বাংলা চটি পড়ার আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

বাংলা চটি পড়ার আসক্তি দূর করবেন যেভাবে
5 (100%) 7 votes

বাংলা চটি  পড়তে মজা লাগে তাই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সফল হচ্ছেন না। মনের সাথে জোর করে বাংলা চটি পড়া থেকে দূরে থাকলেও কিছুদিন পর আবারো বাংলা চটি পড়ছেন। আপনি মনে মনে ভাবছেন জীবনে সব অভিজ্ঞতাই থাকা দরকার। একবার দেখিতো বাংলা চটি গল্প পড়তে কেমন লাগে? আপনি পড়লেন, ভাল লাগল। মনে হলো দুনিয়ার শান্তি চটিতেই। একটার পর একটা আপনি পড়া শুরু করলেন। এভাবেই আপনি কখন যে বাংলা চটি গল্পে আসক্ত হয়ে গেছেন তা টেরই পাননি। মানুষ যখন একা থাকে স্বাভাবিক ভাবেই তার কাজ কম থাকে। ফলে সময়কে সে যথাযথ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে সে সময় অনেকেই তার মোবাইল বা ল্যাপটপে চটি গল্প পড়ে সময় পার করে।

বাংলা চটি

বাংলা চটি গল্প পড়লে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় কেন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বাংলা চটি গল্প নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই যৌন উৎকল্পনার খোরাক যোগায়। তবে এটি ইন্দ্রিয় সুখ দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যেরও অনেক ক্ষতি করে। মানসিক অবস্থার উপর বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হরমোন নিঃসরণের পাশাপাশি আসক্তিমূলক প্রবণতাও সৃষ্টি করতে পারে বাংলা চটি । ফলে আমাদের মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাবও পড়তে পারে। আপনি যত বেশি চটি পড়বেন ততই মন চাইবে। স্বাভাবিক যৌন মিলন ও বাংলা চটি গল্প পড়া উভয়ের মাধ্যমেই মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের হরমোন নিঃসরিত হয়। এই হরমোনের প্রভাবেই আমাদের মস্তিষ্কে আনন্দের অনুভুতি বা ইন্দ্রিয় সুখানুভুতির সৃষ্টি হয়। কিন্তু নিয়মিত বাংলা চটি গল্প পড়ার ফলে স্বল্প বিরতিতে বারবার ডোপামিন নিঃসরণের ফলে মস্তিষ্ক এই হরমোনটির কার্যকারীতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলতে পারে। জেএমএ সাইকিয়াট্রি নামের জার্নালে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দাবি করা হয়, নিয়িমিত অশ্লীল সাহিত্য পড়লে বা নীল ছবি দেখলে একটা সময়ে এসে যৌনতার প্রতি মস্তিষ্কের উদ্দীপনায় ঘাটতি নেমে আসতে পারে।তার মানে আগের মতো স্বাভাবিক মাত্রার যৌন উদ্দীপনা ধরে রাখতে হলে আরো বেশি হারে ডোপামিন নিঃসরণের দরকার পড়বে। এর জন্য আবার আরো বেশি বেশি পর্ন মুভি বা চটি গল্প পড়ার প্রয়োজন পড়বে। গবেষণায় এমনটাই প্রমাণ পেয়েছেন জার্মান বিশেষজ্ঞরা।  চটি গল্পে অস্বাভাবিক যৌনাচরণ পড়ার ফলে পুরুষরা ক্রমান্বয়ে যৌন সংবেদনশীলতা হারাতে থাকে এবং স্বাভাবিক ভাবে যৌন উত্তেজনার সক্ষমতাও হারাতে থাকে। পর্নোগ্রাফি বা চটি গল্প এমন একটি তরুণ প্রজন্ম সৃষ্টি করে যারা বেডরুমে হতাশায় ভোগে।  মস্তিষ্কের যে অংশটুকুতে যৌন উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত চটি গল্প পড়ার ফলে সে অংশটুকু ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসতে থাকে।

চটি বা পর্ন আসক্তদের মন ড্রাগ আসক্তদের মতোই। ২০১৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চটি বা পর্ন আসক্তরা যখনই পর্ন মুভি দেখতে বসে তাদের মস্তিষ্কে স্ক্যান মেশিনের মতো আলো জ্বলে ওঠে। যেসব তরুণ অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা উত্তেজক ছবি দেখা মাত্রই তাদের মস্তিষ্কে ক্রিসমাস ট্রির মতো আলো জ্বলে ওঠে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে। মস্তিষ্কের যে অংশে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় সে অংশটি ড্রাগ আসক্ত ও পর্ন আসক্ত উভয়ের বেলায়ই সমান উচ্চহারে সক্রিয় থাকে।

যে কারণে বাংলা চটি গল্প পড়া উচিত নয়

বাংলা চটি গল্প মানুষকে মানসিক ও শারিরীক ভাবে ভারসাম্যহীণ করে দেয়। নিচে বাংলা চটি গল্প পড়ার ভয়াবহ ক্ষতিকর পরিণতি তুলে ধরা হলো। নেক্সট টাইম যখন বাংলা চটি গল্প পড়তে ইচ্ছে করবে, এই কথাগুলো নিজেকে মনে করিয়ে দিবেন।

ভালবাসার বিকৃত সংজ্ঞা শেখায় – আপনি যখন বাংলা চটি গল্প পড়েন তখন আপনি নিজের অজান্তেই অনুভূতিহীন, নিষ্ঠুর, স্বার্থপর মানুষে পরিণত হন। কারণ, চটি গল্প গুলোতে মানুষের ভালো-লাগা, ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট-আনন্দ কোন অনুভূতিকেই দেখানো হয় না, শুধু দেখানো হয় “পেনেট্রেশন”। অথচ বাস্তব জীবনে আপনি আপনার সঙ্গীকে আদর সোহাগ করবেন, গল্প গুজব করবেন, আড্ডা মারবেন, ঘুরতে যাবেন – এগুলো সবই একটা সুস্থ ভালবাসাময় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চটি গল্প আপনার হৃদয় থেকে ভালোবাসার সেই অনুভূতিকে কেড়ে নেয়, নষ্ট করে দেয়। চটি গল্প আপনাকে এভাবে প্রোগ্রাম করে ফেলে যে আপনি বিশ্বাস করা শুরু করেন যে ভালবাসার অপর নাম পেনেট্রেশন। অনেক তরুণ মনে করে,“এখন তো আমার বয়স কম, এখনো বিয়ে করিনি, এখন চটি গল্প পড়ি, বিয়ের পর আমি এগুলো পড়া ছেড়ে দিব”। কিন্তু, পরিসংখ্যান বলে ভিন্ন কথা – দেখা গেছে তরুন বয়সে বাংলা চটি গল্প পড়া যাদের অভ্যাসে পরিণত হয়, বিয়ের পরেও তাদের বেশীর ভাগই পড়া বাদ দিতে পারে না। কাজেই – আমি এখনো বিয়ে করিনি, তাই চটি পড়ব এটা কোনও অজুহাত হতে পারে না।

আপনার মানবিক অনুভূতিকে নষ্ট করে ফেলে – বাংলা চটি গল্প আপনাকে শেখায় মেয়েরা মানুষ নয়, শুধুই উপভোগের বস্তু।  চটি গল্প পড়ার ফলে আপনি রাস্তা ঘাটে, অফিসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই কোন মেয়েকে দেখেন তখন চিন্তা করেন না তারও একটা জীবন আছে, আশা-আকাংক্ষা আছে, দু:খ, কষ্ট, আনন্দ, ভালোবাসার অনুভূতি আছে। আপনি শুধু চিন্তা করতে থাকেন এই মেয়েটার মধ্যে উপভোগ করার মত কি আছে। একটা মেয়ে রাস্তায় পা পিছলে পড়ে গেলে আপনি চিন্তা করেন না মেয়েটা ব্যথা পেয়েছে কি না, তাকে উদ্ধার করা যায় কি না, বরং আপনি চিন্তা করেন তার শরীরের কোনও অংশ উঁকি ঝুঁকি দিয়ে দেখা যায় কি না। একটি মেয়েকে তার সততা, মেধা ও মানবিক গুণাবলী দিয়ে বিচার না করে আপনি তাকে বিচার করেন তার শরীরের বিশেষ কিছু স্থানের আকার আকৃতি দিয়ে। চটি গল্প আপনাকে শেখায় যে,মা,বোন,খালা,কাজের মেয়ে, ক্লাসের বন্ধু, অফিসের কলিগ থেকে শুরু করে সবার সাথেই শারিরীক সম্পর্ক গড়া যায়। এভাবে বাংলা চটি গল্প আপনাকে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে উৎসাহিত করে।

আপনার স্মরনশক্তি কমায় – চটি গল্প আপনার মধ্যে ডিপ্রেশন তৈরী করে। ইসলামের স্কলারেরা সেই প্রথম থেকেই বলে আসছেন – আল্লাহ তায়ালা যা দেখতে নিষেধ করেছেন তার দিকে তাকালে স্মরনশক্তি, চিন্তাশক্তি কমে যায়। একবার ইমাম শাফেঈ কোরআনের কিছু আয়াত ভুলে গিয়েছিলেন। তিনি তার উস্তাদ ইমাম মালিককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন – “তুমি হয়তো হারাম কিছু দেখেছ। তাই আল্লাহ তোমার থেকে জ্ঞান তুলে নিয়েছেন”। ইমাম শাফেঈ প্রথমে কিছুতেই মনে করতে পারছিলেন না তিনি কার দিকে হারাম দৃষ্টি দিয়েছিলেন। পরে বুঝতে পারলেন – আজকে যখন বাজারে গিয়েছিলেন তখন এক মহিলাকে তার বাহন থেকে নামতে দেখেছিলেন। যখন সে নামছিলো তখন তার পায়ের গোড়ালির উপরে একটু কাপড় উঠেছিল, আর সেটার দিকে ইমাম শাফেঈর চোখ পড়ে গিয়েছিল। সাথে সাথে ইমাম শাফেঈ আন্তরিক ভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন, নিজের পাপের জন্য আকুতি মিনতি করলেন। আর এর পরেই আল্লাহ তায়ালা তাকে ভুলে যাওয়া কোরআনের আয়াত গুলো ফিরিয়ে দিলেন। মনোবিজ্ঞানীরাও গবেষনায় দেখেছেন যে চটি বা পর্ণ মানুষের স্মরনশক্তি কমিয়ে দেয়, চিন্তাশক্তি হ্রাস করে, অমনোযোগী করে, ডিপ্রেসড করে দেয় এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। জার্মানির ডুইবার্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডক্টর ক্রিস্টিয়ান লেয়ের ২৬ বছর বয়সী ২৮জন মানুষের উপর পর্ণ ছবি দেখার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন । তিনি গবেষনায় পেয়েছেন – পর্ণ দেখার শর্ট টার্ম ইফেক্ট হিসাবে এদের স্মৃতিশক্তি কমেছে এবং মনোযোগী হবার ক্ষমতা কমেছে। এছাড়া অন্য গবেষনায় পর্ণ দেখার লং-টার্ম ইফেক্ট হিসাবে ডিপ্রেশন, সামাজিকভাবে ব্যর্থতা ও একাকিত্ব থাকার প্রবণতা পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

আপনাকে অক্ষম করে দিতে পারে –   অতিরিক্ত বাংলা চটি গল্প পড়লে আপনার উত্তেজিত হওয়ার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। এর কারণ হলো –  প্রত্যেকটা চটি গল্পে আপনার সামনে নিয়ে আসে নতুন নতুন মডেল, নতুন নতুন লোকেশন আর নতুন নতুন কাহিনী। আপনার ব্রেইন ক্রমেই এই নতুনত্বে অভ্যস্ত হয়ে যায়, পুরনো কিছু তখন আর আপনাকে সহজে উত্তেজিত করতে পারে না। এর ফলে, এরকম ঘটতে পারে যে আপনি কিছুতেই আর আপনার স্ত্রীকে দেখে উত্তেজিত হবেন না। কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অক্ষমতা এমন আকার ধারণ করে যে তারা শুধু চটি পড়েই বা পর্ণ মুভি দেখেই উত্তেজিত হতে পারে, এমন কি ভায়াগ্রার মতো শক্তিশালী ওষুধেও তাদের কোন কাজ হয় না। এই সমস্যাকে ইরেক্টাইল ডিস্ফাংশন বলে এবং গবেষনায় দেখা গেছে যারা কিশোর বয়সে পর্ণ দেখা শুরু করে (বিশেষ করে ১২ বছর বয়সের পূর্বে) তাদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। তবে আশার কথা এই যে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশনে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে আবার সক্ষম হওয়া সম্ভব। গবেষনায় দেখা গেছে কোনও ব্যক্তি টানা তিন মাস চটি গল্প না পড়লে বা পর্ণ মুভি না দেখলে ও স্বমেহন না করলে তার ব্রেইন আবার আগের প্যাটার্নে ফিরে আসে, ফলে সে ডিজিটাল মিডিয়ার বাইরে মেয়েদেরকে দেখেও উত্তেজিত হতে পারে। ভেবে দেখুন ব্রেইনের এই নিজে নিজে সেরে উঠার ক্ষমতা আল্লাহর তরফ থেকে কত বড় রহমত! আপনি বছরের পর বছর তাঁর অবাধ্যতা করার পরেও মাত্র তিন মাস নিজেকে সংযত রাখলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো আবার আপনাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন।

সব কিছু আমলনামায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে – মনে রাখবেন, আপনি একা ঘরে কম্পিউটারের সামনে বসে বা মোবাইল হাতে নিয়ে যা করছেন তা আর কেউ না দেখলেও আল্লাহ তায়ালা দেখছেন, আর ফেরেশতারা তা লিখে রাখছে এক পরিষ্কার গ্রন্থে। আল্লাহ যদি এখনো আপনার কুকর্ম মানুষের সামনে প্রকাশ না করে দিয়ে থাকেন – তাহলে বুঝবেন আপনাকে আল্লাহ তাওবাহ করার জন্য সুযোগ দিচ্ছেন। আপনি যদি তাওবাহ না করে মারা যান, তাহলে এই গ্রন্থের সবকিছু একদিন আপনার সামনে তুলে ধরা হবে, আপনার মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, বন্ধু সবাই আপনার আমলনামা দেখতে পাবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন – সেদিনের সেই লজ্জার সম্মুখীন কি আপনি হতে পারবেন?

বাংলা চটি পড়ার আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার উপায়

জীবন যাপনে পরিবর্তন আনতে হবে –  বাংলা চটি গল্প না পড়ে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গঠনমূলক ও সুন্দর সময় ব্যয় করতে হবে। এতে করে ভালো কিছুর প্রতি ধীরে ধীরে আসক্তি তৈরি হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এছাড়া আরো যা করবেন –

প্রয়োজন ছাড়া ইন্টারনেট না – জরুরি কাজ ছাড়া ইন্টারনেটে বসা থেকে বিরত থাকতে হবে। যাদের বাংলা চটি পড়ার প্রবণতা রয়েছে তারা কিন্তু ইন্টারনেটে বসলেই চটি সাইটে ঢোকার চেষ্টা করে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মানসিক মনোবল জরুরি। সেইসঙ্গে ইন্টারনেটে ভালো কাজে নিজেদেরকে ব্যস্ত রাখতে হবে। যেমন মজার কোনো মুভি বা নাটক দেখতে পারেন। চাইলে নিজের কর্মক্ষেত্র বা পড়াশোনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের উপর অনলাইনে ভিডিও চিত্র দেখতে পারেন। আর একেবারেই যদি চটির নেশা থেকে বেরিয়ে না আসতে পারেন তাহলে অনলাইনে বসা ছেড়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে তা একটা দীর্ঘ সময়ের জন্য হতে পারে। এ সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমে করতে হয় নিজের প্রয়োজনীয় এমন কাজ অন্য কারো সহায়তায় করে নিন।

ধর্মীয় কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন –  নিয়মিত নামাজ পড়তে পরুন। সেইসঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান টিভিতে দেখতে পারেন। আর বিবাহিত হলে স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করতে পারেন। অবিবাহিত হলে বন্ধু-বান্ধব বা সহকর্মীদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পারেন। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন উপদেশ – কিছুতেই ১টি ওয়াক্তেরও নামাজ ছাড়বেন না। আর আপনি যদি নামাজী না হয়ে থাকেন – তো আজ থেকেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ শুরু করে দিন। কারণ, আল্লাহ্‌ বলেছেন – “নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল কাজ ও পাপাচার থেকে দূরে রাখে” (সূরা আনকাবুত ২৯:৪৫)। এক ঘরে যেমন একই ভাবে আলো আর অন্ধকার থাকে না, তেমনি একই হৃদয়ে একই সাথে নামাজ আর পর্ণগ্রাফি থাকতে পারবে না। একবার সাহাবারা রাসূলুল্লাহ (সা) কে বললো – অমুক সাহাবী বিভিন্ন ধরনের খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) জিজ্ঞেস করলেন, সে কি এখনো নামাজ পড়ে? সবাই বললো হ্যাঁ, পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন,সে যদি নামাজ পড়তে থাকে তাহলে নামাজ তাকে অবশ্যই একদিন খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

পরিশেষে – মনে রাখবেন আপনি যত পাপ করতে পারেন, আল্লাহ তার চেয়েও বেশী ক্ষমা করতে পারেন, আপনি যতবার পাপ করতে পারেন, আল্লাহ তার চাইতেও বেশী বার আপনাকে ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শর্ত হলো আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন – আর কোনোদিন বাংলা চটি গল্প পড়বেন না। যদি শয়তানের ফাঁদে পড়ে কখনো পড়ে ফেলেন তো সাথে সাথে গোসল করে দুই রাকআত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে নিন, দেরী করবেন না। তারপর দ্বিগুন দৃঢ়তা নিয়ে প্রতিজ্ঞা করুন, আপনি আর শয়তানের দাস হবেন না, শয়তান বরং আপনার দাস হবে। কিছুতেই হাল ছাড়বেন না, কিছুতেই না, শয়তান তার শয়তানীতে হাল ছাড়েনি, আপনিও আপনার ঈমানদারীতে হাল ছাড়বেন না। শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই সফলতা নয়, গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রাটাও সফলতা।

1,629 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন