাও। বিখ্যাক একটি প্রবাদ অাছে, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।’ আর তাই এই লোভী মানুষ গুলোকে চিনে রাখাটা ভীষণ জরুরী। কীভাবে চিনবেন? জেনে নিন চেনার কয়েকটি সহজ উপায়।

মিষ্টিভাষী – এই ধরণের মানুষ সাধারণত মিষ্টিভাষী হয়ে থাকেন। এদের কথায় মিষ্টতা থাকে। মিষ্টি কথা বলে এরা মানুষকে ভুলিয়ে থাকেন। সবসময় ভালো কথা বলে। সবসময় মন যোগানোর চেষ্টা করে। এরা আপনার সাথে ভালো ব্যবহার করে আপনাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। আপনি বুঝতেও পারবেন না যে মানুষটা এত সুন্দর করে কথা বলে সে কি করে আপনার এত বড় ক্ষতি করল।

এদের কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই – এই ধরণের মানুষ মিষ্টি কথা বলে অনেক বন্ধু তৈরি করে ঠিকই কিন্তু সত্যিকার অর্থে এদের কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই। এরা শুধু প্রয়োজনেই মানুষের সাথে মিশে থাকেন। প্রয়োজন শেষ হলে সঙ্গ ছেড়ে দেন। এক বন্ধুর থেকে আরেক বন্ধুর কাছে সুযোগ বেশি পেলে তারা বন্ধুত্ব নষ্ট করতেও দ্বিধাবোধ করেন না।

ওটা না এটা – লোভী মানুষ সবকিছু হিসেব মিলিয়ে করে। যেখানে তার বেশি লাভ থাকে সেদিকেই যায়। ওটার চেয়ে এটাতে যদি তার লাভ বেশি হয় তাহলে সে এটা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ঐ জিনিসটাও চাই  – এরা কোনো জিনিসের প্রতি আকর্ষিত হলে অল্পতে সন্তুষ্ট থাকে না। তারা যত পারে মানুষের কাছ থেকে স্বার্থ সিদ্ধি করেই যায়।

সব কাজ তাড়াতাড়ি করে – এরা সব ধরনের কাজ অনেক তাড়াহুড়ার সাথে করে থাকে। যেকোনো একটা কাজ করে তারা থেমে থাকে না অনেক কাজ একসাথে অনেক তাড়াহুড়ো করে থাকে। কোনো কিছুর লোভ তারা সামলাতে পারে না।

অনেক বেশি কথা বলে – লোভী মানুষ অনেক বেশি কথা বলে থাকে। বলতে গেলে এরা বাচাল প্রকৃতির হয়ে থাকে। একবার কথা শুরু করলে এরা থামতে চায় না। তবে এমন কথা বলে যা শুনলে সবার রাগ ওঠে। ভালো কথাই মিষ্টি স্বরে বলে।

543 total views, 6 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন