বিল গেটস এর সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী

বিল গেটস এর সংক্ষিপ্ত জীবন কাহিনী
5 (100%) 1 vote

বিল গেটস পৃথিবী বদলে দেওয়া মানুষদের মধ্যে একজন। বিল গেটস (জন্ম ২৮ অক্টোবর,১৯৫৫) ওয়াশিংটনে উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বিল গেটস এর পিতার নাম উইলিয়াম হেন্‌রী গেটস সিনিয়র, যিনি একজন প্রসিদ্ধ আইনজীবী (অবসরপ্রাপ্ত)। মাতার নাম মেরি ম্যাক্সয়েল গেটস। বিল গেটস এর ক্রিস্টিয়েন নামে এক বড় বোন আর লিব্বি নামের এক ছোট বোন আছে। বিল গেটস ১৯৯৪ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে (মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ) কে বিয়ে করেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বিল গেটস

বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মজীবনঃ ১৯৭৩ সালে Lakeside school থেকে তাঁর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হয়। ১৯৭৩ সালেই তিনি হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখানেই তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে Steve ballmer এর সাথে। তিনিই হলেন বর্তমান মাইক্রোসফটের সহকারী পরিচালক। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বছরে কিছু পোগ্রামিং সমস্যার একটা সিরিজ সমাধান করে ফেলেন। ৩০ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে দ্রুততম সিরিজ সমাধান ছিল। যদিও বিলের বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে উকিল হবে। তবে তাঁর বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরনে তেমন আগ্রহী হতে দেখা গেল না। অবশ্য তেমন কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না যে সামনে কিভাবে নিজেকে যোগ্য করবেন। তবে তাঁর মন ঐ কম্পিউটারের পিছনেই পড়ে থাকত। শেষে তিনি স্কুলের সেই বন্ধু পল এল্যানকে আসতে বললেন হাভার্ডে। মূলত বন্ধুর ডাকেই সাড়া দিয়ে হাভার্ডে যোগ দিলেন পল।

এর মাঝে  Micro instrumentation and telemetry system (MITS) Altair 8800 নামে একটি মাইক্রো কম্পিউটার বের করে বাজারে। Altair 8800 বের হওয়ার পর বিল গেটস MITS এর সাথে যোগাযোগ করলেন। তিনি তাঁদের জানান যে তাঁদের Altair 8800 তে তিনি নতুন কিছু প্রোগ্রাম যুক্ত করতে চান। MITS এর প্রেসিডেন্ট বেশ আগ্রহ দেখালেন। তিনি বিলের কাছে Demo চেয়ে বসলেন। বিল গেটস BASIC নামে একটি demo তৈরি করেন। MITS তাঁদের কম্পিউটারে Demo ব্যাবহার করে বিস্ময়কর ফলাফল পান। ঐ প্রোগ্রাম নিয়ে পরবর্তীতে MITS তাঁদের নতুন এডিশন ছাড়ে।

মাইক্রোসফটের সূচনাঃ বিল গেটস পলের সাথে পার্টনারশীপে একটি অফিস খুলেন। নিউ মেক্সিকোর ‘’Albuquerque’ নামে এক এলাকায় প্রথম অফিস খুলেন। ১৯৭৬ সালের ২৬ নভেম্বরে মেক্সিকোর বানিজ্য সচিবের অনুমতিক্রমে MITS এর আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান খুলেন। এটাই ছিল Microsoft এর প্রথম অফিস।
পরে ১৯৭৭ সালে MITS থেকে Microsoft সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে পড়ে এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট এর উপর কাজ করতে থাকে। বিল ভাবলেন তাঁর প্রতিষ্ঠানকে তাঁর নিজ দেশে নিয়ে যেতে হবে। তিনি নিউ মেক্সিকো থেকে Microsoft কে ওয়াশিংটন শহরের Bellevue শহরে নিয়ে আসেন। এখানে এসে কোম্পানীর জন্য লোন খুজতে শুরু করলেন। নতুন কোম্পানী বলে কেউই লোন দিতে রাজি নয়। অনেক চেষ্টা করে কাছের এক ব্যাঙ্ক থেকে লোন পান তিনি।

১৯৮০ সালে IBM একক ব্যবহারের জন্য একটি কম্পিউটার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। Acron ছদ্মনামে একটি গোপন প্রজেক্ট শুরু করে। এই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম তৈরির জন্য Microsoft কে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপরে Pc-dos নামক একটি অপারেটিং সিস্টেম IBM কে দেয়া হয়। IBM এটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৮৫ সাল বিল গেটস এর স্বপ্ন পূরনের বছর। বিল গেটস স্বপ্ন দেখেছিলেন নিজেদের তৈরি একটা অপারেটিং সিস্টেম তিনি বাজারে ছাড়বেন। ২০ নভেম্বর Microsoft প্রকাশ করলো তাঁদের প্রথম অপারেটিং সিস্টেম Windows 1.0.। ১৯৯২ সালের দিকে তিনি IBM এর আওতা থেকে মুক্ত হলেন। অর্থাৎ তিনি সম্পুর্ন আলাদাভাবে Microsoft Windows এর এডিশন গুলো ছাড়তে লাগলেন। Microsoft এর বাজার ভালো হতে লাগল। আস্তে আস্তে Microsoft বাজারে বেশ ভাল ভাবে আসন নিয়ে নিল।

সাফল্য এবং সাফল্যঃ বিল গেটসকে আর পিছনে তাকাতে হয় নি। বরং সবাই অবাক হয়ে তাকে দেখেছে। Microsoft এর কাজ দেখেছে। কারন ঘরে ঘরে কম্পিউটার চালনা মূলত তাঁর অপারেটিং সিস্টেমের কারনেই হয়েছে। কারন Windows ছিল চিত্রভিত্যিক অপারেটিং সিস্টেম। আগে যেমন কোড লিখে লিখে কম্পিউটার চালাতে হত সেটি আর থাকছে না। এর ফলে কম্পিউটার চালানো সহজতর হয়ে গেল। অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমের চেয়ে Windows চালানো সহজ। যার কারনেই Microsoft এর ব্যাপক সাফল্য পায়। ১৯৮৭ সালে Fobers পত্রিকায় ৪০০ বিলিওয়ানের মধ্যে তাঁর নাম চলে আসে। বিল গেটস এর বয়স তখন মাত্র ৩২ বছর। তখন তাকে স্বীকৃতি দেয়া হয় নিজের আত্ম প্রচেষ্টায় হয়ে ওঠা সবচেয়ে কম বয়স্ক বিলিওনার। তখন সম্পদের পরিমান ছিল ১.২৫ বিলিওন। কয়েকদিনের মধ্যেই আরো যোগ হল ৯০০ বিলিওন। ১৯৯৩ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত তিনি ছিলেন Fobers পত্রিকা জরিপে বিশ্বের ১ নাম্বার ধনী ব্যাক্তি। ছিলেন টানা ১৬ বছর। ২০০৫ সালে টাইমস বিল গেটসের স্ত্রী ‘মেলিন্ডা’ কে “person of the year “ এর পুরষ্কার হিসেবে ভূষিত করেন। ২০০৫ সালেই ইংল্যান্ডের রানী ২য় এলিজাবেথ তাকে  (KBE)” পদকে ভূষিত করেন।

এমনই অনেক পুরষ্কারেই বিল গেটস ভূষিত। ২০০৮ সালে তিনি Microsoft থেকে অবসর নেন। অবসর নেয়ার পর তিনি তাঁর দাতব্য সংস্থ্যাগুলোর প্রতি মনোযোগ দেন। দরিদ্র দেশ গুলোতে এবং নানা ধরনের মহামারীতে তিনি অর্থ অনুদান করতে থাকেন। প্রযুক্তি যেন সবখানে পৌছতে পারে সেদিকে তিনি নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন।

ব্যাক্তিগত জীবনঃ ব্যাক্তিগত জীবন বলতে স্ত্রী মেলিন্ডা ও তিন সন্তান। ২ মেয়ে Jennifer Katharine ও Phoebe Adele এবং একমাত্র ছেলে Rory John। এত অর্থ সম্পদের মালিক বিল গেটসের জীবন খুব সাধাসাধি ভাবে কাটাতে ভালবাসেন। ওয়াশিংটনের মেডিনার লেকে পর্বত মুখি ছিমছাম বাড়ি তাঁর। এই বাড়ির নাম ‘The Gates Home’। ৬৬০০০ বর্গফুটের এই বাড়িতে ৬০ ফুট গভীর সুইমিংপুল। সুইমিংপুলের সাথে ওয়াটার মিউজিক সিস্টেম। আরো আছে ২৫০০ ফুটের ব্যামাগার এবং ১০০০ ফুটের ডাইনিং স্পেস। বিশাল ব্যাপার! এছাড়া তিনি একজন লেখকও বটে। অনেক পত্রিকায় তিনি গবেষনামূলক লেখা লিখেছেন।

সফল বাক্তিত্যদের নিয়ে সংক্ষেপে কিছু লেখা সহজ কথা নয়। তাঁর সাফল্যমন্ডিত জীবনের ব্যাখ্যা অতি অসম্ভব – সাফল্য যেখানে তাঁর পায়ে পায়ে। প্রযুক্তিতে তার যেই অবদান তা খুব কম মানুষের দ্বারাই সম্ভব।

102 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন