বাংলা চটি গল্প জীবনের এক নীরব ঘাতক

বাংলা চটি গল্প জীবনের এক নীরব ঘাতক
4.8 (96.95%) 59 votes

বাংলা চটি গল্প হয়তো অনেকেই পড়েন। বাংলা চটি গল্প আপনাকে যৌনতা সম্পর্কে একগাদা মিথ্যে তথ্য দেবে এবং আপনি সেগুলো আস্তে আস্তে সত্যি বলে ধরে নিবেন। বাংলা চটি গল্প হলো এমন সাহিত্য রচনা যেখানে সেক্সুয়াল ঘটনা খুব রংচং ভাবে বর্ণনা করা হয়। প্রচুর প্রেমের উপন্যাস এবং অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে যেখানে খুব খোলামেলা ভাবেই যৌন কাহিনী বলা হয়। চটি পড়ে আপনার মনে হবে,সত্যিই বোধহয় তারা আমার কাছ থেকে কিছু চাই,আমার সঙ্গে বিছানায় যেতে আগ্রহী ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি শুধু এখানেই বসে থাকবেন না,মেয়ে শিকারের সেই টেকনিক গুলো  নিজের  জীবনেও এপ্লাই করার চেষ্টা করবেন। বিকৃত চিন্তার বাংলা চটি গল্প গুলো পড়ে আপনি নিজের ভেতরে ক্রমাগত যে ‘কামের’ আগ্নেয়গিরি তৈরি করছেন তার  অগ্নুৎপাত কি কখনো হবে না ভেবেছেন ?  অগ্নুৎপাতের পরে কি হবে চিন্তা করেছেন কখনো ? কত ঘর ভাঙবে,সম্পর্ক আর জীবন নষ্ট হবে ? আপনার বাবা মা’র কথা একবার চিন্তা করুন। কি পরিমাণ লজ্জিত,অপমানিত তারা হবেন ! আপনার চটিগল্পের নেশা আপনাকে সমকামী শিশু নির্যাতনকারী এমনকি ধর্ষকও বানিয়ে ফেলতে পারে। পতিতালয়ে যাওয়াটাও আশ্চর্যের কিছু না। চটিগল্প পড়ে হরমোন ক্ষরণে উত্তেজিত হয়ে ওঠা আপনি শান্ত হওয়ার জন্য হাতের কাছে যেটা আছে সেটা দিয়েই কাজ সারতে চাইবেন। কেউই আপনার লালসা থেকে নিরাপদ থাকবে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বাংলা চটি গল্প

বাংলা চটি গল্প কি পর্ন দেখার মতই ক্ষতিকর

জেনে রাখা ভাল যে নীলছবি বা পর্নোগ্রাফি শুধুমাত্র ছবি বা ভিডিও আকারেই আসে না, বিভিন্ন আকারে ও মাধ্যমে এটা আসে। বাস্তবে সারা পৃথিবীর মানুষদের জীবন থেকে যা দেখা গিয়েছে, চটি  এবং অন্যান্য লিখিত পর্নোগ্রাফিক ম্যাটেরিয়ালের প্রভাব এবং ভিডিও পর্নের প্রভাব একই। অনেকেই মনে করেন বাংলা চটি গল্প উচ্চমাত্রায় যৌনদ্দীপক হওয়ায় এটি খুব দ্রুত আসক্তি ঘটায় এবং সত্যিকারের যৌনতার ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিকে বিকৃত করে। বাংলা চটি গল্প বা পর্ন কেবল ঝুঁকিপূর্ণই নয়, এটি আপনার যৌনজীবন ধ্বংসকারী। চটি পড়া বা পর্ন দেখার ফলে পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যের উপর বিরাট ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। যখন একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাংলা চটি গল্প পড়ে বা পর্ন দেখে এবং উত্তেজিত হয়ে পড়ে, অথবা পর্ন দেখার সময় বা চটি পড়ার সময় হস্তমৈথুন করে, তখন তার ভার্চুয়াল জগত তার অনুভূতিকে সক্রিয় করে দেয়। ফলে তার জীবনের বাস্তব নারীর সাথে সে সন্তুষ্টির সাথে যৌন মিলন করতে পারে না। অন্য কথায়, চটি পড়া বা পর্ন দেখার মাধ্যমে ঘন ঘন হস্তমৈথুন তাকে যৌন সমস্যার দিকে নিয়ে যায়। বাংলা চটি গল্প বা পর্ন এমন এক ভার্চুয়াল জগতের কথা বলে যা যৌনতায় ভরা আর বিভিন্ন ধরণের যৌনতা। যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে হস্তমৈথুন করে, তার দ্রুত যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি সে যৌনভাবে অক্ষমও হয়ে যেতে পারে। আর সে যে নারীদের দেখেছে তাদের সাথে তার স্ত্রীকে তুলনা করা শুরু করতে পারে। মানুষ যখন যৌনতার অতিরঞ্জিত লেখা পড়ে বা দৃশ্য দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন বাস্তবের যৌনজীবনে সমস্যায় পড়তে তারা বাধ্য। বস্তুত,চটি বা পর্ন হচ্ছে বাস্তব যৌনতার একটি সস্তা ও অতিরঞ্জিত চিত্রায়ন। পর্নের মতো চটি গল্প আমাদের ব্রেইনে কৃত্তিম আনন্দ সৃষ্টি করে। আমাদের ব্রেইনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি নিউরোট্রান্সমিটার হল ডোপামিন। ডোপামিনের অনেক কাজ। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, এটি মানুষের আনন্দ এবং সুখের অনুভূতি গুলো বহন করে সেগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী আমাদের নিউরন বা ব্রেইন সেলে পাঠিয়ে দেয়। ড্রাগস বা নেশা জাতীয় দ্রব্য এই ডোপামিন কে টার্গেট করেই তৈরি হয়। ড্রাগস আমাদের ডোপামিনার্জিক সিস্টেম কে ফোর্স করে প্রচুর পরিমাণ ডোপামিন রিলিজ করতে ট্রিগার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে যখন আমরা ড্রাগস বা নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করি, আমাদের নিউরণ এ অতিরিক্ত ডোপামিন এর উপস্থিতির ফলে স্বাভাবিক অবস্থা থেকে ভিন্ন, অস্থির এবং চরম এক সুখানুভূতি এসে আমাদের আচ্ছন্ন করে। ড্রাগসের ধরণ এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে এটি কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা অথবা কয়েক দিন পর্যন্ত ও স্থায়ী হতে পারে। তারপর এই নেশা যখন কেটে যায়, তখন রাজ্যের বিষন্নতা, হতাশা আর অবসাদ এসে শরীর আর মনের উপর ভর করে। বাংলা চটি গল্প ,পর্ণ, পর্ণগ্রাফিক ছবি, লেখা, অডিও সহ যত ধরণের পর্ণ এবং পর্ণগ্রাফিক আইটেম আছে, এগুলো ড্রাগের মতই আমাদের ডোপামিনার্জিক সিস্টেম কে ট্রিগার করে ডোপামিন রিলিজ করার জন্য। ফলে যখনই আমরা পর্ণ এবং পর্ণগ্রাফিক আইটেমের সংস্পর্শে আসছি, আমাদের ব্রেইনে পর্ণের সাথে ডোপামিনার্জিক সিস্টেমের একটি যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্ণের সংস্পর্শে আসার কারনে ডোপামিনার্জিক সিস্টেমের উপর ফোর্স তৈরি হয়ে যে ম্যাসিভ এ্যামাউন্ট ডোপামিন রিলিজ হচ্ছে; তা শর্ট টার্ম মেমরিতে না গিয়ে সরাসরি লং টার্ম মেমরিতে গিয়ে স্টোর হচ্ছে। এ কারনে পর্ণ বা পর্ণগ্রাফিক আইটেম চোখের সামনে থেকে দূর করা হলেও লং টার্ম মেমরিতে তা গেঁথে যাবার কারনে তা ব্যক্তির চাহিদা মত কল্পনা করলেই রিপ্লে মোডে ফিরে আসে। ড্রাগ গ্রহণকারীর মতো পর্ন দেখলে বা চটি পড়লে শরীর এবং মনে প্রচন্ড অস্থিরতা  তৈরি হয়। তাই ইচ্ছে না হলেও আবারো আবারো পর্ন দেখতে চটি গল্প পড়তে মন চায়। এভাবেই এ্যাডিকশন শুরু হয় এবং এই চাহিদা দিন দিন বাড়তে বাড়তে অসীমে গিয়ে পৌছায়।

বাংলা চটি গল্প পড়ার কুফল

> পুরুষ তো বটেই, আজকাল মেয়েদের  একটা অংশও অনলাইনে বাংলা চটি গল্প পড়ে। ভালোমন্দ বুঝে ওঠার আগেই অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা বাংলা চটি গল্প পড়তে শুরু করেছে। আর তার চেয়ে বড় চিন্তার বিষয়, পড়ে পড়ে সেটাকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। চটি গল্প পড়ার কুফল গুলো একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

> মাত্রাতিরিক্ত বাংলা চটি গল্প পড়ার ফলে পুরুষদের সাধারণ নারীদের প্রতি আর নারীদের পুরুষদের প্রতি বিতৃষ্ণা চলে আসে। ফলে তারা চটি গল্পের নায়ক নায়িকাদের মত আকর্ষনীয় দেহ এবং চেহারা কে বাস্তবের পুরুষ নারীদের সাথে মেলানোর চেষ্টা করে যার কুফল পরে বাস্তব জীবনে। কিন্তু বাস্তবে জীবনে সেগুলোর সাথে মিল না পেয়ে চটি আসক্তরা হতাশ হয়ে পড়ে। ওরা হয়ে পড়ে নিঃসঙ্গ এবং অসুখী।

> নানা ধরণের বাংলা চটি গল্প (অসম,ইনসেস্ট,পরকীয়া,ধর্ষণ) পড়তে পড়তে এক সময় পুরুষ এবং নারী উভয়ের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট দুটোই চেঞ্জ হয়ে যায়। চটি গল্প পড়ার পর তাদের রুচি এবং স্বাদ বদলে যায় তখন সে হয় সমকামিতার দিকে ঝুকেছে, নয়ত চাইল্ড পর্ণ অথবা এ্যানিমাল পর্ণের দিকে। মেয়েদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটে। স্বাভাবিক সেক্সে তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। এভাবেই অনেকের সমকামিতা শুরু হয়।

> নিয়মিত বাংলা চটি গল্প পড়লে  মাস্টারবেশন অভ্যাসে পরিনত হয়। অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের ফলে অনেকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে যৌন জীবনে নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মাস্টারবেশনের সময় মূলত তাড়াহুড়ো করা হয় বাই চান্স যদি কেউ দেখে ফেলে বা বুঝে ফেলে। এভাবে দ্রুত অর্গাজম প্রাপ্তি থেকে ব্রেইনের মধ্যে প্রোগ্রাম তৈরি হয়ে যায়। ব্রেইন ধরে নেয় এরপর থেকে যখন ই সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে অংশ নেবে, দ্রুত অর্গাজম দিতে হবে।

চটি পড়ার ফলে মন থেকে প্রেমের সম্পর্ক হারিয়ে যায়। সবটাই শরীর সর্বস্ব হয়ে উঠে। পরবর্তীতে বিয়ের পর, অনেক ক্ষেত্রেই যৌনতায় অতৃপ্তি তৈরি হয়।বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অশ্রদ্ধা তৈরি হয়
ফলে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা ঘটে।

> বাংলা চটি গল্প পড়ার ফলে ছেলে মেয়েদের মাঝে সৃষ্টিশীলতা, সৃজনশীলতা ধ্বংস হয়ে যায়। আর চটি বা পর্ন যে শুধু যৌন সমস্যা সৃষ্টি করছে তাই নয়, কখনও কখনও এটি যৌনশক্তি একেবারেই নিঃশেষ করে ফেলছে।

> অতিরিক্ত বাংলা চটি গল্প পড়ার ফলে মানসিক রোগের জন্ম হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চটি পড়া হয় একা, সমাজের চোখ এড়িয়ে। এর ফলে ধীরে ধীরে একটা অপরাধ বোধ জন্ম নেয়। যা থেকে ভবিষ্যতে মানসিক রোগ হতে পারে। চটি বা পর্ন আপনার মনে ভাবনার সাম্যতা নষ্ট করে দেয়।

বাংলা চটি গল্প

বাংলা চটি গল্প পড়ার আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

অনেকেই বাংলা চটি গল্প পড়ার আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সফল হচ্ছেন না। মনের সাথে জোর করে পর্ণ বা চটি থেকে দূরে থাকলেও কিছুদিন পর আবারো তার সংস্পর্শে যেতে হচ্ছে। কারন টা অবসেসিভ কম্পালসিভ সাইকল। এই অবসেসিভ কম্পালসিভ সাইকল এর কারনে পর্ণগ্রাফি বা চটি পড়ার আসক্তি থেকে দূরে থাকা বা ত্যাগ করাটা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। কারণ প্রথমে আপনার মাথায় আনওয়ান্টেড সেক্সুয়াল চিন্তাভাবনা আসছে, আপনি সেটাকে সচেতনভাবে দূর করার চেষ্টা করছেন এবং ব্যর্থ হচ্ছেন। এক পর্যায়ে আপনি সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনার কাছে সারেন্ডার করছেন এবং বাংলা চটি গল্প পড়ছেন, পর্ণ দেখছেন, তারপর স্বাভাবিক ভাবেই আপনার শরীর এবং মন উত্তেজিত হচ্ছে। শরীর এবং মনের এই  টেনশন কে রিলিজ দিতে আপনি মাস্টারবেশন করছেন, এবং মজার ব্যাপার হলো এই পর্ণ দেখা, বাংলা চটি গল্প পড়া বা মাস্টারবেশনের পর আপনার মধ্যে এক ধরণের অনুশোচনা চলে আসছে যে এরকম আর কখনোই করবোনা। কিন্তু কিছুদিন পর আপনি আবার বাংলা চটি গল্প পড়েন অথবা অন্য কোনো কারনে আপনার মধ্যে আবারো সেক্সুয়াল চিন্তা ভাবনা ঢুকে যায় এবং এই অবসেসিভ সাইকলটা এভাবেই চলতে থাকে।

প্রশ্ন আসতে পারে, এই অবসেসিভ সাইকলটা ব্রেক করা সম্ভব কিনা। ইয়েস, এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। মন কে সেট করতে পারলে সম্ভব। এবার আসুন দেখি মন কে আমরা কিভাবে সেট করব।

প্রথমেই মনস্থির করুন যে আপনি বাংলা চটি গল্প পড়া বা পর্ন দেখা পুরোপুরি ছাড়বেন। এটা অনেক জরুরী। নিজের সাথে প্রমিজ করুন এবং চ্যালেঞ্জ তৈরি করুন যে আর পড়বেন না। কেবল মাত্র মন কে স্থির করতে পারলেই আপনি অর্ধেক এগিয়ে যাবেন নিঃসন্দেহে। মোবাইলের মেমরি কার্ড, পিসি – ল্যাপটপ – ট্যাব থেকে যত পর্ণগ্রাফিক ছবি এবং ভিডিও আছে, ডিলিট করুন। পাশাপাশি বুকমার্ক এবং ব্রাউজারের হিস্ট্রি গুলো ডিলিট করুন। কারন আপনি কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, কি কি সার্চ করছেন তা গুগল মনে রাখে। গুগল সার্চের Safe Search অপশনটি এনাবল রাখুন।

যদি মেডিটেশন পারেন, দিনের যেকোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে মেডিটেশন করুন। না পারলে শিখতে পারেন। মেডিটেশন শেখার জন্য ইন্টারনেটে প্রচুর কনটেন্ট পাবেন। নিয়মিত মেডিটেশন করলে আপনার মন শান্ত থাকবে এবং মনের উপরে নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। মন আপনাকে চালাবেনা, আপনিই মন কে চালাবেন।

নামাজ পড়ার অভ্যাস থাকলে ভাল, নয়তো নামাজে মন দিতে পারেন,এতেও মন শান্ত এবং পরিশুদ্ধ থাকবে। আপনি যে ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন, নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন এবং ধর্মীয় উপাসনাতে মনোযোগ দিলে মনের পরিশুদ্ধি এবং পবিত্রতা ফিরে আসবে। যেকোন পাপ কাজেই কিন্তু একটা সাময়িক মজা আছে। পাপ কাজটাই এমন যে আপনি সাময়িক একটা মজা পাবেন।  পতিতালয় যাওয়া হারাম, মদ খাওয়া হারাম কিন্তু এগুলোতে  মজা আছে না ? বাংলা চটি গল্প পড়ার ব্যাপারটাও সেরকম। আপনি পড়বেন আর সাময়িক মজাও পাবেন কিন্তু দিন শেষে এটাই পাপ। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেছেন, “জেনার কাছেও যেয়ো না। এটি একটি লজ্জাজনক ও নিকৃষ্ট কর্ম যা আরো নিকৃষ্ট কর্মের পথ খুলে দেয়। [সূরা ১৭,আয়াত ৩২ ] তিনি কিন্তু বলেননি যে জেনা করো না, তিনি বলেছেন জেনার কাছেও যেয়ো না – এমন কিছু থেকে দূরে থাকো যা তোমাকে জেনার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বাংলা চটি গল্প পড়ার অভ্যাস আপনাকে অন্যান্য জেনার দিকেই শুধু নিয়ে যাবেনা চটিগল্প পড়া নিজেই জেনার অন্তর্ভুক্ত। তাহলে এবার হিসেব করুন কয় রকমের জেনা আপনি করলেন। প্রথমত হাতের জেনা,হাত দিয়ে কিবোর্ড চেপে সার্চ করে করে চটিগল্প বের করলেন। দ্বিতীয়ত চোখের জেনা – চোখ দিয়ে নিষিদ্ধ জিনিস দেখলেন এবং পড়লেন। তৃতীয়ত অন্তরের জেনা – চটিগল্পে পড়া জিনিস গুলো চিন্তা করলেন এবং ভাবলেন ইশ! একবার যদি হত এরকম।

পরিশেষে : বাংলা চটি গল্প এবং পর্ন আপনার যৌন জীবন ধ্বংস করে দেবে, আর নিশ্চিত ভাবেই সেটা হওয়া উচিত নয়। আমরা বিশ্বাস করি একে অপরের ভালোবাসায় পাগল দু’জন মানুষ, স্ত্রী এবং স্বামীর একসাথে থাকাটাই চমৎকার ও স্বাভাবিক। একজন মানুষের একলা একটা মোবাইল হাতে নিয়ে কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে বসে কিংবা একলা একটা অশ্লীল উপন্যাস হাতে নিয়ে বসে থাকাটা সুন্দর ও স্বাভাবিক না। অতএব সত্যিকারের ভালোবাসার পিছনে ছুটুন।

4,946 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন