ভেষজ উপায়ে রোগ নিরাময় করবেন যেভাবে

ভেষজ উপায়ে রোগ নিরাময় করবেন যেভাবে
5 (100%) 2 votes

ভেষজ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত। মানুষ আদিকাল হতে তাদের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহার করে আসছে। ভেষজ উদ্ভিদ (Herb) হচ্ছে এমন গাছ যা সাধারণত খাদ্য, স্বাদবৃদ্ধি, ঔষধ অথবা সুগন্ধের জন্য ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশে ব্যাপক ভাবে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ সম্ভব হলে ভেষজ চিকিৎসা ও ভেষজ ওষুধ আরো বেশি সহজলভ্য হবে। ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার সারা বিশ্বে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকেই রোগ সারাতে নানা অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্য নেন। কিন্তু অনেক সময় এসব অ্যান্টোবায়োটিক সেবনে কোন কাজ হয়না। কখনও কাজ হলেও রোগ সারাতে এসব ওষুধ অনেকটা সময় নেয়। আবার এর নানা পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকতে পারে। কাজেই রোগ নিরাময়ে ভেষজই হলো সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকরী।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ভেষজ

ভেষজ উদ্ভিদ কি

সাধারণত মানুষ ও গবাদি পশুর রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা সম্পন্ন উদ্ভিদ সমূহকে ভেষজ উদ্ভিদ নামে অভিহিত করা হয়। ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার সারা বিশ্বে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভিদ হতে মানুষ ঔষধসহ প্রসাধন তৈরী করছে। বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের শতকরা ৮০ জন লোক গ্রামে বাস করে। গ্রামে বাস করা লোকজন তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ যুগযুগ ধরে ব্যবহার করে আসছে। বাংলাদেশে প্রায় ৫০০০ উদ্ভিদ প্রজাতি পাওয়া যায়। এদের মধ্যে অনেকগুলিরই ভেষজ গুনাগুন বিদ্যমান রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কতগুলো উদ্ভিদের ভেষজ গুনাগুন রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রায় এক পঞ্চমাংশ উদ্ভিদের এই গুণাগুণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়াম সর্বপ্রথম এদেশের ১৯২ টি ভেষজ উদ্ভিদ প্রজাতির ব্যবহার সম্বলিত একটি তালিকা প্রণয়ন করে। পরবর্তিতে পার্বত্য চট্রগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত স্থানীয় জনগোষ্ঠি কতৃক ব্যবহৃত ৭০০ টি উদ্ভিদ প্রজাতির উপর একটি সচিত্র বই প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্যজ্জ্বল চুলের জন্য ভেষজ হেয়ার টনিক

সব প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হওয়ায় ভেষজ হেয়ার টনিকের কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না। এবং এটি আপনার পকেটের পক্ষেও খুবই হালকা পরে। চুলের জন্য নিরাপদ এই ভেষজ হেয়ার টনিকগুলিতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেলস ও অ্যাসিড থাকে, যা রক্ত প্রবাহকে বারিয়ে দেয়, স্কাল্পে জমে থাকা তেল অপসারণ করে, চুলের বন্ধ হয়ে যাওয়া কূপ গুলি খুলে দেয় যার ফলে চুলের বৃদ্ধি উদ্দীপিত হয়।
কিন্তু এগুলি কি করবে না? আপনাকে রাতারাতি ফল দেবে না। সত্যি বলতে গেলে সাময়িক এই প্রয়োগগুলি কোন পার্থক্যই আনবে না যতোক্ষণ না আপনি এর সাথে একই রকমভাবে সমৃদ্ধ সুষম খাদ্যভ্যাস তৈরি করবেন। আপনার চুলে লক্ষণীয় পার্থক্য আনতে এটি প্রায় ২-৩ মাস সময় নেবে। তাহলে এবার দেখে নিন।

সর্ষের তেলের টনিক – কম আঁচে ১ কাপ সর্ষের তেল ফোটান। এতে ২ টেবিল চামচ মেথি দিন। ২০ মিনিট পরে আঁচ বন্ধ করে ঠান্ডা করুন। ছেঁকে নিয়ে একটি এয়ার টাইট বোতলে ভরে ২ দিনের জন্য ঐভাবেই রেখে দিন। চুলের বৃদ্ধির জন্য এই ভেষজ মাস্কটি স্কাল্পে এবং চুলে মাসাজ করুন। ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করে নিতে পারেন

অ্যালোভেরা টনিক – ৫ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার তাজা নির্যাসকে ৫ ফোঁটা গ্রেপ সীড অয়েল ও আধা কাপ জলের সাথে মিশিয়ে নিন। এয়ার টাইট বোতলে মিশ্রণটিকে নিয়ে ভালকরে ঝাঁকিয়ে নিন। শুকনো চুল জলের ছিটা দিয়ে ভিজিয়ে নিন। চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত হাল্কা ভাবে এই মিশ্রণটি মাসাজ করে নিন। টনিকটি পুরো চুলে ভালভাবে ছড়িয়ে দিতে চিরুনির সাহায্যে চুল আঁচড়ে নিন। ৩০ মিনিট এই ভাবেই রাখুন ও পরে ভাল করে ধুয়ে নিন।

তুলসী পাতার টনিক – এক কাপ জল কম আঁচে ফুটিয়ে নিন। একমুঠো তুলসী পাতা ও জবাফুলের পাপড়ি এই জলে দিয়ে দিন। ৩০ মিনিটের জন্য অল্প আঁচে রেখে দিন। গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণটিকে ঠান্ডা হতে দিন। মিশ্রণটিকে ছেঁকে নিয়ে স্কাল্পে ও চুলে হাল্কাভাবে মাসাজ করুন। ৩০ মিনিটের জন্য চুলটাকে হাল্কা খোঁপা করে বেঁধে রাখুন। এরপর জল দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পাঁচ ভেষজ

উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। উচ্চ রক্তচাপের আগের থেকে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ হার্ট এটাক, ডায়াবেটিস এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হওয়ার কারণ। উচ্চ রক্তচাপের কারণে অনেকের দৃষ্টি শক্তিও কম হতে দেখা যায়। তবে এই পাঁচটি ভেষজ মসলা যদি নিয়মিত আপনার খাবার তালিকায় থাকে তাহলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তচাপ। ভেষজ গুলো হল-

পুদিনা – পুদিনা শুধু খাবারের একটি উপাদানই নয়। বরং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে পুদিনা। ইতালীয় বিভিন্ন খাবার যেমন পিজ্জা বা পাস্তায় ব্যবহার করা যেতে পারে পুদিনা। এছাড়াও দিনে অন্তত একবার পুদিনা পাতার শরবত খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

দারুচিনি – দারুচিনিকে বহুমাত্রিকভাবে ব্যবহার করা যায়। উপমহাদেশের রান্নায় দারুচিনি এমনিতেই অনেক জনপ্রিয়। দারুচিনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাবার রান্না ছাড়াও চা, কফি এবং শুকনো খাবারের সাথেও দারুচিনিকে রাখা যায়। এমনকি শুধু দারুচিনিও চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

এলাচ – খাবারের মধ্যে কামড়ে এলাচ পরলে যতটা খারাপ লাগে, ভেষজ গুণাগুণে ততটাই সমৃদ্ধ এলাচ। আপনার প্রতিদিনকার খাবারে যদি এলাচ থাকে তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পারবেন। চা বা অন্যান্য পানীয় ছাড়াও বিভিন্ন খাবারে স্বাদ বৃদ্ধিতে এই ভেষজ উপাদানটি ব্যবহার করা যেতে পারে। স্বাদের পাশাপাশি খাবারে একটি সুঘ্রাণেরও ব্যবস্থা করবে এলাচ।

শণ বীজ – উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের কার্যকরী ভূমিকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর এই এসিডের উত্তম যোগানদাতা শণ বীজ। এছাড়াও এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে এ বীজ। যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও কাজ করে। স্যুপ, স্মুথি এবং কাক জাতীয় খাবারে ব্যবহার করা যেতে পারে শণ বীজ।

আদা – আদা রক্ত নালীকে প্রসারিত রাখতে সাহায্য করে। যে কারণে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আদা। স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই ভেষজ উপাদানটি।

বিভিন্ন রোগ সারাতে কিছু ভেষজ উদ্ভিদ

ব্রণ সারাতে আপেল ভিনেগার – ব্রণের সমস্যায় সবচেয়ে কার্যকারী আপেলের তৈরি ভিনেগার। ভালো করে মুখ ধোয়ার পর একটু তুলো আপেল ভিনিগারের মধ্যে ভিজিয়ে নিন। পরে সেই তুলো মুখের ব্রণের ওপর কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। দেখবেন, পরদিনই ব্রণটি ছোট হয়ে যাবে।

ডায়রিয়ায় গাজর – ৫০০ গ্রাম গাজর একটু লবণ দিয়ে এক লিটার পানিতে ১ ঘন্টা সেদ্ধ করুন। তারপর ভালো করে চটকে নিন। দিনে কয়েকবার এই ঘন স্যুপটি খেলে পেটের জীবাণু প্রায় নির্মূল হবে। আর সেইসঙ্গে ভালো হবে ডায়রিয়াও।

বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে মধু – সেই প্রাচীনকাল থেকে ঠান্ডা-কাশি সারাতে কবিরাজ-বদ্যিরা মধু ব্যবহার করে আসছেন। আমাদের দেশে শিশুদের ঠান্ডা লাগলে মধু, তুলসীর রস, আদার রস ইত্যাদির মিশ্রণ একটি উপকারী ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয়। কিন্তু আসলেই মধু কাশি কমাতে সহায়ক কি না তা নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কখনো করা হয়নি। ২০১২ সালে এ নিয়ে একটি বৃহৎ গবেষণার পর সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান পেডিয়াট্রিক সোসাইটি শিশুদের কাশি প্রশমনে মধু ব্যবহার করার পক্ষে মত দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মধুতে অন্তত ১৮১ রকমের উপকারী ভেষজ উপাদান রয়েছে। এর অনেকগুলোই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও জীবাণুরোধী বলে সংক্রমণ ঠেকাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মধু গেলার পর পরই গলা ও শ্বাসতন্ত্রের ঝিল্লির ওপর একটি জীবাণুরোধী আবরণ তৈরি করে। এতে জীবাণুর আক্রমণ থেকে ঝিল্লি বাঁচে। তাছাড়া গলার অনুভূতিবাহক স্নায়ুর কাজকর্মের ওপরও প্রভাব বিস্তার করে, ফলে খুসখুসে কাশি ও অস্বস্তিভাব থেকে রেহাই দেয়। জীবাণুরোধক উপাদান থাকার জন্য অনেক আগে থেকেই শল্য চিকিৎসকেরা ঘা বা ক্ষতস্থানের ড্রেসিংয়ে মধু ব্যবহার করে আসছেন। তবে কাশি প্রশমনে মধু ব্যবহার করার সময় দুটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা উচিত। এক. এক বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এই পরামর্শ প্রণিধানযোগ্য নয়; দুই. মধু ঠিক ভাবে সংরক্ষণ না করা হলে এ থেকে বটুলিনাম বিষক্রিয়া হতে পারে।

গলাব্যথায় লবণ পানি – লবণ পানির গার্গল বা কুলকুচি গলাব্যথার একটা স্বীকৃত চিকিৎসা। ২৫০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে তা দিয়ে দিনে কয়েকবার গার্গল করুন। এতে শুধু প্রদাহ কমে না, জীবাণুও রোধ হয়। বিশেষ করে, রাতে ঘুমানোর আগে গার্গল করলে বেশ প্রশান্তি পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধে আদা হলুদ – সেই প্রাচীনকাল থেকেই রোগ প্রতিরোধে আদা ও হলুদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এই দুটো খাবারই বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। একইসঙ্গে হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ দূর করে, জয়েন্টের ব্যথা কমায়, কোলেস্টেরলের মাত্রা উন্নত করে, রক্তস্বল্পতা দূর করে, সর্দি-কাশি নিরাময়ে প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধ এই ভেষজ উপাদানটির জুড়ি মেলা ভার।

ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক রসুন – রসুনকে বলা হয় ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক। রোগ প্রতিরোধে রসুনের উপকারিতা অনেক। ১০০ গ্রাম রসুন, ৫ টি অর্গানিক লেবু, ৭০ গ্রাম আদা, ৩০ গ্রাম কাঁচা হলুদ ভালো করে ধুয়ে ছোট করে কেটে নিয়ে ১ লিটার পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে গুড়ো করে নিন। এক চিমটি কালো গোল মরিচের গুড়ো মিশিয়ে চুলোয় অল্পক্ষণ গরম করার পর ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার তরল ছেকে কাঁচের বোতলে ঢেলে ফ্রিজে রেখে দিন। শীতের মাসগুলোতে ঘরে তৈরি এই ভেষজ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিদিন চার চামচ করে খেলে শীতের নানা অসুখকে দূরে রাখা সম্ভব। এছাড়া রসুন রক্তনালীতে জমে থাকা কোলেস্টেরল কমায় এবং নতুন করে জমতে বাধা দেয়। ফলে রক্তনালী প্রশস্ত হয় এবং রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ হয়।  হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ ও হার্ট এটাক প্রতিরোধে রসুন এক অসাধারণ ভেষজ। এছাড়া পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যান্সার প্রতিরোধে রসুন খুবই কার্যকর। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা হতে জানা যায় যে, যারা প্রতিদিন দেড় থেকে দুই কোয়া করে রসুন খায় তাদের পাকস্থলীর ক্যান্সার ও মলাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁঁকি যথাক্রমে ৪৭% ও ৪০% কমে যায়।

দাঁতের মাড়িতে ইনফেকশন – দাঁতের মাড়ির ইনফেকশন এড়াতে প্রতিদিন গোসলের আগে এক টেবিল চামচ সূর্যমূখী তেল মুখের ভেতর নিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন। তারপর মুখ থেকে তেল ফেলে দিয়ে নরমাল পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তেল মুখের ভেতরের জীবাণু ধ্বংস করতে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করে থাকে।

রোগ প্রতিরোধে পাথরকুচি পাতা – পাথরকুচি পাতার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অবাক করার মতো। পুরনো সর্দিতে এই ভেষজ খুবই কার্যকর। মূত্রনালির যে কোনো সংক্রমণে, রক্তপিত্তে, পেট ফাঁপায়, শিশুদের পেট ব্যথায়, মৃগীরোগীদের জন্য পাথরকুচির রস উপকারী। পাথরকুচি পাতা কিডনি এবং গলব্লাডারের পাথর অপসারণ করতে সাহায্য করে। পাইলস ও অর্শ থেকে মুক্তি দেয়। পাথরকুচি পাতা পানিতে ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে ক্ষত স্থান পরিষ্কার করলে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে যায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পাথরকুচি পাতার তুলনা হয় না। জণ্ডিস নিরাময়ে তাজা পাথরকুচি পাতা ও এর জুস অনেক উপকারী। শরীরের জ্বালাপোড়া থেকে রক্ষা করে। কলেরা, ডাইরিয়া বা রক্তআমাশয় রোগ সারাতে পাথরকুচি পাতার জুড়ি নেই। পাথরকুচি পাতা বেটে কয়েক ফোঁটা রস কানের ভেতর দিলে কানের যন্ত্রণা কমে যায়। এছাড়া ব্রণ, ক্ষত ও মাংসপেশি থেঁতলে গেলে, বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

ভেষজ গাছ উলটকম্বল – উলটকম্বল গাছের পাতা, ডাল, মূল, বাকল বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। গাছের বাকল ও ডাঁটা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আঠালো পদার্থ বের হয় যা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করে। পাতার ডাঁটা প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া উপশম, আমাশয় রোগের জন্য উপকারী এবং পাতা ও কাণ্ডের রস গনোরিয়া, ফোঁড়া ও স্ত্রী রোগে উপকারী। গবাদিপশুর পাতলা পায়খানা, বিলম্ব প্রজনন এবং হাঁস-মুরগির বিভিন্ন চিকিৎসায় উলটকম্বলের ব্যবহার রয়েছে।

118 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন