ফোন সেক্স করার আগে লেখাটি একবার পড়ুন

ফোন সেক্স করার আগে লেখাটি একবার পড়ুন
4 (80%) 4 votes

ফোন সেক্স শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত। ফোন সেক্স বর্তমান যুগের ভার্যুয়াল যৌনতা। ফোন সেক্সের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য কল্পনা প্রবণ সেক্স। সাইবার সেক্সে দু’জন মানুষ পরস্পরের নগ্ন শরীর বা গোপনাঙ্গকে দেখে উত্তেজনা অনুভব করেন। অথচ ফোন সেক্সে এই দেখাটাই নেই।একটু ভেবে দেখলে বোঝা যায়, কতটা মস্তিষ্ক নির্ভর এই খেলা। শুধুমাত্র কিছু কথা বা শব্দ একে অপরকে বলা আর তা থেকেই নিংড়ে নেওয়া যৌনসুখ।  কথার মাধ্যমে এক যৌন সুখের খেলা। যদিও ফোন সেক্স এর নতুন করে কোন সংজ্ঞা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই কম বেশি জানে। এখন তরুন প্রজন্মের যারা সেক্সুয়াল রিলেশনে আগ্রহী বা অভ্যস্ত, তাদের জন্যে প্রতিদিন সেক্স করার জায়গা বের করে দেখা করাটা বেশ কঠিন। তাই দুজনের চাহিদা মেটানোর জন্য অনেকেই ফোন সেক্স করে। এছাড়া লং ডিস্টেন্স রিলেশন যেমন স্বামী স্ত্রী একে অপরের থেকে দূরে থাকলে অনেকেই ফোন সেক্স করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ফোন সেক্স

ফোন সেক্স বিষয়টা কি

ফোনের মধ্যে দিয়েই ছেলে এবং মেয়ের অন্তরঙ্গতা বেড়ে চলা। পোশাকের বিবরণ থেকে তারপর ফোনের মধ্যেই শরীর থেকে সব পোশাক খুলে নেওয়া৷ কথার মধ্যে দিয়ে আপদমস্তক আদর৷ আর সে আদর বাড়তে বাড়তে একেবারে যৌন মিলন। প্রতিটি ভঙ্গির নিঃখুত বিবরণ। কখনও কোথায় হাত যাচ্ছে, কখন কোথায় যাচ্ছে ঠোঁট, মুখ, যৌনাঙ্গ। কথায় কথায় ফোন থেকে সোজা শরীরে। ফোনের কথায় কাছে আসা,শেষমেশ স্বমৈথুনের মধ্যে দিয়েই শেষ হয় পুরো বিষয়টি।

ফোন সেক্স কি ক্ষতিকর

প্রযুক্তির অপব্যবহারে অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চিকিতসকরা নির্দিধায় বলতে বাধ্য হচ্ছেন, ভয়াবহ যৌন দুর্বলতা সৃষ্টি হতে পারে ফোন সেক্স (Phone Sex) এর মত খারাপ অভ্যাসের কারণে। এমনকি, লিঙ্গশীতলতা, দ্রুত বীর্যপাত এবং পুরুষত্বহীনতার মতো রোগেও আক্রান্ত হতে পারে ফোন সেক্সে৷ অনেকেই ফোন সেক্সের সময় অনেক নোংরা কথা (Dirty Talk) শুনতে ও বলতে ভালবাসেন। যা মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এই অভ্যাস একেবারেই যে সু-অভ্যাস নয়, তা বলছেন যৌনরোগ বিশেষজ্ঞরা। নিউরোসাইন্স বলে, শরীরের মত আমাদের মস্তিস্ক ও যে কোনো অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে।

আমরা যা দেখি, শুনি, করি, শিখি এবং আমাদের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান থেকে আমাদের মস্তিস্ক যে ইনপুট গুলো পায় সেগুলোর উপর ডিপেন্ড করে আমাদের মস্তিস্কের এই প্যাটার্ন আবার প্রতিনিয়ত বদলাতে থাকে। ছোটবেলার ধর্মীয় শিক্ষা, পিতা-মাতা এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত দর্শন, সামাজিক দায়বদ্ধতা, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় উঠে আসা বিভিন্ন টপিক, সেমিনারের গুরু গম্ভীর আলোচনা, প্রেমিকার সাথে রোমান্টিক কথোপকথন, এমন কি আপনি মনকে শান্ত করার জন্য অথবা টাইমপাস করার জন্য যে বই পড়ছেন, গান শুনছেন বা টিভিতে যে অনুষ্ঠান দেখছেন এমন প্রতিটা কাজের মাধ্যমে আপনার ব্রেন সেলে নতুন নতুন ডাটা তৈরি হচ্ছে, পাশাপাশি প্রতিটি ডাটার বিপরীতে প্রতিটি ঘটনা বা অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত ইনপুট সমূহের একটা যোগসূত্র ও তৈরি হয়ে যায় আমাদের মস্তিস্কে। যা পরবর্তীতে একই ধরণের সমস্যা/ঘটনা/অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে আমাদের মস্তিস্ক সেই ডাটা সমূহ এবং ওগুলোর যোগসূত্র এ্যানালাইসিস করে আমাদের চিন্তাশক্তি এবং শরীর কে সে অনুযায়ী কমান্ড দেয় এবং সেভাবেই চালিত করে এবং আমাদের চিন্তাশক্তি এবং শরীর সে অনুযায়ী সাড়া দেয়। বুঝতেই পারছেন, ফোন সেক্স আপনার মস্তিষ্কের উপর কিরকম নেগেটিভ প্রভাব ফেলবে। আপনার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাবে এবং চিন্তাশক্তি নষ্ট হয়ে যাবে ফোন সেক্স করার ফলে।

চিকিৎসকদের মতে, ফোন সেক্স একটা নেশা। এই নেশা যতদিন যায় ততই বাড়তে থাকে৷ ডাক্তারদের কথায়, যৌন দুর্বলতা আনতে পারে এই ধরণের অভ্যাসে। ফোন সেক্স ভয়াবহতা অনেক। নিয়মিত এটা করার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন অসংখ্য পুরুষ ও নারী। আসুন এবার আমরা দেখে নেই ফোন সেক্স আরো যেসব ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

▪ফোন সেক্স করলে রুচিবোধের অধঃপতন হয়। যারা নিয়মিত ফোন সেক্স করে তাদের রুচি বিকৃত হয়ে যায়। জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্ক গুলোতেও নিজের অজান্তে বিকৃতি খোঁজে তাদের চোখ

▪নিয়মিত ফোন সেক্সে পুরুষরা বাস্তবতাকেই হারিয়ে ফেলে। বাস্তব জীবনেও তারা তেমন সঙ্গীই আশা করে। সাধারণ নারীদের তখন আর তাদের যথেষ্ট মনে হয় না। ফলে জীবনের সুখ শান্তি হারিয়ে যায় তাদের।

▪ফোন সেক্স করার সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসৃত হয় যা আমাদের আনন্দ, হাসি কান্নাসহ যৌন অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফোন সেক্স আপনার মস্তিষ্ককে অস্বাভাবিক ভাবে উত্তেজিত করে তোলে। এতে প্রচুর ডোপামিন ক্ষরণ হয়। ফলে আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ডোপামিন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এভাবে বার বার একই প্রক্রিয়া দীর্ঘ দিন চলতে থাকলে আপনার মস্তিষ্কে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়, শারীরিক মিলনের ক্ষমতা ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। যার ফলাফল আপনি নিজেই দেখতে পান। যেমন – স্ত্রীর সাথে অনুত্তেজক সম্পর্ক, বিষণ্ণতা, সহজেই মনোযোগ হারিয়ে ফেলা, অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করেও উত্তেজনা ফিরে না পাওয়া ইত্যাদি।

▪ফোন সেক্সে যৌনতা বিষয়ক আচার আচরণগুলো হয় কৃত্রিম। কথার কারসাজিতে মোহনীয় ভাব ফুটে উঠে। যা বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই ফোন সেক্সে আসক্তরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গ থেকে যায় অথবা সংসারে অসুখী হয়।

▪নিয়মিত যারা ফোন সেক্স করে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিকৃত অভ্যাস, যার অতিরিক্ত প্রয়োগে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে এবং যৌন জীবনে নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

▪এটি এক ভয়াল নেশা। ফোন সেক্সের নেশা মাদকের নেশার মতোই ভয়ংকর।  এই আসক্তির কারণে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়, পড়াশোনায় ক্ষতি হয়, এমনকি নিজের মধ্যেও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এসব অনৈতিক বিষয় পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যায়। ফলে তাকে হেয় হতে হয়। এ ছাড়া হারাতে হয় ভালো বন্ধু সার্কেলকেও।

ফোন সেক্স থেকে কিভাবে বাঁচবেন

▪অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য প্রথমেই শক্ত হতে হবে দু’পক্ষকে৷ প্রেমিক চাইলে, প্রেমিকাকে সামলাতে হবে পুরো ব্যাপারটা৷ উলটোটিও ঘটতে পারে৷

▪যাঁরা ফোন সেক্স করে তাঁদের মধ্যে নীল ছবি পর্ন ফিল্ম দেখা বা বাংলা চটি গল্প পড়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ফোন সেক্স না করে অন্য কোনও শখে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। যদি কোনও কাজ না থাকে, বই পড়া অভ্যাস করে ফেলতে পারেন। কোনও লাইব্রেরির সদস্য হয়ে যান। দেখবেন ব্যক্তিত্বে অসাধারণ পরিবর্তন আসবে। সর্বোপরি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচক চিন্তাই ফোন সেক্স আসক্তি থেকে মুক্তি দেয় বলেই জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

▪বেশি রাতে প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করুন৷ তাহলে দেখবেন আসতে আসতে ফোন সেক্স বন্ধ হয়ে যাবে৷ প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলুন খোলামেলা জায়গায় দাঁড়িয়ে৷ বাড়ির বারান্দা বা ছাদকে বেছে নিন।

▪পরিবার, বন্ধু বান্ধব, সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলুন৷ প্রেমের কথা থাকলেও তাতে যেন যৌনতার উসকানি না থাকে৷

▪বিয়ের কথা উঠতেই পারে। তবে ফুলশয্যার কথা আলোচনা না করে৷ বরং সংসার গোছানোর কথা বলুন৷

▪সিনেমা, সাহিত্য, গান-বাজনা নিয়ে কথা বলুন৷ দরকার পড়লে গান শুনুন বা শোনান৷

▪এক টানা কথা না বলে কথার সময়কে ভাগ করে নিন৷ তাহলে দেখবেন খুব সহজেই যৌনতার কথা উঠবে না৷

▪প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলার সময় ফোনে অল্প পয়সা রিচার্জ করুন। যাতে দরকারি কথা শেষ হওয়ার পর নিজেক থেকেই ফোনটা কেটে যায়৷

পরিশেষে – ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন এবং ফোন সেক্স করা একদম বন্ধ করে দিয়ে কয়েক মাস পুরোপুরি বিশ্রাম নিন। তাহলে ব্রেন থেকে সেই অতি উত্তেজনাকর সিগনাল গুলো দুর্বল হয়ে অপসৃত হতে হতে এক সময় সেই মানুষটিই আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। ফোন সেক্সের নেশা বাড়াবাড়ি পর্যায় গেলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করুন৷ সুস্থ জীবন গড়ে তুলুন। প্রোডাক্টটিভ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ুন। সব শেষে ইচ্ছাশক্তিই বড় শক্তি। দু’জনেই দু’জনের সাহায্যে হাত বাড়ান। ভালবাসার গল্প হয়ে উঠুক সুখের গল্পের। তাতে প্রযুক্তি নির্ভর যৌনতার কালো রং না থাকাটাই ভাল।

809 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন