পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা করুন সহজেই

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা করুন সহজেই
5 (100%) 1 vote

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা আপনার পাইলস সমস্যা সমাধান করবে কম খরচে। দ্রুত পাইলস এর যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে রয়েছে নানা রকম জিনিস দিয়ে প্রাকৃতিক ভাবে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি। পাইলস খুব পরিচিত একটি রোগ। প্রায় ঘরে এই রোগ হতে দেখা দেয়। বিশেষত ৪৫ থেকে ৬৫ বয়সী মানুষেরা এই রোগে বেশি ভুগে থাকেন। তবে বর্তমান সময়ে সব বয়সী মানুষের এই রোগ হতে দেখা দেয়। মলদ্বারে যন্ত্রণা, রক্ত পড়া, মলদ্বার ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি পাইলসের সাধারণ সমস্যা। পারিবারিক ইতিহাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, কম ফাইবারযুক্ত খাবার, স্থূলতা, শারীরিক কার্যকলাপ, গর্ভাবস্থায়, এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অথবা বসে থাকা ইত্যাদি কারণে পাইলস দেখা দেয়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

অনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে কমোডে বসার ফলে অতিরিক্ত চাপের প্রয়োজন হয়। পায়ের নিচে একটা ছোট টুল রাখুন। কমোডে বসার সময় একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসুন। এতে বৃহদন্ত্রের কম চাপ পড়বে। এতে করে পাইলসের সমস্যা কম হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমাতে ও শরীরে রক্তচলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করা উচিত। তবে যদি খুব পরিশ্রম করেন বা ভার উত্তোলন করেন তাহলে পাইলসের সমস্যা বাড়তে পারে। সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানোর মতো হাল্কা ওয়ার্ক আউট করুন। সাধারণত ওষুধ, অপারেশন করে পাইলসের চিকিৎসা হয়ে থাকে। এর সাথে কিছু ঘরোয়া উপায়ে এই সমস্যা সমাধান করা যায়।

বরফ দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – ঘরোয়া উপায়ে পাইলস নিরাময় করার অন্যতম উপায় হল বরফ। এটি রক্তনালী রক্ত চলাচল সচল রাখে এবং ব্যথা দূর করে দেয়। একটি কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ পেঁচিয়ে ব্যথার স্থানে ১০ মিনিট রাখুন। এটি দিনে কয়েকবার করুন।

ভিনেগার দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – একটি তুলোর বলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার লাগিয়ে ব্যথার স্থানে লাগান। শুরুতে এটি জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করবে, কিছুক্ষণ পর এই জ্বালাপোড়া কমে যাবে। এটি দিনে কয়েকবার করুন। অভ্যন্তরীণ পাইলসের জন্য এক চা চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন। এটি দিনে দুইবার পান করুন। এরসাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।

ঘৃতকুমারী দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা –  ঘৃতকুমারী জেল আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি জ্বালাপোড়া দূর করে ব্যথা কমিয়ে দেবে। ঘৃতকুমারী পাতার কাঁটার অংশ কেটে জেল অংশটুকু একটি প্ল্যাস্টিকের প্যাকেটে ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এবার এই ঠান্ডা ঘৃতকুমারী জেলের টুকরো ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন। এটি জ্বালাপোড়া, ব্যথা, চুলকানি দূর করে দেবে।

মুলার জুস দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – মুলা আমাদের কাছে একটি অতি পরিচিত সবজি। এই সবজিটি অনেকে পছন্দ করে, আবার অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু এই সবজিটি পাইলসের সমস্যায় অত্যন্ত উপকারি। এই সবজির রস খেলে পাইলসের সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। প্রথমে ১/৪ কাপ দিয়ে শুরু করুন। তারপর পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ১/২ কাপে নিয়ে আসুন।

কলা দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা –  কলা আমাদের সকলেরই পছন্দ। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় উপকারি এবং ঔষধ হল কলা। বিনা কষ্টে মলত্যাগ করতে সাহায্য করে কলা। এর ফলে মলদ্বারে কোনও চাপ পড়ে না, ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি হয় না।

ডুমুর দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – গ্রাম অঞ্চলে ডুমুর অনেক পরিচিত। শুকনো ডুমুর ১ গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এই অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। আবার বিকেলের দিকে বাকি অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। পাইলসের সমস্যায় ভাল ফলাফল পাবেন।

বেদানা দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – বেদানা খেতে আমাদের সকলেরই খুব পছন্দ। এই ফলটি পাইলসের সমস্যার জন্য অনেক উপকারি।  প্রথমে বেদানার দানা পানিতে ভাল করে ফোটান। যতক্ষণ না বেদানার দানা ও পানির রং বদলিয়ে না যায়, ততক্ষণ ক্রমাগত ফুটিয়ে যান। এই পানি ছেঁকে রেখে দিন। দিনে দুবার করে এই পানি পান করুন। নিশ্চয় উপকার পাবেন।

আদা দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – আদা ও লেবুর রস আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। আর আদা ও লেবুর রস পাইলসের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে থাকে। ডিহাইড্রেশনও পাইলসের অন্যতম কারণ। আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তাতে ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটি খান। এতে শরীর হাইড্রেট হবে এবং পাইলসের সমস্যা কমবে।

হলুদ দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – কাঁচা হলুদও পাইলসের জন্য খুবি উপকারি । কাঁচা হলুদ ভাল করে পানিতে ফোটান । আর এই পানি নিয়মিত পান করুন। এতে পাইলসের সমস্যায় অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে।

অলিভ অয়েল দিয়ে পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – প্রতিদিন এক চা চামচ অলিভ অয়েল খান। এটি দেহের প্রদাহ হ্রাস করে এবং মোনোস্যাচুরেটেড চর্বি উন্নত করে থাকে। এছাড়া কিছু বরই পাতা গুঁড়ো করে অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে নিন। এটি আক্রান্ত স্থানে ম্যাসাজ করে লাগান। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

পাইলস বা অর্শ নিরাময়ে উপরে বর্ণিত খাদ্যগুলি খুবই উপকারি। আপনার যদি পাইলসের সমস্যা থাকে, তাহলে উপরের খাদ্যগুলো নিয়ম মেনে খেলে আশা করি আপনি পাইলস থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাবেন।

111 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন