দাঁত সুস্থ্য সুন্দর এবং ভালো রাখার গুরত্বপূর্ণ টিপস

দাঁত সুস্থ্য সুন্দর এবং ভালো রাখার গুরত্বপূর্ণ টিপস
4 (80%) 3 votes

দাঁত সুন্দর এবং ভালো রাখতে চাই আমরা সবাই। সুন্দর মাড়ি ও দাঁত কেবল হাসিকেই সুন্দর করে না, এটি মুখের স্বাস্থ্যকেও ভালো রাখে। একটা কথা প্রচলিত আছে বাংগালী দাঁত থাকতে নাকি দাঁতের মর্যাদা বোঝেনা। তবে দাঁত ভালো রাখতে অবশ্যই মুখের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। মুখ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেটি শরীরের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে। তাই এর সঠিক যত্ন প্রয়োজন। কিছু ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, যা এগুলোকে ভালো রাখার জন্য খুব জরুরি। ভিটামিন রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সাহায্য করে; রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। শরীরের ভিটামিনের অভাব মাড়ি ও দাঁতের সমস্যা তৈরি করতে পারে। দাঁত ভালো রাখার টিপস গুলো এবার দেখে নিন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

দাঁত

দাঁত ভালো রাখে যেসব ভিটামিন

ভিটামিন এ – ভিটামিন-এ মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং মুখের লালার প্রবাহকে ভালো রাখে। শাকসবজি, গাজর, আম, মিষ্টিআলু, মাছের তেল ইত্যাদিতে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি – **ভিটামিন বি** মুখের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে জরুরি। এটি জিহ্বার প্রদাহ এবং ঘা প্রতিরোধে সাহায্য করে। মটরশুটি, মাংস, সবুজ শাকসবজি, শিম ইত্যাদিতে ভিটামিন-বি পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি – ভিটামিন সি মাড়িকে মজবুত করে এবং ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখে। এর অভাবে মাড়িতে প্রদাহ এবং রক্তপাত হয়। পেয়ারা, লেবু, কমলা, আমলকী, কাঁচামরিচ ইত্যাদিতে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি – ভিটামিন ডি ক্যালসিয়ামের শোষণে সাহায্য করে। এটি স্বাস্থ্যকর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। এ ছাড়া মজবুত মাড়ির জন্য ভিটামিন-ডি প্রয়োজন। ভালো পরিমাণে ভিটামিন-ডি শরীরে থাকা মাড়ির রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সূর্যের আলো ভিটামিন-ডির ভালো উৎস। এ ছাড়া ডিম, মাছ ইত্যাদিতে ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়।

ভিটামিন কে – ভিটামিন-কে শরীরের রক্ত জমাট বাঁধতে প্রয়োজন। ভিটামিন-কের অভাবে মাড়িতে রক্তপাত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এটির অভাব মুখের স্বাস্থ্যকে খারাপ করে দেয়। সয়াবিন, সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি ভিটামিন-কের ভালো উৎস।

দাঁত মজবুত করবেন যেভাবে

দাঁত নড়া সমস্যায় ভুগেন। দাঁত নড়া এমন একটি রোগ, যাকে পেরিওডোন্টাম বলা হয়। এটি দাঁতের পার্শ্ববর্তী টিস্যুকেই শুধু আক্রমণ করে না দাঁত সমর্থনকারী হাড়কেও প্রভাবিত করে। দাঁত নড়া  থাকলে ইচ্ছে থাকলেও প্রিয় খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হয়। গবেষকদের মতে, কামড় সমন্বয়, বার্ধক্য, স্বাস্থ্যবিধির অভাব, মাড়ির ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এবং পারিবারিক সূত্রও দাঁত নড়ার কারণ হতে পারে। তবে এনিয়ে চিন্তার কিছু নেই। কারণ এ সমস্যার সমাধান রয়েছে আপনার হাতের কাছেই। নড়া দাঁত মজবুত করার কিছু উপায় তুলে ধরা হল-

মুখ ধোয়া – আপনার দাঁত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে নড়া শুরু হতে পারে। সর্বদা মাউথওয়াশ ব্যবহারের পাশাপাশি দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করুন। সবসময় খাওয়ার পরে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করুন।

লবণ ও সরিষার তেল – দাঁত নড়ে গেলে সরিষার তেলের সঙ্গে এক চা চামচ লবণ মেশান এবং মৃদু মালিশ দ্বারা আপনার মাড়ি ওপর প্রয়োগ করুন। দাঁত নড়া সমস্যায় এটি ঘরোয়াভাবে সেরা প্রতিকার।

কালো মরিচ ও হলুদ – মরিচ গুঁড়া এবং হলুদ নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং মাড়ি ওপর আলতো করে ম্যাসাজ করুন। প্রয়োগের ৩০ মিনিট পর খাবার খান। এতে মাড়ির ব্যথা ও ফোলা কমে যাবে।

আমলা – আমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। ভিটামিন সি মাড়ি ও দাঁতের সংযুক্ত টিস্যু নিরাময়ে সাহায্য করে। আমলার রস দিয়ে দিনে অনেকবার মুখ কুলি করে নিন। এতে ভাল ফল পাওয়া যায়।

ওরেগানো তেল – এটি মাড়ি এবং টিস্যুর ব্যথা সারিয়ে তোলে। এটা স্বাভাবিক ভাবেই দাঁত সারিয়ে তুলবে ও নড়া দাঁত প্রতিরোধ করবে।

লবণ – এক গ্লাস পানিতে লবন গুলে মুখ কুলি করে নিন। এটা সব মৌখিক সংক্রমণ দুর করবে কারণ লবণে এন্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য আছে। এটা আপনার মাড়ি শক্ত করবে এবং দাঁত নড়া প্রতিরোধ করবে।

তরল খাবার – শক্ত খাবার খাওয়ার সময় ব্যথা অনুভব হলে উষ্ণ সবজি বা মুরগির স্যুপ খাওয়াই ভাল। এতে ব্যথা এবং প্রদাহ উপশম হবে। এছাড়া এটি আপনার শরীরে পুষ্টি সরবরাহ করবে যা সংক্রামণের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে।

লবঙ্গ তেল – এটি দাঁত ব্যথা এবং মাড়ি প্রদাহের জন্য একটি সুপরিচিত প্রতিকার। এটা মাড়ি মজবুত করতে সাহায্য করে। আপনার মাড়ির ওপর ম্যাসেজ করুন ব্যথা ও প্রদাহ থেকে স্বস্তি পেতে এবং দাঁত নড়া  ঠিক করতে সাহায্য করে।

এছাড়া দাঁত নড়া সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে সবুজ শাক-সবজি খান। সবুজ শাক-সবজি সংক্রমণ থেকে আপনাকে দূরে রাখে।  আপনার খাদ্যের মধ্যে সবুজ সবজি সালাড হিসেবে খাওয়ার অভ্যাস করুন। তবে আম্লিক ফলমূল এড়িয়ে চলুন। অত্যাধিক আম্লিক ফল যেমন লেবু দাঁতের এনামেল ধ্বংস করে। শুধু তাই নয় দাঁতের শিকড় আলগা করে যা দাঁত সংবেদনশীল এবং আলগা করে দেয়।

দাঁত সাদা করার উপায়

ডেন্টিস্টের কাছে না গিয়েও নিজের বাসাতেই প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে উজ্জ্বল এবং পরিষ্কার দাঁত পাওয়া সম্ভব। আসুন জেনে নিই ১০ টি পদ্ধতি।

বেকিং সোডা – দাঁত পরিষ্কার করতে বেকিং সোডার তুলনা নেই। বাটিতে আধা চা চামচ টুথপেস্টের সাথে বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। মিশ্রনটি টুথব্রাশে লাগিয়ে ব্রাশ করলেই দাঁত ঝকঝকে হয়ে যাবে। আর দেরী কেন? ভালো ফল পেতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ – ঝকঝকে সাদা দাঁত পেতে সবচেয়ে সহজ উপায়ের একটি হচ্ছে ইলেক্ট্রিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা। দাঁতের  বিবর্ণ অংশ এনামেল দূর করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার সবচেয়ে ফলপ্রসু।

খাবার গ্রহণের পর ব্রাশ করা – প্রতিবার খাবার গ্রহণের পর দাঁত ব্রাশ করলে দাঁত রোগমুক্ত এবং ঝকঝকে থাকে।

লেবু – লেবুর রস দাঁতে লাগালে এনামেল দূর হয়ে দাঁত ঝকঝকে সাদা হয়। অনেকে অবশ্য লেবুর রস এবং লবণ মিক্সড করে ব্যবহার করে।

পারঅক্সাইড – দাঁতের রঙ ময়লা হওয়ার অন্যতম কারণ খাদ্যকণা ও জীবাণু। খাবারের কালশিটে দাগ ও জীবানুমুক্ত করার জন্য দাঁত ব্রাশ করার পর পারঅক্সাইড দিয়ে কুলি করুন। তাতে দাঁত ঝকঝকে সাদা হয়ে যাবে।

আপেল – প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় আপেল রাখুন। সামনের অংশের দাঁত দিয়ে আপেলে কামড় দিন, এতে ময়লা দূর হয়ে ঝকঝকে উজ্জ্বল দাঁত পেয়ে যাবেন।

পানি – প্রতিবার খাবার গ্রহণের দাঁতে লেগে থাকা  অবশিষ্টাংশ খাদ্য সরাতে পানি দিয়ে কুলি করুন। দাঁতের মার্জনের বিকল্প হিসেবে কাজ করে পানি

স্ট্রবেরি – দাঁত মজবুত ও চকচকে রাখতে স্ট্রবেরি খাওয়া উচিত। দাঁতের হোয়াটনেস বা ব্লাশার হিসাবে কাজ করে স্ট্রবেরি। যদিও কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ এই পদ্ধতি কিন্তু এটা মনে রাখুন দাঁত ক্ষয় করে ডেন্টিস্টের চিকিৎসা গ্রহন করার চেয়ে এটি সহজলভ্য।

পনির – দাঁতের ক্ষয়রোধের প্রধান খনিজ উপাদাণ হলো ক্যালসিয়াম। পনিরে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। দাঁতের সুস্থ্যতা রক্ষায় পনির বিশেষ করে শক্ত পনির গ্রহণ করুন।

পেঁয়াজ – পেঁয়াজ খেয়ে মুখে দূর্গন্ধ হয় ঠিকই কিন্তু দাঁত পরিষ্কারে পেঁয়াজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দাঁতের এনামেল দূর করে দাঁত ঝকঝকে পরিষ্কার করতে পেঁয়াজ গ্রহণ করুন।

136 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About অনন্যা মিতু

রক্তের সর্ম্পক ছাড়া যদি আর কোনো ঘনিষ্ট কোনো সর্ম্পক থাকে সেটা হলো বন্ধুত্ব।ভাগ্য তোমার আত্মীয় বেছে দেয় আর তুমি বেছে নাও তোমার বন্ধু।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন