পুরুষ নির্যাতন কখনোই প্রকাশ হয় না

পুরুষ নির্যাতন কখনোই প্রকাশ হয় না
5 (100%) 6 votes

পুরুষ নির্যাতন নতুন কোন ঘটনা নয়। দেশে নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পুরুষ নির্যাতন। দেশের মিডিয়াগুলোতে পুরুষ নির্যাতন সংক্রান্ত খরবগুলো আসেনা বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর খবরও রাখেনা। এর ওপর কোন গবেষণাও হয়না। তবে পুরুষ নির্যাতন বিষয়ে অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন। প্রায়ই চোখে পড়ে মেয়েটি তার প্রেমিককে থাপ্পড় দিচ্ছে, ঝগড়া ঝাটির এক পর্যায়ে। ছেলেটি কিছুই বলতে পারছেনা নারী নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত হবে এই আশংকায়। রাস্তা ঘাটে আনাচে কানাচে বিভিন্ন চত্বরে মেয়েদের হাতে মার খেয়ে যাচ্ছে অসংখ্য অসহায় তরুণ। অন্যদিকে স্ত্রীর হাতে স্বামী নির্যাতনের ঘটনাও আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এই নির্যাতন ঘরের মধ্যে বেডরুমে সংঘটিত হয় বলে পাশের রুমেরও অনেকে জানেনা। নারী নির্যাতনের পর অনেকে আত্মহত্যা করে, কেননা মেয়েরা অনেক বেশি ইমোশনাল। তাই আত্মহত্যার ঘটনা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু কোন পুরুষ আত্মহত্যা করেনা বলে এই নির্যাতন কারো চোখে পড়েনা। অথচ অনেকেই এর ভুক্তভোগী যা সর্বোচ্চ তার কলিগরা জানে অথবা কেউ জানেনা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

পুরুষ নির্যাতন

মানসিক নির্যাতনের তো কোন শেষ নেই। আপনাকে হয়তো আপনার সবচেয়ে অপ্রিয় কাজটি অর্থাৎ স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মার্কেটে মার্কেটে ঘুরতে হবে ঘন্টার পর ঘন্টা। যে কাজটি আপনি একা ১০-২০ মিনিটে শেষ করতে পারতেন। অথচ আপনাকে স্ত্রীর সাথে সাথে হাটতে হচ্ছে, তার পছন্দ অপছন্দের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কখনও হাসতে হচ্ছে কখনও মন্তব্য করতে হচ্ছে। কারণ আপনি জানেন এগুলো না করলে বাসায় গিয়ে চলবে আপনার ওপর অমানুষিক নির্যাতন! অনেকেই তাই অসহায় বোধ করেন। তাই যারা নারী নির্যাতন নিয়ে সোচ্চার, তাদের এই পুরুষ নির্যাতন সংক্রান্ত সামাজিক ব্যাধি নিয়েও কথা বলা উচিৎ। তা না হলে সমস্যার একদিক বলা হবে, অপর দিক বাদ পড়বে।

সারা বিশ্বেই বাড়ছে পুরুষ নির্যাতন

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন তথ্য বলছে, ২০১১ সালে কার্যকর হওয়া ২,৫৬৩টি তালাকের মধ্যে নারী নোটিশ পাঠিয়েছিলেন ১,৭৭৩টি। ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া ৩,৫৩০টি তালাকের মধ্যে নারীর পাঠানো নোটিশ ছিল ২,৭৭৪টি। প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই তালাকের নোটিশ পাঠাচ্ছেন স্ত্রীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অঞ্চল ৪-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত তালাকের নোটিশ পাওয়া গেছে ১৯৮টি। এর মধ্যে স্ত্রী নোটিশ দিয়েছেন ১৪২টি। বুঝতেই পারছেন কি অবস্থা।

পারিবারিক নির্যাতনের ৪০ শতাংশই কী পুরুষের ওপর ? এরই উত্তর বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন গবেষণাপত্র থেকে। নারীরাই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন বেশি প্রচলিত এই ধারণাকেও পাল্টে দিচ্ছে নানা সমীক্ষা। ব্রিটেনের ৪৭ বছর বয়সী ইয়ান ম্যাকনিকলকে প্রায়ই মারধর করতেন বাগদত্তা মিশেল উইলিয়ামসন। আঘাত করেছেন মুখে, বুকে বিভিন্ন সময়। ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের টিউব বা ধাতব লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন, হাতুড়ির আঘাত করেছেন, গায়ে গরম পানি ঢেলেছেন, গরম ইস্ত্রি দিয়ে বাহুতে ছ্যাঁকাও দিয়েছেন। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ম্যাকনিকল চাকরি হারিয়েছেন, হারিয়েছেন নিজের ওপর আস্থাও। কিন্তু পুলিশের কাছে নালিশ করার সাহস পাননি। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে তার ওপর এই নির্যাতন। অবশেষে মারধরের এই দৃশ্য দুই প্রতিবেশী দেখতে পেয়ে পুলিশের নজরে আনে বিষয়টি। এটা ব্রিটেনে পুরুষ নির্যাতনের একটি কেস স্টাডি। পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘প্যারিটি’ নামের প্রচারণা গ্রুপের দাবি, সারা বিশ্বেই পুরুষ নির্যাতন বাড়ছে। ব্রিটেনে প্রতি পাঁচটি পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনার দুটির শিকার **পুরুষ**। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে পুরুষের ওপর। স্ত্রী বা বান্ধবীর হাতে পুরুষ নির্যাতনের ঘটনা সাধারণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।
প্যারিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরুষ তাঁর স্ত্রী বা বান্ধবীর হাতে নির্যাতনের শিকার হলেও পুলিশ প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা পাত্তা দেন না। নির্যাতনকারী নারী সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষরা আইনের আশ্রয় কম পান। পারিবারিক নির্যাতনের ওপর পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, স্ত্রী বা বান্ধবীর হাতে পুরুষ নির্যাতন করার ঘটনা সাধারণ ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

আর পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে নারীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টিকেই সাধারণত বিবেচনা করা হয়। সমস্যাটিকে পুরুষের অন্যায় হিসেবেই দেখা হয়। ব্রিটেনে ২০০৪-০৫ এবং ২০০৮-০৯ সালে সংঘটিত পারিবারিক নির্যাতনের প্রায় ৪০ শতাংশেরই শিকার হয়েছে পুরুষ। মাঝখানে ২০০৬-০৭ সালে এই হার বেড়ে ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ হয় এবং ২০০৭-০৮ সালে হয় ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে ২০০৮-০৯ সালে এই মাত্রা কমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। আর শারীরিক নির্যাতনের শিকারের ঘটনা ঘটেছে ৪০-এর সমান বা তার চেয়ে কিছু বেশি। ২০০৬-০৭ সালে এ হিসাব ছিল ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০০৭-০৮ সালে ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০০৮-০৯ সালে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০০৮-০৯ সালের তথ্যমতে, ব্রিটেনে প্রতি চারজন নারীর একজনের বেশি এবং প্রতি ছয়জন পুরুষের একজন ১৬ বছর বয়সে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্যারিটির দাবি, পারিবারিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে পুরুষদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নির্যাতিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পুলিশ বা কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ এদের অভিযোগে তেমন গুরুত্ব দেন না। প্যারিটির গবেষক জন মেস বলেছেন, ‘আইনি কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে পুলিশ সাধারণত নির্যাতিত পুরুষদের ধর্তব্যের মধ্যেই আনে না। তারা পুরুষদের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না।’ পুরুষ নির্যাতন দুর্দশা সংবাদমাধ্যমেও উপেক্ষিত হয়।

কেনো হচ্ছে পুরুষ নির্যাতন

মূলত ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, পারিবারিক বন্ধনের অভাব এবং নারীর অতিরিক্ত ক্ষমতায়নের ফলেই পুরুষ নির্যাতন হচ্ছে। ভাই-বোনসহ তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনে স্বামীর বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, অতিমাত্রায় চাহিদা তৈরি করে আর্থিক চাপ প্রয়োগ, অতিরিক্ত যৌন চাহিদা, সামাজিক কর্মকান্ডের নামে ক্লাব পার্টিতে যাতায়াত, গভীর রাতে বাসায় ফেরা, সিগারেট ইয়াবার মতো মাদকে আসক্তি, একাধিক ছেলে বন্ধুর সাথে ফোনালাপ ও মেলামেশা, সন্তানকে অবহেলা করার মতো ঘটনাগুলো ঘটিয়ে স্ত্রীরা নির্যাতন করছেন পুরুষদের। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লোক লজ্জার ভয়ে এবং সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে পুরুষেরা স্ত্রীর অনেক অন্যায় দাবি মেনে নিলেও সমাজে পুরুষ নির্যাতন কিন্তু কমেনি। বরং কথায় কথায় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কিংবা যৌতুকের মামলা করে জেল খাটাবো’- এই হুমকি দিয়ে স্ত্রীরা তাদের অন্যায় আবদার পূরণে পুরুষদের বাধ্য করে চলেছেন পুরুষ নির্যাতন করে চলছেন।

যদিও পুরুষ ছাড়া নারী বা নারী ছাড়া পুরুষ অসহায়। সুতরাং আপনার স্ত্রী, যে নিজে স্বনির্ভর হতে পারেনি কখনও, নিজেকে বিশ্বাস করেতে পারেনি কোনদিন, সে নিজের নিরাপত্তার জন্য আপনাকে পুরোটাই দখল করতে চাইবে এটাই তো স্বাভাবিক। আপনার বাবা-মা-ভাই-বোন সেখানে অনাহুত। আবার আপনার মাও তাই, তিনিও আপনাকে হাতছাড়া করতে চান না একই কারণে।  এখন এই বউ শ্বাশুড়ির যুদ্ধে আপনি স্যান্ডুইচ হয়ে যান! আপনি কিন্তু আসলে স্যান্ডুইচ হন পকেটের চাপে। যে পকেটে টাকা থাকে, যে পকেটে ক্ষমতা থাকে।  আপনার স্ত্রীর নিজের পকেট হবে সেই বোধই তৈরী হতে দেননি আপনি। তাই সে আপনার পকেট কেটে টাকা সরিয়ে রাখে, টাকা দেয় তার বাবার বাড়িতে। কারণ, সন্তান হিসেবে তারও অধিকার আছে তার বাবা-মার পাশে থাকার। অফিস থেকে ফিরতে দেরী হলে আপনার স্ত্রী বারবার ফোন করে, নজরদারী করে, অফিস থেকে ফিরতে আধঘণ্টা দেরী হলেই সে সন্দেহবাতিক হয়ে ওঠে, বাসায় ফিরলেই সে আপনার মোবাইল চেক করে। কারণ, সে আপনাকে নিয়ে ইনসিকিউরিটিতে ভোগে। পুরুষ নির্যাতন হওয়ার এটাও একটা কারণ।

কেনো নির্যাতন সহ্য করে পুরুষ মানুষ

▪সংসার ভেঙ্গে যাবার ভয়।
▪সন্তানের মা হারা হবার ভয়। অনেক সময় সন্তান হারাবার ভয়।
▪সমাজ কতৃক তালাক দেওয়াটাকে অপরাধ হিসাবে পুরুষের উপর বর্তানো।
▪দেনমহরের টাকার পরিমান না থাকার কারনে। সাংসারিক দায়িত্ববোধ থেকে নিজেকেই দোষি মনে করা।
▪ধারনা করা সে ঠিক হয়ে যাবে।
▪তালাক দিলে সন্তান চোখে খরাপ হয়ে যাবার ভয় এবং সন্তানের ভালোবাসা হারাবার ভয়।
▪নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলার ভয়।
▪সংবাদ মাধ্যমে আপনার নামে নারীবাদি পুরুষ বিদ্বেষী কমিটি গুলোর মিডিয়াতে গিয়ে প্রমান ছারাই মিথ্যা অপবাদের ভয়।
▪যৌন সম্পর্ক হবে না বলে আপনার ভয় পাওয়া।
▪আমি পুরুষ – এই ধরনের ভুল ধারনা পোষন করা। নিজের উপরে নিজেই অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া।
▪লজ্জবোধ – আমি ছেলে মানুষ একটা মেয়ে আমাকে নির্যাতন করল মানুষ শুনলে কি বলবে। পুরুষ নির্যাতন বিষয়ে আমার বন্ধুবান্ধব শুনলে কি বলবে।
▪পারিবারিক সমস্যা – আমি পুরুষ এটা আমার পারিবারিক সমস্যা এই ভেবে অনেকেই চুপ করে থাকা।
▪সমাজকে ভয় পাওয়া – আমি কিছু বলতে গেলে সমাজ আমাকে নিয়ে হাসবে। স্ত্রী বা প্রেমিকা যদি বলে আমিই নির্যাতন করেছি। সমাজ নারীকে নিরীহ হিসাবে ধরে আমাকে অবিশ্বাস করবে।
▪সামাজি ভাবে আপনাকে হীন ভাবে দেখা হবে। সামান্য একজন নারীর কাছে মার খেলেন। মার খেলেও লজ্জা মার দিলেও লজ্জা।
▪কিছু সময় দিলে ঠিক হয়ে যাবে ভাবা। USA -তে টিভি স্টার ফিল হার্টম্যান তাই করতেন কিন্তু তার স্ত্রীই তাকে খুন করেছেন।
▪পূর্বের মধুর সময়ের কথা চিন্তা করে মাফ করে দেওয়া।
▪ভালবাসার টানে দিশেহারা থাকা।

পুরুষ নির্যাতন আইনের প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান সময়ে যেভাবে সমাজে নারী ও শিশু আইনে মামলা করে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে পুরুষ নির্যাতন করার পাশাপাশি স্ত্রী কর্তৃক স্বামীকে ডিভোর্স প্রদানের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তা সত্যিই উদ্বেগজনক। একসময় নারীকে অবহেলিত মনে করা হলেও বর্তমানে নারী পুরুষ সমান অধিকারের দাবি তুলে নারীরা নিজেদের নানা রকম অন্যায় কর্মকাণ্ডকে বৈধ বানাতে আইনের অপব্যবহার করে চলেছে। আর এর প্রেক্ষিতে নির্যাতিত পুরুষেরা অনেক আগেই একটি – পুরুষ নির্যাতন দমন আইনের দাবি তুলেছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংস‌দের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম এরই ম‌ধ্যে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন প্রণয়‌নের দা‌বি ক‌রেছেন। ত‌বে এখন পর্যন্ত সরকা‌রের পক্ষ থে‌কে পুরুষ নির্যাতন দমন প্র‌তি‌রো‌ধে কোনো আইন প্রণয়‌নের উদ্যেগ গ্রহণ ক‌রে‌নি। এর ফ‌লে বর্তমান সমা‌জে পুরুষরা নির্যাত‌নের শিকার হ‌লেও কোনো আইনগত সহায়তা পা‌চ্ছে না। আইন প্রণয়ন এর পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে হবে। কেবল তখনই ধীরে ধীরে সমাজে পুরুষ নির্যাতন এবং বিয়ে বিচ্ছেদের হার কমে যাবে যা একটি সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণে একান্তভাবে প্রয়োজন।

122 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন