বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় গুলো জেনে নিন

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় গুলো জেনে নিন
5 (100%) 3 votes

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় জানাটা জরুরী। সব কাজেই আমেদের বুদ্ধির প্রয়োজন হয়। বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় জানা থাকলে নিজেকে আরো বেশী বুদ্ধিমান হিসাবে তৈরি করতে পারবেন। মানুষের মস্তিষ্কের কাজের সামগ্রিক প্রকাশের নাম বুদ্ধি। বিভিন্ন মনোবিজ্ঞানী বিভিন্ন ভাবে বুদ্ধির সংজ্ঞা দিয়েছেন। ডিয়ারবার্ণ বলেন- বুদ্ধি হলো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হওয়ার ক্ষমতা। স্টার্ন বলেন- বুদ্ধি হলো নতুন সমস্যা ও অবস্থার সাথে সংগতি বিধানের সাধারণ মানসিক শক্তি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায়

বুদ্ধির আবাস হলো মগজে। আরো সঠিক ভাবে বলতে গেলে মগজের ওপর ছড়ানো পাঁচ মিলিমিটার পুরু আর দেড় বর্গমিটার বিস্তৃত সেরিব্রাল কর্টেক্সে। সেরিব্রাল কর্টেক্সের নানা অংশ আর প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্সের সমন্বয়ই বুদ্ধির সৃষ্টি হয়। মানবদেহে ৮০% মগজ তৈরী হয়ে যায় জীবনের প্রথম ৩ বছরেই। মায়ের গর্ভে ও জন্মের প্রথম তিন বছর পুষ্টিকর খাবারের অভাবে বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়। এছাড়া মাথায় আঘাত বা বেড়ে ওঠার পরিবেশ প্রতিকূল হলেও বুদ্ধির বিকাশ ব্যাহত হয়। মানুষের বুদ্ধিমত্তার সঠিক বিকাশ ঘতে উপযুক্ত পরিবেশে। নিজের ইন্দ্রিয় গুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে আর কি কাজে লাগানো হচ্ছে, সেগুলোর ওপরই নির্ভর করে বুদ্ধিমত্তার সঠিক বিকাশ। আর তাই আপনি চাইলেই নিজের বুদ্ধিমত্তাকে শানিয়ে নিতে পারবেন সঠিক ভাবে।

বুদ্ধিমান সম্পর্কে সমাজিক ভাবনা

সমাজের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা নানান ধরনের চালাক চতুর হবার প্রমান দেয়। যেমন দোকানদার তার পন্যের মধ্যে খারাপ পন্য মিশিয়ে ক্রেতা সাধারনকে বোকা বানায়। নিজেকে বানায় চালাক চতুর। আমরা একে ঘৃন্য চোখে দেখছি। এটা নিছক চালাকী। ধূর্ত প্রভাব। কিছু ক্রেতাও আবার দোকানীকে বোকা বানায়। নিজে চালাক সাজেন। কখনো কখনো অসহায় মানুষদের বলা হয় বোকা। চালাক ভাবা হয় শুধু ধনীদের। টাকার মাপকাঠিতে চালাক চতুরের পরিমাপ হয়। সমাজের উর্ধতন লোকেরা নিজেদের চালাক চতুর ভাবেন। আর নিম্নশ্রেনীর লোকেদের ভাবেন বোকা। এসব অনেক আগের হিসেব নিকেশ। ইদানীং সমাজ অনেকটা বদলেছে। কিছুটা বোঝার চেষ্টা করছে কৌশল বা প্রকৌশল প্রয়োগ করাও চালাক চতুর হবার আরেক উপায়। তাই এদিকে আজকাল বেশি নজর। স্মার্টনেস হতে গেলে বুদ্ধিমান হতে হয়। চালাক চতুর অর্জন করার বিষয়, পড়ালেখা করেও এগিয়ে নেয়া যায়। অনেকেই বলেন, বুদ্ধিমান বা চালাক চতুর হওয়া জেনেটিক ব্যাপার। এই বিষয়ে আমি দ্বিমত। অনেক ছেলেমেয়ে দেখেছি এতই চালাক যে তার বাবা মা তার ধারে কাছে তো দূরে থাক পাড়ায় নেই। আবার অন্যদিকে অনেক চালাক বাবা মায়ের ছেলে মেয়েরা এতই অথর্ব যে ভাবাই যায় না কি করে হলো? এর মানে একটাই-চালাক চতুর হতে গেলে জেনেটিক বা বংশ পরষ্পরা তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। পরিবেশ কিংবা স্বাস্থ্য কিছুটা দ্বায়ী। কিন্তু স্টিফেন হকিং এর দিকে তাকান। শারিরীক  অবস্থার কথাও ভুলে যাবেন।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় কি

অনেকেই নিজেকে তার বন্ধু বান্ধব বা সহকর্মীদের চেয়ে কম বুদ্ধিমান বলে মনে করেন। তাদের চেয়ে বুদ্ধিমান হওয়ার আশা পোষণ করেন। এটা কি সম্ভব? গবেষকদের মতে এটা সম্ভব। তবে এ জন্য কিছু পন্থা অবলম্বন করতে হবে। এবং এভাবেই যে কেউ তার ধূসর সেলগুলোকে শক্তিশালী করে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবেন। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সহজেই বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় গুলো সম্পর্কে।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (১) – প্রকৌশল আর প্রোএক্টিভ কথাটার মাঝে অনেক মিল আছে। বোকারা কাজ করেন রি-এক্টিভ পদ্ধতিতে। চালাক চতুর যারা কাজ করেন কাজ আসার আগেই খোঁজ খবর থাকে। নিজেই কাজটা নিয়ে ভাবেন বেশি। যেহেতু মানব জীবনের সবকিছু কাজ নির্ভর। আপনি কাজ করলেই আপনার গুন বা দোষ প্রকাশ পায় সেক্ষেত্রে কাজে কৌশলী হওয়া আবশ্যক। প্রকৌশল হচ্ছে কারিগরি জ্ঞান। যে কাজ করবেন তার খুঁটিনাটি প্রয়োগ পদ্ধতি সর্বশেষ বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে করা উচিত। তবেই বাস্তবিক ভাবে কৌশলী হতে পারবেন। জ্ঞান চর্চা করা সব মানুষেরই চালাক চতুর হবার প্রথম এবং প্রধান উপায়। জ্ঞান হতে পারে যে কোন বিষয়ের। শুধুমাত্র বাংলাদেশের মত দেশে কারিগরি বা বিস্তারিত কাজের জ্ঞান না থাকলেও চালাক চতুর হওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে সজাগ আর সক্রিয় থাকতে হবে। কান চোখ বেশি খোলা রাখা যাকে বলে। সব শুনতে হবে, সব দেখতে হবে। বলাটা প্রয়োজন মাফিক। কাজ না জেনেও কেন এই গুন আপনাকে চালাক চতুর হিসেবে গন্য করবে? কারন বাংলাদেশে এমন লোকের অনেক অভাব। বেশিরভাগ মানুষ নিষ্ক্রিয় টাইপ। যখন যা দরকার তা-ই করে। অনেক মানুষেরই ভবিষ্যত পরিকল্পনা নেই। এটা আমি হলফ করে বলতে পারি। যদি আপনার ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম হয়, তাহলে ধরে নিচ্ছি আপনি অনেকটাই চালাক চতুর।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (২) – ব্যায়াম কি শুধু শরীরের ওজন কমানোর জন্য? নাহ, মোটেই নয়। ব্যায়াম করলে আপনার ওজন কমার পাশাপাশি ব্রেইনের কার্যক্ষমতা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে। ব্যায়াম মস্তিস্কের রক্ত চলাচল বাড়ায় ও স্নায়ুগুলোকে সক্রিয় রাখে। ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় বুদ্ধিমত্তা তীক্ষ্ণ হয়। এর পাশাপাশি যোগ ব্যায়াম করলে আরো ভালো কাজ দেবে।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (৩) – সারা দিনে কয়েক ঘণ্টা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ আটকে রাখেন না, এমন মানুষ হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। আমরা আমাদের অনেকখানি মূল্যবান সময় এই টেলিভিশন দেখে নষ্ট করি। টেলিভিশনে আসক্তি পরিহার করে বরং সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। পরিবারের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করুন, বন্ধুদের সাথে নতুন অভিজ্ঞতায় সামিল হন, এমন কিছু করুন যাতে চিন্তা করতে হয়। এতে আপনার বুদ্ধি শানিত হবে।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (৪) – বুদ্ধিতে ধার দিতে বই পড়ার বিকল্প নেই। বই, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, ফিকশন, নন-ফিকশন যে কোন কিছুই পড়তে পারেন। রাস্তায় জ্যামে সময় নষ্ট না করে বই পড়ুন। অথবা ঘুমাতে যাওয়ার আগেও কিছুক্ষণ করে বই পড়তে পারেন। নিয়মিত বইপত্র পড়লে আপনার বুদ্ধির বিকাশের পাশাপাশি দ্রুত পড়া ও বোঝার অভ্যাস হবে।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (৫) – দাবা, সুডোকু, ক্রস ওয়ার্ডস ও পাজল সমাধান করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে ও মস্তিষ্ক সচল থাকে। এইসব গেম আপনি চাইলে আপনার মোবাইলেই রাখতে পারেন। তাহলে অবসর সময়ে খেলার ছলে বুদ্ধিকে ধারালো করে নিতে পারবেন।

বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় (৬) – রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবেন ও ভোরে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে চেষ্টা করবেন। প্রতিদিন অন্তত ৭/৮ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন। এর কম ঘুম হলে ব্রেইন কাজ করতে চায় না। ঘুম স্বল্পতার কারণে সহজে কোনো কিছু বোঝার ক্ষমতা বা উপস্থিত বুদ্ধি কমে যায়। তাই পরিমিত ঘুমালে বুদ্ধি শানিত হয়।

খাবার খেয়ে বুদ্ধিমান হওয়ার উপায়

ব্লুবেরি – বুদ্ধিদীপ্তি বৃদ্ধির জন্য কিছু বিশেষ খাবার নিজে খেতে খাবেন এবং আপনার সন্তানদের খাওয়াবেন। গবেষণা থেকে বলা হয় প্রতিদিন প্রায় আধা কাপ ব্লুবেরি খুলে স্মৃতিশক্তি। দেহের সমন্বয় এবং ভারসাম্য বৃদ্ধি পায়। তবে হাতের কাছে ব্লুবেরি না থাকলে স্ট্রবেরি, ব্লাকবেরি এবং রাসবেরি খেতে পারেন। এটি মস্তিষ্কে ভারসাম্যহীনতা তৈরিকারী ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধ করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রম উন্নত করে।

চকলেট মেশান দুধ – ডায়েটারি গাইডলাইন ফর আমেরিকান ২০১৫ তে বলা হয়েছে, দুধের সঙ্গে ফ্যাট ফ্রি চকলেট ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়ামের ভালো উৎস। তাই বুদ্ধিমান হওয়ার উপায় হিসাবে আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন দুধ

কলা – প্রতিদিন তিনবার খাবার গ্রহণের পাশাপাশি একটি করে হলেও কলা খান। আর তা যদি না হয় তাহলে স্নাক্সে কলা রাখুন। একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, যেসব বাচ্চারা প্রতিদিন প্রায় ৩টি করে কলা খায় তাদের স্মৃতিশক্তি, পড়ার আগ্রহ এবং শারীরিক সুস্থতা অন্য বাচ্চাদের তুলনায় বেশি।

ডিম – ডিম প্রোটিনের একটি বড় উৎস। প্রতিদিন একটি করে হলেও ডিম খাওয়া উচিত।

বাদাম – বাদামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ই থাকে। যা আপনার স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন নিয়মিত।

তরমুজ – হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, অনেক মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণ হাইড্রেশন পায় না। যেসব মানুষের শারীরিক, মানসিক এবং অনুভূতিগত ভাবে দুর্বল তাদের বেশি করে তরমুজ খাওয়া উচিত। তরমুজের প্রায় ৯২% পানি থাকায় এটি পর্যাপ্ত পরিমাণ হাইড্রেশন প্রদান করে।

মানুষের বুদ্ধিমত্তা বা আইকিউ অবশ্যই উঁচু মানের বৈশিষ্ট্য। একটু চেষ্টা করলেই বুদ্ধিতে ধার দিয়ে নেয়া যায়। নিয়মিত ব্রেইন ওয়ার্ক ও ক্রিয়েটিভ কাজের সাথে যুক্ত থাকলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে ও স্নায়ুগুলো সচল থাকে। তাই গৎবাঁধা লাইফস্টাইল থেকে বের হয়ে নতুন নতুন সৃষ্টিশীল কাজ করে আপনার বুদ্ধিমত্তাকে
বিকাশিত করুন।

269 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন