দেহ ব্যবসা বিশ্বের যে ৩২ টি দেশে বৈধ্য

দেহ ব্যবসা বিশ্বের যে ৩২ টি দেশে বৈধ্য
5 (100%) 2 votes

দেহ ব্যবসা পৃথিবীর প্রাচীনতম একটা ব্যবসা। সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে যৌনতা বিক্রি করার ব্যবসা বা দেহ ব্যবসা। যুগ যুগ থেকে এ ব্যবসা যেমন থেমে নেই তেমনি এখন যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইনে বা যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে অভিনব কায়দায় এই দেহ ব্যবসা। যদিও দেহ বিক্রি করা মেয়েটার নাম হয় পতিতা কিন্তু তাকে পতিতায় পরিণত করা পুরুষের আলাদা কোনো নাম নেই !

দেহ ব্যবসা

দেহ ব্যবসা যেসব দেশে বৈধ্য

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

দেহ ব্যবসা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বৈধতা থাকলেও আমাদের দেশে এই ব্যবসার কোন বৈধতা নেই। যদিও আমাদের দেশে দেহব্যবসার আইন স্বীকৃত না থাকলেও অনেক হোটেলে বা বাসা বাড়িতে রমরমিয়ে চলছে এই ব্যবসা। এই পেশা পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশাগুলির অন্যতম। অনেকের মতে, দেহ ব্যবসাই প্রাচীনতম। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও সমাজের সবচেয়ে উপেক্ষিত শ্রেণির এই পেশার নাম- দেহ ব্যবসা। কিছু দেশ এই ব্যবসার উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে। আবার বিশ্বের অনেক দেশই দেহ ব্যবসাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে আর পাঁচটা সাধারণ পেশার মতোই। আসুন, দেহ ব্যবসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া বিশ্বের সেই সব দেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যাক।

১. কিউবা – নিসর্গ, সংস্কৃতি ও চুরুটের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দ্বীপরাষ্ট্র কিউবায় প্রতি বছর পাড়ি জমান অজস্র পর্যটক। তবে এদের বড় একটি অংশ আসেন দেহের আকর্ষণে। শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয় অনেক নাবালিকাও এই দেশে দেহ ব্যবসায় জড়িত।

২. রাশিয়া – গত এক দশকে রাশিয়ায় দেহ ব্যবসার রমরমা শুরু হয়েছে। মূলত উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের পর্যটকরাই এখানে যৌনতার টানে ছুটে আসেন। তবে রুশ যৌন বাজারে দালালদের দাপট বেশি।

৩. আর্জেন্টিনা – ১৮৮৭ সাল থেকে এদেশে বৈধতা পেয়েছে সমকামিতা। এই কারণে আর্জেন্টিনায় সমকামী দেহ ব্যবসায়ীদের চাহিদা তুঙ্গে। সরকারের পক্ষ থেকেও সমকামী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নানা উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।

৪. বুলগেরিয়া – দেহ ব্যবসায় পর্যটনের পীঠস্থান সানি বিচ রিসোর্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে বাস্তব ও কল্পনার অভাবনীয় মিশেল। শোনা যায়, এই সৈকতে প্রতিদিন কয়েক হাজার দেহ ব্যবসায়ী ভিড় জমান। তাঁদের অনেকেই আসেন প্রতিবেশী দেশ থেকেও।

৫. দক্ষিণ কোরিয়া – এদেশে লালসা নিয়ে শুচিবায়ু নেই। ক্ষণিকের বিছানার সঙ্গী জোগাড় করতে বিশেষ পরিশ্রম করতে হয় না। গুরুত্বপূর্ণ শহর গুলিতে রয়েছে একাধিক এসকর্ট সার্ভিসের ব্যবস্থা। হোটেলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়াও মেলে সুলভে।

৬. কলম্বিয়া – অন্যান্য দেশের তুলনায় সস্তা বলে দেহ পর্যটনস্থল হিসেবে ইদানীং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই দেশ। দরিদ্র দেশে এসে নামমাত্র খরচে দেদার ফূর্তি লুটতে প্রতি বছর পাড়ি জমান ইউরোপ ও আমেরিকার পর্যটকরা।

৭. কম্বোডিয়া – দুনিয়ার অন্যতম বড় দেহ ব্যবসা চালায় এই দেশ। কিন্তু তার বেশির ভাগই অবৈধ। তবে আইনের ফাঁক গলে অবাধ মিলন মেলার হাতছানিতে সাড়া দিতে প্রতি বছর ছুটে আসেন বিশ্বের কামতাড়িত মানুষ

৮. প্রাহা – স্লোভাকিয়ার প্রাহা শহর ১৯৮৯ সাল থেকে ইউরোপের রাজধানী তকমা পেয়েছে। অসংখ্য জেন্টলম্যানস ক্লাব অথবা রিল্যাক্সেশন ক্লাবে অল্প খরচে শরীরী বিনোদনের সম্ভার মেলে। হিংসাত্মক ঘটনাও এখানে সংখ্যায় খুব কম।

৯. নেপাল – রাজধানী কাঠমান্ডু এবং পোখরা ও তরাইয়ের শহরাঞ্চলে দেহ ব্যবসা রমরমা। বাণিজ্য জমে উঠে হোটেলের দামি ঘর থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ পল্লীর অন্ধকার আস্তানামায় দেহ ব্যবসায়ীর বসত ভিটেতেও। কাঠমান্ডুর থামেলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ম্যাসাজ পার্লার, যেখানে অবৈধ দেহ ব্যবসার পসার সাজানো। এছাড়া বিভিন্ন রেস্তোরাঁর কেবিন ও ডান্স বার গুলিতেও মিলবে অফুরন্ত দেহজ বিনোদনের সম্ভার।

১০. থাইল্যান্ড – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নয়া ঠিকানা হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড। দেশজুড়ে অবাধ ও নিরাপদ দেহ ব্যবসা চলে বছর ভর।

১১. জামাইকা – শুধুমাত্র দেশের দেহ ব্যবসায়ীরাই নন, ভ্রমণরত বহু মহিলা পর্যটকও এদেশে শরীর বিকোতে দ্বিধাবোধ করেন না।

১২. কেনিয়া – আফ্রিকার এই দেশে দেহ ব্যবসার নানা রূপ। স্ট্রিপ ডান্স বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও স্পা-তে সুলভে দৈহিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এমনকি ছুটি কাটাতে এসে টানা কয়েক দিনের জন্যও সঙ্গী মেলে কেনিয়ায়।

১৩. ম্যাকাউ – চিনের দেহ ব্যবসা বৃদ্ধির পিছনে নানা কারণ রয়েছে। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে দেহের তৃপ্তির খোঁজে ভিড় জমান। সস্তায় নারীদেহ পাওয়ার এমন সুযোগ পৃথিবীর কম দেশেই মেলে।

১৪. লাটভিয়া – পূর্ব ইউরোপের এই দেশে দেহ ব্যবসায় আধিক্য সারা বছর। পর্যটক সমাগমের এর অন্যতম কারণ। এছাড়া এদেশে মদের দামও বেশ সস্তা। ছুটিতে অঢেল ফূর্তি করতেই অনেক পর্যটক আসে এই দেশে।

১৫. ভেনেজুয়েলা – ভেনেজুয়েলার মার্গারিটা দ্বীপে অসংখ্য রিসর্টে দেহ ব্যবসা অবাধ আয়োজন আছে। এদেশে দেহ ব্যবসা বৈধ। এখানে পর্যটক পুরুষদের অভ্যর্থনা জানাতে হোটেলের লবিতে খোলামেলা সুন্দরীদের সারিবদ্ধ উপস্থিতি রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টা হিসেবে এখানে দেহ ব্যবসা কর্মীদের ভাড়া করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কামতাড়িতা মহিলাদের জন্য তরতাজা তরুণও এখানে সহজলভ্য।

১৬. আমস্টারডাম – কথিত আছে, নেদারল্যান্ডের এই শহরেই বিশ্বের সেরা সুন্দরী দেহ ব্যবসায়ীদের দেখা মেলে। এখানে যৌন ব্যবসা সম্পূর্ণ বৈধ ও সরকার নিয়ন্ত্রিত বলে অত্যন্ত নিরাপদ। এখানকার যৌন ব্যবসার খ্যাতি সারা বছর কয়েক কোটি পর্যটককে আকর্ষণ করে।

১৭. লাস ভেগাস – আমেরিকার এই শহর সব পেয়েছির ঠিকানা। এখানে দেহ শুধু ব্যবসা অথবা বিনোদন নয়, শরীরী ভাষা উদযাপনেরও মাধ্যম।

১৮. গ্রিস – ব্যবসায়িক যৌনতা বৈধ গ্রিসে। প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর অন্তর চিকিৎসকরা দেহপসারীনিদের বিনামূল্যে পরীক্ষা করেন। তবে এখানে বহু মহিলাই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পাচার হয়ে আসেন। গ্রিসের দেহ দাস প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

১৯. তেল আভিভ – গোটা ইজরায়েলের মতোই এই শহরেও দেহ নিয়ে কোনও লুকোছাপা নেই। বিশ্বের পর্যটনের তালিকায় অবশ্য সদ্য নাম তুলেছে তেল আভিভ।

২০. বাহারিন – তথাকথিত রক্ষণশীল এই দেশটিতে ইদানীং দেহ ব্যবসা বেশ রমরমা। খরচও পড়ে ইউরোপের তুলনায় অনেক কম।

২১. জাপান – বিশ্বের দেহ ব্যবসায় পর্যটন মানচিত্রে জাপানি চাহিদা এখন প্রবল। পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন বাজেটের পর্যটনের ব্যবস্থা রয়েছে এদেশে।

২২. ব্রাজিল – শুধুমাত্র ফুটবল বা কফি নয়, লাতিনীয় সুন্দরীদের দেহের ভাঁজে কুপোকাত গোটা দুনিয়া। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই দেহ পর্যটনের অন্যতম সেরা ঠিকানা হিসেবে গত এক দশকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্রাজিল। দেহ বিলাসের বিবিধ উপকরণের সম্ভার আছে এখানে।

২৩. কোস্টারিকা – দেহ ব্যবসার হাত ধরে দেদারছে ডলার কামাচ্ছে দেশটি।

২৪. কানাডা – বাজারে সবে খাতা খুলেছে কানাডা। আমেরিকানরাই এখানকার দেহ ব্যবসায়ীদের প্রধান খদ্দের। দেহ সম্পর্কে এখানকার ঢিলেঢালা আইন প্রতি বছর কাতারে কাতারে পর্যটককে আকর্ষণ করছে কানাডার নানা প্রান্তে।

২৫. নিউ জিল্যান্ড – নিউ জিল্যান্ডে ২০০৩ সালে দেহ ব্যবসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। সে দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত যৌনকর্মীরা সরকারি স্বাস্থ্য ও শ্রম আইনের আওতায় পড়েন। তাঁরা একই রকম সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন, যেরকম অন্যান্য পেশার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা পান।

২৬. অস্ট্রেলিয়া – প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডের মতো অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশেও দেহ ব্যবসা সম্পূর্ণ আইন স্বীকৃত। যদিও কিছু স্টেটে এই ব্যবসা নিষিদ্ধ।

২৭. অস্ট্রিয়া – পৃথিবীর প্রাচীতনতম এই আধুনিক রাষ্ট্রে দেহ ব্যবসা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। অস্ট্রিয়ায় কেউ দেহ ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই বেশ কিছু সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সেই সব পরীক্ষায় পাশ করলে, তবেই মিলবে ব্যবসার ছাড়পত্র। সংশ্লিষ্ট দেহ ব্যবসায়ীর বয়স হতে হবে ১৯ বছর বা তার বেশি।

২৮. বেলজিয়াম – দেহ ব্যবসাকে শুধু আইনি করাই নয়, দেহ ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে যৌনপল্লীর সব বাড়িতেই অন্যান্য অফিসের মতোই রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি ও কি-কার্ডের ব্যবস্থা।

২৯. ডেনমার্ক – দেহ ব্যবসা এই দেশেও আইনি। এমনকি যে সব দেহ ব্যবসায়ীরা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে বা গরিব, তাঁদের আর্থিক সাহায্যও করে ডেনমার্ক সরকার।

৩০. ইকুয়েডর – অবাধ যৌনতার দেশ ইকুয়েডর। যৌনতা সম্পর্কিত সব কিছুই সে দেশে আইনি। যে কেউ ইকুয়েডরে দেহ ব্যবসা করতে পারেন, বা যৌনপল্লি চালাতে পারেন। কিন্তু ইকুয়েডরে জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানোর সমস্যাও প্রবল।

৩১. ফ্রান্স – ফ্রান্সে দেহ ব্যবসা সম্পূর্ণ আইনি। তবে ১৯৪৬-এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পরেই সে দেশে যৌন ব্যবসা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

৩১. জার্মানি – জার্মানিতে ১৯২৭ সাল থেকে দেহ ব্যবসা আইনত স্বীকৃত। এবং সে দেশে যৌনপল্লী চালানোর জন্য আলাদা করে স্টেটও রয়েছে। জার্মানিতে দেহ ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্য বিমা আবশ্যিক। তাঁদের কর দিতে হয়। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত দেহ ব্যবসায়ীদের পেনশনও রয়েছে!

৩২. ইন্দোনেশিয়া – ইন্দোনেশিয়ায় দেহ ব্যবসা শুধু আইনত স্বীকৃতই নয়; সেক্স ট্যুরিজম সে দেশের সরকারের অন্যতম রাজস্ব আয়ের উপায়। তবে অবাধ যৌনতার জেরে ইন্দোনেশিয়ায় জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো বা নাবালিকা অত্যাচার ক্রমেই বাড়ছে।

231 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About আলোকিত আধারে

কেউ হয়ত জানতেই চাইবেনা কোথায় বাঁধা ছিল এ হৃদয়। শুধু রচিত হবে আমার এপিটাফ - মৃত্যু হবে আমার সকল আবেগের, ভালবাসার, যন্ত্রণার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন