ব্রণ এর চিকিৎসা করুন ভেষজ উপায়ে

ব্রণ এর চিকিৎসা করুন ভেষজ উপায়ে
5 (100%) 2 votes

ব্রণ এর চিকিৎসা না করলে মুখের অবস্থা বিশ্রি হয়ে যেতে পারে তাই ব্রণ এর চিকিৎসা করাটা মুখের সৌন্দর্যের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। ব্রণ হলো মানব ত্বকের একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ বিশেষ যা বিশেষত লালচে ত্বক, প্যাপ্যুল, নডিউল, পিম্পল, তৈলাক্ত ত্বক, ক্ষতচিহ্ন বা কাটা দাগ ইত্যাদি দেখে চিহ্নিত করা যায়। ভীতি, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা উদ্রেকের পাশাপাশি, এটির প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া। অতিরিক্ত পর্যায়ে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার মত অবস্থার উদ্ভব হতে পারে। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রণের রোগীদের আত্মহত্যার পরিমাণ ৭.১%। ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬-১৯ বছর বয়সের মাঝে এবং মেয়েদের ১৪-১৬ বছর বয়সে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ৮০ শতাংশের ক্ষেত্রে ২০ বছর বয়সের মাঝামাঝি সময় থেকে ব্রণ হওয়ার হার কমে যেতে থাকে। তবে অনেকের ৩০-৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ব্রণ হওয়ার প্রবণতা থেকেই যায়। ব্রণ সাধারণত মুখেই দেখা যায়, তবে পিঠে, ঘাড়ে ও বুকেও হতে পারে। গরমকালে ব্রণ হওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ব্রণ এর চিকিৎসা

যে কারণে ব্রণ হয়

মেয়েদের মতো ছেলেরাও ত্বকের যে সমস্যাটিতে বেশি ভুগেন তা হলো ব্রণ। নানা কারণেই ব্রণ হতে পারে। তরুণদের মধ্যে ব্রণের সমস্যা বেশি দেখা যায়। ব্রণ থেকে বাঁচার জন্য নানাজন নানাভাবে চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু বেশীরভাগ সময় এর ফলাফল শূন্য হয়। সাধারণত যেসব কারণে ব্রণ হয় –

▪হরমনের পরিবর্তন
▪ত্বকে ধুলোময়লা জমে থাকা
▪বংশগত কারণ
▪ত্বকে ভিটামিনের অভাব
▪কোষ্ঠকাঠিন্য।

ব্রণ থেকে বাঁচার উপায়

তৈলাক্ত ত্বকেই ব্রণের সংক্রমণ বেশি হয়। তাই সবসময় মুখ পরিষ্কার রাখুন। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। প্রতিদিন গোসল করুন। প্রতিদিন অন্তত তিন-চার বার মুখ ধোয়ার অভ্যাস করুন ব্রণের উৎপাত অনেকটা কমে যাবে। পর্যাপ্ত পরিমানে পানি পান করুন আর তেলে ভাজা জাতীয় এবং কোল্ড ড্রিংক এড়িয়ে চলুন।

ব্রণ এর চিকিৎসা (ঘরোয়া)

খাদ্য হিসেবে ও চিকিত্‍সার কাজে গাছের বিভিন্ন অংশ এবং ভেষজের ব্যবহার মানুষ করে আসছে সেই সুপ্রাচীনকাল থেকেই। প্রাচীন চিকিত্‍সাশাস্ত্র আয়ুর্বেদ পুরোটাই গাছ গাছড়া নির্ভর। প্রাচীন চীনের চিকিত্‍সাশাস্ত্রেও ছিল ভেষজের ব্যবহার। মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে যাযাবর শ্রেণীর লোকেরা টোটকা চিকিত্‍সাতে নানা ধরনের শেকড় বাকড় ব্যবহার করত। শুধু কি খাবার আর চিকিত্‍সা! রূপচর্চার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভেষজ উপাদানের অবদান। নিজেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সুদূর অতীত থেকে আজ পর্যন্ত ভেষজ উপাদানের ব্যবহার সমান ভাবে চলে আসছে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া একেবারে নেই বললেই চলে বলে রূপচর্চার ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদ বা ভেষজের ব্যবহারে মানুষ দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। ত্বকের মরা কোষ, ময়লা,দূষণ এবং শারীরিক নানা সমস্যার কারণে আমাদের ত্বক বিভিন্ন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধুলা ময়লা ত্বকে জমে লোমকূপ বন্ধ করে ফেলে। ফলে সৃষ্টি হয় ব্রণের। বিশেষ করে ত্বকে তেলের পরিমাণ বেশি থাকলে তা সহজেই ময়লা আকর্ষণ করে। তাই তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বেশি হয়। অনেকেই নোংরা হাতে ব্রণ খুঁটে থাকেন। এটা একেবারেই উচিত নয়, এতে ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং দাগ পড়ে যায়। সামান্য ত্বকের যত্ন নিলেই ব্রণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এবার দেখে নিন ব্রণ এর চিকিৎসা করবেন যেভাবে ভেষজ উপায়ে।

পেপে – ব্রণ হবার একটি অন্যতম কারণ হলো অপরিষ্কার ত্বক। তাই ত্বক রাখতে হবে পরিষ্কার। নিয়মিত স্ক্রাবিং ত্বককে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ব্রণ শুধু মুখে নয়, শরীরের অন্যান্য অংশেও হতে পারে। তাই স্ক্রাবিং পুরো দেহের জন্যই প্রযোজ্য। পাকা পেঁপে চটকে নিন এক কাপ। এর সাথে মেশা এক টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চালের গুঁড়ো। মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে লাগান। ২০-২৫ মিনিট মাসাজ করে গোসল করে ফেলুন। পেঁপে ছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন ঘৃতকুমারীর রস।

পুদিনা পাতা – পুদিনা পাতা ত্বকের অতিরিক্ত তেল এবং ব্রণের সংক্রমণ কমাতে খুবই উপকারী। টাটকা পুদিনা পাতা বেটে ত্বকে লাগান। ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর হয়ে যাবে। অতিরিক্ত গরমের কারণে ত্বকে যেসব ফুসকুড়ি এবং ব্রণ হয় সেগুলো দূর করতেও পুদিনা পাতা উপকারী। ব্রণ এর চিকিৎসা করতে টাটকা পুদিনা পাতা বেটে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিট এরপর ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া আরো যা করতে পারেন -পুদিনা পাতার রস করে নিয়ে সেটা দিয়ে আইস কিউব তৈরি করুন। ফুসকুড়ি ও ব্রণে এই আইস কিউব ঘষুন ১০-১৫ মিনিট। এতে ফুসকুড়ি ও ব্রণের সংক্রমণ তো কমবেই সাথে ত্বকের জ্বালাপোড়াও দূর করবে।

লবঙ্গ – লবঙ্গ মূলত মসলা হিসেবে পরিচিত হলেও ব্রণ সারাতে তা খুবই কার্যকর। ব্রণ এর চিকিৎসা করতে
লবঙ্গের তেল দিয়ে ত্বক মাসাজ করা খুবই উপকারী। ত্বকে ব্রণের সংক্রমণ বেড়ে গেলে লবঙ্গ গুঁড়ো করে তাতে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণের জায়গা গুলোতে মিশ্রণের মোটা প্রলেপ দিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

কদবেল – টক স্বাদের কদবেল খেতে অনেকেই ভালবাসেন। কাঁচা কদবেলের রস ব্রণের জন্য খুবই উপকারী। কাঁচা কদবেলের রস তুলাতে ভিজিয়ে ব্রণ আক্রান্ত জায়গা গুলোতে লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

নিমপাতা – নিমপাতা খুব ভালো জীবাণুনাশক। তাই ব্রণ সারাতে নিমপাতা খুবই উপকারী। নিমপাতা বেটে সাথে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট ত্বকে লাগিয়ে ১৫-২০ পর ধুয়ে ফেলুন।

ধনিয়া পাতা – ধনিয়া পাতা ব্রণ সারাতে কার্যকর। ধনিয়া পাতা বেটে তাতে কয়েক চিমটি হলুদ গুঁড়া মেশান। মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ পর ধুয়ে ফেলুন।

অ্যাসপিরিন – ব্রণ দূর করার আরেকটি অপরিচিত এবং অন্যতম উপায় হলো অ্যাসপিরিন। ব্রণ এর চিকিৎসা করতে একটি অ্যাসপিরিন টেবলেট গুঁড়ো করে নিন। এর সাথে পানি মেশান। একটি তুলো দিয়ে এটি ব্রণের উপর ব্যবহার করুন। অ্যাসপিরিনের অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরি উপাদান ব্রণ দূর করে দেয়। এটি ত্বকে সারারাত রাখতে পারেন। সকালে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। যদি আপনি শুষ্ক ত্বকের অধিকারীর হোন তবে এটি খুব বেশিবার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

ফিশ অয়েল – ফিশ অয়েল ব্রণ দূর করতে বেশ কার্যকর। পানির সাথে ফিশ অয়েল মিশিয়ে নিন। এটি ব্রণের উপর ব্যবহার করুন। এছাড়া সরাসরি ফিশ অয়েল ব্রণের উপর ব্যবহার করতে পারেন। ফিশ অয়েলে ওমেগা থ্রি রয়েছে যা ত্বকের ইনফ্লামমেশন দূর করে দেয়। এবং ধীরে ধীরে ত্বক থেকে ব্রণ দূর করে। মাছ অথবা মাছের তেলে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

লেবুর রস – লেবুতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট উপাদান আছে যা ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। লেবুর রস মুখে লাগিয়ে ১৫ বা তার বেশি সময় অপেক্ষা করুন। অথবা ১ টুকরো লেবু নিয়ে আক্রান্ত স্থানে আস্তে আস্তে ঘষুন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বক যদি খুব বেশি শুষ্ক হয়ে যায় তাহলে ব্রণ এর চিকিৎসা করতে লেবু প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে ২/৩ দিন ব্যবহার করুন।

বেকিং সোডা – এক চামচ বেকিং সোডা পানিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি আঙ্গুল দিয়ে ব্রণের উপর ব্যবহার করুন। ৫ মিনিট এটি ত্বকে রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা ব্রণ দূর করে ত্বকে পিএইচ লেভেল বজায় রাখে। খুব বেশি সময় এটি ব্রণের উপর রাখবেন না। তারপর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সব ধরনের ত্বকে এটি ব্যবহার করা যায়।

অ্যালোভেরা – কেবল ব্রণ কমাতেই নয়, ত্বকের কালো দাগছোপ দূর করতেও অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। অ্যালোভেরা জেল বের করে আক্রান্ত স্থানে মাখুন আলতো হাতে। এমন ভাবে ম্যাসাজ করুন যেন অ্যালোভেরা জেল ত্বক একদম শুষে নেয়। ঘণ্টা খানেক ত্বকে রাখার পর ধুয়ে ফেলতে পারেন।

কলা – পাকা কলা ও লেবু মিশিয়ে (একটা কলা ও একটা লেবু অনুপাতে) মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্ট মুখে, গলায়, হাতে, পায়ে যে কোন জায়গায় ব্যবহার করতে পারেন। রোজ লাগান ব্রণ এবং কালো দাগে। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন দারুণ কাজে দেবে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার – এক অংশ পানি এবং এক অংশ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। একটি তুলোর বলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ব্রণের উপর ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিড ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে। তবে খুব বেশি সময় ত্বকে এটি রাখা যাবে না। সেনসেটিভ ত্বকের ক্ষেত্রে ৩:১ অনুপাত মেনে চলুন।

টুথপেষ্ট – টুথপেষ্ট নামটা শুনে কিছুটা অবাক হতে পারেন। কিন্তু দ্রুত ব্রণ এর চিকিৎসা করতে টুথপেষ্টের জুড়ি নেই। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে কিছুটা পেষ্ট ব্রণে লাগিয়ে নিন। সকালে ভাল ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং দেখুন ম্যাজিক। চাইলে দিনে দুইবার ব্যবহার করতে পারেন।

গোলাপ জল – গোলাপ জলের নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের দাগ কমে যায়। ব্রণ এর চিকিৎসা করতে দারুচিনি গুঁড়ার সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ব্রণ এর চিকিৎসা করতে এই পেস্ট ব্রণের ওপর লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের সংক্রমণ, চুলকানি এবং ব্যথা অনেকটাই কমে যাবে।

পরিশেষে – কোনো উপকার না পেলে একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

101 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন