বাবাকে নিয়ে কবিতা

বাবাকে নিয়ে কবিতা
4.8 (95%) 4 votes

বাবাকে নিয়ে কবিতা কার না ভালো লাগে। বাবাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন বাংলা সাহিত্যের নামকরা অনেক কবি। বাবা একটি মধুর ডাক। বাবা এমন তার কাছে সন্তানই সব। আদর, ভালবাসা, মায়া-মমতায় জড়িয়ে রাখেন আষ্টেপৃষ্ঠে। সন্তানের জন্য তার কত উৎকণ্ঠা, ত্যাগ-তিতিক্ষা! এক কথায় অতুলনীয়। হয়তো বাবা বলেই সম্ভব। কেননা তার সঙ্গে সন্তানের যে রক্তের বন্দন! মায়ার বন্দন! তাই তো সন্তানও বাবাকে ভালবাসে পরম শ্রদ্ধায়। তাকে তুলে রাখে হৃদয়ের মণিকোঠায়। যারা বাবার কাছ থেকে দূরে থাকে, তারাও বিভিন্ন ভাবে চিঠিতে, ফোনে বাবাকে কাছে রাখে। বাবাকে নিয়ে কবিতা গুলো আমাদের মনে এক অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বাবাকে নিয়ে কবিতা

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১)

বাবা
সঞ্জয় সরকার

যেদিন আমি ছোট্ট ছিলাম
যুবক ছিলেন বাবা
সে দিনটি আসবে ফিরে
যায় কি তা আজ ভাবা?

বাবার কাছেই হাঁটতে শিখি
শিখি চলা-বলা
সারাটি দিন কাটতো আমার
জড়িয়ে তার গলা।

বাবার হাতেই হাতেখড়ি
প্রথম পড়া-লেখা
বিশ্বটাকে প্রথম আমার
বাবার চোখেই দেখা

আজকে বাবার চুল পেকেছে
গ্রাস করেছে জরা
তবু বুঝি বাবা থাকলেই
লাগে ভুবন ভরা।

বাবা এখন চশমা পড়েন
পার করেছেন আশি-
আজো তাকে আগের মতোই
অনেক ভালোবাসি।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (২)

বৃদ্ধাশ্রম
সায়ীদ উসমান

এই বাড়ি এই ঘর এই সংসার
তিলে তিলে সাজানো সে বাগান আমার
এ বাগানে ফুল ছিল ঘ্রাণও ছিলো তার
বিমোহিত হতো ঘ্রাণে হৃদয় সবার।

আজো আছে সেই ফুল নেই শুধু ঘ্রাণ
সে ফুলের কাঁটাতেই ক্ষত এই প্রাণ
গর্ভের সন্তানও হলো বেঈমান
বৃদ্ধাশ্রমই তাই ঠিকানা আমার।

স্বামী ছিলো ছেলে ছিলো আজ কেউ নাই
ঘর ছিলো বাড়ি ছিলো আজ নেই ঠাঁই
তবু খোকা সুখি হোক সর্বদা চাই
সাথী হয়ে থেকো প্রভু আমার খোকার।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৩)

বাবা
একান্ত চৌধুরী রানা

দেয়ালে টানানো ছবিটা
আর কেহ নয়, হারিয়ে যাওয়া বাবা,
হঠাৎ চোখে পড়তেই, গুমরে কাঁদে মনটা,
ছোট্টবেলায় হাতটি ধরে বাবা যেত বাজারে
কাঁধে চড়ে যেতাম আমি পাগলা বাবার মেলাতে,
ঈদের গরু কিনতে গিয়ে বলতো আমায় চলরে্ বেটা
খুশীতে মন নাচতো দোলায়, দিন কাটে হায় বাবাকে ছাড়া।
বাবার কথা মনে পড়লেই, নাড়া দেয় এই হৃদয়টা
এখন বুঝি বাবার কদর, বৃথাই বুঝি জীবনটা,
বাবা তুমি কেমন আছো, অন্ধকার ঐ কবরটায়
জানতে ইচ্ছে করে অনেক, তোমার স্মৃতি শুধুই কাঁদায়।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৪)

বাবা আপনজনা
শাহনূর শাহীন

ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমে
আনেন খাদ্য কণা
আর কেহ নন তিনি আমার
বাবা আপনজনা।

নিত্য সকাল ভোর বেলাতে
যায় ছুটে যায় মাঠে
আহার বুনেন ক্ষেত খামারে
ফসলি তল্লাটে।

সন্ধ্যা সাঁঝে ফিরেন ঘরে
রৌদ্র মাখা দেহ
স্বার্থ বিহীন এমন মানুষ
ধরাতে নেই কেহ।

বাবার ছবি বুকে আঁকা
বাবা মনের কাবা
জগত মাঝে নেই তুলনা
বাবা আমার বাবা।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৫)

বাবা
শাফায়েত

মনের স্মৃতির জানালা খুলে
তোমায় মনে পড়ে,
কোথায় তুমি লুকিয়ে আছো
আমায় একা ফেলে।

তোমার মতো প্রতিদিন কেউ
করে না আমায় শাসন,
মনে পড়ে তোমার বকানি-
তোমারই কথা ভীষণ।

প্রায়ই তোমায় স্বপ্ন দেখি
এসেছো আবার ফিরে,
স্বপ্ন শেষে খুঁজি তোমায়
কোথায় হারিয়ে গেলে।

পড়তে বসে তোমার কথা
খুব বেশি মনে পড়ে,
বলতে তুমি বাবা আমায়
পড়ো মনোযোগ দিয়ে।

মনে পড়ে তোমায় খাওয়ার টেবিলে,
মনে পড়ে যায় স্মৃতি
নিজের পাতের খাবার আমায় তুলে দিয়ে বলতে-
বাবা তুমি খাও বেশি।

মনে পড়ে তুমি ঘুমের সময়,
পাশে বসে থাকতে।
না ঘুমানো পর্যন্ত আমার-
মাথা টিপে দিতে।

বাবা কোথায় তুমি হারিয়ে গেলে,
কোন অচিনপুরে?
তোমায় ছেলে কাঁদছে বাবা-
কাঁদছে একা বসে।

কতদিন আমি দেখি নি তোমায়,
দেখি নি দু’চোখ ভরে,
এসো তুমি কাছে আমার
এসো বাবা ফিরে।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৬)

মা বাবা
অহিদ উদ্দীন

যতই থাকুক দুঃখ জরা ভার,
মায়ের মত কেউ নাই আপনার।
আমার, দেখলে মায়ের মুখ,
প্রানে জাগে ভুবন ভরা সুখ।

সামনে যতই থাকুক দুঃখ ভয়,
বাবা আছেন বটের ছায়াময়,
আমার, দেখলে বাবার মুখ,
দূরে যায় সকল দুঃখ শোক।

মা বাবাকে ঘিরে সারা বেলা,
তাদের নিয়ে আমার সুখের খেলা,
আমার, দুঃখ কোন নাই,
মা বাবার দোয়া যদি পাই।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৭)

বাবার চিঠি
হুমায়ূন আহমেদ

আমি যাচ্ছি নাখালপাড়ায়।
আমার বৃদ্ধ পিতা আমাকে পাঠাচ্ছেন তাঁর
প্রথম প্রেমিকার কাছে।
আমার প্যান্টের পকেটে সাদা খামে মোড়া বাবার লেখা দীর্ঘ পত্র।
খুব যত্নে খামের উপর তিনি তাঁর প্রণয়িনীর নাম লিখেছেন।
কে জানে চিঠিতে কি লেখা – ?
তাঁর শরীরের সাম্প্রতিক অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা ?
রাতে ঘুম হচ্ছেনা, রক্তে সুগার বেড়ে গেছে
কষ্ট পাচ্ছেন হাঁপানিতে – এইসব হাবিজাবি। প্রেমিকার কাছে
লেখা চিঠি বয়সের ভারে প্রসঙ্গ পাল্টায়
অন্য রকম হয়ে যায়।
সেখানে জোছনার কথা থাকে না,
সাম্প্রতিক শ্বাসকষ্ট বড় হয়ে উঠে।
প্রেমিকাও একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর
রোগভুগের কথা পড়তে ভালবাসেন।
চিঠি পড়তে পড়তে দরদে গলিত হন –
আহা, বেচারা ইদানিং বড্ড কষ্ট পাচ্ছে তো

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৮)

আমি যদি বাবা হতাম
শিবুকান্তি দাশ

আমি যদি বাবা হতাম বাবা যদি ছেলে
সারাটা দিন পার করত নানান খেলা খেলে
আমি কিন্তু একটুও না বকা দিতাম তাকে
ঘুড়ি নিয়ে খেলবে খেলুক ছেলেমেয়ের ঝাঁকে।

আমি যদি বাবা হতাম বলে যেতাম এই
আঘাত আসুক তবু হারিও না খেই
ইচ্ছা হলে ইশকুলে যাও নয়তো হাওয়া খাও
না হয় তুমি মনটা খুলে ভাটিয়ালি গাও।

লেখাপড়া শিখলে সবাই চাকরি কি আর পায়?
জ্ঞানী-গুণী হতে হবে নিজেরই চেষ্টায়
নিজের ভালো নিজে তুমি নাই-বা যদি বোঝো
বাবার যত সাহস থেকে তোমার সাহস খোঁজো।

ছেলেরা তো পাখির মতো মুক্ত স্বাধীন তাই
তাদের মতো গড়তে দাও তাদের জীবনটাই।
দেখবে তারা শিখবে তারা বিশ্ব করবে জয়
তাদের হাতের আবিষ্কারে দেখাবে বিস্ময়।

আমি যদি বাবা হতাম ছেলে হতো স্বাধীন
খুশি মনে পড়ত এবং নাচত তাধিন তাধিন।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (৯)

সুজন সাজু
বাবা আমার

বাবা আমার হাসে যখন পাঁপড়ি ফুল ঝরে,
পাঁপড়িগুলো পরশ বুলাই মায়ার আদর করে।
আমিও তখন হারিয়ে যাই অন্য জগৎ মাঝে,
মনের ভিতর শব্দ ঝরে আনন্দেও ঢোল বাজে।
স্বপ্ন খুশির পেখম মেলে আকাশ পাড়ে উড়ি,
হাসি মাখা মুখটি বাবার নাইকো রূপের জুড়ি।
বাবা যখন কাজের শেষে আদর দিতে আসে,
চিত্ত মাঝে নৃত্য করে আমোদে যায় ভাসে।
খোকা বলে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গনে মেখে,
মিষ্টি মুখো চুমো ঢালে বুকের মধ্যে রেখে।
তখন আমার হুশ থাকেনা কোথায় আছি আমি,
ঊাবা যে আমার ছায়া হয়ে থাকে ডানে বামই।
বাবা আমার শিক্ষা দেয় সৎ ও নীতির বানীতে,
কখনো না ব্যস্ত থাকবি করতে পরের গ্লানিতে।
পরের ভালো খুঁজবি শুধু মন্দ কভু নয় যে,
খারাপ খুঁজে মন্দরা সব কাজটা তাদের হয় যে।
বাবার আদেশ পালন করি লালন করি বুকে,
বাবা মায়ের দোয়া নিয়ে আছি তো বেশ সুখে।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১০)

শাহাদাৎ শাহেদ
বাবার ছবি

ডেডি বাপি পাপ্পা বলি
আব্বা বাবা ফাদার,
তুমি শুধুই তুমিই বাবা
বাদ বাকিরা আদার।

হাঁটতে গেলে আমার ছায়ায়
তোমার প্রতিচ্ছবি,
তুমি আমার কাব্য বাবা
আমি যখন কবি।

আমার শিরায় তোমার লোহিত
রক্ত চলে ববা,
তোমায় ছাড়া আমার জীবন!
যায় না মোটেই ভাবা।

এদিক তাকিই, ওদিক তাকাই
সব দিকেই তুমি!
এই ধর নাও- এই কবিতায়
আঁকা তোমার ছবি।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১১)

সবচে দামি
শিবুকান্তি দাশ

জানো,
কখন আমার দুঃখ মনে আসে
আমায় যখন কেউ না ভালোবাসে
তাকিয়ে থাকি আকাশ পানে চেয়ে
অশ্রু ঝড়ে আমার দু’চোখ বেয়ে।

রাতের আকাশ তারায় তারায় জ্বলে
ওরা আমায় যায় না কিছু বলে
আমার শুধু কান্না আসে জোরে
জুই চামেলি গন্ধ ছড়ায় ভোরে।

দুপুর রোদে সবাই থাকে ঘরে
আমার ভেতর উথাল পাতাল করে
কিসের দুঃখ কিসের ব্যাথা আমার?
বাবার কথায় মনে পড়ে বারবার।

বাবা আমার হারিয়ে গেছে কবে
মুখ ফিরিয়ে নেয় যে এখন সবে
বাবার কাছে মানিক ছিলাম আমি
এখন বুঝি বাবায় হচ্ছে দামি।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১২)

পিতা
ফাইয়াজ ইসলাম ফাহিম

পিতা নেই তাই মম ভালবাসার রাজ্যে আজ দৈন্যের বাসা,
পিতা সতত ভালবাসত মোরে
পূর্ণ করত সকল আশা।

পিতা কখনো দিত না কোন কার্য করিতে
শুধু চেষ্টা করিত মোর মনে ভালবাসা ভরিতে,
পিতার ভালবাসা পেয়ে হয়েছি আমি তিক্ত
আজ ভালবাসার ভান্ডার নেই রিক্ত?

সবার কাছে হয়েছি আজ অবহেলার পাত্র
যে যার মত ব্যবহার করে
ফেলে দেয় যত্রতত্র।

পিতার মত আর ভালবাসে না মোরে কেউ
সবাই শুধু কুকুরের মত করে ঘেউ ঘেউ,
আমি যেন পঁচে গেছি পিতার ভালবাসা ক্ষয়ে
পিতা বিহীন আমার জীবন যাচ্ছে আজ লয়ে।

কোন কার্য করতে পারি না কিছুই নাহি জানি
কোন কার্য করতে গেলে পিতার হতো সম্মোহানী,
আজ পিতা নেই নেই পিতার ভালবাসা
কবিতা লেখার উৎসাহ দিত যদিও বা মম বাবা চাষা?

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৩)

অহংকার
শিবুকান্তি দাশ

আমার বাবা তিনি
যে আমাকে আমি হতে
সৃষ্টা ছিলেন যিনি।

আমার বাবা স্বাধীনচেতা
মুক্ত মনন মান্য
আমার বাবা মহান পুরুষ
শ্রেষ্ট এবং অনন্য।

তিনি আমায় শিখিয়ে গেছেন
মানুষ বাসতে ভালো
অন্ধকারকে দূর করিতে
জ্বালিয়ে দিতে আলো।

সত্য ন্যায়ের পথ চলিতে
শিক্ষাটা পায় বাবার
বাকা পথে পা না দিয়ে
সোজা পথে যাবার।

পরের দুঃখে দুখী হয়ে
বাবার জীবন পার
বাবা আমার গর্ব গৌরব
বিশাল অংহকার।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৪)

বাবা
আবুসিদ্দিক বাদল

বাবা দিবসের এ দিনে,
বুক ফুঁলিয়ে বলতে পারি,
আমার কাছে আমার বাবা, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা।
সন্তানের জন্য বুকে আমার চাপা কান্না। বুঝেছি ,
এখন যে আমি সন্তানের বাবা।
এখন বুঝি ,বাবার বুকে কস্ট জমা, শুধু মাত্র আমিই দায়ী।
তবুও আমার প্রতি বাবার কতযে মায়া।
যেমনটি লাগে আমার কাছে, আমার সন্তানের জন্য মায়া।
বাবা দিবসে প্রার্থনা কামনা সকলের তরে ,
বাবার পথচলার সঙ্গী হয়ে থাকতে যেন পারি,
প্রতিটি দিনও রজনীতে।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৫)

বাবা, ভালো থেকো
সাঈদুল হাসান

যে আমি না ছিলাম আকার
ঘুমিয়ে ছিলাম অন্ধকার,
যে তুমি জাগিয়েছিলে মোরে
দু হাতে সরিয়ে দুরে অন্ধকার ,
শ্বাপদসংকুল বন্ধুর এই পৃথিবীর পরে
সে তুমি আজ আমাকে ছেড়ে কত দুরে-কত দুরে
তোমায় আজো আমি খুঁজে ফিরি ফেরার পথ ধরে,
বাবা তুমি কোথায় আছ ?
কেমন আছ ?
বাবা ভালো আছ তো ?
তোমাকে হারিয়ে বাবা,
আমি নেই ভালো নেই
বাবা হারা জীবনে আমার যেন এক চিলতে আলো নেই,
তোমাকে ছাড়া কি ভালো থাকতে পারে কেই ?

যে তুমি হাতে কলম দিয়েছিলে তুলে
যে তুমি হাতে ফলা দিয়ে দানি তমোসায় ঠেলে
যে তুমি ক্লান্তি শ্রান্তিতে চুমো দিতে গালে
যে তুমি ঠিকানা দিতে পথ ভুলে হলে
আরো করে জন্ম দিলে নমৃত শান্তির ছায়াতলে
সে-ই সে তুমি প্রিয় আমার কোথা চলে গেলে ভুলে
কন্টক বিছানো পথে মোরে একা ফেলে
সে তোমাকে স্মরি জনম ধরি লোনা জল ফেল এ
না দেখা ঐ মালিকের ক্ষমা শান্তির আসমানী অমৃত তলে
বাবা, আমি তোমাকে যায়নি কখনো ভুলে
পারব না কখনো থাকতে তোমাকে ভুলে ।

পরে বলে , জিন্দা আমি মৃত তুমি
আমি ত দেখি তুমি পূবের চেয়ে উ
জেগে আছো মোর আদ্যপ্রান্তের আবাসভূমে।

ভুলি নি বাবা, ভুলি নি আমি
তোমার হাতের পরশ ছোঁয়ার অনুভূতি
তোমার ঠোঁটের আশীষ আবেগ স্মুতি
হাত ধরে জীবনের পথে পথ চিনে নিতে
বন্ধুর পথে একাকী নামিয়ে দেবার ভীতি,
ভুলি নি বাবা ভুলি নি মোর জীবনে তোমার অবদান
যতদিন জেগে রব ততদিন তুমি মোর আসমান
তুমি না জাগালে পরে আমি কোথায় থাকতাম ?
কৃতজ্ঞতাপাশে এক অদৃশ্যসত্ত্বারে জানায় অগণন সেলাম
তোমাকে আমার চাইতেউ ভালোবাসি বাবা, যেমনকি
রাখতে তুমি তোমার বুকের গুলিস্তান, বাবা তোমাকে
দিব আমি জান্নতুল ফেরদাউসে বাসস্থান ।

পুরোনো অস্থিত্ব হাড় হাড্ডি কংকাল খুঁড়ে খুঁড়ে
আজো সঙ্গোপনে নিজেকে সঙ্গী করে
রংহারা আমি তোমাকে খুঁজে ফিরি বাবা
রং ছড়ানো এই ব্যস্ততার হাটবাজারে।
পুরোনো আদেশ নিষেধকে জ্বালিয়ে-জ্বালিয়ে
হীরের টুকরো করে বাঁধিয়ে রাখি হৃদয় ঘরে
তোমাকে ভালোবাসি বাবা আমার করে ।

রাতের বালিশে জলের পরশে দিয়ে যায় আজো জ্যোতি
কে কবে পেরেছে ভুলতে তোমার শাসন-সোহাগের-স্মৃতি ?
বাবা,তুমিই আমার এ জীবনের অন্ধকারের দ্বীপ্তি ভাতি
তুমি থাকবে জেগে আমার বিদায়ী সন্ধা গীতি ।

আদেশে যার এসেছিলে এপার,আজ
তারই আদেশে গিয়েছ ওপার,
জলে যে ডুবি নি-ভাসি না এখনো জলে
তা সত্যি নয়, শূন্যতা সইতে যে শিখিয়েছিলে তুমি
সবচে বাসতে হবে ভালো নবীর প্রেমে চুমি
তারচেয়ে বাসতে হবে এক নিধিতে নমি নমি,
তাইতো তোমার প্রস্থান অনুপস্থিতির অন্ধকারে
তোমার জন্য ক্ষমা আর দুয়া যায় চেয়ে চেয়ে
নমাজ রোজা সালাম জানায় বারে বারে
অবিনশ্বর-অধিশ্বর এক পরমেশ্বরের তরে,
চিন্তা করো না পরম প্রিয় পিতা আমার–
তোমাকে রাখব ভালো
যেমনটি রেখেছিলে তারচে ভালো,
তোমার গোরে অন্ধকারে
সন্তান তোমার জ্বেলে দেবে আলো
রোজ হাশরের পুলসেরাত
উতরে দেব চোখের পলকে,
এপার পারে কখনো যাবো না ভুলে
পারব না যেতে ভুলে
বাবা, তোমাকে আমি রাখব ভালো
তুমি থাকবে ভালো
তুমি থেকো ভালো
তুমি আমার অন্ধকারের জান্নাতী আলো
বাবা,তোমাকে আমার চাইতে বাসি ভালো
বাবা,তুমি থেকো ভালো ।
বাবা,তুমি থেকো ভালো ।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৬)

আমার বাবা
নজরুল ইসলাম হাবিবী

আমার বাবা বাবাই ছিল
রাগ ছিল না তাঁর,
সারা জীবন কষ্ট করে
গড়েন এ সংসার।
কৃষি ছিল জমি ছিল
ছিল দোকান পাট,
তাঁর ব্যবসা আজও আছে
রমজান আলীর হাট।
দোকান শেষে বিলে গিয়ে
করত জমি চাষ,
এই নিয়মে জীবন কাটে
বহু বছর মাস ।
তাঁর ছেলেরা স্কুলে যায়
যায় ভার্সিটি কলেজ
এ ছিল তাঁর গর্ব বড়
বুকে ছিল তেজ।
বাবা ছিলেন সুখি মানুষ
হাসি খুশি মন,
নামাজ কুরআন সাথী ছিল
সারাটি জীবন ।
মানব সেবা করত বাবা
মিশত সবার সাথে,
হজ্জ করেছে, দান করেছে
নিত্য দুটি হাতে ।
দেখতে ছিল আলাভোলা
ছোট্ট শিশুর মত,
মোদের হাজার কসুর বাবা
মাফ করিয়া দিত।
আজ বাবা নেই, আছে তাঁহার
সফল কয় জন ছেলে,
ধন্য আমি আমার মালা
দিয়েছি তার গলে।
ভরসা আমার, মোর বাবা মা
রইবে আমার সাথে
এক বেহেস্তে, খোদার দয়ায়,
খোদার রহমতে।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৭)

আমার বাবা
সফিউল্লাহ আনসারী

বাবা আমার হাতটি ধরে
সামনে চলার ইচ্ছে জাগায় প্রাণে
বাবা থাকেন ছন্দ এবং
নিয়মসুচির বাস্তবতার ঘ্রাণে।

শিশু কিশোর দিনগুলিতে
বাবা থাকেন ভরসা হয়ে সাথে
হাতটি থাকে শক্ত বাঁধন অটুট
চলার পথে সদাই দিনে রাতে।

সাহস জোগান সুদৃঢ় বিশ্বাসে
জীবন ভরান ছন্দ এবং সুরে
শতেক দুখেও আমার বাবা কভু
আমার থেকে যাননি সরে দুরে।

বয়েস হল ভরসা বাবাই তবু
বাবাই আমার স্বপ্নকে দেন গড়ে
সকল কাজেই বাবার মায়ের ছোঁয়া
বিলিয়ে দেন আদর অকাতরে।

নাম দুখানি নিখাদ স্নেহে ঘেরা
অমূল্য ধন তাঁরাই সবার সেরা।

বাবাকে নিয়ে কবিতা – (১৮)

বাবা-ছেলের গল্প
আতিক হেলাল

বাবাই প্রথম শিক্ষক আমার
বাবাই আমার গুরু
চক, পেন্সিল, কলম ধরা
বাবার কাছেই শুরু।

হাত ধরে তার হাটতে শিখি
জীবন চলার বাঁকে
বন্ধুর-পথে বন্ধুর মতো
কাছে পাই শুধু তাঁকে।

ছেলেকে ‘মানুষ’ বানাবেন বলে
শত কষ্টকে ভুলে
দিন-রাত খেটে মুখে ভাত, হাতে
বই দিয়েছেন তুলে।

সেই ছেলে নাকি ‘শিক্ষিত’ আজ
‘বড়’ হয়ে গেছে কতো !
বাবার কথাকে মনে হয় যেন
উটকো ঝামেলা যতো !

কতো রিচ ফুড, মিষ্টি ও ফল
অঢেল, স্বেচ্ছাচার !
বাবা আজ বুড়ো, খাওয়া দুরে থাক
পথ্য জোটে না তাঁর।

ছেলে বড় হলে সব হবে ভেবে
দিয়েছেন শুধু যিনি
সেই বাবাকেই প্রকৃত অর্থে
আমরা ক’জনে চিনি ?

পিতার কাছে এই পুত্রেরও
বহু অপরাধ জমা
তারপরও এই পিতা পুত্রকে
করবেন জানি ক্ষমা।

1,157 total views, 11 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন