বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা
4.3 (85%) 8 votes

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা গান কার না ভালো লাগে। বৃষ্টি আমাদের হৃদয়ে মিশে আছে। বৃষ্টি নিয়ে কত গল্প, ছড়া, গান বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা আছে তার কোন হিসেব নেই। সত্যিই বৃষ্টির দিনে কোন কাজে মন বসে না। মনটা কোথায় যেন হারিয়ে যেতে চায়। সেই আদিকাল থেকেই অনেক রোমান্টিক স্মৃতির সাক্ষী এই বৃষ্টি। নগর জীবনে ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষটাও কিন্তু বৃষ্টির দিনে আকাশের দিকে তাকিয়ে কোন প্রিয় মুহূর্ত স্মরণ করে। তখন মনটা এক অজানা ভালো লাগায় ভরে যায়। বৃষ্টিতে অফিসে থাকলে এর রিমঝিম শব্দে কাজটা আরও উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব। আর যদি বাসাতে থাকেন, তাহলে তো কোন কথাই নেই। প্রিয়জনের সঙ্গে সময়টা আনন্দে কাটিয়ে দিন। এতে করে বৃষ্টির দিনটি আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে সম্পর্কটাও হবে আরও মধুর। বৃষ্টির দিন গল্পের বই বা বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা পড়ে দারুণ সময় কাটাতে পারেন। দুজন মিলে একসঙ্গে আরামদায়ক কোনো স্থানে বসে যদি বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা পড়তে পারেন, সে দারুণ এক সময় কাটবে। খেয়াল রাখবেন, দুজন যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে না বসেন। একটু ভালো লাগার স্পর্শ নিশ্চয়ই রোমান্টিক অনুভূতি বাড়িয়ে দেবে। একসময় রিমঝিম বৃষ্টির শব্দ, বই পড়ার মানসিক প্রশান্তিতে দুজনই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। বৃষ্টির দিনে বাড়তি একটু ঘুম, মন্দ কী! আর ঘুমানোর আগে পড়ে নিন বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা গুলো।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা

 

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (১)

বৃষ্টি সোনা তোকে
রুদ্র গোস্বামী

বৃষ্টি বৃষ্টি
জলে জলে জোনাকি
আমি সুখ যার মনে
তার নাম জানো কী ?

মেঘ মেঘ চুল তার
অভ্রের গয়না
নদী পাতা জল চোখ
ফুলসাজ আয়না।

বৃষ্টি বৃষ্টি
কঁচুপাতা কাঁচ নথ
মন ভার জানালায়
রাতদিন দিনরাত।

ঘুম নেই ঘুম নেই
ছাপজল বালিশে
হাঁটুভাঙা নোনা ঝিল
দুচোখের নালিশে।

বৃষ্টি বৃষ্টি
জলেদের চাঁদনি
দে সোনা এনে দে
মন সুখ রোশনি।

যে বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে
প্রদীপ বালা

হটাৎ করেই ভাবতে বসি
মুষল ধারে বৃষ্টি হবে
শুকিয়ে যাওয়া আমার শহর
আবার বসে ভিজবে কবে

শরীর বেয়ে অপমানের
অঝোর ধারা নামবে কবে
শুকিয়ে যাওয়া রক্ত দাগ
রক্ত ফোটায় ভিজবে কবে

একই ছাদের তলায় এসে
ধনী গরীব কাঁপবে কবে
সারা শহর জুড়ে তখন
প্রচন্ড এক বৃষ্টি হবে

মুষড়ে পড়া বিপ্লবীরা
আঁধার রাতেও স্বপ্ন পাবে
বৃষ্টি তোড়ে জেলের গারদ
আবার আবার ভাঙবে কবে

অবহেলায় স্বপ্ন যত
পিষে গেছে বুটের তলে
সেসব আবার প্রাণ ফিরে পাক
ভীষণ রকম বৃষ্টিজলে

অবাধ্য সব প্রেমিক যত
ভালবাসায় ফুটবে কবে
দিন দুপুরে ভালবাসার
ভীষণ রকম বৃষ্টি হবে

শহর জুড়ে সকল বোমা
একসাথে ফের ফাটবে কবে
সারা শহর ধ্বংস হয়ে
নতুন করে সৃষ্টি হবে

কবে আবার বৃষ্টি হবে
ভীষণ রকম বৃষ্টি হবে
ধ্বংস হওয়া সব কিছুতে
নতুন প্রাণের সৃষ্টি হবে।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (২)

বর্ষার চিঠি
শ্রীজাত

সোনা, তোমায় সাহস করে লিখছি। জানি বকবে
প্রিপারেশন হয়নি কিচ্ছু। বসছি না পার্ট টুতে
মাথার মধ্যে হাজারখানেক লাইন ঘুরছে, লাইন
এক্ষুনি খুব ইচ্ছে করছে তোমার সঙ্গে শুতে

চুল কেটে ফেলেছ? নাকি লম্বা বিনুনিটাই
এপাশ ওপাশ সময় জানায় পেন্ডুলামের মতো
দেখতে পাচ্ছি স্কুলের পথে রেলওয়ে ক্রসিং-এ
ব্যাগ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছ শান্ত, অবনত

এখানে ঝড় হয়ে গেল কাল। জানলার কাচ ভেঙে
ছড়িয়ে পড়েছিল সবার নোংরা বিছানায়
তুলতে গিয়ে হাত কেটেছে। আমার না, অঞ্জনের
একেকজনের রক্ত আসে একেক ঝাপটায়

সবাই বলছে আজও নাকি দেদার হাঙ্গামা
বাসে আগুন, টিয়ার গ্যাস, দোকান ভাঙচুর
কিন্তু আমি কোনও আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না
বৃষ্টি এসে টিনের ছাদে বাজাচ্ছে সন্তুর…

ঝালা চলছে। ঘোড়া যেমন সমুদ্রে দৌড়য়
ভেতর-ভেতর পাগল, কিন্তু সংলাপে পোশাকি…
তুমিই উড়ান দিও, আমার ওড়ার গল্প শেষ
পালক বেচি, আমিও এখন এই শহরের পাখি।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৩)

মেঘবালিকার জন্য রূপকথা
জয় গোস্বামী

আমি যখন ছোট ছিলাম
খেলতে যেতাম মেঘের দলে
একদিন এক মেঘবালিকা
প্রশ্ন করলো কৌতুহলে

“এই ছেলেটা,
. নাম কি রে তোর?”
আমি বললাম,
. “ফুসমন্তর !”

মেঘবালিকা রেগেই আগুন,
“মিথ্যে কথা । নাম কি অমন
হয় কখনো ?”
. আমি বললাম,
“নিশ্চয়ই হয় । আগে আমার
গল্প শোনো ।”

সে বলল, “শুনবো না যা-
সেই তো রাণী, সেই তো রাজা
সেই তো একই ঢাল তলোয়ার
সেই তো একই রাজার কুমার
পক্ষিরাজে
শুনবো না আর ।
. ওসব বাজে ।”

আমি বললাম, “তোমার জন্য
নতুন ক’রে লিখব তবে ।”

সে বলল, “সত্যি লিখবি ?
বেশ তাহলে
মস্ত করে লিখতে হবে।
মনে থাকবে ?
লিখেই কিন্তু আমায় দিবি ।”
আমি বললাম, “তোমার জন্য
লিখতে পারি এক পৃথিবী ।”

লিখতে লিখতে লেখা যখন
সবে মাত্র দু-চার পাতা
হঠাৎ তখন ভুত চাপল
আমার মাথায়-

খুঁজতে খুঁজতে চলে গেলাম
ছোটবেলার মেঘের মাঠে
গিয়েই দেখি, চেনা মুখ তো
একটিও নেই এ-তল্লাটে

একজনকে মনে হল
ওরই মধ্যে অন্যরকম
এগিয়ে গিয়ে বলি তাকেই !
“তুমি কি সেই ? মেঘবালিকা
তুমি কি সেই ?”

সে বলেছে, “মনে তো নেই
আমার ওসব মনে তো নেই ।”
আমি বললাম, “তুমি আমায়
লেখার কথা বলেছিলে-”
সে বলল, “সঙ্গে আছে ?
ভাসিয়ে দাও গাঁয়ের ঝিলে !
আর হ্যাঁ, শোন-এখন আমি
মেঘ নই আর, সবাই এখন
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায় ।”
বলেই হঠাৎ এক পশলায়-
চুল থেকে নখ- আমায় পুরো
ভিজিয়ে দিয়ে-
. অন্য অন্য
বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
মিলিয়ে গেল খরস্রোতায়
মিলিয়ে গেল দূরে কোথায়
দূরে দূরে…।

“বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়
বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়-”
আপন মনে বলতে বলতে
আমিই কেবল বসে রইলাম
ভিজে একশা কাপড়জামায়
গাছের তলায়
. বসে রইলাম
বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য

এমন সময়
অন্য একটি বৃষ্টি আমায়
চিনতে পেরে বলল, “তাতে
মন খারাপের কি হয়েছে !
যাও ফিরে যাও-লেখ আবার ।
এখন পুরো বর্ষা চলছে
তাই আমরা সবাই এখন
নানান দেশে ভীষণ ব্যস্ত
তুমিও যাও, মন দাও গে
তোমার কাজে-
বর্ষা থেকে ফিরে আমরা
নিজেই যাব তোমার কাছে ।”

এক পৃথিবী লিখবো আমি
এক পৃথিবী লিখবো বলে
ঘর ছেড়ে সেই বেড়িয়ে গেলাম
ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাঁধলাম
গহন বনে
সঙ্গী শুধু কাগজ কলম

একাই থাকব । একাই দুটো
ফুটিয়ে খাব—
. দু এক মুঠো
ধুলো বালি-যখন যারা
আসবে মনে
. তাদের লিখব
লিখেই যাব !

এক পৃথিবীর একশোরকম
স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যে-রূপকথার—
সে রূপকথা আমার একার ।

ঘাড় গুঁজে দিন
. লিখতে লিখতে
ঘাড় গুঁজে রাত
. লিখতে লিখতে
মুছেছে দিন—মুছেছে রাত
যখন আমার লেখবার হাত
অসাড় হল,
. মনে পড়ল
সাল কি তারিখ, বছর কি মাস
সেসব হিসেব
. আর ধরিনি
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
এক পৃথিবী লিখব বলে
একটা খাতাও
. শেষ করিনি ।

সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে
বৃষ্টি এল খাতার উপর
আজীবনের লেখার উপর
বৃষ্টি এল এই অরণ্যে
বাইরে তখন গাছের নিচে
নাচছে ময়ূর আনন্দিত
এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
বলছে পাখি, “এই অরণ্যে
কবির জন্যে আমরা থাকি ।”
বলছে ওরা, “কবির জন্য
আমরা কোথাও আমরা কোথাও
আমরা কোথাও হার মানিনি—”

কবি তখন কুটির থেকে
তাকিয়ে আছে অনেক দূরে
বনের পরে, মাঠের পরে
নদীর পরে
সেই যেখানে সারাজীবন
বৃষ্টি পড়ে, বৃষ্টি পড়ে,
সেই যেখানে কেউ যায়নি
কেউ যায় না কোনদিনই—
আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
সেই দেশে সেই ঝরনাতলায়
এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ায়
সোনায় মোড়া মেঘহরিণী—
কিশোর বেলার সেই হরিণী ।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৪)

বৃষ্টি ও মেয়েটি
বৈশালী চ্যাটার্জী

ঘনিয়ে এল যখন মেঘের মায়া
ডাকল আকাশ শীতল স্পর্শ করে
ঠিক তখনই এই গল্পের শুরু
ঠিক তখনই মন টেঁকে না ঘরে

না, না, প্রেমের চপলতা নয়
এ নয় অভিসারের উচাটন
এসব বড়ই নিজস্ব পাগলামি
কাজ ফেলে তাই হঠাৎ উদাস মন

এমনিতে তো দিব্যি কাটে দিন
ঠিক যেমনটি চললে সমীচীন
যেমনটিতে আপত্তি নেই কারও
তবু আকাশ উঠলে সেজে মেঘে
মনের কোণে ছায়া ঘনায় তারও

তারপর মন জল ঝরাতে চায়
মেঘের মতোই গুমরে গুমরে ওঠে
যদিও আছে লোকের চোখের শাসন
বাজ পড়ে তাই শব্দ হয়না মোটে

বাইরে যখন অঝোর ধারা ঝরে
মেয়েটি ঠিক নিরালা সন্ধানী
সব কথা, কাজ, হিসেব নিকেশ ছেড়ে
নীরবে ঘাঁটবে বেদনার মালা খানি

চারপাশ যেই জলরঙে আঁকা ছবি
অমনি সে মেয়ে আপনার মুখোমুখি
কি যেন নেই, কি যেন হয়নি পাওয়া
কিসের বিহনে মেয়েটি অমন দুখী?

নিজেও জানে না, জানেনি সে কোন দিনই
বর্ষা কেন যে বেদনার তার কাছে
নিয়মতে চলা ছত্রখান
গভীরে এমন কাঙালপনাও আছে?

যাহোক এমনি কেটে যাচ্ছিল দিন
পাপস্থলন হয়ে যাচ্ছিল বেশ
কেবল বৃষ্টি ঝরাতে আড়াল খোঁজা
এবং ভাবনা- না যেন থাকে রেশ

এমন সময় অবেলায় এলে তুমি
নিঃসংকোচে বাড়িয়ে দিলে দুহাত
বুকের ভিতর দুরন্ত নদী জাগে
উদ্দাম হয়ে ছেড়ে যায় মরা কাঠ

এমনি করেই আকুল ছন্দে মেতে
বর্ষা হল অকারণ খুশি দিন
মেঘ গুলো হল নির্বার ছায়া ছায়া
কারও কাছে নেই বেদনার কোন ঋণ

আমার বর্ষা তোমাকেই পেতে চায়
মেঘদূত হয়ে মন আমার উড়ে চলে
বেদনা ফুরিয়ে অভিসার-সাজে সাজে
এখনতো প্রানে তৃষ্ণা মেটাবে বলে…।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৫)

নিশ্চুপ যাপন
টুটুল দাস

হঠাৎ করে বৃষ্টি নামে
অফিস ফেরৎ গলি
চুপিচুপি ভিজলো সাথে
স্মৃতির শহরতলি।

রোদ ডুকেছে ড্রয়িংরুমে
স্মৃতির তখন মনখারাপ
রোদের সাথে ঘুরতে গিয়ে
মেঘের সাথে প্রথামালাপ।

নাম জানি না মেঘের
ভাব বাচ্যে ডাকি
বুকের ভিতর মেঘ গলিয়ে
সমুদ্র নিয়ে থাকি।

সমুদ্র থাকে পড়ার ঘরে
উথাল-পাথাল ঢেউ
কবিতা ওড়ে বালিশ ওড়ে
জ্যোৎস্নায় ভিজে কেউ।

জ্যোৎস্না হঠাৎ বুকপকেটে
অচেনা রিংটোনে
আঁধার বয়ে বসন্ত নামে
ওয়ালপেপার আর ফোনে।

বসন্ত তখন ছাতার তলায়
হলুদ ওড়ানায় ঢাকা
বাইরে শুধু একটা আকাশ
ওড়ার জন্য ফাঁকা।

উড়তে উড়তে কতই খেলা
সমস্ত শহর জুড়ে
আকাশ ভেঙ্গে মেঘ ঢুকেছে
হাঁটতে হাঁটতেই সুদূরে।

হাঁটার পথে শহরতলি
মুখথুবড়িয়ে আছে
হারিয়ে গেছে কবিতা খাতাও
মেঘের বাড়ির কাছে।

মেঘের বাড়ি খুঁজতে গেছি
ভুল করেছি গলি
সেসব কথা ফিসফিসিয়ে
কেনই বা স্মৃতির কানে বলি?

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৬)

বৃষ্টির দিনে
কামাল আহমেদ বাগী

বৃষ্টি ভেজা এ দুপুরে, পথের কিনারায়,
দাঁরিয়ে আছি একা, তোমার অপেক্ষায়৷
তুমি আসবে পরীর রূপে, স্পর্ষ করবে হাতে,
তোমার সাথে হারিয়ে যাব; বহুদূর অজানাতে৷

নগরের সমস্ত পথ, হবে আজ আমাদের,
যেথা ইচ্ছে ঘুড়ব,আমরা, (আজ) বাঁধা কিসের?
তোমার মনের যত কথা বলবে আমার সাথে,
ইচ্ছের ডানা মেলে আজ, সুনব কান পেতে৷

আজ কোন ভয় নয়, নয় লাজুকতা,
এ দিনটি হবে তোমার-আমার শত সৃতি গাথা ৷
পথের মাঝে তুমি-আমি হাত দুটি ধরে,
তোমার দিকে চেয়ে থাকব; আমার মত করে৷
(হয়ত) তুমি লজ্জা পাবে, পথের মানুষ দেখে,
একটু মুস্কি হাসি দিয়ে, লুকাবে নিজেকে৷

আমি শুধু চেয়ে দেখব, তোমার কাঁপা ঠোট,
হটাৎ আকাশের বিজলি; চমকাবে বিকট৷
বৃষ্টির সাথে সারা দেহে; সৌন্দর্য ঝলমল!
এখন আর পরে না পলক, আনন্দে ছলছল৷
হটাৎ তোমার স্পর্ষে চমকে উঠব (ভেব)
তোমার মিষ্টি হাসি দেখে, বুকে জড়িয়ে নেব৷

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৭)

মেঘ বৃষ্টি আর তুমি আমি
কাল্পনিক অমিত (নীল)

বর্ষার আকাশে আজ মেঘের মেলা,
তুমি এসে শেষ বিকেলে দিলে দেখা।
তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে যতটুকু পিপাসা,
হঠাৎ করেই বিলীন হল-
অনুতপ্ত মন শান্ত হল তোমার ছোঁয়া পেয়ে।
কল্প তরুর মায়াবী ছায়ায়-
তুমি আমি রয়েছি আজ অবেলায়।
মায়াবী চাঁদের ঈষা হয় এখন-
তোমার হাত ধরার-ও বেলায়।
পাশাপাশি দুজনা বসে-
চোখে চোখে কত কথা আজ নীরবে।
কত রাত নির্ঘুমতার পরে-
কত অলস দুপুরে ঝলসে যাবার পরে,
আজ কাছাকাছি দুজনায়-
এই মেঘলা বেলার শেষে।
ঝুমু বৃষ্টি যেন আজ আর না থামে,
একটু মেঘের ভেলা আসবে কি কাছে?
পাশাপাশি দুজনা আজ অনেক দিনের পর-
ভালবাসা যেন আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরে।
বড় ইচ্ছে করে থমকে যেতে তখন-
সময়কে বন্দী করে তোমার-ই সাথে।
ভালবাসার বাহু ডোরে জড়াতে তোমায়,
বর্ষা বিকেল সন্ধা বেলায়।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৮)

মেয়েটি দেখছে রোদ
রোদটা হৃদয় ছুই ছুই,
বৃষ্টি নিবে প্রতিশোধ
মেঘটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে মেঘ
মেঘটা আকাশ ছুই ছুই,
ঘুড়িটা উড়ছে তবু বেশ
পাখিটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে পাখি
পাখিটা দুঃক্ষ ছুই ছুই,
লোনা জলে ডোবে আঁখি
বৃষ্টিটা বলছে তুই তুই।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (৯)

বৃষ্টির হরেক রকম ছন্দে লিখে দিলাম কবিতা
সঙ্গী ছিলো বজ্রকন্ঠ তোমার নাম,
ব্যস্ত শহুরে নাগরিকদের দ্বিমুখী ঢল পেরিয়ে –
কবিতা পৌঁছে যাবে নিমগ্ন রাতে,
ডানাভাঙ্গা একটি সারস পড়ে আছে কাদা জলে
শহর ছুটছে বৃষ্টি পাল্লা দিয়ে…
এসব বিমর্ষ কথন লিখিনি বৃষ্টি মাখা কবিতায়।
আজ বৃষ্টির সন্ধ্যে, প্রচলিত প্রেমাশ্রয়ের বর্ণমালা
তুমি বরং পড়তে পারো,
বৃষ্টির ছন্দে রবী ঠাকুর আশ্রয় পেলেই স্বর্গ নামে,
টিনের চালে ছন্দ তোলে টপাটপ সংগীত ইশ্বর।
তুমি পড়ো, বৃষ্টির আটানব্বই শারীরিক গুনাগুন।
বৃষ্টি আশ্রয়ে তোমায় দিলাম, অকথার বকবকানি
মজা-পুকুরে ডুবে গেছে অলৌকিক পাহাড়।

বৃষ্টির মত অবিরাম ইচ্ছে বর্ণে মুদ্রিত কবিতা
পৌঁছে যাবে বেলি ফুলের পাপড়িতে, উঠোনে
জমে থাকা জলকণার শ্যাওলা গন্ধে, অন্ধকারে
পিচ্ছিল ঘাটতলায় সংখ্যাগুনা পদ পরিক্রমায়।
উপোসী রাতের ক্রোধান্বিত পাঠের বিরক্তি হয়ে
ক্রমঃশ ভাবাবেই বিকল্প আহার বিবেচনায় –


বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (১০)

কেমন থাকে আমাদের খেয়ালি উঠোন
বুক জুড়ে বৃষ্টির পর?
শ্যাওলা তলায় স্পর্শ পেলে জল ধারা
সুখেরা কি বাধে ঘর?
কেমন থাকে অনুভূতিপ্রবণ পাতারা সব
আলতো ঝড়ে নুইয়ে গেলে?
টিনের চালে আজো কি বাজে অমীয় সুর
সোনালি দিন ঘুরেফিরে?
কেমন থাকে গল্পকথার দীর্ঘ রাত্রি সব
বৃষ্টি কথায় ঘরভরিয়ে!

আমি দেখি আশ্চর্য্য সব মেঘেদের আনাগোনা
রাতের আকাশে,
দেয়াল ছুয়ে ফোটা জল নামলে নাম দেই বৃষ্টি।
শহুরে বাতিগুলো নিভে গেলে বিপদাশঙ্কায়
ভেবে নেই বৃষ্টি খুব, বইছে ঝড়!
(শহুরে বৃষ্টি)

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (১১)

আমার বৃষ্টির জল তোমার ঊঠোনে পড়বেই
কবির হোসাইন

অভিমানে গেলে তুমি অসীম শূন্যতার নিকষ-কালো গহ্বরে
নিয়ে গেলে আমার দেহের সমস্ত ভূ-ভাগ পাহাড়,গিরি
অগ্নোৎপাত খরস্রোতা নদী সাগরেরঅবিশ্বাস্য সুনামি
শুধু রেখে গেলে জমাট বাঁধা কালো মেঘ আমার দু’চোখে
চোখের চারপাশ মেঘ কালো ঘুমন্ত আকাশ
থেমে থেমে বৃষ্টি বয়ে আনে চোখের পাপড়ি ছাপিয়ে
আমার চিবুক পেরুলেই তোমার উঠোন
আমার বৃষ্টির জল তোমার উঠোনে পড়ে।

প্রথম প্রহরে বলেছিলে,“তোমার দৃষ্টি তুমি কাউকে দিওনা সুনয়না”
প্রণয়াসক্ত তুমি আমাকে করেছ অনুগামী তোমার কথার মায়াজালে,
ছুঁইয়ে ছিলে কুমারী হৃদয়খানা বিমুর্ছিত প্রখর দীপ্তি দিয়ে
আমার চোখের তারায় তোমার আকাশের নক্ষত্রপূঞ্জ হেসে ওঠে
অনুভবে থেকে থেকে আসে সুমেরুবাহী প্রচন্ড বাতাস,
সমুদ্র ঢেউয়েরপ্রচণ্ড গর্জন বয়ে আনে প্রতপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাত
তারপর অকস্মাৎ অন্ধকার ঢেকে দেয় পৃথিবীর সমস্ত শরীর,
জানিনা কি কারনে তুমি হারিয়ে গেলে নিরবে নিঃশব্দে
অসীম শূন্যতার নিকষ-কালো গহ্বরে
ফেলে রেখে গেলে তোমার আকাশের বিবর্ণ মেঘ আমার দৃষ্টিতে
চেরাপুঞ্জির বিষন্নতা নিয়ে আমার চোখ তোমার নক্ষত্রপূঞ্জ খোঁজে
থেমে থেমে বৃষ্টি নেমে আসে চোখের পাপড়ি ছাপিয়ে
বিরামহীন বৃষ্টির জল তোমার উঠোনেই পড়ে থাকে হেলায়।

তুমি চাইলেই বৃষ্টি নামে অঝর ধারায় এ ভুবনে
তুমি চাইলেই খরা ।
নদীর দু’কূল উপচে উঠে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের শব্দ নিয়ে
এ… নদী এ… সাগর আকাশ নক্ষত্রপূঞ্জ উপগ্রহ সব তোমারই
আমার পৃথিবী শুধু আমার দুই চোখ “যৌবনবতী নায়গ্রা”
কতবার বাঁধসেধেছি বৃষ্টিকে তোমার উঠোনে যেন না গড়ায়
আঁচল ভিজে ভিজে আরেকটি মেঘ জমে গেছে
সমস্ত বৃষ্টিকে লুকোবার এত জায়গা কোথায় আমার !
তুমি চাইলেও বৃষ্টির জল আমি থামাতে পারব না
তাই তাকে বেঁধেছি আমার পরিশুদ্ধতার শেকলে
নায়গ্রার অনিঃশেষ জলধারা আমার পবিত্রতা ।
তোমাকে ফিরিয়ে আনবেই জলমগ্ন ক্লান্ত উঠোনে
কেননা আমার বৃষ্টির জল তোমার উঠোনে পড়বেই।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (১২)

বৃষ্টি মানেই অবাক দুপুর
স্মৃতির কলস হচ্ছে উপুর
বৃষ্টি মানেই শৈশব পুকুর
মন ফড়িঙের অবাক ঘোর।

বৃষ্টি মানেই ঘুমের পিঠে ঘুম
লেপ কাথায় সেকি প্রবল ওম!
বৃষ্টি মানেই সুরেলা টিনের চাল
যাচ্ছে কেটে যত সব আকাল।

বৃষ্টি মানেই তোমাকে চাওয়া
ইচ্ছেরা আজ পাচ্ছে হাওয়া।।
কবিতার মত লিখতে চেয়ে বৃষ্টি আশ্রিত এক
উন্মাদ যুবকের অ-কবিতা।।

বৃষ্টির রোমান্টিক কবিতা – (১৩)

কান্নার বৃষ্টি
ঈশান মাহমুদ

মেঘ অভিমান
তোমার কান্নার বৃষ্টিতে আজ শহর ভিজেছে
ভিজেছে আমার বুক
তবু তোমার চোখ জুড়ে কেন মেঘ অভিমান
কেন বিষন্ন চিবুক
তোমার ঐ ফর্সা গালে কেন এই বর্ষা সকালে
বিষাদের ছবি আঁকা
ভিজে বরষায় মন খারাপের দরজায় কেন হায়
একা দাঁড়িয়ে থাকা?

বৃষ্টি তুমি আরো কিছুক্ষন
থাকনা আমার পাশে
শরীর মন জুড়িয়ে নেই
একটু… এক নি:শ্বাসে।

খরতাপের দিনগুলোয়
বৃষ্টি তুমি আসবে বলে
অপেক্ষার প্রহর গুনি
অপেক্ষার ক্ষন ফুরিয়ে
অবশেষে বৃষ্টি তুমি এলে।

গা জ্বালা রৌদ্রে
বৃষ্টির শীতল ছায়া
মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়
আহ্ কি অপরূপ মায়া।

2,992 total views, 8 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About আলোকিত আধারে

কেউ হয়ত জানতেই চাইবেনা কোথায় বাঁধা ছিল এ হৃদয়। শুধু রচিত হবে আমার এপিটাফ - মৃত্যু হবে আমার সকল আবেগের, ভালবাসার, যন্ত্রণার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন