বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা

বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা
5 (100%) 2 votes

মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর কোন বিকল্প নেই শিশুর জন্য। প্রত্যেক শিশুর জন্যই বুকের দুধ উতকৃষ্ট সুষম খাদ্য। জন্মের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এ সময়ে এমনকি এক ফোঁটা পানিরও প্রয়োজন নেই। শিশু জন্মের পর কমপক্ষে ৬ মাস শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৫৪তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে শিশুকে জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ শিশু জন্মের পরবর্তী প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ এবং সাত মাস হতে দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি সহায়ক খাদ্য খাওয়ানো সরকারি আদেশ জারি হয়। ২০০৯ সাল হতে বাংলাদেশ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন শুরু করে। আর সারা বিশ্বে এ দিবসটি ১৯৯২ সাল হতে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর ১ আগস্ট হতে ৭ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবসটি পালিত হয়। এমন অতি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহটি অতি নীরবেই পালিত হয়। দেশ ও জাতি গঠনের একটি বলিষ্ঠ শর্ত হলো শিশুদের সুস্থ সবল ও সুন্দর নীরব দেহ গঠনের মাধ্যমে গড়ে তোলা। সুতরাং বলিষ্ঠ শিশু গড়ে তুলতে হলে মায়েদের এ ব্যাপারে সতেচন ও শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বুকের দুধ

কেন বুকের দুধ খাওয়াবেন শিশুকে

বিশ্ব জগতের মালিক আল্লাহ তায়ালা মানব শিশুকে মায়ের গর্ভে ২৮০ দিন অতিবাহিত করে এ দুনিয়াতে আগমন করান। সেই সময় টুকুতে আল্লাহ তায়ালা মায়ের নাভীর সাথে একটি নালী সংযোগ করে শিশুকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। মা যা খান তার সারাংশ থেকে শিশু খাবার গ্রহণ করে। মানব সন্তানটি দুনিয়াতে আসার পর নাভী কাটার পর আর সয়ংক্রীয় ভাবে খাবার নিতে পারে না কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মায়ের স্তনে একটি শিশু কতটুকু খাবে কেমন করে খাবে তার পরিমাণ অবস্থা, তাপমাত্রা, ঘনত্ব, সর্বদিক পরিপুষ্ট করে দুধ সংরক্ষণ করে রেখেছেন। মায়ের বুকের দুধ এ কোন প্রকার জীবাণু নেই। কোন প্রকার ক্ষতিকর পদার্থ নেই। মানব শিশুর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বউৎকৃষ্ট পানীয় হলো মায়ের বুকের দুধ । মায়ের দুধের কোন বিকল্প নেই। কোনো খাবারই মায়ের দুধের সমতুল্য হতে পারে না। গ্রামবাংলার অনেক মায়েরা এখনও এ ব্যাপারে অজ্ঞতায় নিমজ্জিত। তারা শিশুর জন্য মায়ের দুধের গুরুত্ব কেমন বুঝে না। তাই শিশুকে পুরো সময় বুকের দুধ খাওয়ায় না বা খাওয়াতে চায় না। তাই সমাজে মায়ের এ ধারণা বদলাতে হবে। বেশী বেশী করে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। এ ব্যাপারে জনসাধারণও মায়েদের জাগিয়ে তুলতে হবে। সমাজের একজন মায়ের সন্তানও যেন মায়ের বুকের দুধ খাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। সে ব্যাপারে সবাইকে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

১৯৬৭ সালে প্রথম গুঁড়ো দুধ তৈরি হয়। তারপর নানা কোম্পানী নানা কৌশলে দুধ বাজারজাত করতে শুরু করে। ১৯৭৯ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ শিশুদের সঠিক ভাবে মায়ের দুধ ও পরিপূরক খাবার সংরক্ষণ, সহায়তা ও উন্নয়নের জন্য জেনভায় ১৫০টি দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সম্মেলন করেন। এতে গুঁড়ো দুধ বিক্রয়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিয়মরীতি গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালে মায়ের দুধের বিকল্প, বিপন্ন সংক্রান্ত বিধি গৃহীত হয়। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এর নিয়মরীতি কেউ পুরোপুরি পালন করছে বলে মনে হয় না। বিদেশ হতে বহু শিশু খাদ্য বা কৃত্রিম দুধ আমাদের দেশে আমদানি হচ্ছে। তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কতটুকু বাজারজাত করা হচ্ছে তা বলা বড়ই কঠিন। সুতরাং এসব শিশু খাবারগুলো আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে কোটার দুধ খেয়ে শিশু যদিও তুষ্ট পুষ্ট বা স্বাস্থ্যবান মনে হলেও এসব তাদের প্রকৃত স্বাস্থ্য নয়। ভবিষ্যৎ এসব শিশুরা অতিসহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। মায়ের দুধ মহান আল্লাহ তায়ালার অমূল্য নিয়ামত। তাই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে জন্মের পর শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মায়েরা তাদের সন্তান পূর্ণ ২ বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাবে।’ সূরা-আল বাকারা, আয়াত নং- ২৩৩। সুতরাং মায়ের বুকের দুধ নবজাতকের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রদত্ত একটি হক এবং জন্মগত অধিকার।

শিশুর জন্মের পরপরই আধা ঘণ্টার মধ্যে মায়ের কোলে নিয়ে শিশুকে বুকের প্রথম দুধ যত্ন সহকারে দিতে হবে। বুকের দুধ প্রথমে হলদে রঙের হয় এবং অনেক মায়েরা তা ফেলে দেন। সাবধান মায়ের বুকের প্রথম দুধ কোনোভাবেই ফেলে দেয়া যাবে না। এ দুধকে বলা হয় শালদুধ বা কলস্ট্রাম। এ দুধে “ইমিউনোগ্লোবিউলিন’’ নামক এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে। যা শিশুকে সকল প্রকার রোগ জীবাণু থেকে বাঁচিয়ে রাখে এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। এ দুধ শিশুর জন্য সব রোগের সারা জীবনের জন্য টীকা। বাহিরের বাতাসের সংস্পর্শে আসে না বলে এ দুধ সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত ও নিরাপদ। এ দুধে আমিষ হিসেবে ল্যাক্টএলবিউমিন এবং ল্যাক্টগ্লোবিউমিন থাকে। যা শিশুর মানসিক ও শারীরিক গঠনের জন্য অপরিহার্য। তাছাড়া মায়ের দুধে ল্যাক্টোফেরিন নামক একটি উপাদান থাকে তা কতগুলো মারাত্মক ব্যাকটোরিয়ার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। বুকের দুধ খেলে শিশুরা অস্বাভাবিক মোটা হয় না। পরবর্তী সময়ে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, পক্ষাঘাত, নান ধরনের ক্যান্সার, হাড়ের ক্ষয়, নিউমোনিয়া, এলার্জি, ডায়রিয়াসহ নানা রোগ থেকে রক্ষা পায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যেসব মায়েরা শিশুকে পুরো সময় বুকের দুধ খাওয়ান তাদের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, ডিম্বকোষের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। মায়ের দুধে আছে টরিন নামক এক প্রকার এমাইনো এসিড যা শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর স্মরণশক্তি বুদ্ধি বৃদ্ধি করে। এছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মা ও শিশুর মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠে।

জন্মের সাথে সাথে শিশুকে মায়ের দুধ দিলে মায়ের প্রসবজনিত রক্তচাপ বন্ধ হয়। এতে রক্তপাত কম হয়। ফলে মাকে রক্তশূন্যতায় ভুগতে হয় না। মায়ের গর্ভফুল পড়তে সাহায্য করে। জরায়ু তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আরো সুবিধা হচ্ছে ৬ মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে স্বাভাবিক ভাবে মায়ের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম থাকে। তাই দুধ খাওয়ানোর সময়কে প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও বলা হয়। তবে কোনো মা যদি পুরো আড়াই বছর পর্যন্ত শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে চান তাহলে এ সময় নতুন করে গর্ভধারণ করবেন না। কেননা গর্ভধারণ করলেই মায়ের দুধ তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। ফরে যে সন্তানটি আপনার কোলে আছে সে দুধ পাবে না। ফলে শিশুটি সুস্থ সবল হয়ে গড়ে উঠবে না। শিশুকে জন্মের পর থেকেই মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। প্রত্যেক শিশুর জন্যই মায়ের দুধ উতকৃষ্ট সুষম খাদ্য। মায়ের দুধে প্রায় সব ধরনের ভিটামিনই রয়েছে। আর অন্যান্য ভিটামিন শিশুর দেহে গ্রহণ করতে যে সময় লাগে তার তুলনায় অত্যন্ত কম সময় নেয় তা শিশুর দেহে গ্রহণ করতে। এ ছাড়া মায়ের দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে। এটি শিশুর প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখে। এর ক্যালসিয়াম ও জিংক শিশুর মজবুত হাড় গঠন করতে সহায়তা করে। মায়ের বুকের দুধ শিশুকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। মায়ের দুধে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি রয়েছে। এ কারণে যারা পর্যাপ্ত মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছে তাদের শরীরের অ্যান্টিবডি শক্তি অন্যদের চেয়ে গড়ে ১০ শতাংশ বেশি। বুকের দুধ নবজাতক শিশুকে মানসিক চাপমুক্ত রাখে। এ ছাড়া এর উপাদান কিডনির সমস্যা দূর করতেও সহায়তা করে। মায়ের দুধ শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের দ্রুত বিকাশ ঘটায় ও ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। মায়ের দুধে মাত্র ১৬ শতাংশ ফ্যাট থাকে। এ মাত্রা গরুর দুধ বা অন্যান্য পশুর দুধের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে এটি মানবশিশুর জন্য খুবই উপযোগী। মায়ের বুকের দুধ শিশুর হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়ক। শিশু এ খাবার খুব সহজেই হজম করতে পারে। এতে থাকা সব ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল শিশুর দেহে সহজেই প্রবেশ করে।

ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে বুকের দুধ

মায়ের বুকের দুধ তিনভাবে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে- ইমিউনোলজিক্যাল : অর্থাৎ বুকের দুধে আইজিএ থাকে, যা শিশুর দেহে ডায়রিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্ম দেয়। এই প্রতিরোধী পদার্থ ডায়রিয়ার জীবাণু বিশেষ করে রোটা ভাইরাস, ই-কলাই ও ভিব্রিও কলেরার বিরুদ্ধে বেশি কার্যকর।

নিউট্রিশিনালি : মায়ের বুকের দুধে প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। ফলে শিশুর অপুষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

ডেভেলপমেন্টালি : বুকের দুধের কিছু উপাদান শিশুর অন্ত্রনালীর মিউকাস মেমব্রেনকে পরিপক্ব করতে সহায়তা করে, ফলে ডায়রিয়ার জীবাণু অন্ত্রনালীকে সংক্রমিত করতে পারে না। অতএব মা তার সন্তানকে সঠিক অবস্থানে বসিয়ে বা রেখে এবং নিজে সঠিক অবস্থানে বসে বুকের দুধ দিলে শিশুর বুকের দুধ না পাওয়ার কোনো কারণ থাকে না।পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে সব শিশু মায়ের দুধ খায় বা খেয়েছে এবং যারা খায়নি বা খাচ্ছে না, এদের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের অনুপাত যথাক্রমে শতকরা ২২:৫৮ ভাগ এবং যে সব শিশু বুকের দুধ খায় বা খেয়েছে এরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। আর যারা বুকের দুধ খাচ্ছে না বা খায়নি তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি। আরও একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যে সব শিশুর ডায়রিয়া চলাকালে বুকের দুধ খাওয়া চলমান রেখেছে তাদের শরীরে খনিজ লবণ ও প্রয়োজনীয় খাবারের উপাদান অন্ত্র থেকে রক্তে সহজে শোষিত হয়।

বুকের দুধ পান করা শিশুরা বেশি বুদ্ধিমত্তা হয়

নতুন প্রজন্মের মায়েদের জন্য বিষয়টি জানা অত্যন্ত দরকারি। কারন নতুন মায়েদের তাদের বাচ্চাদের বুকের দুধ পান করানোর প্রবণতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কিন্তু সন্তানের জন্য বুকের দুধের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের পুনরায় ভাবার সময় এসেছে। ব্রাজিলের মাঝারি আকৃতির শহর পিলোটাস এ ১৯৮২ সালে জন্ম নেয়া প্রায় ৫ হাজার শিশু এবং তাদের মায়েদের উপর চালানো এক গবেষণায় একটি বিষয় আবারো স্পষ্ট হয়েছে যে, মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। গত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই শিশুদের মধ্যে ৩ হাজার ৪’শ ৯৩ জন প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে এইসব প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তারাই সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে যারা ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করেছে। এদের ন্যূন্যতম বুদ্ধিমত্তা ১০১.৩ পয়েন্ট পক্ষান্তরে যারা অন্তত ১ মাস বুকের দুধ পান করেছেন বা করেনইনি তাদের বুদ্ধিমত্তা ৯৬.৬ পয়েন্ট। যারা ৬-১২ মাস বুকের দুধ পান করেছেন তারা গড়ে ১২.১ বছর স্কুলে কাটিয়েছে এবং তাদের গড় বেতন মাসে ৫৮৮ মার্কিন ডলার বা ৪৮ হাজার টাকা পক্ষান্তরে যারা অন্য উপায়ে বেড়ে উঠেছেন তারা স্কুলে পড়াশোনা করেছেন ১০.৯ বছর এবং তাদের গড় বেতন ৩৮০ মার্কিন ডলার ৩০ হাজার টাকা। শুধু এসবই নয়। মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব আছে আরো অনেক ক্ষেত্রেই। এর ফলে শিশুর খাবার কেনার জন্য বাড়তি খরচের দরকার হয় না। আবার শিশুর রোগবালাই অনেক কমে যায় পক্ষান্তরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় যা একজন মানুষের সারা জীবন কাজে লাগে।

পরিশেষে – গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশু নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয় তার মানসিক ভাবে সুস্থ হওয়ার ও পরিবারের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এমনকি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি অন্যদের তুলনায় ভালো হয়। তাই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান এবং একটি সুস্থ্য সবল জাতি গড়তে সহয়তা করুন।

135 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন