ত্বক ফর্সা করুন বাড়িতে বসে সহজেই

ত্বক ফর্সা করুন বাড়িতে বসে সহজেই
5 (100%) 2 votes

ত্বক ফর্সা করার পদ্ধতি জানা থাকলে বাড়িতে বসেই নিজের ত্বককে করতে পারবেন ফর্সা আর আকর্ষণীয়। ত্বক ফর্সা করার টিপস জানা থাকলে নিজেকে  অন্যের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। যুগে যুগে মানুষ নিজের সৌন্দর্য নিয়ে ভেবেছে। নিজেকে যাতে অন্যের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেজন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না মানুষ। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা ব্যস্ত জীবনে সবসময় ত্বকের যত্ন ঠিকমতো নেওয়া খুবই মুশকিল। তা ছাড়া দিনদিন পরিবেশও দূষণযুক্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখা আসলেই ভীষণ মুশকিল। অথচ নিজেকে সবসময় সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাখাটা যেন জীবনেরই একটা অংশ। আধুনিক যুগে এ কথার সত্যতা অনস্বীকার্য। নারী বা পুরুষ, একটি সুন্দর মুখের কদর কিন্তু সর্বত্রই। আর তাই নিজেকে সুন্দর আর ফর্সা দেখাতে কে না চায়! সেই আদি যুগ থেকেই গায়ের রং নিয়ে মানুষের নানান চিন্তা। অনেকেরই কাম্য একটি ফর্সা সুন্দর ত্বকের। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শারীরিক অসুস্থতা, দীর্ঘ সময় রান্নাঘরে কাজ করা ইত্যাদি নানান কারণে ত্বক হারিয়ে ফেলে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। হয়ে যায় কালচে ও বিবর্ণ। রং ফর্সাকারী ক্রিমের কদর তাই কমে না কখনোই। কিন্তু আসলে সত্যিই কি এসব ক্রিমে গায়ের রং ফর্সা হয়? মুখের রং হয়তো একটুখানি উজ্জ্বল হয়, কিন্তু পুরো শরীরের ত্বক? সেটা কিন্তু আসলে হয়ে ওঠে না। পার্লার গুলোতে আছে রঙ ফর্সা করার নানান আয়োজন। যেমন স্কিন ব্লিচ, ফেয়ার পলিশসহ আরও কত কী। কিন্তু জেনে রাখুন, এই সবই আপনার ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাহলে কী করবেন? চলুন এবার জেনেনিই বাড়িতে বসেই ত্বক ফর্সা করার টিপস গুলো।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

ত্বক ফর্সা

ত্বক ফর্সা করতে যা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে

আমাদের ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক এবং সাধারণ এই তিন ধরণের। আর এই তিন ধরণের ত্বকের যত্ন নিতে হয় আলাদা তিন পদ্ধতিতে।

তৈলাক্ত ত্বক – তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে নানান সমস্যা তৈরি হয় বিশেষ করে গরম কালে। এসময় তৈলাক্ত ত্বক নিয়ে বাইরে বের হলেই বিরক্তিকর এক অবস্থার সম্মুখীন হতে হয়। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা বেশী বেশী মুখ ধুবেন। আপনি পানি দিয়ে ত্বক ধুলে আপনার ত্বক অনেকটাই শীতল থাকবে। এছাড়া আপনি মেথির গুড়ো, শসার রস এবং চালের গুড়ো দিয়ে খুব সহজেই একটি প্যাক তৈরি করে আপনার তৈলাক্ত ত্বকে প্রয়োগ করতে পারবেন। এতে আপনার ত্বকের তৈলাক্ত ভাব অনেকটাই হ্রাস পাবে। দিনে দুইবার এই প্যাক লাগালে আপনার ত্বকের ব্রণ হবার প্রবণতাও অনেকটাই কমে যাবে কারণ ব্রণ তৈলাক্ত ত্বকের একটি প্রধান সমস্যা। ব্রণ সমস্যার সমাধান করতে হবে না হলে ত্বক ফর্সা করার টিপস কোনো কাজে আসবেনা।

শুষ্ক ত্বক – শুষ্ক ত্বকের মানুষের বিড়ম্বনা বেশী সইতে হয় শীত কালে। সাধারণত ত্বক শুষ্ক হলে ত্বকে একটি খস খসে ভাব দেখা দেয়। কাঠবাদাম, সয়াবিন পাউডার ও দুধ দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে দিনে অন্তত একবার মাখলে ত্বক অনেক মসৃণ হয়ে যায়, পাশাপাশি ত্বকের শুষ্ক ভাব অনেকটাই কমে যাবে।

সাধারণ ত্বক – যাদের ত্বক সাধারণ তাদের অনেকটা বিড়ম্বনা কম। তবে তাই বলে ত্বকের যত্ন নিতে হবে না তা নয়। সাধারণ ত্বকের অধিকারীগণ ত্বকের যত্ন নিতে আমলকি, সয়াবিনের গুঁড়া ও সামান্য একটু কাঁচা হলুদ আর মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগাতে পারেন।

সব ধরণের ত্বকের ক্ষেত্রে বয়সের ছাপ একটি কমন সমস্যা। আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে আপনার ত্বক অনেকটাই মলিন হতে থাকে এবং এতে বলিরেখা দেখা দিতে থাকে। আপনি বয়সের সাথে ত্বকের উজ্জ্বল দীপ্তি ধরে রাখতে চাইলে তিল, পুদিনাপাতা, সয়াবিন পাউডার, কাঁচা হলুদ আর মধু দিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে নিয়ম করে সকালে মাখুন; এতে আপনার ত্বক ফর্সা এবং টান টান হবে।

ভেষজ উপায়ে ত্বক ফর্সা করার টিপস

প্রাকৃতিক উপায়ে এবং ঘরোয়া ভাবে গায়ের রং ফর্সা করার রয়েছে সহজ উপায়। শুধু তাই নয়, এভাবে যে ফর্সা রঙটা আপনি পাবেন সেটা হবে স্থায়ী। সৌন্দর্য সেটাই, যা ভেতর থেকে আসে। আসুন জেনে নেওয়া যাক প্রাকৃতিকভাবে ত্বক ফর্সা করার টিপস গুলো।

দুধ ও কাঁচা হলুদ – রূপচর্চায় দুধ ও কাঁচা হলুদের ব্যবহার যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। প্রতিদিন এক গ্লাস উষ্ণ গরম দুধে আধা চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে পান করুন। এভাবে পান করতে না পারলে এর সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। নিয়মিত হলুদ মেশানো দুধ পান করলে আপনার রং হয়ে উঠবে ভেতর থেকে ফর্সা। দুধে কাঁচা হলুদ বাটা না মিশিয়ে করতে পারেন আরেকটি কাজ। দেড় ইঞ্চি সাইজের এক টুকরো হলুদ নিন। তারপর টুকরো করে কেটে এক গ্লাস দুধে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। দুধ গাঢ় হলুদ রঙ ধারণ করলে পান করুন। এভাবে প্রতিদিন একবার করে পান করতে থাকুন।

গুঁড়া দুধ ও লেবুর রস – একটি পাত্রে ১ চা চামচ গুঁড়া দুধ, ২ চা চামচ  লেবুর রস আর ১/২ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে  নিতে হবে। এবার পুরো মুখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক পরিষ্কার হওয়ার সাথে সাথে  আগের তুলনায় অনেকটা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সব ধরনের ত্বকেই এই প্যাক ব্যবহার করা যাবে। লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক  ব্লিচিং উপাদান মধু আর দুধের সাথে মিশে ত্বক ফর্সা করে তুলতে সাহায্য করে। প্যাকটি তৈরি করে তেমন কোন বাড়তি ঝামেলাও নেই আর উপাদান গুলো  প্রত্যেকের রান্নাঘরেই কমবেশি থাকে। আরেকটি কথা নিয়মিত এই প্যাক লাগালে ত্বকে ব্রনের সমস্যাও দূর হবে।

টক দই আর ওট মিল – সারারাত ১ টেবিল চামচ ওট মিল ভিজিয়ে রেখে সকালে এটি পেস্ট করে এর সাথে ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। এটি নিশ্চিত ভাবে ত্বক ফর্সা করে। নিয়মিত ব্যবহারে অবশ্যই ভাল ফল পাবেন। ড্রাই টু নরমাল ত্বকের জন্য এই প্যাক বেশ উপকারি। ত্বক ফর্সা করার টিপস হিসাবে দারুণ কাজে দেবে দই আর ওট মিল।

আলুর খোসা – লেবুর রসের মত আলুর খোসায় ব্লিচিং উপাদান আছে। আলুর খোসার পেস্ট নিয়মিত ত্বকে লাগান। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল আর ফ্রেশ হবে। সব ধরনের তকেই এই প্যাক ব্যবহার করা যাবে।

হলুদ আর টমেটো – উজ্জ্বল ত্বক  পেতে  এক চিমটি হলুদ, ১ চা চামচ টমেটো বা লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে মুখের ত্বকে লাগান নিয়মিত। অবশ্যই ত্বক ফর্সা হবে। আমরা কমবেশি সবাই জানি টমেটো ত্বকের কাল দাগ দূর করতে কতোটা কার্যকরী। টমেটোর  ব্লিচিং উপাদান আর হলুদের ভেষজ উপাদান ত্বক ফর্সা করতে একসাথে কাজ করে। স্বাভাবিক থেকে তৈলাক্ত এবং শুষ্ক ত্বকে এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করা যাবে।

আমন্ড অয়েল – আপনি ৪-৫ টি আমন্ড  সারারাত ভিজিয়ে রেখে এটি গুঁড়া করে পেস্ট তৈরি করে এর সাথে বাটার মিল্ক বা মালাই মিশিয়ে এই প্যাক ত্বকে লাগান। ১০ -১২ মিনিট এই প্যাক ত্বকে রাখুব এরপর কিছুক্ষণ স্ক্রাব করে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন প্যাকটি ত্বকে উজ্জ্বলতা এনে দিতে দারুণ ভাবে  কাজ করেছে। এই প্যাক আপনার ত্বক নরম করবে, ত্বকের মৃত কোষ দূর করবে আর ত্বক হবে উজ্জ্বল। তবে আপনি যদি মালাই ব্যবহার করতে না চান তাহলে মধু বা টক দইও ব্যবহার করতে পারেন। শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশ উপকারি এবং ত্বক ফর্সা করার টিপস হিসাবে অবশ্যই ১০ – ১২ মিনিট ত্বকে রেখে তারপর ধুয়ে ফেলবেন।

বেসন – বেসন সব সময় আমাদের ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে ত্বককে তরুণ রাখতে সাহায্য করে। বেসনের সাথে বাটার মিল্ক মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান আর শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকে এই ফেশ প্যাক ব্যবহার করা যাবে না।

পুদিনা পাতা – পুদিনা পাতায় বিদ্যমান অ্যাসট্রিজেন্ট ত্বকে পুস্টি যোগানোর সাথে সাথে ত্বকে উজ্জ্বল করে তুলে। ১৫ থেকে ২০ টি পুদিনা পাতা পেস্ট করে এটি মুখে লাগান এবং পুরো মুখে পেস্টটি লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে টান টান করবে আর ত্বকের ছোট ছোট পোর ঢেকে দেবে। পুদিনা পাতায় অ্যালার্জি থেকে থাকলে এই প্যাকটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

কলা – একটি পাত্রে পরিমান মতো কলা, ১ চা চামচ মধু আর ১ টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে নিয়মিত ত্বকে লাগান। এই প্যাকটি সান টান দূর করে ত্বক ফর্সা করে তুলবে। সব ধরনের ত্বকের সাথে মানানসই এই ফেস প্যাক। ত্বক ফর্সা করার টিপস হিসাবে এই ফেস প্যাক বেশ কার্যকারী।

চন্দন – আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তবে চন্দনের গুড়ার সাথে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। আপনার ত্বকে যতটুকু পরিমানে লাগে ততটুকু নিবেন। আপনার ত্বক প্রাকৃতিক ভাবেই ফর্সা হবে এতে। এই প্যাক আপনার ত্বক শুধু উজ্জ্বলই করবে না আপনাকে দেখতেও অনেক ফ্রেশ লাগবে।

কাঁচা হলুদ –  ত্বক ফর্সা করার টিপস হিসাবে হলুদ আপনার রঙ ফর্সা করতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে কালচে ছোপ দূর করতে হলুদ খুবই কার্যকর। উপকরণ হিসাবে- দুধ ৩ টেবিল চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, এবং কাঁচা হলুদ বাটা ১ চা চামচ নিবেন। দুধ, লেবুর রস ও হলুদ বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রন বা পেস্ট তৈরি করুন। সারা মুখে এই পেস্ট ভালভাবে লাগিয়ে প্যাকটি শুকনো হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন। গরম পানিতে মুখ ধোবেন না এবং অন্তত ১২ ঘণ্টা রোদে যাবেন না। নিয়মিত ব্যবহারে আপনার ত্বকের রং হয়ে উঠবে ফর্সা, কোমল, দাগমুক্ত ও সুন্দর।

মসুর ডাল – প্রথমে মসুর ডাল গুঁড়ো করে নিন মিহি করে। তার মধ্যে একটা ডিমের হলুদ অংশটা মেশান। রোদের মধ্যে কিছু সময় এই পেস্টটা শুকিয়ে নিন ভালো করে। পেস্টটি একদম মচমচে হয়ে গেলে গুঁড়ো করে পরিষ্কার শিশির মধ্যে ভরে রেখে দিন। প্রতিদিন রাতে শোবার কিছু সময় আগে ২ ফোটা লেবুর রসের সঙ্গে ১ চামচ দুধ ও এই গুঁড়ো খানিকটা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। আধ ঘন্টা বা তার কিছু সময় পর মুখটা ধুয়ে ফেলুন। মুখ ধোয়ার পর কাঁচা দুধ খানিকটা পরিষ্কার তুলোতে নিয়ে মুখে বুলিয়ে নিন। এটা আরও ২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মধু – মধু এবার একটু ভিন্নভাবে ব্যবহার করুন। প্রথমে এক টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ, ১/২ টেবিল চামচ বাদামের তেল, এক টেবিল চামচ মধু, এক টেবিল চামচ লেবুর রস ভালো ভাবে মিশিয়ে মুখে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। তারপর শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার করুন। এই প্যাকটি আপনার মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে আর রোদে পোড়া ভাব দূর করবে।

মুলতান মাটি – উজ্জ্বল করতে মুলতানি মাটি, থেঁতো করা পদ্মপাপড়ি ও নিমপাতা বাটা এবং চালের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করুন। ভালভাবে মুখে-গলায় লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ধুয়ে ফেলার পর যদি পারেন মুখে কাঁচা দুধ লাগিয়ে রাখুন আরও আধা ঘণ্টা। ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।

তাহলে আর দেরি কেন? ত্বক ফর্সা করার টিপস গুলো অনুসরণ করুন আর বাড়িতে বসেই প্রাকৃতিক উপায়ে নিজে থেকে হয়ে উঠুন ফর্সা, সুন্দর।

178 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন