নেকেট ভিডিও দেখলে কি হয়

নেকেট ভিডিও দেখলে কি হয়
3.8 (76.67%) 6 votes

নেকেট ভিডিও অনেকেই দেখেন। নেকেট ভিডিও দেখেনা এমন পুরুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। এখন নেকেট ভিডিও দেখাটা আমাদের কাছে ভীষণ স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হয়ে গেছে। আর এ প্রজন্মের তরুন তরুনীদের নেকেট ভিডিও দেখার প্রতি আসক্তি এক ভয়াল নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। বারো তেরো থেকে শুরু করে অনেক মধ্য বয়সী পুরুষও পর্ণগ্রাফি আসক্তিতে ভুগছেন। নিয়মিত নেকেট ভিডিও বা খারাপ ছবি দেখার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই আমরা নিজেদের অনেক ক্ষতি করে ফেলছি । যে ক্ষতি জন্য লাইফে অনেক সমস্যায় ভুগতে হয় । ইদানিং দেখা যাচ্ছে ইন্টারনেটে আপনি যত বিষয় সার্চ করবেন তার মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে নেকেট ভিডিও।  প্রতিনিয়ত নেকেট ভিডিও দেখতে দেখতে বহু মানুষের কাছেই তা নেশা হয়ে উঠে। এক সময় পর্নোগ্রাফিতে প্রবল ভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন তারা। আর তার ফলে নানা রকম মানসিক সমস্যাও দেখা দেয়। আপনরা আজ এ পোস্টে কি করে পর্ণোগ্রাফি, পর্ণো ছবি বা নেকেট ভিডিও দেখা বা পর্ণোআসক্তি থেকে মুক্তি পাবেন সে বিষয় জানবেন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

নেকেট ভিডিও

নেকেট ভিডিও এবং বর্তমান বিশ্ব

নেকেট ভিডিও হল বাণিজ্যিক নিশ্চল ফটোগ্রাফি বা ছবি যাতে অশ্লীল যৌন-উদ্দীপনামূলক বিষয়বস্তু থাকে কিন্তু তা পর্নোগ্রাফির মত সুস্পষ্ট নয়। এতে প্রধানত অর্ধনগ্ন ও নগ্ন কলাকুশলী ও যৌনদৃশ্যের মাধ্যমে যৌন-উদ্দীপনা সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও সমাচারপত্রে নগ্ন অভিনেতা বা মডেলদের ছবি সরাসরিই দেখানো হয়। তবে লঘু পর্নোগ্রাফিতে পুরুষ বা নারী যৌনাঙ্গ দেখানো হয় না। বিভিন্ন আর্ট ফিল্মে এই ধরনের নগ্নতাকে নান্দনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ব্যবহার করা হয়। CNBC এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে আমেরিকায় তিন হাজার পচাত্তর ডলার ব্যয় হয় এই পর্ণ ব্যবসায়, আরো মজার একটি পরিসংখ্যান হল প্রতি ৩৯ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি নতুন পর্ণ মুভি। আমেরিকার সান ফার্নান্ডো ভ্যালি (লস এঞ্জেলস) নামক এক স্থান নেকেট ভিডিও এবং পর্ণ মুভি তৈরির জন্য বেশ বিখ্যাত। সেই বাণিজ্যিক নির্মাণের দশক ১৯৭০ থেকেই এখানে পর্ণ উতপাদন করা হয়। ভিসিয়ার ক্যাসেট থেকে বর্তমানে ব্লু রে, এইচ ডি সব ফরম্যাটেই এখানে বানিজ্যিক ভাবে পর্ণ বিপনন করা হচ্ছে! প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে এখন থ্রিডি পর্ণ ও দেদারসে তৈরি এবং প্রদর্শন হচ্ছে! এপ্রিল ২০১১ তে দুনিয়ার প্রথম থ্রিডি পর্ণ প্রদর্শিত হয় হংকং এ, মুভির নাম ছিল – 3D Sex and Zen: Extreme Ecstasy. আমেরিকার পর্ন ব্যবসা এতটাই লাভজনক যে একে বলা হচ্ছে গোল্ড মাইন। বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী পর্ণ ইন্ডাস্ট্রির মোট সম্পদের পরিমান ৯৭ বিলিয়ন ডলারের ও বেশী যার সিংহভাগই আমেরিকার! তবে পৃথিবীর অনেক দেশেই পর্ণোগ্রাফী এখন নিষিদ্ধ। আমরা বর্তমানে একটি পর্ণো-আসক্ত সমাজে বসবাস করছি যেখানে এটি সংক্রামক ব্যাধির মত বিস্তার লাভ করছে। পর্ণো বা নেকেট ভিডিও কোনো স্বাভাবিক যৌন কার্যক্রম না বরং এটা একটি বিকৃত যৌনাচার। পর্ণো আসক্ত রোগীর হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর প্রধান কারণ এই সব পর্ণোর সহজলভ্যতা।

নেকেট ভিডিও যেভাবে ক্ষতি করে

নেকেট ভিডিও বা পর্ণোগ্রাফিতে আসক্তির ফলে পুরুষের নারীর প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ কমে যায় ও যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। অসংখ্য তরুণ পর্ণো জগতের প্রতি দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ছে। পরিণাম নৈতিক অবক্ষয় তো আছেই।  যারা নেকেট ভিডিওর প্রতি বেশি আসক্ত এবং সারাক্ষণ নেকেট ভিডিও নিয়ে চিন্তা করেন তারা বিয়ের পর স্বাভাবিক যৌন জীবনের প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। প্রতিনিয়ত নেকেট ভিডিও দেখার ফলে মস্তিষ্কে উত্তেজনা সৃষ্টিকারি ‘নিউট্রো ট্রান্সমিটার’ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় অথবা নষ্ট হয়ে যায়। এটা নেকেট ভিডিও দেখার সময় অতি উত্তেজনার ফলেও হয়ে থাকে। স্বাভাবিক যৌন জীবনে ‘ডোপামিন’ নামক উত্তেজনাও হারিয়ে ফেলেন অনেক পর্ণো-আসক্ত।

২০১৩ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে পর্ন আসক্তরা যখনই নেকেট ভিডিও বা পর্ন মুভি দেখতে বসে তাদের মস্তিষ্কে স্ক্যান মেশিনের মতো আলো জ্বলে ওঠে। যেসব তরুণ অনলাইন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত তারা উত্তেজক ছবি দেখামাত্রই তাদের মস্তিষ্কে ক্রিসমাস ট্রির মতো আলো জ্বলে ওঠে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনটিই দেখা গেছে। মস্তিষ্কের যে অংশে উৎসাহ উদ্দীপনা ও ইন্দ্রিয় সুখানুভুতি সৃষ্টি হয় সে অংশটি ড্রাগ আসক্ত এবং পর্ন আসক্ত উভয়ের বেলায়ই সমান উচ্চহারে সক্রিয় থাকে। এর এক বছর পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা অল্প বয়স থেকেই পর্ন মুভি দেখায় অভ্যস্থ হয়ে পড়ে তাদের মস্তিষ্কের তিনটি অংশ যারা পর্নআসক্ত নয় তাদের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।

নেকেট ভিডিও দেখার কুফল অনেক। নিয়মিত নেকেট ভিডিও দেখার মাধ্যমে নিজের অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলছেন অসংখ্য পুরুষ। প্রথমত – পর্নো আসক্ত পুরুষদের সাধারণত রুচিশীল নারীরা হীনম্মন্য ও চরিত্রহীন মনে করে। নারীরা যখন জানতে পারে তার পরিচিত কোনো পুরুষ নিয়মিত নেকেট ভিডিও দেখে, তখন তার সম্পর্কে খারাপ মনোভাব জন্ম নেয়। এবং তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়ত – রুচিবোধের অধঃপতন হয়। যারা নিয়মিত নেকেট ভিডিও দেখেন তাদের রুচি বিকৃত হয়ে যায়। জীবনের স্বাভাবিক সম্পর্কগুলোতেও নিজের অজান্তে বিকৃতি খোঁজে তাদের চোখ। তৃতীয়ত – নিয়মিত নেকেট ভিডিও দেখতে দেখতে পুরুষরা বাস্তবতাকেই হারিয়ে ফেলেন। বাস্তব জীবনেও তারা তেমন সঙ্গীই আশা করে। সাধারণ নারীদের তখন আর তাদের যথেষ্ট মনে হয় না। ফলে জীবনের সুখ শান্তি হারিয়ে যায় তাদের। পর্নো নায়িকাদের সৌন্দর্য কৃত্রিম আচরণও কৃত্রিম। মেকআপ, লাইট ও ক্যামেরার কারসাজিতে তাদের মোহনীয়ভাবে দেখানো হয় যা বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না। তাই পর্নো আসক্তরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিঃসঙ্গ থেকে যায় অথবা সংসারে অসুখী হয়। চতুর্থত – নিয়মিত নেকেট ভিডিও বা খারাপ ছবি দেখেন তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে বিকৃত অভ্যাস যার অতিরিক্ত প্রয়োগে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বাড়ে এবং যৌন জীবনে নানান সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পঞ্চমত – এটি এক ভয়াল নেশা। পর্নো সিনেমার নেশা মাদকের নেশার মতোই ভয়ংকর। মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেমন কষ্টসাধ্য পর্নো আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়াও দুরূহ ব্যাপার। পর্নো আসক্তির কারণে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়, পড়াশোনায় ক্ষতি হয় এমনকি নিজের মধ্যেও হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়। ষষ্ঠত – পর্নো আসক্তদের মোবাইল ফোনে, কম্পিউটারে, পেনড্রাইভে সবখানেই নেকেট ভিডিও থাকে। অনেক সময় এসব অনৈতিক বিষয় পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যায়। ফলে পর্নো-আসক্ত ব্যক্তিকে হেয় হতে হয়। এ ছাড়া হারাতে হয় ভালো বন্ধু-সার্কেলকেও।

নেকেট ভিডিও আসক্তি দূর করবেন যেভাবে

নিশ্চয়ই কান, চক্ষু ও অন্তঃকরণ এদের প্রত্যেকটি সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করা হবে। [সূরাহ আল-ইসরা (১৭): ৩৬] চার দেয়ালের মধ্যে একা রুমে আপনি আর কেউ নেই। কেউ দেখছে না আপনাকে। ব্যস, অমনি চান্স পেয়ে আপনি চলে গেলেন পর্ন সাইটে। ডেপ ডেপ করে গিলছেন সেই অসভ্য কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য। কিন্তু আপনার এই ভাবনাটা ভুল। আপনাকে দুনিয়ার আর কেউ না দেখুক, কিন্তু আল্লাহ্‌ আপনাকে ঠিকই দেখছেন। আর আপনি কি না বেমালুম তার কথা ভুলে গেলেন। কত অকৃতজ্ঞ বান্দা আপনি, একবার কি ভেবেছেন? ঠিক সেই সময় যদি আপনার মৃত্যু চলে আসে আর স্ক্রীন চলতে থাকে আর আপনার আপনজন যদি এসে আবিস্কার করে যে আপনি কি না এমন যাকে সবাই ভদ্র ও সভ্য মনে করতো! সেই ভদ্র ও সভ্যের মুখোশের আড়ালে আপনি ছিলেন নিরেট ভণ্ড। আর আপনি এও ভুলে গেলেন যে কান, চোখ, ও অন্তর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, অর্থাৎ হিসাব নেওয়া হবে। পারবেন কি সেই হিসাব দিতে? অতএব এখনই সাবধান হন। এছাড়া আরো যা করতে পারেন –

▪বাইরে বেড়াতে বের হন,পারলে লম্বা একটা ছুটি নিন। চাইলে কোন মুসলিম দেশে গিয়ে আরবিটা শিখে নিতে পারেন। সেখানেও নেকেট ভিডিও হয়তো পিছু ছাড়বে না তবুও সেখানে এখানকার মত পরিবেশ পাবেন না। এই বদ অভ্যাস ছাড়তে হলে নিজেকে নতুন নতুন জায়গার সাথে পরিচিত করান হোক দেশের ভেতরে বা বাইরে। কিন্তু এসব ভ্রমণে যাবার আগে যদি নিয়ত মজবুত না করেন যে আবার নেকেট ভিডিও দেখবনা তাহলে খুব একটা লাভ হবে না।

▪নিজেকে শক্ত রেখে নিয়ত করে ফেলুন। সত্যিকার অর্থে ও দৃঢ় মনোবলের সাথে নিজেকে বোঝান যে আপনি এসব ত্যাগ করবেন। তারপরও যদি অঘটন ঘটে তাহলে ঘাবড়ে যাবেন না। শুরু থেকে আবার শুরু করুন। এই জার্নিতে আপনি একশো কোটিবার ব্যর্থ হবেন। কিন্তু তাতে কি? মনে রাখবেন, এসবের মাঝেও আপনার সংকল্পের ভিত যেন নড়ে না যায়। আপনার একসময় মনে হবে যে,“নাহ! আমি বোধহয় আর কোনদিনই শুধরাতে পারবো না”। এইটা পুরা ভুয়া কথা। বস্তুত শয়তানের বিটলামি ছাড়া আর কিছুই না।

▪আল্লাহর জিকির করুন নিয়মিত। জিকির হল আমাদের আত্মার জন্য মেডিসিন। কিন্তু ১ মিনিটে ১০০ বার তোতা পাখির মত ঠোঁট নাড়ালে কোন সুফল হাসিল হবে না। সালাতের পর আল্লাহর সাথে আমাদের কানেকশান মেইনটেইন করার সর্বোত্তম উপায় হল এটি। আপনি জিকিরে যা বলছেন তার মর্মার্থ বাদ দিলাম একেবার সাধারন অর্থটুকুও যদি না জানেন তাহলে ওই জিকির একেবারেই ফাঁকা। আজকের যুগে সহিহ ঈমান ধরে রাখা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। দুনিয়ার মোহ আমাদের অনবরত টানতেই থাকে। আর ইবলিশ তো ওর ধান্দাতে আছেই। তাই সময় থাকতে নিজেকে নিরাপদ রাখুন। আমাদের জীবনের আসল পরীক্ষাগুলো সহজ হবে না। কিন্তু সেগুলোর মাঝেও আল্লাহকে আমি আপনি যেকোনো সময়ই পেতে পারি। এইটা অনেক বড় সাপোর্ট। তাই সহজে এটিকে অবমূল্যায়ন করেন না। নেকেট ভিডিও আসক্তি পরিহার করুন দৃড় মনোবলের সাথে।

419 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন