জীবনের উদ্দেশ্য থাকাটা কেন জরুরি

জীবনের উদ্দেশ্য থাকাটা কেন জরুরি
5 (99.23%) 26 votes

জীবনের উদ্দেশ্য আসলে কি? একজনের জীবনের উদ্দেশ্য আরেকজনের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আপনার জীবনের উদ্দেশ্য শুধু মাত্র আপনি নিজেই খুঁজে বের করতে পারেন ! প্রত্যেক মানুষই একেকটি আলাদা স্বত্বা, সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই আছে একটি আলাদা জীবন আলাদা উদ্দেশ্য। আপনি কি করছেন সেটা কোন ব্যাপার না । যেটা আসল ব্যাপার সেটা হল, আপনি যা কিছু করছেন, যে জীবন যাপন করছেন সেটা কোন উদ্দ্যেশ্য মন্ডিত কিনা, নাকি উদ্দ্যেশ্য বিহীন!

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

জীবনের

জীবনের উদ্দেশ্য কি

এই প্রশ্ন মানুষের মনে প্রথম কবে আসে বলা মুশকিল। মানুষ যখন মূলত শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো তখন, নাকি যখন প্রথম কৃষিজীবি হয়ে উঠে তখন থেকেই এই প্রশ্নের উৎপত্তি। প্রশ্নের শুরু যখন থেকেই হোক সেই প্রশ্ন যে বংশ পরম্পরায় আজো আমরা বহন করে চলছি তার প্রমান পাই আজো সবার এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দেখে। এই প্রশ্নের পেছনে কোন একক নির্দিষ্ট জাতি শুধু সময় ব্যয় করেনি- বলা যায় ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সকলেই কোন না কোন জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। অনেকে মনে করে যে, একজনের জীবনের উদ্দেশ্য কী তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ব্যক্তির নিজের। এর বিপরীতে, বিবর্তনে বিশ্বাস করে এমন কেউ কেউ শিক্ষা দেয় যে, জীবনের কোনো প্রকৃত অর্থ নেই। তা সত্ত্বেও, প্রকৃত পক্ষে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত উপায় হল জীবন দাতা হিসাবে মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ নিষেধ মেনে চলা। জীবনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। সকলেই যে এই মতবাদে বিশ্বাসী হবে তা নয়। যারা কোন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী নয় বা মৃত্যুর পরের কোন জগতেও বিশ্বাসী নয় তারা এটা মানবে না। তাছাড়া, আধুনিক বিজ্ঞানেও মন বা আত্মার আলাদা কোন অস্তিত্ব নেই। মানুষের মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাঝেই মনের অবস্থান। মস্তিষ্কের মৃত্যুর মাঝে মনেরও মৃত্যু ঘটে। আত্মা যদি নাও থাকে তবুও সমস্যা রয়েই যায়, তা হলো এই জীবনের উদ্দেশ্য কি? কেনই বা এই পৃথিবী আর কেনই বা এত দ্বন্দ্ব।

আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কি

▪আপনার জীবন কি আপনার নিয়ন্ত্রনে আছে ? নাকি জীবন কোন এক দৈব চক্রে আপনাকে কিছু একটা সুযোগ করে দিবে সেই অপেক্ষায় আপনি বেঁচে আছেন ?

▪আপনি কি কখনো চিন্তা করে দেখেছেন কেন আপনি পৃথিবীতে এসেছেন ? যদি আপনার জীবনের কোন উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে বেঁচে থাকার কোন মানে আছে কি ?

▪জন্ম-প্রক্রিয়ায় যে লক্ষ-কোটি স্পার্ম আপনাকে পরাজিত করতে পারতো, তাদেরকে পরাস্ত করে আপনার জন্ম । সুতরাং পৃথিবী আপনার আসার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে । নিশ্চয়ই আপনার জীবনের কোন উদ্দেশ্য আছে !

▪আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অভাবনীয় সাফল্যের পরও, অধিকাংশ মানুষ সামান্য বা কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই বেঁচে থাকে আপনি কি তেমনি?

▪আপনি আগামীকাল কি করতে যাচ্ছেন ? এটা জিজ্ঞাসা করলে অধিকাংশ মানুষই উত্তর দিবে, ‘আমি জানি না’ । আপনি আগামী বছর কি করতে যাচ্ছেন ? এই প্রশ্নে অধিকাংশ মানুষের উত্তর হবে, ঠিক নেই অথবা দেখা যাক কি হয়। আপনিও কি ঠিক সেই একই রকম?

আপনার জীবনের উদ্দেশ্য কি খুঁজে পেয়েছেন

অধিকাংশ মানুষ তাদের নিজের জীবনের উদ্দেশ্য জানে না। তাই তারা জীবনের দেয়া কোন দৈব সুযোগের অপেক্ষায় বেঁচে থাকে, কোন উদ্যোগ নিজে নেয়ার চেয়ে তাদের জীবনে কি ঘটে সেটার অপেক্ষায় তারা জীবন যাপন করে যায়। এটা এমন যে, কেউ একজন তাদের জীবন দৈব চক্রে নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং সেই কোন একটা সুযোগ, বা কোন একটা যোগাযোগ কিংবা কোন একটা ঘটনা ঘটিয়ে দেবে । সমস্যা হচ্ছে, এরা জানে না, কোন দিন সেই দৈব ঘটনাটি ঘটবে। তাই তারা কোন ভাবে তাদের জীবন যাপন করে যায়, যাতে খুব সামান্যই তাদের নিয়ন্ত্রন থাকে। ফলে, অনেক সময়ই তাদের জীবনের কোন মানে থাকে না এবং তাদের ভবিষ্যতের উপর অনিশ্চয়তা ভর করে। কিন্তু সবাই এরকম নয়। কিছু মানুষ আছে যারা, দৈব চক্রে তাদের জীবনে যা ঘটে তার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেদের জীবনকে পরিচালিত করতে চায়। তারা জানতে চায় তাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং তারা নিয়ন্ত্রণ করতে চায় তাদের নিয়তি। সেটা তারা করতে চায় নিজেদের জীবনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে। জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার মাধ্যমে এসব মানুষ নিশ্চিত করে যে, তাদের জীবনে তারা যা করতে চায়, সেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়ার উপায়

চলার পথে এমন কিছু পরিস্থিতি এসে দাঁড়ায় যখন আমরা পথ হাতরে বেড়াই। কঠিন বাস্তবতায় পড়ে হতাশায় জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পাই না। সবকিছু ছন্নছাড়া ও অসহ্য মনে হয়। এমন সময়ে কী করবেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন এবং সেগুলোর উত্তরের মাধ্যমে জীবনের উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করুন।

কাজ করুন – ছোট হোক বা বড় হোক, যেকোন ধরনের কাজ করতে থাকুন। ছাত্র অবস্থায় কাজ করা শুরু করবেন না কি পড়াশোনা শেষ করে, সেটি বড় বিষয় নয়। কাজের ব্যাপারে কোনো বাছবিচার করবেন না। এভাবেই ধীরে ধীরে একদিন আপনি আকাঙ্ক্ষিত কাজ খুঁজে পাবেন। মনে রাখবেন, অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি এবং শুধু কাজের মাধ্যমেই আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

নিজেকে প্রশ্ন করুন – মানুষের হৃদয়ই হলো জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য খুঁজে পাবার প্রধান হাতিয়ার। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি কী করতে অধিক ভালোবাসেন কিংবা কোন কাজ করতে আপনার দিনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়? এবার তার উপর ভিত্তি করে আপন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করুন।

সৎ থাকুন – নিজেকে গণ্ডির মধ্যে রাখবেন না,নিজের আশেপাশে কোন রকম গণ্ডি তৈরি করবেন না। ইতিবাচক মানুষের সঙ্গে মিশুন এবং যেকোন ধরনের নেতিবাচকতা পরিহার করুন। উদ্দেশ্য সৎ রাখলে,কেবল মাত্র তখনই আপনি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন।

জীবনের উদ্দেশ্য যখন বিভিন্ন রকম

এক শ্রেণীর লোকেরা মনে করে জীবন হল খাও দাও ফুর্তি কর, তারপর দফা হয়ে যাও। এরা ডারউইন সাহেবের বিবর্তনবাদের খুব ভক্ত। তাই এদের কাজ গুলো হয় অনেকটা বাঁদরের মতো। এই দলে কোটিপতি যেমন আছে ,তেমনি আছে গার্মেন্টস শ্রমিক। যার যেমন সামর্থ্য তার বাঁদরামি তেমন। বিলিয়নপতি বিদেশী মদ খায় আর গার্মেন্টস শ্রমিক বাংলা মদ খায়। কোটিপতি সুন্দরী মডেল,নায়িকা নিয়ে ফুর্তি করে আর ওই ব্যাটা পতিতালয়ের অভাগা মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করে। দুজনের জীবন দৃষ্টি একই, পার্থক্য শুধু অর্থের আর প্রক্রিয়ার। আরেক শ্রেণী আছে এঁরা আবার জীবনটাকে দেখে অন্যভাবে। এরা জীবনের মানে খুজে পায় অপরের জন্য কিছু করার মাঝে। অপরের মুখে একটু খানি হাসি ফুটিয়ে। অপরের প্রতি একটু মানবিক ব্যবহার করে, একটু ছাড় দিয়ে। নিজের মুখের খাবার অনাথ শিশু আর অসহায় মানুষের মুখে তুলে দিয়ে। এরা নিজেরা ভালো থাকতে চায় এবং অন্যদেরও ভালো রাখতে চায়। এরা দাতা হতে চায়। এরা পৃথিবীকে ঋণী করে রেখে যেতে চায়। এরা সপ্ন দেখে লাখো মানুষের চোখের জলের বিদায়, বরণীয় মৃত্যু। এরা অতি কষ্টের মাঝেও শুকরিয়া আদায় করতে ভুল করে না। এদের মৃত্যু হয় বরণীয়, স্মরণীয়। মৃত্যুর পরও এঁদের মুখে হাঁসি লেগে থাকে। এদের সংখ্যা অনেক কম কিন্তু কণ্ঠ অনেক বলিষ্ঠ।

পরিশেষে – আমরা কোন জীবনটি বেছে নিবো তা নির্ভর করছে আমাদের সিদ্ধান্তের উপর। আমাদের নির্ধারণ করতে হবে যে, আমরা জীবনটা হেলায় বিলিয়ে দিবো, নাকি জীবনের উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করবো। সফলতা আসবে সিদ্ধান্তের পথ ধরে। নিজেই ঠিক করে ফেলুন, আপনি কি করতে চান। জীবন হল স্রষ্টার কাছ থেকে পাওয়া একটা উপহার । আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছে একটা দায়িত্ব দিয়ে। তাঁর দায়িত্ব শেষ করেই তাকে আবার তাঁর রবের কাছেই ফেরত যেতে হবে। তবে হতাশাজনক সত্যিটা হল, অধিকাংশ মানুষ তাদের জীবন উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে সংগ্রাম করে এবং কিছু মানুষ কখনো খুঁজে পায় না । এইসব মানুষেরা এলোমেলো ভাবে জীবন যাপন করে, একটি দিন থেকে আরেকটি দিন কাটে, কিন্তু তারা কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনা ।

1,423 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

About ইমন

আমি মহা মানব নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। তাই আমার এপিটাফ হবে আমার মতই সাধারণ, কালের গর্ভে এটিও হারিয়ে যাবে, যেমনটা হারায় একজন সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন