মন খারাপ হলে যেভাবে ভালো করবেন

মন খারাপ হলে যেভাবে ভালো করবেন
5 (100%) 6 votes

মন খারাপ হয়না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। মন খারাপ হওয়াটা আপনার দোষ না। হঠাৎ কোন দৃশ্য, ঘটনা, কথা কিংবা স্মৃতি- আপনার ব্রেনকে নাড়া দিতেই পারে। আর আপনি কষ্ট পেতেই পারেন। নাড়ার মাত্রা প্রবল তো দুঃখ প্রবল। শুধু আপনি যেটা করতে পারেন তা হলো বিষয়টাকে সহজভাবে নিয়ে ব্রেনকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা। দিনের পর দিন ডিপ্রেশন পুষে রাখলে নানা সমস্যার উদয় হয়। কারও খেতে ইচ্ছে করে না, তো কেউ খুব বেশি খেয়ে ফেলেন। কারও ঘুম হাওয়া, তো কেউ সারা দিনই ঘুমোতে থাকেন। সারা রাত ঘুমোনোর পরও মনে হয়, হয়তো ক্লান্তি লাগছে। ফলে সারাটা দিন বরবাদ। কাজে মন লাগে না। কেউ অধৈর্য হয়ে ওঠেন। হুটহাট ঝগড়া বাধিয়ে বসেন। আবার কেউ চুপ মেরে যান। কথাবার্তাই বন্ধ করে দেন। মন খারাপ কথাটা শুনতে সাদামাঠা লাগলেও ব্যাপারটা গড়িয়ে যেতে পারে আত্মহত্যা অবধিও। আপনার শুধুই অবসাদ লাগছে বা কাজের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন? কোনও কিছু করতে ইচ্ছে করছে না? এ রকম বুঝলে নড়েচড়ে বসুন। মন খারাপকে প্রশ্রয় দেবেন না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন খারাপ

১. নিজেই চেষ্টা করুন মন খারাপ ঝেড়ে ফেলার।

২. যে কারণে মন খারাপ, সেটি থেকে মনকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন কিছু সময়ের জন্য।

৩. নিজেকে বোঝান, সমস্যা থাকেই, আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্যা ফিকেও হয়ে আসে।

৪. আপনার থেকে বেশী যারা খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে, তাদের দিকে তাকান।

 

যখন বিভিন্ন কারণে মন খারাপ হয়

কেউ বকা দিয়েছে বলে মন খারাপ? পুরো বিষয়টা নতুন করে ভাবুন তো। আপনার কি সত্যিই বকা খাওয়ার কথা ছিলো? অপরাধ হলে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিন। আর যদি শুধু শুধু বকা খেয়ে থাকেন তাহলে তো কোন সমস্যাই নেই। যে বকা দিয়েছে এটা তার নিজস্ব সমস্যা। আপনার এতে মন খারাপ করার কিছু নেই।

ঝগড়া করে মন খারাপ? আচ্ছা, আপনার কথা বলার বিষয় কি যৌক্তিক ছিলো? যদি যুক্তিসঙ্গত হয় তো কথাই নেই। এ নিয়ে মন খারাপ না করে বরঞ্চ আপনার গর্বিত হওয়া উচিত।

সিনেমা দেখে মন খারাপ? ঘরের জিনিসপত্র হাত দিয়ে ধরে দেখুন তো! হ্যাঁ ভাই, আপনি বাস্তবেই আছেন!! সিনেমা অবাস্তব ব্যাপার। অবাস্তব কিছু দেখে মন খারাপ করার কিছু নেই।

কারো কাছে খারাপ ব্যবহার পেয়ে মন খারাপ? হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনো সমান হয় না। তাই, সবাই ভালো হবে এমনটা ভাবার কোন কারণ নাই। অতএব মন খারাপ করেও লাভ নেই!

ছোটখাট অপরাধ করে মন খারাপ? অপরাধ মানুষই করে। প্রথম সুযোগেই পুষিয়ে দেবেন ভেবে রাখুন। এখন না পারলে ভবিষ্যতে সুযোগ আসলেই পুষিয়ে দেবেন বলে পরিকল্পনা করুন।

কারো কাছ থেকে কোন কারণে ক্ষমা পাননি, তাই মন খারাপ? ভাবুন তো, ক্ষমা চাওয়ার মত করে বলেছিলেন কি না? না বললে সেভাবেই বলে দেখুন। এরপরও ক্ষমা না পেলে আপনার মন খারাপের কিছু নাই। আসলে ওই ব্যক্তিই ক্ষমা করতে শিখেনি।

অনেক বেশি মন খারাপ থাকলে তা স্বাভাবিক কাজকর্মের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে থাকে। কাজে ঠিকমতো মন বসে না, এবং দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। আবার এই আবেগটি যখন কাজ করতে থাকে তখন যে সিদ্ধান্ত গুলো নেয়া হয় তাও পরবর্তী জীবনের জন্য খারাপ হয়। কিন্তু মন খারাপ যে কোনো কারণেই হতে পারে। এর উপর আমাদের সত্যিকার অর্থেই কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে মন খারাপ ভালো করার উপর আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে অনেকাংশে। তাই চলুন দ্রুত মন ভালো করে ফেলার কিছু উপায় জেনে নেয়া যাক ঝটপট।

আপন কোনো মানুষের সাথে কথা বলুন- যে বিষয়টি নিয়ে বেশি মন খারাপ লাগছে সে বিষয়টি নিয়ে যতো কথা বলবেন ততো আপনার মন ভালো হবে। কারণ কারো সাথে দুঃখটা ভাগ করে নিলে তা অর্ধেক হয়ে যায়। তাই মন ভালো করতে চাইলে আপন কারো কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। অথবা আপনার প্রিয়জনের জন্য একটি সুন্দর ভালোবাসার এস এম এস লিখুন তারপর সেটা পাঠিয়ে দিন।

বাইরে কথাও ঘুরতে চলে যান- মন ভালো করার আরেকটি ভালো উপায় হচ্ছে এক জায়গায় বসে না থেকে ঘুরে আসা। বাসায় বসে থাকা কিংবা অন্য কোনো স্থানে বসে থাকলে মন ভালো হবে না মোটেই। বেড়িয়ে পড়ুন। ঘোরাঘুরি এবং হাঁটাহাঁটির মধ্যমে ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার মাধ্যমেও মন খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়।

নিজেকে উপহার দিন মজার কিছু খাবার- নিজের পছন্দের মজার কোনো খাবার খেয়ে নিন। বিশেষ করে চকলেট ধরণের কিছু খাবার। এতে করে ভালোলাগা আপনা আপনি উৎপন্ন হবে। কারণ পছন্দের কিছু করলে এবং খেলে মস্তিষ্কে ‘সেরেটেনিন’ নামক ভালোলাগার হরমোন উৎপন্ন হয়।

বড় করে শ্বাস নিন- যখন অনেক বেশি মনটা খারাপ হবে তখন তা আমাদের মস্তিষ্কে চাপ ফেলবে এবং মানসিক অশান্তি ও চাপ বাড়তে থাকবে। এই জিনিসটি দূর না করতে পারলে মন ভালো হবে না। তাই বড় করে শ্বাস নিন ও ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে মস্তিষ্ক রিলাক্স হবে ও মানসিক চাপ কমতে থাকবে।

মন খারাপের বিষয়টি মাথা থেকে সরিয়ে রাখুন- নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রেখে হলেও মন খারাপের বিষয়টি ভুলে থাকার চেষ্টা করুন। কারণ বিষয়টি যতোটা সময় আপনার মাথায় থাকবে ততোই তা আপনার কষ্ট বাড়াবে। সৃজনশীল কোনো কাজে মন দিন, নিজের যা পছন্দ হয় করতে থাকুন। এতে করে মন থেকে দূর হয়ে যাবে মন খারাপের বিষয়টি।

চিৎকার করে নিন- সাইকোলজিস্টদের মতে আমরা যখন চিৎকার করি তখন আমাদের মস্তিষ্কে যে হরমোনের সৃষ্টি হয় তা মন খারাপের বিষয়টি দূর করে দেয়। তাই অনেক বেশি মন খারাপ লাগলে চিৎকার করুন একলা বসে, আপন মনেই। অথবা লুকিয়ে নিঃশব্দে কাঁদবেন না। চিৎকার করেই কেঁদে নিন খানিকক্ষণ।

নিজের জন্য কিছু করুন- অনেক সময় আমাদের মন খারাপ হয় যখন আমরা অনেক কিছু আশা করে থাকি এবং তা ভেঙে যায়। এটি আমাদের মানসিকতার উপর অনেক বেশি প্রভাব ফেলে থাকে। তাই সাইকোলজিস্টগন বলেন, এই ধরনের মন খারাপ দূর করতে চাইলে নিজের মনের শান্তির জন্য কিছু করা উচিত। এতে করে নিজ থেকেই মন ভালো হয়ে যাবে।

পানি পান করুন- অনেক সময় ডিহাইড্রেশনের জন্য আমাদের মানসিক চাপ বেড়ে যায় এবং মন খারাপটি আরও বেশি করে আমাদের সামনে চলে আসে। তাই মন খারাপ দূর করতে পানি পান করে নিন এক নিঃশ্বাসে ১ গ্লাস। পানি পানের ফলে অনেকটা হালকা হয়ে যাবে মন।

যাদের মন অকারণেই খারাপ, তাদের বিষয়টা ভিন্ন। অকারণেই মন খারাপ হলে ভিন্ন কিছু ট্রাই করে দেখতে পারেন,যেমন-

দরজা বন্ধ করে কিছুক্ষণ কান্না করতে পারেন। কাঁদলে মন হালকা হয়।

ফ্রেশ গোসল, ভরপেট খাওয়া, অতঃপর ঘুম দেন। ঘুম থেকে উঠে দেখবেন সব ঠিক!

আপনি কি বহির্মুখী স্বভাবের? তাহলে এককাপ চা/ কফি নিয়ে ঘরে বন্দী হয়ে যান। জানালা খুলে দিয়ে লো ভলিউমে প্রিয় কোন গান চালিয়ে দিন। দেখবেন, চায়ের প্রতিটি চুমুকের সাথে সাথে আপনার মন ভালো হয়ে যাচ্ছে।

অথবা আপনি কি অন্তর্মুখী স্বভাবের? তাহলে বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। পথে কোন অসহায়কে পেলে সাহায্য করতে পারেন। কিংবা তাকে নিয়ে হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে দেখতে পারেন! তার আনন্দটুকু আপনার মাঝে সংক্রমিত হবেই।

মন খারাপ করা একটা মরণ ব্যাধি। এটা জীবিত অবস্থায় আপনার ফিউচারকে মেরে ফেলবে। মন খারাপের কারণে আপনার কাজে অগ্রগতি আসবে না। স্বপ্ন দেখবেন, কিন্তু সময় খুঁজে পাবেন না। প্ল্যান করবেন কিন্তু কাজের স্পৃহা আসবে না। অন্যদের দেখবেন এগিয়ে যাচ্ছে, নিজের ভিতরে উদ্যম পাবেন না। সুতরাং মন খারাপের দিনটাকে স্কিল ডেভেলপের দিন বানান। ভালো না লাগার সময়টাকে, সফলতার সিঁড়িতে রিপ্লেস করুন। কারণ আপনার মন কন্ট্রোল করার সুইচ আপনার হাতে।  মজার বিষয় হলো,সব মানুষেরই মন ভালো করার নিজস্ব কিছু উপায় আছে। মন ভালো করার ব্যাপারে সেই গুলোকে আগে প্রাধান্য দিন। ভালো মন্দ দুটোই থাকবে যদি খারাপটা না থাকত তবে ভালোটার এত কদর হতনা। তাই মন খারাপ হলে শুধু ভাববেন এই মন খারাপটা দীর্ঘ স্থায়ী নয় একটু পরে ই ভালো সময় আসবে তবেই মনে একটু জোর পাবেন। আর আস্তে আস্তে মনটা ভালো হয়ে যাবে। মন খারাপ নিজে থেকে না কমলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে হবে। কাউন্সেলিং করলে উপকার পাবেন। দরকারে ওষুধও খেতে হয়।

278 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About আলোকিত আধারে

কেউ হয়ত জানতেই চাইবেনা কোথায় বাঁধা ছিল এ হৃদয়। শুধু রচিত হবে আমার এপিটাফ - মৃত্যু হবে আমার সকল আবেগের, ভালবাসার, যন্ত্রণার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন