পরীক্ষা প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু গুরত্বপূর্ণ টিপস

পরীক্ষা প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু গুরত্বপূর্ণ টিপস
5 (100%) 4 votes

পরীক্ষা শব্দটা শুনলেই অনেকের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। কিন্তু যতই ভয় কাজ করুক পরীক্ষা তো দিতেই হয়। পরীক্ষা শব্দটা এমন, যেটা শুনলে বর্তমান অথবা অতীত সকল প্রজন্মই আঁতকে ওঠে। ওঠাটাই স্বাভাবিক, কারণ আমাদের আরামপ্রিয় মস্তিষ্ক এত চাপ নিতে চায় না। পরীক্ষার পড়ার জন্য রাতগুলো যখন নির্ঘুম কাটে। পরীক্ষা না থাকলে ছাত্রজীবন কতই না সুন্দর হত। তাই বলে পরীক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তো ‍আর হবে না। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ কিন্তু পরীক্ষা। তাহলে এবার দেখে নিন কিছু টিপস।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

পরীক্ষা

পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন কে

পরীক্ষার কথা শুনলেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। এত এত পরীক্ষা দিতে দিতে, পরীক্ষার চাপ নিতে নিতে মাঝেমধ্যেই মনে হয় ধুরর! কেন যে এই পরীক্ষার দেয়ার নিয়মটা পৃথিবীতে আসলো! কখনো কখনো মনে হয়, যে ভদ্রলোক এই পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে তাকে সামনে পেলে ইচ্ছে মতো বকুনি দেয়া যেতো। আচ্ছা ভালো কথা, পরীক্ষার আবিষ্কারক কে? প্রাচীন চীন বিশ্বের সর্বপ্রথম দেশ যারা দেশব্যাপী স্ট্যান্ডারাইজড টেস্ট প্রবর্তিত করেছিলো, যাকে বলা হয় সার্বভৌম পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিলো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য যোগ্য লোককে খুঁজে বের করা। ৬০৫ সালে সুই ডাইনেস্টির দ্বারা এই পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছিলো। পরে ১৯০৫ সালে কুইং ডাইনেস্টি এই পদ্ধতি বিলুপ্ত করে দেয়। ইংল্যান্ড চীনের এই পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ শুরু করে ১৮০৬ সালে তাদের সিভিল সার্ভিসের জন্যে। এই পরীক্ষা পদ্ধতিটাই পরে শিক্ষা ব্যবস্থার উপর প্রয়োগ করা হয় এবং এই পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পায় এবং ছড়িয়ে যায় পরীক্ষা পদ্ধতি। এভাবেই ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরীক্ষা নেয়ার ধারণাটি সৃষ্টি হয়। তবে অনেকের মতে হেনরি এ ফিশেল পরীক্ষার আবিষ্কারক। ১৯১৩ সালে জার্মানির বন নামক স্থানে ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন হেনরি।

পরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিবেন

পরীক্ষা প্রস্তুতিও হওয়া চাই সেরা।পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সবাই কিছু না কিছু কৌশল অবলম্বন করে। কিন্তু কয়েকটি টিপস মেনে চললে আপনার প্রস্তুতিটি আরও সহজ ও পরিপূর্ণ হয়ে ‍উঠবে।

পড়ার মাঝে বিরতি নিন – একটানা অনেকক্ষণ পড়ার চেয়ে বিরতি দিয়ে পড়া অনেক বেশি কার্যকর। এক নাগাড়ে বেশ কিছুক্ষণ ধরে পড়লে পড়ায় মনযোগ ধরে রাখা যায় না। এ কারনে টানা অনেকক্ষণ না পড়ে প্রতি ২০-২৫ মিনিট পর পর পড়ার মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন। বিরতি নেওয়ার ফলে মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পড়া খুব সহজেই আয়ত্ত করা যায়।

রুটিন বানিয়ে পড়ুন – সঠিক পরীক্ষা প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজন সঠিক সময় নির্দেশনা। তাই রুটিন করে পড়া অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি বিষয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় ভাগ করে নিয়ে একটি টাইম রুটিন তৈরি করে ফেলুন। এতে করে সকল বিষয় যেমন সমান গুরুত্ব দেয়া যায় তেমনি পড়াটাও সহজতর হয়।

অতিরিক্ত রাত জাগা পরিহার করুন – পরীক্ষার সময় অনেকেরই রাত জেগে পড়ার অভ্যাস রয়েছে। কিন্তু এটা একদমই করা উচিত নয়। মস্তিষ্কে স্মৃতি তৈরীর কাজটি ঘুমের মধ্যে হয়। পরীক্ষার আগের রাতের ঘুম তাই অত্যন্ত জরুরী। লরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাত জাগা মস্তিষ্কের ক্ষতিসাধন করে। নর্থ টেক্সাসের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে অতিরিক্ত রাত জাগা চোখের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই পরীক্ষার সময় রাত জাগা পরিহার করুন। তার চাইতে রাতে আগে ঘুমিয়ে সকালে উঠে পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।

কঠিন পড়া গুলো ঘুমানোর আগে পড়ার চেষ্টা করুন – বিশেষজ্ঞদের মতে, অপেক্ষাকৃত কঠিন এবং বর্ণনামূলক পড়া ঘুমানোর আগে পড়া উচিত। এতে করে পড়াটি মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ঘুম থেকে উঠার পর পড়াটি মনে করা সহজতর হয়।

পরীক্ষার আগের রাতের জন্য পড়া জমিয়ে রাখবেন না – সকল পড়া পরীক্ষার আগের রাতের জন্য জমিয়ে না রেখে প্রতিদিন অল্প অল্প পড়ুন। পরীক্ষার আগের রাতে সকল পড়া একসাথে পড়তে গেলে মানসিক চাপ বাড়বে যা পরীক্ষা দেওয়ার সময় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরীক্ষার আগের রাতে নতুন কিছু না পড়ে আগে যা পড়া হয়েছে তাই রিভাইস করুন।

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন – খাবারের সাথে মস্তিষ্কের ক্রিয়াক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে পরীক্ষা প্রস্তুতির সময় চর্বিহীন এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারন এসব খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

নিজেকে যাচাই করুন – পরীক্ষা দেওয়ার পূর্বে নিজেই নিজের ছোটখাট টেস্ট নিয়ে নিন। নিজেই তাতে মার্কিং করুন। এতে করে পড়া ভালমত হয়েছে কিনা তা যেমন বুঝা যায় তেমনি আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। এই আত্মবিশ্বাস পড়া মনে রাখতে ও পরীক্ষায় ভালো করতে সাহায্য করে।

নিজের উপর  আস্থা রাখুন – হচ্ছে না, হবে না এ সমস্ত ধারণা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। নিজের উপর আস্থা রেখে সামনে এগিয়ে যান। বারবার অনুশীলন করুন। পরীক্ষার উত্তরপত্রেও আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রশ্নের উত্তর লিখুন।

চাকরির পরীক্ষা প্রস্তুতি নিবেন যেভাবে

প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থাকলেও চাকরির পরীক্ষায় অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। জানা বিষয়ও তখন অজানা মনে হয়। অনেক চাকরির পরীক্ষা দিয়েও নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। কিন্তু কখনোই ভেবে দেখা হয়নি- কেন এমন হচ্ছে? কোথায় কোথায় ভুল হচ্ছে? আসুন জেনে নেই চাকরির পরীক্ষা ভালো করার সহজ কয়েকটি উপায়।

পড়তে হবে জানার জন্য – যখন পড়তে বসবেন; তখন পড়াটাকে উপভোগ করবেন। কখনো পরীক্ষার জন্য পড়বেন না। মনে করবেন, আপনি শুধু একটা বই পড়ছেন। যেখান থেকে কিছু জানতে পারবেন। যেসব বিষয়ে জানতে হবে। আবার মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সিলেবাস থাকেনা। তাই এ পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলার সুযোগ নেই। দেশে ও দেশের বাইরের খোঁজখবর কতটুকু রাখেন বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো, আপনার উপস্থিত জ্ঞান কেমন এ পরীক্ষায় মূলত এ বিষয়গুলোই যাচাই করা হয়। যে পদের জন্য আবেদন করেছেন, সে পদ সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন হতে পারে। অনার্সে যে বিষয় পড়েছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখতে হবে। দখলে রাখতে হবে আন্তর্জাতিক বিষয়ও। নিজ জেলার আয়তন, জনসংখ্যা, শিক্ষার হার, কীসের জন্য বিখ্যাত, বিখ্যাত ব্যক্তি ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা রাখতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য যথাসম্ভব মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘ Vivavoce‘ যার adjective form হচ্ছে Vivacious’. এর অর্থই হচ্ছে প্রাণবন্ত।

মাথা ঠান্ডা রাখুন – পরীক্ষা দেওয়ার আগের রাত খুব ভালো করে ঘুমান। একদম বেশি রাত পর্যন্ত জেগে থাকবেন না। দরকার হলে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন মন স্থির থাকবে। মন স্থির থাকলেই অনায়াসেই পরীক্ষা ভাল হবে। মাথা ঠান্ডা রেখে পরীক্ষা দিন।

গুলিয়ে ফেলবেন না – এই পরীক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। কারণ এই পরীক্ষা আপনি পাস করতে যাচ্ছেন না, দিতে যাচ্ছেন। তাই খুব বেশি চাপ নেবেন না।

উপভোগ করুন – পরীক্ষাকে খুব সিরিয়াসলি না নিয়ে উপভোগ করবেন। আপনি শুধু উপভোগ করার জন্য পরীক্ষাটি দিচ্ছেন। পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়লে কোনো লাভই হবে না আপনার।

হাসিমুখে থাকবেন – যতক্ষণ ওই অফিসে থাকবেন ততক্ষণ মুখে কৃত্রিম হাসি লাগিয়েই রাখবেন। কখনোই বিরক্তি ভাব প্রকাশ করবেন না।

সজাগ থাকবেন – যে বিষয়ে ইন্টারভিউ দেবেন; সে বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ থাকবেন। তাই আগে থেকে বিষয় সম্পর্কে লেখাপড়া করে নেবেন।

ধৈর্য্য ধরুন – ইন্টারভিউয়ের সময় ধৈর্য্য হারাবেন না। ধৈর্য্য হারিয়ে ফেললে ঘাবড়ে যাবেন। তাই ধীরে সুস্থে আস্তে আস্তে প্রশ্নের উত্তর দেবেন।

ফরমাল পোশাক – পরীক্ষার দিন পরীক্ষা শুরুর অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে। পোশাক হতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, শালীন ও মার্জিত। ছেলেদেরকে অবশ্যই ফুলহাতা শার্ট পরে ভাইভা বোর্ডে যাওয়া উচিত। শার্টের রঙ সাদা না হলেও যতটা সম্ভব হালকা রঙের হওয়া বাঞ্ছনীয়। সেইসাথে প্যান্টের রঙ হওয়া প্রয়োজন কালো বা কালোর কাছাকাছি। পায়ে কালো রঙের ফরমাল শু থাকলে ভালো হয়। মেয়েদেরও পরিপাটি পোশাক পড়া উচিত। শাড়ি অথবা ভদ্রোচিত সালোয়ার কামিজ পড়ে উপস্থিত হবেন ভাইভা বোর্ডে। কড়া মেকআপ করে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত না হওয়াই ভালো। আর ছেলে মেয়ে সবার ক্ষেত্রেই পারফিউম ব্যবহার করলে হালকা পারফিউম ব্যবহার করা উচিত। অবশ্যই ফরমাল পোশাক পরে যাবেন। তবে অবশ্যই রঙের কথা মাথায় রাখবেন। এক রঙের পোশাক পরার চেষ্টা করবেন। ভাইভার সময় আপনাকে সতেজ এবং সবল থাকতে হবে। আপনার মধ্যে যেন কোনো রকম ক্লান্তির ছাপ না দেখা যায়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। ইন্টারভিউ বোর্ডে ঢোকার সময়ই সম্ভাষণ করুন। প্রবেশের পর অনুমতি না নিয়েই বসে পড়বেন না। ভাইভা বোর্ডে ঢোকার পর সেখানকার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। নিজেকে বেশি স্মার্ট প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না। তবে তাই বলে বোকার মতো আচরণও করবেন না।

প্রশ্নের উত্তর দেবেন যেভাবে – মৌখিক পরীক্ষায় সব প্রশ্নই যে আপনার জানা থাকবে, তা কিন্তু নয়। উত্তর জানা না থাকলে বানিয়ে বা আন্দাজে না বলে সরাসরি বলতে হবে উত্তরটি জানা নেই। বানিয়ে বা আন্দাজে বলে ভুল করার চাইতে ‘জানা নেই’ বলা অনেক ভালো। এতে আপনার ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে না। কোনো ব্যাপারে মতামত জানতে চাওয়া হলে পক্ষপাতিত্ব না করে দুটি দিকই তুলে ধরা উচিত। সেই সঙ্গে খেয়াল রাখবেন, আপনার মতামত যেন যৌক্তিক হয়। ভাইভা বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে কখনোই তর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। কোনো বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে তা জানানোর আগে বিনয়ের সঙ্গে ‘মাফ করবেন’ বা ‘কিছু মনে করবেন না’ বলে নিন। স্বাভাবিক স্বরে উত্তর দিন। আবেগতাড়িত হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। খেয়াল রাখতে হবে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি, ধর্ম বা রাষ্ট্র সম্পর্কে যাতে কোনো অবমাননাকর বা অপ্রীতিকর কথা বেরিয়ে না যায়।

উত্তরের ভাষা – অনেকেই মনে করেন, ইংরেজিতে প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা অনেক বেশি স্মার্টনেসের পরিচায়ক। কিন্তু কথাটি সর্বাংশে সঠিক নয়। মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় প্রশ্নকর্তা বাংলাতে প্রশ্ন করলে বাংলায় উত্তর দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। আর ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে ইংরেজিতে উত্তর দিন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নকর্তারা প্রার্থীর ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা জেনে নেওয়ার জন্য ইংরেজিতে প্রশ্ন করেন বা ইংরেজিতে নিজের বা কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলেন। ইংরেজিতে নিজের দক্ষতা জাহির করতে হলে এসব সময়ে সঠিকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর করুন বা কথা বলুন।

অপ্রাসঙ্গিকতা পরিহার করুন – মৌখিক পরীক্ষায় আপনাকে যা জিজ্ঞাসা করা হয়, সেটাই বলুন। অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে আলাপ করবেন না। ভাইভা বোর্ডে যে বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে, শুধু সে বিষয়েই উত্তর দিতে হবে। আর হাসিমুখে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে অকারণেও হাসা যাবে না। ভাইভা বোর্ডে যখন যে ব্যক্তি আপনাকে প্রশ্ন করবেন, তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিতে হবে। সব প্রশ্নের উত্তর বিনীতভাবে দিতে হবে। কখনোই নিজের যোগ্যতা বা অন্য কোনো বিষয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। কথা বলার সময় হাত-পা নাড়াবেন না। চৌকসভাব দেখাতে গিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে উত্তর দেবেন না। আঞ্চলিক টান পরিহার করে শুদ্ধ উচ্চারণে উত্তর দিতে চেষ্টা করুন। আরও একটি বিষয়, মৌখিক পরীক্ষায় কখনো কখনো এলোপাতাড়ি প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন ছুড়ে প্রার্থীকে বিচলিত করার চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় সাক্ষাতকার গ্রহীতারা নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করে বিব্রত করার চেষ্টা করে থাকেন। জরুরি এবং বিশেষ মুহূর্তে নিজেকে সামাল দেওয়ার ক্ষমতা কতটুকু আছে, তা দেখার জন্য এ ধরনের অবস্থার সৃষ্টি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে কী করে নিজের টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে হবে, সেদিকে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।

ইতিবাচক চিন্তা – সবসময় নিজের মনকে বলবেন, ‘আমি পারব’। কখনো এটা মাথায় আনবেন না যে আপনার সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষ পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা আপনার চেয়ে অনেক ভালো। এই চিন্তা করলে কোনো লাভ হবে না। নিজের লাভ কীসে হবে সেই কথা ভাবুন।

93 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন