নারী ও পুরুষের যৌনতা ভিন্নতা এবং সম্পর্ক

নারী ও পুরুষের যৌনতা ভিন্নতা এবং সম্পর্ক
5 (100%) 11 votes

নারী ও পুরুষের মধ্যে ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। তা হতে পারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। শারীরিক গঠন, সম্পর্ক, যৌনতা, বুদ্ধি, আচার আচরণ সহ অনেক বিষয়েই নারী ও পুরুষের মধ্যে অমিল রয়েছে। মানব সভ্যতার অপরিহার্য দুটি উপাদান নারী ও পুরুষ। মহান স্রষ্টা নারী ও পুরুষ সৃষ্টির মাধ্যমে এ সভ্যতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেই হিসেবে সমাজ সভ্যতা বিনির্মাণে দু’পক্ষের রয়েছে স্বতন্ত্র ভূমিকা এবং মৌলিক অবদান। আর এ অবদান এতটাই মৌলিক যে পার্থক্যের ছেদরেখা টেনে দেখানো যায় না যে কোনটা বড় আর কোনটা ছোট।

নারী ও পুরুষের

নারী ও পুরুষের সম্পর্ক কি শুধুই বন্ধুত্বের হয়

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

নারী ও পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক কি শুধু বন্ধুত্বে সীমাবদ্ধ থাকে? নারী ও পুরুষের মধ্যে শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকাটা বেশ কঠিন। বেশির ভাগ গবেষণায় দেখা যায়, বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে দীর্ঘ সময় শুধু বন্ধুরূপে থাকা সম্ভব হয় না। যদি বিপরীত লিঙ্গের কারো সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, ধীরে ধীরে তা ভালোবাসায় পরিণত হয়। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে শুধু বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে এমন ঘটনা খুব বিরল। তবে যদি অনেক বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে থাকে, যেখানে সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়া, খাওয়া, ঘুরতে যাওয়া হয় সেই ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। কারণ তখন আপনার মন বন্ধুদের সেই ভিড়ের মাঝেই আবদ্ধ থাকে। নারী ও পুরুষের সম্পর্কের কিছু দিক তুলে ধরা হলো। চলুন দেখে নিই দিক গুলো।

▪বেশির ভাগ নারী পুরুষদের শুধু ‘বন্ধু’ ভাবতে পারে। অপরদিকে পুরুষরা বেশির ভাগ সময় নারী বন্ধুটির প্রেমে পড়ে যায়।

▪অনেক পুরুষ গোপনে নারী সঙ্গীকে ভালোবেসে ফেলে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর কথাও ভেবে থাকে।

▪কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষ ও নারীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বেশ লাভজনক। কারণ একজন নারীকে তার আরেক নারী বন্ধুর চেয়ে পুরুষ সঙ্গী ভালো বুঝতে পারে। নারীরাও তাদের নানা কথা পুরুষ বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে তৃপ্তি অনুভব করে।

▪হ্যাঁ, নারী ও পুরুষের মধ্যে শুধু বন্ধুত্ব হতে পারে। কিন্তু মাঝে মাঝে শুধু বন্ধু হয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে যখন দুজনের মধ্যে একজন অনেক আকর্ষণীয় হয়।

▪অনেক গবেষণায় এসেছে নারী ও পুরুষের সম্পর্ক বন্ধুত্ব দিয়েই শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা ভালোবাসায় পরিণত হয়।

▪যদি কোনো মানুষ নিজের ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশের চেষ্টা বারবার করে, আপনার সঙ্গে ঘনঘন দেখা করতে যায়, আপনাকে প্রেমময় বার্তা দেয় তাহলে বুঝতে হবে সে বন্ধুত্বের বাইরেও কিছু ভাবছে আপনাকে নিয়ে।

নারী ও পুরুষের কিছু ভিন্নতা

নারী ও পুরুষের মধ্যে ভিন্নতা থাকাটাই স্বাভাবিক। নারী ও পুরুষের মধ্যে গঠনগত  এবং হরমোনাল পার্থক্য বিদ্যমান। আসুন জেনে নেওয়া যাক নারী ও পুরুষের ৯ টি ভিন্নতা।

১. কোন জিনিসটা কোথায় তা বেশি মনে রাখতে পারেন নারীরা – আপনি হয়তো আপনার গাড়ির চাবিটি ঠিক জায়গায় না রেখে আপনার মাকে জিজ্ঞেস করলেন। আর আপনার মা তা বলে দিল। যা দেখে আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার মা সবই জানেন। আসলে নারীরা কোন জিনিসটি কোথায় রাখা হয়েছে তা বেশি মনে রাখতে পারেন। এ কারণেই নারীরা রাস্তার ল্যান্ডমার্ক মনে রাখতে পারেন আর পুরুষরা শুধু দিক ও দূরত্ব মনে রাখতে পারেন।

২. নারীরা কথা শোনায়ও পারদর্শী – এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, শ্রবণ এবং ভাষা সংশ্লিষ্ট নিউরন বা স্নায়ু নারীদের মধ্যে বেশি থাকে। আর এ কারণেই হয়তো নারীরা কোনো শব্দ বা বাক্য শুনে তা বেশি ভালোভাবে বুঝতে ও বিশ্লেষণ করতে পারেন। এ থেকেই আপনি এখন বুঝতে পারছেন কেন একজন মা শিশুর কান্না থেকে দ্রুত তার সমস্যাটি বুঝে নিতে পারেন। নারীরা আসলে মনোযোগী শ্রোতাও বটে।

৩. নারীরা ব্যথা বেশি অনুভব করেন – মস্তিষ্কের যে অঞ্চলে ব্যথার প্রক্রিয়াজাতকরণ হয় তা নারী ও পুরুষের বেলায় একটু ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। পুরুষের তুলনায় নারীরা ব্যথা বেশি অনুভব করেন। তথাপি নারীরা ব্যথা বেশি সহ্য করতে পারেন কিন্তু পুরুষরা কম সহ্য করতে পারেন। পুরুষরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযোগ করা শুরু করেন এবং ধৈর্য্যহারা হয়ে পড়েন। আবেগগত ব্যথার ক্ষেত্রেও একই কথা।

৪. কে বেশি উদ্বেগে ভোগেন – যদিও এ ব্যাপারে যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই তথাপি বর্তমান গবেষণায় দাবি করা হয়, পুরুষদের চেয়ে নারীরা বেশি উদ্বেগে আক্রান্ত হন। এর কারণ হতে পারে হরমোন। কিন্তু উদ্বেগে ভোগার প্রবণতার কিছুটা সুবিধাও আছে। নারীরা অদেখা সমস্যার সমাধান এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে বেশি পারদর্শী। কেননা তাদের উদ্বেগ তাদেরকে কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যার জন্য আগে ভাগেই প্রস্তুত করে রাখে।

৫. অগ্রাহ্য করার প্রবণতা – পুরুষদের শ্রবণ পদ্ধতি একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। তারা চাইলেই তাদের চারপাশের বেশ কিছু আওয়াজ গুরুত্বহীন মনে করে অগ্রাহ্য করতে পারেন। কেউ কোনো কথা বারবার বলতে থাকলে পুরুষরা তাতে মনোযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেন। অন্যদিকে নারীরা সবকিছুই শুনতে চায় বা শুনতে পায়।

৬. আবেগ – পুরুষদের তুলনায় নারীরা আবেগ বেশি অনুভব করেন এবং বেশি ভালোভাবে আবেগ প্রকাশ করতে পারেন। কারণ সেভাবেই নারীদের দৈহিক ও মানসিক গড়ন তৈরি হয়েছে। বয়ঃসন্ধিকালে মস্তিষ্কে বিশেষ কিছু পরিবর্তনই নারীদেরকে আবেগ প্রকাশে বেশি সক্ষম করে তোলে। আর পুরুষরা সাধারণত তাদের বিশেষ কিছু আবেগ প্রকাশ না করে বরং লুকাতে চেষ্টা করেন।

৭. মানসিক চাপের প্রতি প্রতিক্রিয়া – কী ঘটে যদি একজন নারী এবং একজন পুরুষ একই মাত্রার মানসিক চাপ বোধ করেন? পুরুষরা হয়তো তার মেজাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু নারীরা শান্ত এবং ধীরস্থির থাকতে পারেন। কেন? মানসিক চাপের সময় যে রাসায়নিক নিঃসরিত হয় তা নারীদের মধ্যে এস্ট্রোজেনের সঙ্গে মিশে যায়। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে ওই একই রাসায়নিক টেস্টোস্টেরনের সঙ্গে মিশে এবং তাদেরকে আগ্রাসী করে তোলে।

৮. কে বেশি তর্ক করে – নারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ভয় এবং দুঃখবোধ তৈরি হতে পারে। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে তাড়না তৈরি হয়। এর ইতিবাচক দিক হলো এর ফলে পুরুষরা প্রতিযোগীতায় জয়ী হয়। আর নেতিবাচক দিক হলো এর ফলে পুরুষরা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

৯. রাগ – নারীরা সাধারণত ক্ষুব্ধ হলে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারেন সহজে। অন্যদিকে, পুরুষরা তাদের মেজাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শারীরিক ভাবে রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে বিপদে পড়েন। পুরুষদের মস্তিষ্কের যে অংশ রাগ নিয়ন্ত্রণ করে তা তাদের মস্তিষ্কের সেই অংশের সঙ্গে যুক্ত যা শারীরিক তৎপরতারও নির্দেশ দেয়। আর নারীদের মস্তিষ্কের যে অংশ রাগ নিয়ন্ত্রণ করে তা তাদের মস্তিষ্কের কথা বলার অংশের সঙ্গে যুক্ত। আর এ কারণেই নারীরা ক্ষুব্ধ হলে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। আর পুরুষরা শারীরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিপদে পড়েন।

নারী ও পুরুষের মধ্যে কার যৌনাকাঙ্খা বেশী

ব্রেইনের সেক্সুয়াল ট্রিগার সেন্টার একটিভ হওয়ার ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের মধ্যে ভিন্নতা আছে। একবার যৌন মিলন এর জন্য একজন নারীর মেন্টাল প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন হয়। সে তখনই অর্গাজম এ যাবে যখন সে দেখবে তার পুরুষ পার্টনার তার সাথে একটা কমিটেড রিলেশনশিপে আছে, তার পার্টনার তাকে সিকিউরিটি দিতে পারছে। সেক্সুয়ালী একটিভ হওয়ার জন্য তাকে রিল্যাক্সড স্টেটে থাকতে হয়। একজন পুরুষের ক্ষেত্রে ব্যপারটি ঠিক উল্টো। সে যত বেশী stressed, anxiety এর মধ্যে থাকে তত বেশী সে সেক্সুয়ালী একটিভ থাকে। এ কারণে মাল্টি টাস্কিং একজন মেয়েকে সেক্স্যুয়ালী একটিভ হতে বাধা দেয়।
একজন পুরুষের শরীরের গড়ন নারীর জন্য কোন সেক্সুয়াল স্টিমুলাস নয়। বরং নারীর মাথায় কখনই প্রথমে সেক্স আসে না। একজন নারী ও পুরুষকে একসাথে বসে গল্প করতে দেখলে একজন নারী প্রথম দেখায় এদের কে বন্ধু মনে করবে। কিন্তু একজন পুরুষ তাদেরকে দেখে অন্যকিছু ভাবতেই পারে। নারী ও পুরুষের মধ্যে শারীরিক এবং জিনগত ভাবে আলাদা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তবে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কার বেশি যৌনাকাঙ্খা- এটা তকর্যোগ্য প্রশ্ন। তবে অনেকের মতে, যৌনতায় বেশি আগ্রহী পুরুষরাই। কিন্তু এই ধারণা বর্তমানে পুরনো ও বাতিল। ২০১৭ সালে দাঁড়িয়ে এক কথায় এই প্রশ্নর উত্তর পেতে চাইলে বোকা বনতে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে ভাউচার কোড প্রো নামে একটি অনলাইনের করা এক সমীক্ষায় এ প্রশ্নের যে উত্তর উঠে এসেছে তা হলো – প্রাপ্তবয়স্ক দুই হাজার ৩৮৩ জন নারী ও পুরুষের ওপর চালানো সমীক্ষায় জানতে চাওয়া হয়, নারী ও পুরুষের সম্পর্কে ক্ষেত্রে কে বেশি যৌনতা চায়?

সমীক্ষায় যে ফল উঠে এসেছে, তাতে দেখা যায়, বর্তমান সময়ে পুরুষের চেয়ে নারীর যৌন আকাঙ্খা বেশি। প্রায় ৫৯ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে তারাই প্রেমিকের মনে যৌনতা উস্কে দেন। মুখ ফুটে না বললেও হাবভাবে তারা যৌন চাহিদা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ৪১ শতাংশ পুরুষ প্রেম চলাকালে যৌন আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে সমীক্ষায় জানা গেছে।সমীক্ষায় আরও বেশকিছু তথ্য উঠে এসেছে। যেমন, ২১ শতাংশ দম্পতি নিজেদের মধ্যে অতীতের যৌনজীবন নিয়ে ঝগড়া করেন। অনেকে তাদের সঙ্গীকে ‘অলস’ বলে আখ্যায়িত করেন। ৩২ শতাংশ নারীর অভিযোগ, স্রেফ আলসেমির জন্য তাদের স্বামী বা বয়ফ্রেন্ড **সহবাস** করতে চান না। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৪ শতাংশ নারী জানান, তাদের যৌনসম্পর্কে নতুনত্বের অভাব রয়েছে। কিন্তু আলসেমির জন্য বা কেউ দেখে ফেলতে পারে এই ভয়ে তাদের সঙ্গীরা বেডরুমের বাইরে শারীরিক সম্পর্ক চান না। অন্য একটা গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তাদের জীবন সঙ্গিনী যদি যৌন প্রতারণা করে তা দ্রুত ও সহজে টের পেয়ে যান। আর পুরুষরা এতে খুব বেশি বেদনাহত হন। নারীরাও তাদের পুরুষটি যৌন প্রতারণা করলে মর্মাহত হন। কিন্তু তারা বেশি বেদনাহত হন যদি তাদের পুরুষটি অন্য কোনো নারীর সঙ্গে আবেগগত ভাবে বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, পুরুষরা বেশি বেদনাহত হন যদি তাদের নারীটি অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দৈহিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হন।

414 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন