জীবন সুন্দর এবং পরিবর্তন করবেন যেভাবে

জীবন সুন্দর এবং পরিবর্তন করবেন যেভাবে
4.3 (86.67%) 3 votes

জীবন এক বিচিত্র জিনিস। এই জগতের সবচেয়ে বেশি বিচিত্র হলো মানুষের জীবন । কখন আপনার জীবনে কি ঘটবে তা বোঝার উপায় নেই। আপনি যতই বিদ্যান বা কৌশল আয়ত্ত করে চলেন না কেন, হঠাৎ করেই কোন কারণে আপনার জীবনে খারাপ কিছু হতে পারে। তবে এই খারাপ কিছুকে অতিক্রম করে ভালভাবে বেঁচে থাকার নামই হলো জীবন । দুঃখ সুখের সংমিশ্রণে আমাদের এই ছোট্ট জীবন। দুঃখ কে আগলে রেখে, অতীতের কথা মনে রেখে এই ছোট্ট জীবনটাকে বিষাদময় করে শেষ করার কোনো অর্থ নেই।

জীবন

সুন্দর জীবন গড়তে চাই সঠিক সিদ্ধান্ত

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

চলার পথে ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক জীবনে আমাদের নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ সময় সঠিক সিদ্ধান্তে কেউ কেউ জীবনটাকে সুন্দর করে তোলেন। কেউবা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েই মারাত্মক ভুল করেন। তখন সারা জীবন আক্ষেপ করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। অনেকে আবার যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেন। এতে মানসিক চাপ বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ঝুঁকি এড়াতে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে কিছু টিপস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন মনোবিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, জীবনে চলার পথে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ কাজ নয়। তারপরও এমন কিছু কাজ আছে যা আপনাকে সিদ্ধান্তহীনতা থেকে বের করে মনস্থির করতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে জেনে নিন যে কোন কাজের আগে মনস্থির করার ১০ টিপস।

বিষয়টি আগাগোড়া জানুন – সিদ্ধান্ত নেওয়া তখনই সহজ হয় যখন কোন বিষয় আমরা আগাগোড়া জানতে পারি। কাজেই কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি খুব ভালো করে জেনে নিন। এতে সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।

নিজেকে প্রশ্ন করুন – কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে নিজেকে বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। নিজের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। ভয়ে পেয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন না ভয়কে যেমন কখনই অবহেলা করা ঠিক নয়। আবার ভয়ের কারণে বা ভয় পেয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়াও ঠিক নয়। এতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

বিকল্প উপায় খুঁজুন – সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প উপায় গুলোও ভেবে রাখুন। এতে পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে বিকল্প পথগুলো আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

সমাধান খুঁজুন – কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা মনস্থির করার জন্য প্রতিটি মানুষেরই নিজের একটা পদ্ধতি থাকে। কাজেই বেশি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আপনি নিজের চেনা পথটাই বেছে নিন। তাহলে আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তে আসা অনেক সহজ হবে।

কঠিন সিদ্ধান্ত দেরিতে নিন – কঠিন সিদ্ধান্ত হুট করেই নেওয়া উচিত নয়। বরং কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হলে বিষয়টা নিয়ে ভাবা একেবারেই ছেড়ে দিন। তাহলে কিছুদিন পর নিজ থেকেই বুঝতে পারবেন যে আপনাকে কী করতে হবে।

একাধিক অপশন বেছে নিন – প্রত্যেক সিদ্ধান্তেই একাধিক জায়গা থাকে। সম্ভব হলে প্রতিটি অংশই চেষ্টা করে দেখুন। যেটি ভালো লাগে সেটিই বেছে নিন।

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখুন – কেবল বর্তমানকে ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন না। এতে বিপদ হতে পারে। বরং ভবিষ্যতের হিসাব করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।

সিদ্ধান্ত কখনই সঠিক হয় না – যে কোন সিদ্ধান্ত কখনো সঠিক হয় না। এই সত্যটা মেনে নিলে দেখবেন মনের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে গেছে। সেই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াও আপনার জন্য সহজ হচ্ছে।

অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুন – একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন কিংবা যার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলুন। দেখবেন সমাধানের পথ ঠিকই বেরিয়ে আসবে। কেননা একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচণ্ড সহায়তা করবে।

সুন্দর জীবন গড়বেন যেভাবে

দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল যেমন ভালো তেমনি, ভালোবাসাহীন ও অসুন্দর জীবন হাজারো বছর বেঁচে থাকার চেয়ে সুন্দর জীবন অল্প দিনও অধিক ভালো। তবে আমরা সহজেই সুন্দর ভাবে জীবন গঠন করতে পারি না। সুন্দর জীবনের জন্য সুন্দর পরিকল্পনা সেই সাথে তা মেনে চলাও প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই সুন্দর জীবন গড়ার কিছু উপায়, যে উপায় গুলোর আদলে আমরা সুন্দর জীবন গঠনের পথেই এগিয়ে যাবো।

শারীরিক সুস্থতা – স্বাস্থ্যই আমাদের বড় সম্পদ। আপনার শরীর যদি সব ধরনের ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে মুক্ত থাকে, শরীরের সব কিছু যদি পরিপূর্ণ ভাবে কাজ করে তাহলেই সেটাকে সুস্থ বলা চলে। শরীর যদি রোগ বা দুর্বল স্বাস্থ্য থেকে দূরে থাকে— সেটা সীমিত সময়ের জন্য নয়, সারা জীবনের জন্য, তাহলে সেটাকেও আমরা সুস্থ ও কাজের উপযোগী বলতে পারি। শারীরিক অসুস্থতা কেবল দেহকেই নয়, মনকেও প্রভাবিত করে। কারো স্বাস্থ্য যদি কাজের অনুপযোগী হয়, তাহলে সে কিছুতেই দৈনন্দিন কাজে ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারবে না। মূল্যবান সম্পদ রক্ষার জন্য যেমন যত্ন নিতে হয়, সচেতন থাকতে হয়, তেমনি শরীর নামের এ সম্পদকে রক্ষার জন্যও যত্ন নেয়া প্রয়োজন। পরিমিত খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, সময় মতো ঘুম আপনার শরীরকে সুস্থ রাখবে। আজকে আপনি যে নিয়ম মেনে শরীরের যত্ন নেবেন, কাল তার সুফল ভোগ করবেন। সঙ্গে সঙ্গে মনকে সতেজ রাখার চেষ্টা করুন, নিজের আবেগ, ক্রোধকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সবসময় ইতিবাচক বিষয় চিন্তার চর্চা করুন। ভালো ফল পাবেন। আপনি কখন বিরক্ত হন কিংবা খারাপ বোধ করেন, সেটা আপনার কাছের মানুষ গুলোকে বুঝতে দিন, তারা আপনাকে ভালো থাকতে সাহায্য করবে। ক্রোধে থাকা অবস্থায় কোনো রকম সিদ্ধান্ত নেবেন না বা কোনো কাজ করবেন না।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা – সুন্দর একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা আপনার জীবনকে পাল্টে দেবে। কী খরচ করবেন আর কী জমা করবেন সে বিষয়ে পূর্ণ ধারণা রাখুন। দেখবেন সীমিত অর্থের মধ্যেই সব কিছু হয়ে যাচ্ছে। অর্থ খরচের সুন্দর একটি পরিকল্পনা বিপদের সময় আপনার জন্য আশীর্বাদ হবে। আপনি যদি অর্থ খরচের বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তাহলে দেখবেন পরের দিন গুলোয় আপনাকে অর্থ নিয়ে ভাবনায় পড়তে হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত নিন কী পরিমাণ টাকা আপনার বিপদের সময় বা অবসরের জন্য প্রয়োজন। সেভাবে পদক্ষেপ নিন। অভিজ্ঞরা দীর্ঘ মেয়াদে সঞ্চয়কে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। বাড়তি অর্থ প্রয়োজনীয় খরচে না লাগলে সেটাকে জমা রাখুন। আপনার সন্তানকেও এই শিক্ষা দিন।

কাজ – অধিক কাজ জীবনকে ক্লান্ত ও দুর্বল করে দিতে পারে। এর থেকে বের হওয়ার সহজ উপায় হলো নিজের কাজকে উপভোগ করুন। যাই করছেন আনন্দের সঙ্গে করার চেষ্টা করুন। সহজ ভাবে বলতে গেলে, আপনি যা করে আনন্দ পান তাই করার চেষ্টা করুন। যদি এমন হয়, আপনি যে কাজ পছন্দ করেন না তেমন একটা কাজ পেয়ে গেলেন, তাহলে অন্য কোনো উপায়ে সে কাজকে আনন্দময় করে তোলার চেষ্টা করুন। আপনার সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। তারা আপনার কাজকে আনন্দময় করে তুলতে সাহায্য করবে। বাসাকে কাজের ক্ষেত্রে আর কাজকে বাড়িতে আনবেন না।

বিনোদন – বিনোদন আপনার শরীর আর মনকে প্রফুল্ল রাখবে। যেকোনো কাজে পরিপূর্ণ অংশগ্রহণ এবং প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন কাজ আর কাজের ধারণা আপনার বিনোদনকে দ্বিগুণ করে তুলবে। বিনোদন কিংবা শখের বিষয় নিয়ে মেতে থাকলে কখনোই আপনাকে অলসতা কিংবা স্থবিরতা স্পর্শ করবে না। শখের বিনোদন আপনার শরীরকে সবসময় সুস্থ আর দীপ্তিময় রাখবে।

পরিবার – দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর কাজ শেষে আপনার জন্য অপেক্ষায় থাকা পরিবারের লোকদের কাছে ফিরে যাওয়ার মতো আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না। আধুনিক জীবন যাত্রায় ব্যস্ত সময়ের ভিড়ে নিজের কাছের মানুষকে সময় দেয়া সত্যিকার অর্থেই কঠিন। এক্ষেত্রে সহজ উপায় হলো, রুটিন মাফিক নিজের কাজগুলো সেরে পরিবারের মানুষটির জন্য সময় বের করা। সপ্তাহের একটা দিন আপনার বাবা-মার সঙ্গে দীর্ঘ সময় পার করুন, সন্তানদের নিয়ে কোথাও খেতে যান কিংবা বাড়িতেই ভালো কিছুর আয়োজন করুন, আপনার স্ত্রীকে মধুর একান্ত একটু সময় দিন। একটি সুন্দর স্বাভাবিক পরিবার আপনার জীবনকে উন্নতির কয়েক ধাপ সামনে নিয়ে যাবে।

সামাজিক দায়িত্ববোধ – সামাজিক দায়িত্ববোধ আপনার জীবন আরো সুন্দর করে তুলবে। আপনি কলা খেয়ে খোসাটা রাস্তায় ছুড়ে মারলেন কিংবা চিপসের প্লাস্টিক প্যাকেটটি যত্রতত্র ফেললেন। এতে আপনার পরিবেশকে যে আপনিই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে যদি আপনার একটু দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে কাজটা আপনি করতে যাবেন না। আপনার দায়িত্ববোধ থেকে যদি কারো জন্য ছোট্ট একটি মহৎ কাজও করেন, তাহলেও সেটা আপনার মনকে তৃপ্ত রাখবে, নিজের ওপর আস্থা বাড়বে।

আবেগি স্বাস্থ্য – যারা মানসিকভাবে তৃপ্ত, তারা চিন্তাভাবনা, আবেগ-আচরণকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ভাবে নিজেদের সমস্যাকে চিহ্নিত করতে পারেন। সুস্থ মানসিকতা আপনার উপভোগের সময়কে যথাযথ করবে। মনকে প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করুন। এটা দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার জীবনকে ভালোভাবে প্রভাবিত করবে। পরিতৃপ্ত মন আর সুস্থ শরীর পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা। সুস্থ শরীর ছাড়া সুস্থ মনের অধিকারী হওয়া যাবে না। আবার সুস্থ মন ছাড়া সুস্থ শরীর আশা করা যায় না। ফলে দুটোর দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।

বন্ধুত্ব – বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য কিছু সময় বের করুন। সপ্তাহের নির্ধারিত একটা সময় তাদের সঙ্গে কাটান। হাসুন প্রাণ খুলে, গল্প করুন, বন্ধুদের সঙ্গে সময়কে উপভোগ করার চেষ্টা করুন। কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে শুধু সম্ভাবনার বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। প্রতিদিন যাদের সঙ্গে আপনার দেখা হচ্ছে— অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে, রিকশাচালক, ট্যাক্সিচালক, আপনার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সঙ্গে সমানুপাতে শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলুন, সদাচরণ করুন। এটা আপনার মনকে বিভিন্ন উত্তেজনা থেকে দূরে রাখবে। আপনার ব্যক্তি অহংকারকে দমন করুন। এটা আপনার জীবনকে পেছনে ঠেলে দেবে। বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন।

আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান, ইয়োগা – প্রত্যেকের জীবনেই নিজেকে চালিয়ে নেয়ার জন্য আলাদা আলাদা পথ ঠিক করা আছে। আমাদের সবার বিশ্বাস একই রকম হবে এ আশা করা কঠিন। দিনে একবারের জন্য হলেও নিজের মুখোমুখি হন। সুন্দর একটা মুহূর্তে ভালো কিছু চিন্তা করে নিজের ভেতর ডুবে যান। মনের ছবিতে জীবনের সফলতাগুলোকে বারবার তুলে ধরুন, সেটা নিয়ে চিন্তা করুন। দেখবেন মনের ক্লান্তি দূর হয়ে গেছে।

নিজেকে আবিষ্কার – প্রতি মুহূর্তে নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন। আপনি হয়তো জানেন না অসচেতনতায় অযত্নে স্রষ্টা আপনার ভেতর যে ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে, সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হয়তো ভুলেই যাচ্ছেন কত কিছু করার ক্ষমতা আপনার ছিল। আপনার হয়তো অনেক কিছুই করার কথা ছিল কিন্তু কাজ আর ব্যস্ততা সেগুলোকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মনে করুন, কলেজ জীবনে আপনি ভালো গান গাইতেন কিংবা ছবি আঁকতেন অথবা ভালো গল্প লিখতেন। এখন আবার সেগুলো করার চেষ্টা করুন। নিজেকে আবার আবিষ্কার করুন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আপনার খুব ভালো একটা গল্পের বই লেখার আগ্রহ ছিল কিংবা আপনি হয়তো শুরুও করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেখান থেকে সরে এসেছেন। এখন আবার সেটাকে শুরু করার চেষ্টা করুন। দেখবেন জীবনের নতুন এ আবিষ্কারে আপনি বেঁচে থাকার আগ্রহ খুঁজে পাবেন। জীবন আবার অর্থবহ হয়ে উঠবে।

স্রষ্টার কাছে নত হন – মানুষের খারাপ স্বভাব গুলোর মধ্যে একটি হলো, মানুষ বিপদে না পড়লে ঋণ স্বীকার করে না। মানুষ সব সময়ের জন্য তার সৃষ্টিকর্তার কাছে ঋণী কিন্তু এই ঋণ স্বীকার করার মতো সময় মানুষ পায় না। (তবে সব মানুষ কিন্তু এমন নয়) মানুষ যখন বিপদে পড়ে তখন কেঁদে মরে তার উদ্দেশ্যে। অথচ, শুধু বিপদের সময় নয়। মানুষ যদি তার সৃষ্টিকর্তাকে মন দিয়ে সব সময় ডাকে, তবে মানুষের জীবনটা সর্বদিক দিয়ে শান্তিপূর্ণ হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। জীবনকে সর্বাধিক সুন্দর করতে হলে স্রষ্টার কাছে নত হওয়া আর মুক্তি চাওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই। সবসময় মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখবেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি প্রার্থনা মানুষকে বড় শক্তি দান করে। প্রার্থনা এমন একটি শক্তি যার দ্বারা মানুষ শুধু উপকৃতই হয়ে থাকে। ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস মানুষের মনে শান্তি আনে। প্রশান্তি লাভ করে। মানুষ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তাই বলছি বেশি বেশি প্রার্থনা করুন সৃষ্টিকর্তার প্রতি।

জীবন পরিবর্তন করবেন যেভাবে

  • জীবনটাকে বদলে ফেলার বেশ কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো শিখে নিন এবং নিজের মাঝে রূপান্তর ঘটিয়ে জীবন পরির্তন করুন।
  • প্রতিদিন **যোগ ব্যায়াম** বা মেডিটেশনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। দেহ মন পরিষ্কার হবে।
  • জীবনে ভালোবাসা গ্রহণের পথ প্রশস্ত রাখুন। অন্যদের প্রতি **ভালোবাসা** জ্ঞাপনেও উদার হোন।
  • যেকোনো পরিস্থিতি বা মানুষের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে ৫ সেকেন্ডের জন্যে ভেবে নিন।
  • বই বা আর্টিকেল এমনভাবে পড়বেন যেন তা ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছেন আপনি।
  • উদ্দেশ্য এবং জীবনের পছন্দের বিষয় গুলোর প্রতি আন্তরিক হয়ে উঠুন।
  • জীবনের নানা বিষয়ের প্রতি নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গী গড়ে তুলুন।
  • প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির সঙ্গে কাটিয়ে আসুন।
  • নিজের মূল্যায়ন করুন এবং একে রক্ষা করুন। এ দুনিয়ায় অন্যের মতো আপনিও গুরুত্বপূর্ণ।
  • দিনের প্রতিটা সময়কে নতুন ভাবে শুরু বলে বিবেচনা করুন। কখনোই খুব বেশি দেরি হয়ে গেছে বলে ভাববেন না।
  • নিজের শিক্ষা ও জ্ঞানকে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিন।
  • শর্তহীন ভাবে নিজেক ভালোবাসুন। আপনি যেমনই হোন না কেন, মনে আক্ষেপ রাখবেন না।
  • নিজের পছন্দ, ভালোবাসা এবং আনন্দের বিষয় গুলো কি কি তা লিখে রাখুন।
  • অতীতের বিষয়ে নিজেকে এবং অন্যদের ক্ষমা করতে শিখুন।
  • যা বিশ্বাস করেন তার প্রতি প্রশ্ন রাখুন। এগুলোর সত্যমিথ্যা যাচাই করুন।
  • প্রতিদিন ভালোবাসা এবং দয়াশীলতা প্রদর্শন করুন।
  • লেন-দেনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করুন।
  • কল্পনাশক্তির বিস্ময়কর শক্তিকে কাজে লাগান।
  • নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেন কিছু না যায় তার প্রতি খেয়াল রাখুন।
  • ভালোবাসা ও আনন্দের মাধ্যমে জীবনের সিদ্ধান্ত নিন।
  • এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন, নিখুঁত হতে নয়।
  • রাতে ঘুমানোর আগে গোটা দিনের সফলতা ও ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে নিন। পরের দিনের জন্যে প্রস্তুত হয়ে যান।

515 total views, 3 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে
  • 13
    Shares

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন