তুলসী পাতার উপকারিতা এবং তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম

তুলসী পাতার উপকারিতা এবং তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম
5 (100%) 5 votes

তুলসী পাতায় ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং কোন কোলেস্টেরল থাকে না তাই এটি শরীরের জন্য অনেক উপকারি। তুলসী অর্থ যার তুলনা নেই। তুলসী পাতায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন রয়েছে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। তুলসীর পাতা প্রাচীনকাল হতে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  অনেক গুণে সমৃদ্ধ তুলসী রুচিকারক, বাতনাশক এবং পুরনো জ্বরে মহৌষধির কাজ করে। তুলসী গাছ বিশুদ্ধ বায়ু যোগানে সাহায্য করে ও মশার উপদ্রব হতে মুক্ত রাখে। তুলসী গাছের নানা ঔষধি ব্যবহার রয়েছে। এই গাছের রস কৃমি ও বায়ুনাশক। ঔষধ হিসাবে এই গাছের ব্যবহার্য অংশ হলো এর রস, পাতা এবং বীজ। তুলসীতে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ক্যান্সার প্রতিরোধের একটি অন্যতম উপাদান। তুলসী শুধু শরীরকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকেই বাঁচায় না, ক্যান্সার হলে সারিয়ে তুলতেও দারুন ভাবে সাহায্য করে। বিভিন্ন স্টাডি থেকে দেখা গেছে যে, তুলসীর পাতা যারা নিয়মিত খান তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সুযোগ অনেক কম। অন্যদিকে তুলসীর মধ্যে যে ফাইটোক্যামিকাল রয়েছে তা লাং , লিভার, এবং স্কিন ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে। বিভিন্ন ক্লিনিকাল এক্সপেরিমেন্ট থেকে দেখা গেছে তুলসীর আছে অ্যান্টিডায়াবেটিক গুনাগুণ। যেটা ডায়াবেটিস রোধে অনেকটাই সাহায্য করে এবং রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে যে চার প্রকার তুলসী গাছ দেখা যায় সেগুলি হলো: বাবুই , রাম, কৃষ্ণ ও শ্বেত তুলসী।

তুলসী

তুলসী পাতা খাওয়ার নিয়ম

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

শক্তিহীনতা : তুলসীর পাতা বেঁটে ১০ গ্রামের বড়ি বানিয়ে দৈনিক ১/২ বার খেলে দুর্বল ব্যক্তি শরীরে শক্তি ফিরে পাবে।

এলার্জী : এলার্জির ভেষজ ঔষধ হিসাবে তুলসীর ব্যবহার অনেক পুরানো। তুলসী পাতার রসের সঙ্গে সমপরিমাণের কাঁচা হলুদের রস এবং দুর্বাঘাসের রস মিশিয়ে খেলে এলার্জী সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

দাদ : কালো তুলসীর পাতা বেঁটে ঘা জায়গায় ভালো করে চুলকিয়ে দিনে ২/৩ বার লাগালে দাদ কমে যায়। তুলসির রসে লবন মিশিয়ে দাদে লাগালে উপশম হয়।

কাশি : এক চামচ আদার রস সমপরিমাণ তুলসীর রস এবং মধু খেলে দীর্ঘস্থায়ী কাশি কমে যায়।

বহুমুত্র : তুলসী, বেলপাতা এবং নিমপাতা সমপরিমাণে বেঁটে লাড্ডু বানিয়ে শুকিয়ে রেখে দিতে হয়। দিনে ২/৩ বার এ বড়ি খেলে বহুমুত্র রোগ ধীরে ধীরে উপশম হয়।

অজীর্ণ : বদহজম বা অজীর্ণ রোগে তুলসী পাতা অপরিহার্য। কয়েকটি তুলসীর পাতা বেঁটে ৩/৪টি গোলমরিচ গুঁড়ো করে খেলে বদহজম দূর হয়।

খাদ্যে বিষক্রিয়া : খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে কিংবা বিষ খেয়ে ফেললে রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তুলসীর রস খাওয়ালে রোগীর উপকার হয়।

অন্ডকোষ সমস্যা : তুলসীর রস ছোট চামচের ৫ চামচ, সাথে এক চামচ তাল মিছরি মিশিয়ে রোজ ৩/৪ বার খেলে অন্ডকোষ ব্যথা কমে যায়।

বুদ্ধি বাড়ায় : বুদ্ধি এবং স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ৫-৭ টা তুলসীর পাতা চিবান ৷

প্রস্রাবে সমস্যা : প্রস্রাবে জ্বালা হলে তুলসী পাতার রস ২৫০ গ্রাম দুধ এবং ১৫০ গ্রাম জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করুন উপকার পাবেন৷ তুলসীর বীজ পানিতে ভিজালে পিচ্ছিল হয়। এই পানিতে চিনি মিশিয়ে শরবতের মত করে খেলে প্রস্রাব জনিত জ্বালা যন্ত্রনায় বিশেষ উপকার হয়।

ত্বকের সমস্যা : ত্বকের সমস্যা দূর করতে তিলের তেলের মধ্যে তুলসীর পাতা ফেলে হালকা গরম করে ত্বকে লাগান ৷ ত্বকের যত্ন নিতে তুলসীর রস নিয়মিত মুখে লাগালে উপকার পাবেন।

যৌন সমস্যা – তুলসী মূল শুক্র গাঢ় কারক। তুলসী পাতার ক্বাথ, এলাচ গুঁড়া এবং এক তোলা পরিমাণ মিছরী পান করলে বীর্য গাঢ় করে। এটি অত্যন্ত ইন্দ্রিয় উত্তেজক। প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ তুলসী গাছের শিকড় পানের সাথে খেলে যৌন সমস্যা কমে যায়।

সর্দি সারাতে : কোন কারনে রক্ত দূষিত হলে কাল তুলসীর  রস কিছুদিন খেলে উপকার পাওয়া যায়। শ্লেষ্মার জন্য নাক বন্ধ হয়ে কোনো গন্ধ পাওয়া না গেলে সে সময় শুষ্ক পাতা চূর্ণের নস্যি নিলে সমস্যা সেরে যায়। পাতাচূর্ণ দুই আঙ্গুলের চিমটি দিয়ে ধরে নাক দিয়ে টানতে হয়, সেটাই নস্যি।

মুখে কালো দাগ : কালো তুলসীর রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে ৭/৮ দিন ২/৩ বার লাগালে কালো দাগ উঠে যায়। মুখে বসন্তের কাল দাগে তুলসীর রস মাখলে ঐ দাগ মিলিয়ে যায়। হামের পর যে সব শিশুর শরীরে কালো দাগ হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে তুলসী পাতার রস মাখলে গায়ে স্বাভাবিক রং ফিরে আসে।

কান পাকা : তুলসীর রস সামান্য গরম করে কানে দিলে কানপাকা ভালো হয়।

চুল পড়া : তুলসীর রস এবং আমলকী একসাথে বেঁটে সেই বাটা মাথায় মাখলে চুল পড়া বন্ধ হয়।

অতিরিক্ত বমি হলে : ঘন ঘন বমি হলে তুলসীর রস এবং মধু সমপরিমাণে মিশিয়ে খেলে শীঘ্রই বমি বন্ধ হয়ে যায়।

হাঁপানি : আদার রসের সঙ্গে সমপরিমাণের মধু এবং কালো তুলসীর রস সকাল বিকাল ২/৩ চামক করে খেলে কিছু দিনের মধ্যে এই রোগ ভালো হয়।

ম্যালেরিয়া : নিয়মিত ভাবে প্রতিদিন সকালে ৫ গ্রাম তুলসীর রস খেলে ধীরে ধীরে ম্যালেরিয়া কমতে সাহায্য করে।

গুটি বসন্ত : এ রোগ আরম্ভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন সকাল বেলা খালি পেটে তুলসীর রস খেলে উপকার পাওয়া যায়।

যকৃতের রোগ : যকৃত বৃদ্ধি বা যকৃতে কোনো রোগ হলে তুলসীর পাতা সিদ্ধ করে ঐ পানি ঠান্ডা করে খেলে উপকার হয়।

সাদা দাগ : তুলসী পাতার রস কাঁচা হলুদের রসের সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার লাগালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাদা দাগ দূর হয়।

468 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন