বাংলা এক্স ভিডিও কেন ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে

বাংলা এক্স ভিডিও কেন ছড়িয়ে পড়ছে ইন্টারনেটে
3.9 (78.18%) 11 votes

বাংলা এক্স ভিডিও বর্তমান সময়ের এক আলোচিত নাম। বাংলা এক্স ভিডিও দেখে এমন তরুন তরুনির সংখ্যা নেহাত কম নয় আমাদের দেশে। বাংলা এক্স ভিডিও বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে দেশি বিদেশি পর্ন সাইটে। ডিশ টিভির যখন জয়জয়কার তখন দেশে প্রচলন শুরু হয় কম্পিউটারের। তবে তখন ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিল না। এ সময় অলিতে-গলিতে গজিয়ে ওঠে অসংখ্য ভিডিও দোকান। এসব দোকানে পানির দরে বিক্রি এবং ভাড়ায় পাওয়া যেত বাংলা এক্স ভিডিও ,পর্নো সিডি এবং অশ্লীল নাচ গানের ভিডিও। উঠতি বয়সের বিশেষ করে ছেলেরা দোকান থেকে সিডি এনে রুমের দরজা বন্ধ করে ডুবে যেত পর্নোগ্রাফির জগতে। এ নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার খবর স্থান পায় গণমাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে বিস্তার ঘটতে থাকে মোবাইল এবং ইন্টারনেটের। গত অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ৮৪ লাভ ৯৩ হাজার। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী চার কোটি ২২ লাখ। মোবাইল ও ইন্টারনেটের অকল্পনীয় দ্রুত বিস্তৃতির সাথে সাথে যুক্ত হয় অভিভাবকদের জন্য প্রেম, পরকীয়া, নগ্নতা, চটি গল্প আর বাংলা এক্স ভিডিও ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

বাংলা এক্স ভিডিও

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলা এক্স ভিডিও

প্রেম প্রত্যাখ্যান, ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং শারীরিক সম্পর্কের ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশের কারণে তরুণীরা একের পর এক বেছে নিচ্ছে আত্মহননের পথ। এরকম সংবাদ মাঝে মাঝেই পাওয়া যায় সংবাদপত্রে। ব্ল্যাকমেলিং এর ঘটনা শহরের অলি-গলিতে ইন্টারনেটের হাত ধরে ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে ‘সেক্সুয়াল ব্ল্যাকমেলিং’- বাড়ছে সব সমাজে। ফলে কিশোরী-তরুণীসহ ভুক্তভুগী নারীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কিছু ঘটনা মিডিয়ার কারণে সামনে এলেও অধিকাংশই চাপা থাকে। লোক-লজ্জার ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারে না, মেনে নিতে হয় দুর্বৃত্তকারীর অসৎ কার্যকলাপ। দিনের পর দিন আরও বেশি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ইন্টারনেটে ব্ল্যাকমেলিং এর মতো ঘটনা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৬০ টি সাংগঠনিক জেলা শাখা থেকে প্রাপ্ত এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কর্তৃক ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংরক্ষিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, নারী নির্যাতন, নারী হত্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতনের এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, টরেন্ট লিঙ্ক, ওয়েব সেক্সটিং সাইট (ওয়েবক্যামের মাধ্যমে সেক্স ভিডিও শেয়ার করার সাইট)-এ এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় হল হোমমেড বাংলা সেক্স ভিডিও । অর্থাৎ কোনও অভিনয় ছাড়াই, গোপন ক্যামেরা অথবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে যৌনক্রিয়ার দৃশ্য বা ছবি তুলে রাখা। সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলছেন, ‘ইন্টারনেটে যত তথ্য আছে, তার মধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই হল পর্নোগ্রাফি অথবা সেমি-পর্নোগ্রাফি।

অপর দিকে ফেসবুক ব্যবহার করে দুইভাবে নারীদের সেক্সুয়াল হ্যারাসম্যান্টের পথ করে দেয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফেইক (ভুয়া) অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। সেই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার জুড়ে দেওয়া হয় ইন্টারনেট থেকে নেওয়া সুন্দরী কোনো মেয়েদের ছবি কিংবা ফেসবুক ব্যবহারকারী কোনো মেয়ের ওয়াল থেকে নেয়া ছবি। এরপর ফেইক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু হয় বিভিন্ন বাংলা সেক্স ভিডিও আপলোড, অশ্লীল সব স্ট্যাটাস দেওয়া। কয়েকদিন পর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিকটিম মেয়েটির মোবাইল নাম্বার ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দেয়। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় সেক্সুয়াল বিভিন্ন প্রস্তাব। শুধু ফেসবুক না ব্লগস্পট, ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগের মতো জনপ্রিয় মাধ্যম গুলোতে ফ্রি ব্লগ খুলে প্রতিদিন আপডেট করা হচ্ছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের ছবি, বাংলা এক্স ভিডিও মোবাইল নাম্বার। বিভিন্ন টরেন্ট লিঙ্কে শুধু দিনে গড়ে প্রায় ৫ থেকে ৮টি ভিডিও শেয়ার হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। যে সব ভিডিও ডাউনলোড করলেই শহরের ছেলে মেয়েদের অত্যন্ত গোপন কার্যকলাপ ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।

আগের দিনে পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার্থীদের শেখানো হতো খারাপ বন্ধুর সাথে মেলামেশা করাই শুধু সঙ্গদোষ নয়। কুগ্রন্থ অধ্যয়ন, কুচিত্র দর্শন, কুসঙ্গীত শ্রবণ এসবই খারাপ সঙ্গদোষের মধ্যে পড়ে। খারাপ সঙ্গীর প্রভাবে যেমন একজনের খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে তেমনি কুচিত্র, কুগ্রন্থ, কুসঙ্গীতের প্রভাবেও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গদোষে লোহা ভাসে। সঙ্গদোষ নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে। সঙ্গদোষ বিষয়ে সবাই ওয়াকিবহাল। তাই বাবা মা সঙ্গদোষ নিয়ে একসময় ভীষণ সচেতন থাকতেন সন্তান যেন কোনো খারাপ বন্ধুর পাল্লায় না পড়ে। মহল্লা বা এলাকার খারাপ কারো সাথে না মেশে। যখন তখন বা বেশি সময় ধরে বাইরে বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, সবসময় চোখে চোখে রাখা এবং আদেশ উপদেশ বকাঝকার মাধ্যমে অনেক মা-বাবা সন্তানদের সঙ্গদোষের প্রভাব থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির প্রভাব আর প্রসারে সঙ্গদোষের সব উপাদান এখন ছেলে মেয়েদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সচেতন বা অচেতনে মা-বাবাই সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন মাল্টিমিডিয়া মোবাইল, স্মার্টফোন, প্যাড, আইপড, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ। এসবের বদৌলতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর হাতের মুঠোয় এখন অশ্লীল নাচগান, বাংলা এক্স ভিডিও এবং রাজ্যের সব পর্নো ভিডিওর সমাহার।

সম্প্রতি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজধানীতে ৭৭ শতাংশ কিশোর পর্নো ভিডিওতে আসক্ত। রাজধানীর একটি স্কুলে নবম শ্রেণীর ক্লাস চলাকালে কয়েক শিক্ষার্থী পেছনে বসে মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখছিল। শিক্ষকের হাতে এ ঘটনা ধরা পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং প্রায় সবার মোবাইলে বাংলা এক্স ভিডিও বা পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। আমাদের দেশে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার পর্নো ভিডিও মোবাইলে লোড করা হয়। এর বেশির ভাগ গ্রাহক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। সকাল থেকে রাত অবধি সব ডাউনলোডের দোকানে শিক্ষার্থীরা ভিড় করে বাংলা এক্স ভিডিও বা পর্নো ভিডিও সংগ্রহের জন্য। তা ছাড়া ইন্টারনেট আছে যাদের তারা ইচ্ছামতো পর্নো ভিডিও ডাউনলোড করে নেয়। এমনকি শিক্ষার্থীরা এসবের প্রতি এতই আসক্ত যে কাসে বসেও তারা এগুলো দেখছে এবং মাঝে মধ্যে তা ধরাও পড়ছে। বিভিন্ন জেলা উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থী তরুণ যুবকদের মধ্যেও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে পর্নো আগ্রাসন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ভিডিও দোকানে এসব ডাউনলোড করার জন্য। এমনকি পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মোবাইলেও পর্নোগ্রাফি ধরা পড়ার খবর বেরিয়েছে। জেলা-উপজেলা এবং গ্রামগঞ্জের হাটেবাজারে ১০ টাকায় মিলছে মোবাইল ভর্তি পর্নোগ্রাফি। অলিগলিতে নির্জনে বসে বসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা দেখছে এসব ভিডিও। প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার এবং নিত্য-নতুন উদ্ভাবনের কারণে সাইবার ক্যাফে ঢাকা থেকে বিদায় নিয়েছে কিন্তু জেলা-উপজেলায় এবং মফস্বল শহরে এর কদর বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে বাংলা সেক্স ভিডিও দেখছে।

কেন বাংলা এক্স ভিডিও দেখার আসক্তি বাড়ছে

অনেকে প্রেম করে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর একজন আরেক জনের উপর প্রতিশোধ নিতে নিজেদের সেক্স ভিডিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। দেশীয় মডেল, শিল্পী এবং নাটক সিনেমার অভিনেত্রীদের বাংলা এক্স ভিডিও বাজারে ছড়িয়ে পড়ে প্রায়ই। কেউ একজন হয়ত সচেতন ভাবে পর্নোগ্রাফি এড়িয়ে চলে; কিন্তু দেশীয় এসব ভিডিও সবার সামনে বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে দেখে এবং আদান প্রদান করে থাকে অনেক তরুণ-তরুণী এবং শিক্ষার্থী নিজেদের মধ্যে। এসব দেখা এবং এ নিয়ে কথা বলা যেন খারাপ কিছু নয়। এসব ক্ষেত্রে সবাই খোলামেলা, বেপরোয়া। কোনো একজনের মোবাইলে এসব ভিডিও ক্লিপ আসা মাত্রই তা সে অনায়াসে ছড়িয়ে দিচ্ছে তার পরিচিত সব বন্ধুদের মধ্যে। এভাবে আস্তে আস্তে অনেকে পর্নোগ্রাফির দিকে ধাবিত হয়।

বাংলা এক্স ভিডিও আসক্তি হেরোইনের মতোই বিপজ্জনক

সম্প্রতি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পর্নোগ্রাফি আসক্তি মাদকের চেয়েও ভয়ানক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণত ১৩ বছরের কিশোররা ইন্টারনেট পর্নোতে বেশি আগ্রহী এবং তারা মেয়েদের যৌনতা একটি বিষয় হিসেবে চিন্তা করতে শুরু করে। প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, নিষ্পাপতার দিন শেষ হয়ে গেছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারে। এটা হচ্ছে ঘরে হেরোইন রেখে শিশুকে ছেড়ে দেয়ার মতো। কিছু ডাক্তার অবশ্য বলেছেন, যারা অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা মাদকাসক্তদের চেয়েও বেশি ঝুঁকিতে আছেন। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভার বলেন, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে, পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। শুধু প্রয়োগটা ভিন্ন। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যারা পর্নো আসক্ত তাদের মস্তিষ্কে মাদকাসক্তদের মতোই নেশা কাজ করে। মাদক গ্রহণের ফলে আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের যে অংশে অনুভূতি কাজ করে ঠিক সেই অংশই উদ্দীপিত হয়ে ওঠে পর্নো আসক্তরা যখন পর্নো দেখে। মাদকাসক্তদের যেমন স্বাভাবিক জীবনে ছন্দপতন ঘটে, বিপর্যয় বিশৃঙ্খলা নেমে আসে তেমনি পর্নো আসক্তরাও ধীরে ধীরে অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে এবং বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়।

পরিশেষে – পর্নো বা বাংলা এক্স ভিডিও এখন তরুণ-তরুণীদের হাতের মুঠোয়। ফলে ধীরে ধীরে শিথিল তচ্ছে যৌন নৈতিকতার বাঁধন। উঠে যাচ্ছে হায়া বা শরম লজ্জাবোধ। ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে অবাধ মেলামেশার পরিবেশ। বিয়ে বহির্ভূত যৌনতা বিষয়ে ধর্মীয়, পারিবারিক এবং সামাজিক সংস্কার ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসা ভাল লাগা দ্রুত শারীরিক সম্পর্কের পর্যায়ে গড়াচ্ছে আজকাল। অবাধ মেলামেশা থেকে সৃষ্ট নানামুখী জটিলতার কারণে সংঘটিত হচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ এবং অনেক সময় তা গড়াচ্ছে আত্মহত্যা পর্যন্ত। প্রযুক্তির কারণে জীবনের সব মুহূর্ত মানুষ এখন ধারণ করে রাখছে। অনেক সময় প্রেমিকার অজ্ঞাতসারে গোপন মেলামেশার দৃশ্য ধারণ করে বা ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে তা প্রকাশ করে দিচ্ছে ইন্টারনেটে। ফলে ইন্টারনেটে গোপন প্রেম বা নগ্ন ভিডিও প্রকাশের কারণে তরুণীদের আত্মহত্যার খবর এখন একটি নিয়মিত বিষয়। সুতরাং এখনই সময় সাবধান হওয়ার।

1,955 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন