প্রেম কাকে বলে? প্রেম কত প্রকার এবং কি কি

প্রেম কাকে বলে? প্রেম কত প্রকার এবং কি কি
5 (100%) 2 votes

প্রেম করতে কে না চায়। মনের মত মন খুঁজে সত্যিকারের প্রেম করা এক ধরণের শিল্প। যদিও প্রেম করলেও জ্বালা প্রেম না করলেও জ্বালা। মুখে বললেও প্রেমের মানে বুঝতে সারা জীবন লেগে যায়। তাই প্রেমের কোনও নিদিষ্ট বয়স হয় না।  পদার্থ বিজ্ঞানে যা আকর্ষণ মানবিক বিদ্যায় তাই প্রেম। পদার্থ বিজ্ঞানে যা বিকর্ষণ মানবিক বিদ্যায় তাই ঘৃনা। আগের চেয়ে এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। আবার অহরহ সম্পর্ক ভেঙেও যাচ্ছে। প্রেম মানেই ভালবাসা, অবেগ ও মায়ার সম্পর্ক। প্রেম মানুষকে তার ভেতরের সুপ্ত বৃত্তিকে জাগিয়ে তোলে। সত্যি প্রেমের অনুভূতি অনেক আনন্দের।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

প্রেম

প্রেম কাকে বলে

কোন ব্যক্তি বা জিনিসের উপর মায়া, ভালোবাসা ও আসক্তি বেড়ে যাওয়াই হলো প্রেম। একজন নারী বা একজন পুরুষ তাদের আবেগের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে যখন একে অপরকে জানার জন্য খুব কাছাকাছি আসে কোনো রকম শারীরিক সম্পর্ক ছাড়া, তখন তাকে প্রেম বলে। এক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের দুজনের মধ্যে একে অপরকে ছাড় দেবার মন মানসিকতা থাকতে হবে। সাইকোলজিস্ট রবার্ট স্টেনবার্গ প্রেমকে তিনটি উপাদানের মধ্যে ভাগ করেছেন। সেই উপাদানটিকে একটি ত্রিভুজের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করেছেন। তিনটি উপাদান হল- আবেগ অর্থাৎ সঙ্গীর প্রতি যৌন ও রোমান্টিক আকর্ষণ, অন্তরঙ্গতা হলো গভীর অনুভূতি এবং সহানুভূতি যা কিনা শুধুমাত্র সম্পর্ককে রক্ষা করাই নয়, তাকে সসম্মানে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
পৃথিবীর আদিকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত, মানব জন্মের ইতিহাস আর প্রেমের ইতিহাস একইসূত্রে গাঁথা। পৃথিবীর প্রথম নর-নারী আদম-হাওয়া পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন। এ কারণে আল্লাহর নিষেধ অমান্য করে আদম তাঁর সঙ্গিনী হাওয়ার অনুরোধ রক্ষা করেছেন। এই ভালবাসা যেমন সত্য তেমন শাশ্বত। এছাড়া শ্রী রামচন্দ্রের পতিব্রতা স্ত্রী সীতার প্রেমে পড়েছিলেন রাবণ। এজন্য তিনি সীতাকে অপহরণ করে অশোক কাননে বন্দি রেখে দেহ মনে পাবার সমস্ত কলাকৌশল অবলম্বন করেছিলেন। রাবণের ভালবাসা ছিল একতরফা, তাই এই ভালবাসা আদম হাওয়ার মতো পবিত্র নয়। অপূর্ব সুন্দরী হেলেনের প্রেমে পড়েছিল গ্রিক পুরাণের প্রেমিক পুরুষ প্যারিস। হেলেন তখন রাজা মেনেলাসের স্ত্রী। তাই এই ভালবাসা তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় স্বীকৃত ছিল না। ফলে ধ্বংস হয়েছিল ট্রয় নগরী। একজন পুরুষ হয়ে পুরুষের প্রেমে পড়েছিলেন ইতিহাস বিখ্যাত বীর আলেক্সজান্ডার দ্য গ্রেট। এই প্রেম ছিল নিষিদ্ধ। আজও পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে তা স্বীকৃতি পায়নি। যা পাপ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে। প্রেম শব্দটি এক হলেও পৃথিবীতে তার বিস্তার ঘটেছে এমন নানামুখী সম্পর্কের ভেতর দিয়ে। এর মধ্যে কোনো কোনো সম্পর্ক যুগে যুগে মানুষ শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করেছে। আবার কোনো কোনো সম্পর্ক পাপাচার আখ্যায়িত করে প্রেমের পাত্র পাত্রীকে চড়িয়েছেন শূলে।

সাধারণত দুইজন বিবাহিত বা অবিবাহিত নারী পুরুষের মধ্যে যে প্রেম গড়ে ওঠে, পৃথিবীতে প্রায় সকল সমাজে এই প্রেমকে শাশ্বত এবং পবিত্র বলে ধরে নেওয়া হয়। পৃথিবীতে শুধু ভালোবেসে অমর হয়েছে এমন সাহিত্য পুরাণ ও বাস্তব জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রেমিক জুটি হল – সাইকি-কিউপিড (গ্রিক); রাধা-কৃষ্ণ (ভারত উপমহাদেশ); লাইলী-মজনু (পারস্য); বেহুলা-লখিন্দর (বাংলাদেশ); প্যারিস-হেলেন (গ্রিক); রোমিও-জুলিয়েট (রোম); ওডিয়াস-পেনেলোপ (গ্রিক); পিরামাস-থিসবি (গ্রিক); পিগম্যালিয়ন-গ্যালাটিয়া (গ্রিক); দেবদাস-পার্বতী (ভারত); ভিক্টোরিয়া-আলবার্ট (ব্রিটেন) প্রমুখ।

আমরা জানি প্রেমে শরীর থাকবেই। নারী ও পুরুষের মাঝে জৈবিক কারণে হলেও শরীর চলে আসে। কিন্তু প্লেটোনিক ভালবাসা হল শরীরবিহীন প্রেম। অর্থাৎ এই ভালবাসা শরীরী নয়, অশরীরী। এখানে দুই প্রেমিক এবং প্রেমিকার মাঝে কোনো যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয় না। এই শুদ্ধতম ভালোবাসায় কামনা বাসনার কোনো স্থান নেই। এ শব্দটির উৎপত্তি মূলত প্লেটোর ‘প্লেটোনিজম’ মতবাদ থেকে; যাতে বলা হয় এমন প্রকার ভালোবাসার কথা যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকা ভালোবাসা ডিভাইনিটির দিকে উঠে যাবে। শরীর নামক বস্তুটি থাকবে অনুপস্থিত। এমন নিষ্কাম ভালবাসা, যে ভালবাসা রাজাধিরাজের মতো দু’হাত ভরে শুধু দিয়ে যায়, নেয় না কিছুই। বাস্তবে নারী পুরুষের মাঝে এমন প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়া আদৌ সম্ভব কিনা, তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক আছে।

প্রেম কত প্রকার

ভালবাসা যে কোনও সময় আপনার ঘাড়ে এসে মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। আর প্রথম প্রেম? সেতো সারাজীবন সবার কাছেই স্মরনীয় হয়ে থাকে। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম ভালবাসা জীবনে এসে থাকে।  অনেকটা কলার খোসায় পা পিছলে পড়ার মত। প্রথম প্রেম ছাড়াও মনুষ্য জীবনে প্রেমের অনেক প্রকারভেদ আছে কি সেই প্রকারভেদ তা দেখা যাক-

প্রথম দেখায় প্রেম –  এটাকে বলে ‘Love at First Site’। প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের ভালবাসা অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভালবাসা বেশি দেখা যায়। প্রথম দেখাটা হতে পারে কোন বিয়ে বাড়ি, শপিং মল, কলেজ, কোচিং সেন্টারে কিংবা বন্ধুদের আড্ডায়। এমনকি বন্ধুর মোবাইলে ছবি দেখেও এ ধরনের ভালোবাসা শুরু হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিত ভাবেই তৃতীয় পক্ষের (বন্ধুর) সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ স্মরণীয় ও দৈহিক সৌন্দর্যের ভূমিকাই বেশি।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম – এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই প্রথমে বন্ধু থাকে। আস্তে আস্তে বন্ধুত্ব ডারউইনের মতবাদের মত বিবর্তন হতে হতে প্রেমের রূপ নিতে থাকে, অনেক সময়ই দু’জনেরই অজান্তে। তবে আশেপাশের মানুষ (বিশেষ করে বন্ধুরা) কিন্তু ঠিকই খেয়াল করে। স্মরণীয় এধরনের ভালবাসা অনেক সময়ই অকালে ঝরে যায় কোন একতরফা সিদ্ধান্ত বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অনেকে বন্ধুত্বের এই রূপান্তর মেনে নিতে পারেনা বলে অনুশোচনায় ভোগে – বিশেষত মেয়েরা

বিয়ের পরে প্রেম – এই প্রেম শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়। বিয়ের ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে। স্বামী স্ত্রী একে অপরের পূর্বপরিচিত নয় এমন দু’জনের মধ্যে অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করে বিয়ে হলে এই ধরনের প্রেম প্রবল রূপ ধারণ করে। প্রেম করে বিয়ে হলে সেক্ষেত্রে বিবাহোত্তর প্রেমে ভাঁটা পড়ে বলে একটি মতবাদ প্রচলিত আছে, তবে এর সত্যতা পরীক্ষিত নয়। বিবাহোত্তর ভালবাসা ফলাতে হানিমুনের জুড়ি নেই।

পরকীয়া প্রেম – বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে প্রেমকেই পরকীয়া প্রেম বলে। বর্তমান নাগরিক জীবনে পরকীয়া প্রেমের প্রবণতা বেড়েছে। সাহিত্য, পুরাণ ও অনেক বিখ্যাত মানুষদের জীবনে এই প্রেম এসেছে। যেমনঃ হেলেন ও প্যারিসের মধ্যে যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেটা পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক। পৃথিবী জুড়ে একসময় হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল মনিকা-ক্লিনটনের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কও। একইভাবে মেরিলিন মনরো-জন এফ কেনেডি, ডায়ানা-হেউইট, চার্লস-ক্যামিলা, ক্লিওপেট্রা-মার্ক অ্যান্টনি, সত্যজিৎ রায়-মাধবী মুখোপাধ্যায় প্রভৃতি পরকীয়া প্রেমের ঘটনা। পুরাণে দেখা যায়, স্বামী থাকা সত্ত্বেও প্রেম করে বেড়িয়েছেন সুন্দরের দেবি আফ্রোদিতি। এছাড়াও আছে রাধা-কৃষ্ণের ভালবাসা। বৃহস্পতির স্ত্রী তারাকে কামনা করছে চন্দ্র। হরণ করেও নিয়ে যাচ্ছে। সপ্তর্ষির স্ত্রীদের কামনা করছে অগ্নিদেব। আধুনিত বাংলা সাহিত্যে পরকীয়া প্রেমের বহু ঘটনা আছে। চোখের বালি, ঘরে বাইরে, গৃহদাহ, হাঁসুলী বাকের উপকথা, কবি, পদ্মানদীর মাঝি, পৌষ ফাগুনের পালা, প্রদোষে প্রাকৃত জন, পরাণের গহীনসহ বাংলা সাহিত্যের অনেক বিখ্যাত উপন্যাসে পরকীয়া প্রেমের প্রসঙ্গ আছে। এই পরকীয়া প্রেমতো কৃষ্ণযুগ থেকে চলে আসছে। এই প্রেমের ভিতরেও এবার কিছু প্রকারভেদ আছে –
▪সময়ের সঙ্গে সংসার জীবনের প্রতি অনাগ্রহ বা তিক্ততা চলে আসা।
▪শারীরিক চাহিদা পূরণে স্বামী বা স্ত্রীর প্রতি একঘেঁয়েমি চলে আসা।
▪শারীরিক চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর অক্ষমতা বা অপূর্ণতা।
▪নিতান্তই এ্যাডভেঞ্চার-প্রিয়তা, লুকিয়ে প্রেম করার স্বাদ অনুভব করা।

অপরিণত প্রেম – এ ধরনের ভালবাসা সাধারণত স্কুলে পড়ুয়া অবস্থায় হয়ে থাকে। মেয়েরাই এ ধরনের প্রেমে বেশি পড়ে। তবে ছেলেরাও যে পড়ে না তা বলা ভুল হবে। প্রেমিক প্রেমিকাদের দু’জনই সমবয়সী হতে পারে। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রেমিক তার চেয়ে বয়সে বড়ও হতে পারে। তবে এ ধরনের প্রেমের সাফল্যের হার কম – অর্থাৎ এ ধরনের ভালবাসা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় খুব কম ক্ষেত্রেই।

কর্মক্ষেত্রে প্রেম – কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের ভালবাসা গড়ে ওঠে। উক্ত দু’জন হতে পারেন কোন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দু’জন কর্মকর্তা অথবা কোন প্রজেক্টে পরস্পরের পার্টনার। অফিসে নতুন জয়েন করেছেন এমন কোন মেয়ের সঙ্গে এরূপ প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অফিসের পুরুষ কর্মকর্তাদের মাঝে তাগিদ দেখা যায়। বেসরকারী সংস্থাতে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।

মোবাইল প্রেম – বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফোনের দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সূত্র থেকে মেয়েদের নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক সময় মোবাইলে এভাবে কথা বলে ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমের সফলতার হার খুবই কম। আসলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সফলতা এ ধরনের প্রেমের মূল উদ্দেশ্য নয়।

ইন্টারনেটে প্রেম – ইন্টারনেটে চ্যাটিংয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘প্রেম’ এটা এখন হামেশাই হচ্ছে। দু’জনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। অনেক ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের একজন বাইরে থাকে। এভাবে পরিচয়ের পর ছেলে মেয়ে পরস্পরের সাথে সামনাসামনি দেখা করে। এ ধরনের প্রেমে উভয় পক্ষেরই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে অনেক। অনেক সময়ই কোন ছেলে মেয়ে সেজে অন্য কোন ছেলের সাথে এমন সম্পর্ক চালিয়ে যায়। আর তাই অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের সম্পর্ক প্রতারণায় পরিণত হয়। ভার্চুয়াল ভালোবাসায় ভৌগোলিক অবস্থা কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না। এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি সুবিধা। তবে ভার্চুয়াল প্রেমে অসুবিধাও অনেক। এর ফলে প্রেমের নামে মানুষকে ঠকানোর সুযোগ থাকে বেশি। বিশেষ করে ভার্চুয়াল প্রেমে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ওয়েবক্যাম ব্যবহার করে অনেক সময় মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করা হয়। মেয়েদের ছবি নেটে ছড়িয়ে দেয় খারাপ মনের প্রেমিকেরা। তবে একেবারে যে সত্যিকারের ভালোবাসার সাক্ষাৎ ভার্চুয়াল জগতে মেলে না, তা কিন্তু নয়। যেমন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ফেসবুকের মাধ্যমে শিশিরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। এমন উদাহরণ রয়েছে অনেক।

ত্রিভুজ প্রেম – এ ধরনের প্রেমকে বলা যেতে পারে একজন মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলের টাগ-অফ-ওয়ার বা দড়ি টানাটানি। একই মেয়ের প্রতি দু’জন ছেলের ভালোবাসা এই প্রেমের মূলকথা। উক্ত মেয়েকে পেতে দু’জন ছেলেই পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে থাকে। ত্রিভুজ প্রেমের ক্ষেত্রে প্রায়শই মেয়েরা মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগে – কাকে পছন্দ করবে কার সঙ্গে যাবে! অনেক সময়ই ছেলে দু’জনের মধ্যে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় মারামরিতে। দু’জন মেয়ে আর একজন ছেলের মধ্যেও ত্রিভুজ প্রেম লক্ষিত হয়। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা মারামারিতে নয় বরং রূপ নেয় চুলোচুলিতে।

বহুভুজ প্রেম – একই মেয়ে বা ছেলের প্রতি দু’এর অধিক ব্যাক্তির অনুরাগই মূলত, বহুভুজ প্রেম। এক্ষেত্রে উক্ত মেয়ে বা ছেলেটি স্বভাবতই দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। সবাই তার সাথে প্রেম করতে চায় এই বিষয়টি তাকে ব্যাপক আনন্দ দেয়।

ঘানি টানা প্রেম – প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য। ক্লাসের ভালো রেজাল্ট করা মেধাবী ছাত্রটি এ ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার শিকার হিসেবে পরিণত হয়। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলন বেশি দেখা গেলেও ছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।

অব্যক্ত প্রেম – নীরবে এক অপরকে ভালোবেসে গেলেও পরিস্থিতি, সময় বা মনোবলের অভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউই একে অপরকে কোনোদিন বলেনি। অব্যক্ত ভালবাসা হারানোর বেদনা খুব কষ্টদায়ক, জীবনের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে মনে থাকে।

সুপ্ত প্রেম – একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে বলছে না, পুরো ব্যাপারটাই লুকিয়ে যাচ্ছে এমন প্রেমই সুপ্ত প্রেম। সুপ্ত ভালবাসা আজীবন সুপ্ত থেকে গেলে তা পরিণত হয় অব্যক্ত প্রেমে।

চুক্তিবদ্ধ প্রেম – এ ধরনের ভালবাসা হয় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে। সাধারণ অর্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় তা এই ধরনের প্রেমে অনুপস্থিত থাকে। কোন ভবিষ্যৎ থাকেনা এসব সম্পর্কের। মূল উদ্দেশ্য হলও কোন বিশেষ গোষ্ঠীকে নিজেদের মধ্যে ভালবাসা দেখিয়ে কোন বিশেষ স্বার্থ চরিতার্থকরণ। শোবিজ ও মিডিয়ার তারকাদের মধ্যে এ ধরনের ভালবাসা বেশি দেখা যায়।

অসাম্প্রদায়িক প্রেম – এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষতঃ হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে ভালবাসা বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।

ঐতিহাসিক প্রেম – এইসব প্রেমের কাহিনীর অবসান ঘটেছে অনেক আগেই কিন্তু আজো রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। এখনো এসব প্রেমকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়।

ভাড়াটে প্রেম – এ ধরনের প্রেমের প্রেমিক বা প্রেমিকারা বলতে গেলে ভাড়া খাটে। তারা সকালে একজনের গার্লফ্রেন্ড তো বিকেলে আরেকজনের। কোন নির্দিষ্ট ঠিক ঠিকানা নেই। ব্যাপারটা অনেকটা মাসে মাসে মোবাইল হ্যান্ডসেট চেঞ্জ করার মতো।

প্রেমময় প্রেম – এই প্রেমে প্রেমিক আর প্রেমিকা দু’জনেই একজন আরেকজনের দিকে প্রেমময় ভঙ্গিতে ঘন্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকেন, হাত ধরে বসে থাকেন কোন রেস্টুরেন্টের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে, সারাক্ষণ I Love You বলে আর শুনেও ক্লান্তি আসে না তাদের। সারাদিন প্রেমের পর মোবাইলে ১২টার পরও কম জান না তারা।

ঝগড়াটে প্রেম – সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-মিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য। কিছুক্ষণ হয়তো দু’জনে শান্ত থাকে, তারপর আবার কিছু না কিছু একটা নিয়ে একজন শুরু হয়ে যায়। এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে। বন্ধুরা সর্বদা দু’জনের ঝগড়া মিটাতে ব্যস্ত থাকে। মেয়ে তার সখীদের কাছে এই ঘনঘন ঝগড়ার কথা বলে বেড়ায়।

ভুলতে না পারা প্রেম – এই প্রেমে প্রেমিক প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। নীরবে চেয়ে যান সেই মানুষটির সঙ্গ যার সাথে একসঙ্গে জীবন কাটাতে পরিস্থিতিই ছিলো একমাত্র ও সবচেয়ে বড় বাধা। হাই হুতাশ আর চোখের জল ফেলেই কেটে গেলো এই ভালবাসা।

অর্থসর্বস্ব প্রেম – “যতোদিন টাকা আছে, ততোদিন সম্পর্ক” – অনেকটা এই নীতির বলে এই ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। অবশ্যই ছেলেরাই টাকা ব্যয় করে থাকে এসব ক্ষেত্রে। ধনীর ঘরের ছেলেদের পক্ষে এই ধরনের সম্পর্ক বেশিদিন টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়। তবে মোটামুটি আয়ের ছেলেরা খরচের ঠেলায় অল্পদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে, সম্পর্কও আর বেশিদিন থাকেনা। তখন ঐসব মেয়েরা অন্য ছেলের খোঁজে বেরোয়।

সমকামী প্রেম – নারীতে নারীতে বা পুরুষে পুরুষে যে প্রেম এবং যৌনজীবন তাকে বলে সমকামী প্রেম। একে আলাদা ভাবে গেইজম বা লেসবিয়ানিজমও বলা হয়। এই ভালবাসা আদিকাল থেকেই হয়ে আসছে। এটাকে মানসিক বিকৃতি হিসেবে দেখা হলেও, বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আকাঙ্ক্ষাও কোনো কোনো মানুষের জৈবিক চাহিদা থেকে তৈরি হয়। শুধু মানুষ নয়, জীবজগতের অন্যান্য প্রাণীদের মাঝেও সমকাম আছে। জীববিজ্ঞানী ব্রুস ব্যাগমিল তাঁর বায়োলজিকাল এক্সুবারেন্সঃ এনিমেল হোমোসেক্সুয়ালিটি এন্ড ন্যাচারাল ডাইভার্সিটি’ বইয়ে প্রায় পাঁচশো প্রজাতিতে সমকামিতার অস্তিত্বের উদাহরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। ইসলাম ধর্মে সমকামিতা কঠিনতম গর্হিত কাজ। হাদিসে আছে, সমকামের কারণে লুত (আঃ)-এর জাতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

ব্যর্থ প্রেম – এবং সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আবার কখনও গণধোলাই। অনেক সময়ই ব্যর্থ প্রেমের পরিণতি হয় করুন। কেউ দেবদাস হয়ে যায়, কেউবা মেয়েদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে এবং “দুনিয়ার সব মেয়ে এক” এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। দুর্বল মানসিকতার কেউ কেউ গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ারও পথও বেছে নেয়।

141 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন