ডায়াবেটিস কি কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস কি কেন হয় এবং প্রতিরোধের উপায়
4.4 (88.57%) 7 votes

ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ ( Diabetes mellitus) একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। এটি শর্করা জাতীয় খাবারের বিপাকীয় সমস্যা। তবে এটি কেবল শর্করা জাতীয় খাবারেরই নয়, এর সঙ্গে চর্বি ও আমিষ জাতীয় খাবারের বিপাকীয় সমস্যা রয়েছে। এটি আমাদের আধুনিক শহুরে জীবনে প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে। যেসব দেশ উন্নত হচ্ছে, সেখানে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে বলা যায়, আমাদের কায়িক শ্রম কমে যাচ্ছে, মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা এখন বেশি, খেলাধুলার জায়গা কমে যাচ্ছে; এ জন্য ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস কি

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের শক্তির জন্য প্রয়োজন গ্লুকোজ। খাবার খাওয়ার পর জটিল বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া গ্লুকোজ রক্তের মাধ্যমে শরীরের কোষ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করার পর শক্তির উৎস হিসাবে কাজ করবে। তবে গ্লুকোজ কোষের ভিতরে প্রবেশের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় চাবি হলো ইনসুলিন নামক প্রোটিন হরমোন। এটা অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত হবার পর রক্তবাহিত হয়ে কোষের আবরণী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। সেখানে পৌঁছে তা জৈব রাসায়নিক ক্রিয়ার ফল স্বরূপ কোষের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়। আর তারপরই গ্লুকোজ পৌঁছে যায় কোষের ভেতরে, শক্তি জুগিয়ে উজ্জীবিত করে তোলে দেহকে। কিন্তু কোন কারণে যদি অগ্ন্যাশয়ে গোলযোগ দেখা দেয় তবে ইনসুলিন আর ঠিকমতো নি:সৃত হতে পারে না। কিংবা কোষীয় আবরণের কাছাকাছি পৌঁছে ঠিকমত কাজ করতে পারেনা। ফলে কোষে গ্লুকোজের জোগান ব্যাহত হয়। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে, শক্তির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে কোষ। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গেলে তখনই শরীরের ভেতর নানা জৈব-রাসায়নিকের বিপাকীয় কর্মকান্ডের হেরফের হয়। অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস মেলাইটাস  বা টাইপ ১ ডায়াবেটিস হয়। অন্যান্য দেশে টাইপ ১ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা মোট ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যার ১০ থেকে ১২ শতাংশ। আমাদের দেশে এর হার ৩ থেকে ৮ শতাংশের মত। অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় কিছুটা কম ইনসুলিন নিঃসরণ হলে বা প্রতিবন্ধকতার কারণে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে না পারলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হয়। আমাদের দেশে এটিই প্রধান ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস কত প্রকার

ডায়াবেটিস সাধারনত তিন ধরনের হয়।

টাইপ.১ ডায়াবেটিস – সাধারণত ৩০ বৎসরের কম বয়সেই (গড়ে ১০-২০ বৎসর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এই ধরনের ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। এজন্য সু্‌স্থ্য থাকার জন্য এ ধরনের রোগীকে সবসময় ইনসুলিন নিতে হয়। এই রোগীরা সাধারনত কম ওজনের হন।

টাইপ.২ ডায়াবেটিস – এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রিশ বৎসরের বেশি হয়ে থাকে। এই ধরনের রোগীদের শরীরে কিছু ইনসুলিন তৈরী হয় তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় অথবা রোগীর শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। সাধারনত এই ধরনের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভর নন। এই ধরনের রোগীরা সাধারনত স্থূলকায় হন। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং নিয়িমিত ভাবে ব্যয়াম করে টাইপ.২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস – গর্ভবতী অবস্থায় অনেক সময় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে কিন্তু প্রসবের পর ডায়াবেটিস আর থাকে না। এই ধরনের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস গর্ভবতী নারী, প্রসূতি কিংবা সদ্য প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপজ্জনক হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় রোগীকে প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার হতে পারে।

ডায়াবেটিস হলে যেসব লক্ষন ও উপসর্গ দেখা যায়

▪খুব ঘন ঘন প্রস্রাব হবে।
▪শরীরে ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভূত হবে।
▪নানান রকম চর্মরোগ যেমন খোশ পাঁচড়া, ফোঁড়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
পানি পিপাসা বেশি বেশি লাগবে।
▪কিছুক্ষণ পর পর ক্ষুধা পাবে।
▪যেকোনো ধরনের ক্ষত শুকাতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দেরী হবে।
▪স্বাভাবিক ভাবে খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকবে।
▪চোখে কম দেখা বা দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে।
তবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষাতেই ডায়াবেটিস ধরা পড়ে।

যেসব অবস্থায় ডায়াবেটিস প্রকাশ পাবার সম্ভাবনা থাকে 

১. শারীরিক স্থুলতা
২. গর্ভাবস্থা
৩. ক্ষত
৪. আঘাত
৫. অস্ত্রোপচার
৬. মানসিক বিপর্যয়
৭. রক্তনালীর অসুস্থতার কারণে হঠাৎ করে মস্তিষ্কের রোগ হলে ডায়াবেটিস ধরা পরতে পারে।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা

ডায়াবেটিস নির্ণয়ে সাধারনত খালি পেটে অর্থাৎ খাওয়ার পূর্বে রক্ত পরীক্ষা, ভরা পেটে অর্থাৎ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্ত পরীক্ষা ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা হয়। তবে, প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলেস্টরল,থাইরয়েডের কার্যাবলী, যকৃত এবং কিডনী পরীক্ষা করতে হতে পারে।

ডায়াবেটিস এর চিকিৎসা

রক্তে শকর্রার স্বল্পতা বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমানোর জন্য ট্যাবলেট অথবা ইনসুলিন দেয়া হয়। ট্যাবলেট খাওয়ার বা ইনসুলিন নেয়ার ফলে যদি শর্করার পরিমাণ খুব কমে যায় তাহলে শরীরে কিছু প্রতিক্রিয়া, যেমন- অসু্‌স্থ বোধ করা, বুক ধড়ফড় করা, শরীর কাঁপতে থাকা, বেশী ঘাম হওয়া, শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক আচরণ করা, খুব বেশী খিদে পাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। ট্যাবলেট বা ইনসুলিন গ্রহনের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশী হলে, ইনসুলিন ও সিরিঞ্জ একই মাপের না হলে, খুব কম খেলে বা খাবার না খেলে, ইনসুলিন গ্রহনের পরে খুব দেরী করে খাবার খেলে এ সমস্যা গুলো হতে পারে। রক্তে শকর্রার অভাব হলে রোগীকে চা-চামচের ৪ থেকে ৮ চামচ গ্লুকোজ বা চিনি এক গ্লাস পানিতে গুলে খাইয়ে দিতে হবে অথবা গ্লুকোজ ইনজেকশন দিতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের কোনো ধরনের ঔষধ খাওয়া ঠিক নয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যে নিয়ন্ত্রন আনা সবচেয়ে জরুরি বিষয়। শরীরে খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগে ও পরে একই রকম থাকে। তাই, খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যও ভাল রাখা যায়। ডায়াবেটিস যেহেতু আজীবনের রোগ, তাই সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করলে এই রোগকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলি অবশ্যই রোগীকে নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে, তবে রোগীর পরিবারের নিকট সদস্যদের সহযোগিতা এ ব্যাপারে রোগীকে অনেক সাহায্য করতে পারে। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য রোগীর যেমন ডায়াবেটিস সর্ম্পকে ভাল জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, একই ভাবে রোগীর নিকট আত্মীয় স্বজনদেরও এই রোগ সর্ম্পকে ধারনা রাখতে হবে। ডায়াবেটিক রোগীদের অবশ্যই খাদ্য, ব্যায়াম এবং শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, এই দুইটি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হতে পারে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক শর্করা কমাবার জন্য খাবার বড়ি দিতে পারেন। রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যায়াম বা শরীর চর্চা খুবই গূরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর সু্‌স্থ থাকার পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নি:সরনের পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটলে শরীর যথেষ্ঠ সু্‌স্থ থাকবে। শারীরিক অসুবিধা থাকলে, যতটুকু পারা যায় কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। মোটকথা ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণ করেই রোগীদের ভাল থাকতে হবে। এ জন্য পরিপূর্ণ শৃংখলাবদ্ধ জীবন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোগী যদি নিজে চান যে তিনি ভাল থাকবেন, তবে ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং পরিপূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। ডায়াবেটিক রোগীদের খাদ্যাভাস এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যাতে শরীরের ওজন কাম্য সীমার উপরে বা নীচে না যায়। খাদ্য তালিকায় ভাত, রুটি ইত্যাদির পরিমান কমিয়ে পরিবর্তে শাক সবজি বাড়িয়ে দিতে হবে; আঁশযুক্ত শাক সবজি খেতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস বাড়ছে সারাবিশ্বে তবে এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগও বটে। আবার ডায়াবেটিক হবার আগের অবস্থাও যে আজকাল বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে তাও ঠিক। প্রি-ডায়াবেটিস। আমেরিকাতে ২৫শতাংশ লোকের রয়েছে প্রি-ডায়াবেটিস। এদেশেও বেশ দেখা যাচ্ছে এই অবস্থা। রক্তের সুগার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তবে ডায়াবেটিস হবার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি একেই বলে প্রি-ডায়াবেটিস। এমন কিছু সুঅভ্যাস আছে, যা চর্চা করলে প্রি-ডায়াবেটিক ঠেকানো যায়, দূর করা যায় বড় সমস্যা। হৃদরোগ, যৌন সমস্যা আলঝাইমার রোগ, অন্যান্য বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেও বাঁচা যায়। তাই ডাইবেটিস প্রতিরোধে কতগুলো বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে –

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখুন –  শরীর থেকে মাত্র ১০ পাউন্ড বাড়তি ওজন ঝরালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক কমে। এমনকি খুব স্থুল মানুষ শরীরের মাত্র ৫ শতাংশ ওজন হ্রাস করলে, ব্যায়াম না করলেও ৭৫ শতাংশ ঝুঁকি কমাতে পারেন ডায়াবেটিসের। কম ক্যালোরি খেয়ে ঘটানো যায় এমন ম্যাজিক। ওজন কামানোর খাবার খেয়ে শরীরের শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে ফেলা যায়। শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার আগে পেট ভরে সবুজ শাক সবজি, স্যালাড খেলে রক্তের সুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে। রক্তের সুগারের উপর ভিনোগারের প্রভাবটি ডায়াবেটিসের ওষুধ একারবোস (প্রিকোজ) এর মতই। আহারে ভাত মাছ খাওয়ার আগে একপ্লেট সবজি ও স্যালাড; তিন টেবিল চামচ ভিনেগার,  দুই টেবিল চামচ তিসিতেল, এককোয়া রসুন,এক চামচের চারের একভাগ মধু, দুই টেবিল চামচ দধি, নুন ও গোলমরিচ ও লেটুসপাতা খেলে উপকার পাবেন ডায়াবেটিক ঝুকি কমবে।

বেশী বেশী হাটুন –  একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে সব লোক বেশি ব্যায়াম করেছেন, সপ্তাহে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বা দিনে ৩৫ মিনিট তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমেছে ৮০ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম করলে দেহ কোষের ইনসুলিন রিসেপটারের সংখ্যা বাড়ে। এতে শরীর হরমোন ইনসুলিনকে আরো কার্যকর ভাবে ব্যবহার করতে পারে। ইনসুলিন রক্তের সুগারকে কোষের ভেতর ঢুকতে সাহায্য করে, শরীর গ্লুকোজ দহন করে পায় শক্তি ও পুষ্টি। তাই যানবাহনে কম চলুন, বেশি হাঁটুন।

সঠিক খাবার গ্রহণ করুন – সঠিক খাদ্য বেছে নিলে স্লিম থাকা সহজ। নিয়ন্ত্রণেও থাকে রক্তের সুগার। গোটা দানাশস্য বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের হার কমে, কমে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। উচ্চ আঁশ শস্য ভালো। যেমন যব, ভুট্টা বেশ ভালো। ব্রাউন সুগার, কর্ন সিরাপ, ডেক্সট্রোজ, গুড়,চিনি প্রয়োজনের অধিক খাওয়া ভালো নয়।

কফি পান করুন – হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ গবেষণায় দেখা গেছে,দিনে ৩-৪ কফি পান করলে ২৯-৫৪ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। ক্যাফিন উজ্জীবিত করে বিপাক। ক্যাফিনের বড় উৎস কফিতে আছে।

ফাস্টফুড পরিহার করুণ – মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ১৮-৩০ বছরের ৩০০০ লোকের ওপর ১৫ বছর গবেষণা করে দেখেছেন, যারা নিয়মিত ফাস্টফুড খেয়েছেন তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হয় আকাশচুম্বি। অনেক ফাস্টফুডে আছে অস্বাস্থ্যকর এবং শর্করার ঝুঁকি বেশি।

মসলাযুক্ত খাবার খান – দারুচিনি বেশ প্রভাব ফেলে রক্তের সুগারের ওপর। জার্মান গবেষকরা দেখেছেন, এক গ্রাম দারুচিনি পাউডারের একটি ক্যাপসুল খেলে রক্তের সুগার কমে ১০ শতাংশ। দারুচিনিতে এমন উপকরণ আছে যা ইনসুলিন রিসেপটারকে উদদ্দীপ্ত করে এবং এনজাইমদের সক্রিয় করে। মিষ্টি এই মসলা রক্তের কোলেস্টেরল ও চর্বিও কমিয়ে থাকে।

মানসিক চাপ কমান – দিন শুরু করুন যোগ ব্যায়াম, ধ্যান দিয়ে, হাঁটা দিয়ে। বন্ধের দিন পরিবারের সবার সঙ্গে বেড়াতে যান। মজা করুন। সঙ্গীর সঙ্গে থাকুন, থাকুন বন্ধু বান্ধব সহ। নিঃসঙ্গ থাকেন যে সব নারী, এদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আড়াই গুণ বেশি পরিবার পরিজন নিয়ে থাকা নারীদের তুলনায়। গবেষকরা এমনই অভিমত: প্রকাশ করেছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রেও তা সমভাবে প্রযোজ্য। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘুম রাতে ৬ ঘণ্টার কম হয় নিয়মিত এদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হয় দ্বিগুণ যারা  ৮ ঘণ্টা ঘুমান তাদের তুলনায়। খুব কম ঘুমালে বা খুব বেশি ঘুমালে স্নায়ুতন্ত্র থাকে বড় সজাগ, এতে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রক হরমোন ব্যহত হয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘুম ৫ ঘণ্টার কম এদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হয় দ্বিগুণ। সুনিদ্রার জন্য বিকাল থেকে চা কফি, চকলেট গ্রহণ করা উচিত নয়। লেটনাইট টিভি দেখবেন না। মোবাইল অফ রেখে ঘুমাবেন। যথা সময়ে ঘুমাতে হবে এবং সকল ধরণের দুশ্চিন্তা হতে মুক্ত থাকতে হবে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যা আমাদের করা দরকার তা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত পথে চলা এবং নৈতিকতাবোধে উজ্জীবিত হয়ে প্রতিটি কাজ করা। এর ফলে জীবনের প্রতিটি স্তরে শৃংখলা স্থাপিত হবে। আর শৃংখলাই হলো ডায়াবেটিস সহ সকল মারাত্মক রোগের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিকার।

559 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন