ডায়াবেটিস কমানোর উপায় গুলো জেনে নিন

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় গুলো জেনে নিন
5 (100%) 6 votes

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় জানা থাকলে আপনার ডায়াবেটিস সমস্যা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেন। বর্তমানে পৃথিবীর শতকরা ২-৫ ভাগ লোক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ লোক এ রোগে আক্রান্ত। বহুদিন ধরে ডায়াবেটিসে ভুগলে সুদূর প্রসারী জটিলতা দেখা দিতে পারে। রেটিনোপ্যাথির কারণে দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেতে পারে। তাছাড়া চোখে রক্তপাত, পুঁজ জমা, অন্ধত্ব এবং গ্লুকোমা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস থেকে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্তদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখার ব্যাপারে সবসময় সতর্ক থাকতে দেখা যায়। কিন্তু ডায়াবেটিস না থাকা ব্যক্তিরা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন থাকেন। এতে পরবর্তী সময়ে টাইপ টু ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু আগে থেকেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখলে শরীরটা অনেক ভালো থাকে। ডায়াবেটিস না থাকার পরেও ব্লাড সুগার বেশি হলে ক্লান্তি লাগতে পারে, ডিহাইড্রেশন হতে পারে, বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

 

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ব্যায়াম করে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা রিপোর্ট থেকে জানা যায় – ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সপ্তাহে ৩ বারে ২০ মিনিট  অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩ মিনিটের কম সময় সাইক্লিং করতে হয়। ২০০ জনের ওপর পরিচালিত ৬ সপ্তাহের গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৩ বারে ২০ মিনিট সাইক্লিং করার ফলে তাদের প্রতিদিন ইনসুলিন হরমোন এর কার্যক্ষমতা ও পুনরায় উতপাদন শতকরা আট শতাংশ বেড়ে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় এবং মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। গবেষণাকারী নিলস ভল্লার্ড বলেছেন, আমাদের শরীরে গ্লাইকো্জেন নামক শর্করা বিদ্যমান ’। এই গ্লাইকোজেন ব্যায়ামের সময় ব্যবহৃত হয়। ব্যায়ামের পর এই শর্করার মাত্রা ফিরিয়ে আনতে আমাদের রক্তে শর্করা থাকা জরুরি যা মাংশপেশি সবল রাখতে সাহায্য করে। যারা ব্যায়াম না করে তাদের ইনসুলিন হরমোন তৈরি হতে অনেক বেশি সময় লাগে। যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বয়স ও শরীরের ওপর ভিত্তি করে সব লোকের জন্য ব্যায়ামের আগে পরে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। ব্যায়াম করার আগে ও পরে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয় যেমন –

▪আলো বাতাস আসতে পারে এ রকম ঘর বেছে নেওয়া উচিত ব্যায়াম করার জন্য।
▪ব্যায়াম শুরু করার আগে ভালোমতো ওয়ার্ম আপ করে শরীর গরম করে নিন।
▪শুরুতে বেশ কিছুক্ষণ আগে হালকা কিছু খেয়ে নেবেন, যাতে শর্করা থাকে, সে সঙ্গে আধা গ্লাস পানি।
▪ব্যায়ামের সময় নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিন, মুখ দিয়ে নয়।
▪ব্যায়ামের মধ্যবর্তী বিরতির সময় যেন খুব বেশি না হয়।
▪একবারে সব ব্যায়াম না করে ধারাবাহিক ভাবে একটি একটি করে ব্যায়াম শেষ করুন।
▪ব্যায়াম চলাকালে কোনো খাবার বা পানি না খাওয়াই ভালো

খাবারের মাধ্যমে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের অভাব ঘটলে, অথবা রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তখন তাকে ডায়াবেটিস বলে। আধুনিক শহুরে জীবনে ডায়াবেটিস একটি সর্বজনীন সমস্যা। এ রোগ নিয়ন্ত্রন করতে ব্যায়াম ও নিয়মতান্ত্রিক জীবন ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজন পরিমিত মাত্রায় খাবারের। তাহলে দেখে নিন প্রাকৃতিক ভাবে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় গুলো।

মেথি – ইনসুলিন নির্ভর এবং ইনসুলিন অনির্ভর ডায়াবেটিক, দু’দলের জন্যই মেথি উপকারী। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাধিক্য ঘটতে দেয় না মেথি দানা। টাইপ-১ ডায়াবেটিক যাদের, তাদেরকে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৫০ গ্রাম করে মেথি দিনে দু’বার খেতে বলেছেন আয়ুর্বেদিকরা। এই বীজটিতে অনেক বেশি পরিমানে আঁশ থাকে যা হজমের সময় শর্করার ভাঙ্গনের গতিকে ধীর করে ফলে রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির থাকে।

পানি – ব্লাড সুগার ডায়াবেটিস রোগীদের সব সময় ভাবিয়ে তোলে। ব্লাড সুগার কমানোর জন্য অনেকে ওষুধ সেবন থেকে নানা কিছু করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষজ্ঞগণ খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, এক্সারসাইজ ও নিয়ম শৃংখলা মেনে চলার কথা বলেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ওষুধ সেবন অথবা ইনসুলিন নিতে হয়। তবে এবার বিশেষজ্ঞগণ ব্লাড সুগার কমানোর একটি চমতকার তথ্য দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, দৈনিক প্রচুর পরিমাণ পানি পান করলে ব্লাড সুগারের মাত্রা হ্রাস পায়। তথ্যটি প্রকাশ করেছে ডায়াবেটিস কেয়ার জার্নালে। বিশেষজ্ঞগণ গবেষণায় দেখেছেন, যারা প্রতিদিন ১৫ আউন্স বা ২ কাপের কম পানি পান করেন তাদের যারা বেশি পানি পান করেন তাদের অপেক্ষা ব্লাড সুগার বাড়ার ঝুঁকি ৩০ ভাগ বেশি। পানি কম পান করলে কেন ব্লাড সুগার বাড়ে তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ভেসোপ্রেসিন নামক এক ধরনের হরমোন শরীরের হাইড্রেশন নিয়ন্ত্রণ করে। আর যখন পানি কম পান করা হয় তখন শরীরে অধিক মাত্রায় ভেসোপ্রেসিন তৈরি হয়। আর এই বিশেষ হরমোনটি বেশি তৈরি হলে শরীরে পানি শূন্যতাও বাড়ে। যা লিভারকে অধিক সুগার তৈরিতে ভূমিকা রাখে।বিশেষজ্ঞগণের সুপারিশ হচ্ছে মহিলাদের দৈনিক ৬ থেকে ৭ গ্লাস পানি পান করা উচিত। আর পুরুষদের পানি পানের পরিমাণ হতে হবে খানিকটা বেশি। ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবে দিনে ৬ থেকে ৮ গ্লাস পর্যন্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো।

বাদামের মাখন – বাদামের মাখন ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। তাছাড়া শিম, ডাল, হোল গ্রেইন, বাদাম ইত্যাদি খাবার গুলোতে বেশ অনেকটা ফাইবার থাকে। এগুলো খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে থাকে। ফলে ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যাবার ঝুঁকি থাকে না। কাঠবাদাম ও বার্লির মতো খাবারগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক। ব্রাজিলের একদল গবেষক তিনটি উপদলে বিভক্ত হয়ে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে বাদামের মাখন খেলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

দারুচিনি – প্রতিদিন দারুচিনি খেলে রক্তে গ্লুকোজের চাপ কম হয়। এছাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে এটা কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। অবশ্য দারুচিনি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্লাড সুগার কমে যাবে না। ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবে বিভিন্ন খাবারের উপরে কিছুটা দারুচিনির গুঁড়া ছিটিয়ে খাওয়াটা ভালো হতে পারে।

শাক সবজি – শাক সবজি খাওয়া সবার স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এটি বেশি কার্যকরী। আলু,মিষ্টি কুমড়া ও আঁশযুক্ত সবজিগুলো কম খেতে হবে। কাঁচা ও হালকা সেদ্ধ সবজি খাওয়াটা বেশি ভালো।

ভিনেগার – ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবে কার্যকারী লেবু খাওয়া। লেবু বেশি করে খাওয়াটা ভালো। জামও খাওয়া যাবে অনেকটা। পাকা পেঁপে মিষ্টি হয় বলে এটা না খেয়ে কাঁচা পেঁপে খেতে হবে। ডাব/নারিকেল খাওয়াটাও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফলদায়ক। এতে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ভিনেগার খাওয়াটা বেশি উপকারী। ক্র্যানবেরির জুস পাওয়া গেলে সেটা পান করা যেতে পারে। এগুলো খেলে ব্লাড সুগার বাড়বে না।

পেঁয়াজ – অনেকেই বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে পেঁয়াজ খেয়ে থাকেন। এটা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেঁয়াজ খাওয়াটা ভালো। পেঁয়াজ খেলেও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রসুন – ২০১২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে গ্লুকোজের পরিমাণ কম থাকে। সুতরাং ব্লাড সুগার কম রাখতে চাইলে নিয়মিত ভাবে রসুন খেতে পারেন।

করল্লা – করল্লা এমন একটি সবজি যা দূর করতে পারে ক্যান্সার, ডায়বেটিস এবং অন্যান্য অনেক মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। এই সবজিতে থাকা বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং এটি ক্ষুধা উদ্দীপক হিসেবে কাজে করে বলে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভালো উপকারি।

রসুন – এতে থাকা আলিসিন নামক যৌগ ডায়াবেটিকের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রমাণিত। ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবে রসুন খান নিয়মিত।

মাছ – চিকিৎসকরা সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের মাছ খেতে বলেন। মাছ হচ্ছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের চমৎকার উৎস যা ডায়াবেটিসের জন্য খুবই উপকারী।

ডিম – ডিম রক্তের সুগার কমাতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খাওয়াটাই ভালো।

পেয়ারা – ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক প্রকার সুপার ফুড হচ্ছে এই পেয়ারা। পেয়ারার উচ্চ মাত্রার ভিটামিন সি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আপেল – আপেল হচ্ছে খাদ্য আঁশের চমৎকার একটি উৎস যা রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যালের প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে যা রক্তের সুগার বাড়ায়।

পিনাট বাটার – গবেষণায় দেখা যায় পিনাট বাটার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া এতে আরো রয়েছে মনোস্যাচুরাটেড ফ্যাট যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

তিসিবীজ – উচ্চ মাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে তিসিবীজে। তাই প্রতিদিনের খাবারে তিসিবীজ যোগ করলে রক্তের সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

ঘৃতকুমারী – লিভারের ঔষধ হিসেবে কাজ করে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা। তাই এটা লিভারকে সঠিক ভাবে কাজ করতে সাহায্য করে রক্তের সুগারের শর্করার নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে।

হলুদ ও আমলকী – আমলকীর সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে তা ডায়াবেটিস কমানোর উপায় হিসাবে বেশ কার্যকরী। তাছাড়া করলার সাথে আমলকীর রস মিশিয়ে খেলে তা ইনসুলিনের প্রাকৃতিক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।

আদা – তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত এই মূলটিতে থাকা Gingerol নামক যৌগ দেহের পেশী কোষে গ্লুকোজ গ্রহণ করতে সাহায্য করে। যার ফলে সামগ্রিক রক্তের শর্করার মাত্রা কমায়। তবে অবশ্যই আদা খাওয়ার নিয়ম জানতে হবে।

426 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন