জীবনের বাস্তব কথা

জীবনের বাস্তব কথা
5 (100%) 2 votes

জীবনের বাস্তব কথা আমাদের জীবন সম্পর্কে ভাবায়। জীবনের বাস্তব কথা মানেই আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের বাস্তবতা। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। জীবনে কষ্ট আসলে মানসিক ভাকে ভেঙ্গে পড়লে জীবন তার দ্বিগুন পিছিয়ে যাবে। জীবনের সকল দূঃখ কষ্ট ও বাস্তবতাকে জীবনের অংশ হিসাবে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করার নামই হচ্ছে সুখ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

জীবনের বাস্তব কথা

জীবনের বাস্তব কথা (১) – সময় আর প্রয়োজন মানুষকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মানুষ এখন আর সহজে সংগ্রহ করতে পারছে না। প্রতিনিয়ত মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। জীবন যাত্রার খরচ বেড়ে গেছে ব্যাপক ভাবে। সবার মাঝে সর্বদা চাপ থাকে দৈনন্দিন ব্যয় সে মেটাবে কেমন করে। সব সময় অস্থিরতা কাজ করে মানুষের মাঝে। তার উপর রয়েছে গোদের উপর বিষ ফোঁড়া- আমাদের অপরাজনৈতিক সংস্কৃতি। মানুষ চিন্তা চেতনায় এখন আর স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে না। নিজের উচ্ছ্বাস, উল্লাস আর নিজের মতো করে ব্যাপক ভাবে প্রকাশ করতে পারে না। রাস্তাঘাটে পথে প্রান্তে কখন কোন বিপদের সম্মুখীন হয় তা ভাবনার বাইরে। ঘরের বাইরে বের হয়ে একজন মানুষ যে নিরাপদে ঘরে ফিরে আসবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। চারপাশে পশুত্বের ছড়াছড়ি। অদৃশ্য দুর্ঘটনার হাতছানি প্রতিনিয়ত। বেচারা প্রাণটা নিয়ে নির্মোহ বেঁচে থাকার প্রয়াসে মানুষজন আজকাল আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে বহুলাংশে। হয়ে পড়ছে অসামাজিক। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকছে সব সময়। অনেকটা নিজে বাঁচলে বাপের নাম টাইপের। যার ফলে এখন আর একজনের বিপদে অন্য আরেকজন এগিয়ে আসছে না। কিংবা সম্মিলিত ভাবে মানুষ এখন আর সৃষ্টির আনন্দে মেতে উঠছে না। এই আত্মকেন্দ্রিকতা, এই অসামাজিকতা আমাদের বিপজ্জনক এক ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

জীবনের বাস্তব কথা (২) – অনেক স্বার্থপর একটা পৃথিবীতে বাস করি আমরা পরিবার, আত্নীয়, বন্ধু, প্রেমিকা সবাই এখানে স্বার্থপরতার এক একটি বাস্তব প্রতিমূর্তি। চাকুরিজীবি যেই ছেলেটা ছুটি পেয়ে বাড়ীতে ফেরে- সে থাকে বাবা-মায়ের গর্ব, ভাই-বোনের চোখের মধ্যমণি, আত্নীয়-স্বজনদের সবার আদরের জন, বন্ধুদের আড্ডার প্রাণ, স্ত্রী/প্রেমিকার অহংকারের কারণ। অথচ এই ছেলেটাই যখন বেকার জীবন কাটাত সে ছিল অনেকের চোখেই নিকৃষ্ট একজন মানুষ। অনেকেই তার সাথে ভাল সুরে কথা বলত না। ছোট ভাই-বোন তার কথার দাম দিত না। আত্নীয়-স্বজনের জন্য সে ছিল চোখের কাটা। বন্ধুদের আড্ডায় ছিল তামাশার পাত্র। হয়ত সে কাউকে ভালবাসত, সেই মানুষটা তার উপর আস্থা রাখতে না পেরে চলে গেছে অন্যর হাত ধরে ধরে। কিন্তু নিজের পায়ে দাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরে সবকিছু ঠিকই সে ফিরে পায়। তার সব পছন্দের খাবার রান্না করা হয় বাড়ীতে, বড় মাছটা তুলে দেয়া হয় তার প্লেটে, ভাই-বোনেরা তাকে মান্য করে, আত্নীয়-স্বজনরা তাকে সেধে দাওয়াত করে, বন্ধুরা তখন তাকে মাথায় তুলে রাখে, তার আগের প্রেমিকার চেয়ে অনেক সুন্দরী একটা মেয়েকে খুঁজে আনা হয়, তার বধু বানানোর জন্য। অথচ তার যখন সত্যিই কারো সাহচর্যের প্রয়োজন ছিল, কারো হাত ধরে নির্ভরতা পাওয়ার দরকার ছিল, দরকার ছিল কারো অনুপ্রেরণার, কারো সান্তনার, তখন কেউ তার পাশে ছিল না, পাশে থাকেও না। কারণ, এর নামই জীবন এটাই জীবনের বাস্তব কথা ।

জীবনের বাস্তব কথা (৩) – সৃষ্টির আদি থেকেই ক্ষুধা নিবৃত করার জন্য ব্যক্তি তার নিজের স্বার্থকেই বড় করে দেখেছে। নিজেকে নিয়ে সে বেশি ব্যস্ত ও নিজ ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। আরণ্যক প্রবৃত্তিকেও গুরুত্ব দিয়েছে। দৃষ্টি যতদূর যায়, ততদূর তার সম্পদের প্রাপ্তি ঘটুক স্বার্থের এই মোহ মায়া, ব্যক্তি স্বার্থকে প্রতিষ্ঠা করতে জোর যার মুল্লুক তার এই শক্তিকেও প্রয়োগ করেছে। কে জানে ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নাকি ‘সকলের তরে সকলে আমরা/প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’ এই বাণী, কে কার আগে জন্মেছে ? স্বার্থের পাশবিকতা ত্যাগে অনুপ্রাণিত করতে কবি’র বাণীর কোন বিকল্প নেই। আর এই বাণী পশু ও মানুষকে আলাদা করে চিনতে শেখায়, কিন্তু ব্যক্তি তার স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ইতোমধ্যে আচার-আচারণে স্বার্থ কেন্দ্রিক বেড়াজালটা আমাদের অস্থিমজ্জায় জেঁকে বসেছে। যান্ত্রিকতায় আমরা এখন আমিত্বে এসে দাঁড়িয়েছি। সব কিছুতেই নিজ ভালটা চেনার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মানবিক মূল্যবোধও ক্ষয় হচ্ছে। জাতি এখন সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় আক্রান্ত, স্বল্পতে তুষ্ট জাতির প্রাচীন ঐতিহ্য, এখন অন্য ভুবনে স্থানান্তরিত হয়েছে। সব কিছুতেই ব্যক্তি তার আপন ভুবনে নিজেকে দেখতে চেয়েছে। সমাজ সংস্কৃতিতে এসেছে পরিবর্তনের ঢেউ। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে আড়াল করতে এই পৃথিবীকেই শেষাবধি ধ্বংস করতেও কার্পণ্য করছি না আমরা। সব কিছুকেই মেকি। গোদের উপর বিষ ফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতির লুণ্ঠন সংস্কৃতি। সর্বত্রই সুবিচার, সাম্যের নীতিতে দুর্ভিক্ষ ভর করেছে। মিথ্যা, শঠতা ও নির্বিবেক প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক ছলনা, সমাজ ব্যবস্থা থেকে নিয়মনীতি আদর্শকে বিদায় করেছে। তাই আমরা নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত আজ।

পরিশেষে – জীবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে , সে কখনও এক পথে চলেনা। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। জীবনের এই বৈশিষ্ট্যকে যারা মেনে নিতে পারেনা তারাই হতাশ জীবন যাপন করে। যারা মেনে নিতে পারে তারাই সুখী। কিন্তু সবাই কি পারে সব অবস্থা মেনে নিতে ? কিন্তু মেনে নিতে হয় জীবনের জন্য। জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নেয় তারা জীবনের আনন্দগুলো উপভোগ করে, জীবনকে উপভোগ করে। কষ্ট ও দুঃখগুলো থেকে তারা শিক্ষা নেয়। গৃহীত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তারা জীবন সাজায়। ফলে তাদের জীবনের দুঃখ কষ্টগুলো বাহির থেকে দেখা যায়না বা তারা তা দেখাতে চায়না। দুঃখ কষ্ট তারা সামলে নিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। তাদের সহনমাত্রা অনেক বেশী থাকায় একটা সময় এসে দুঃখ কষ্ট তাদেরকে ছুঁতে চায়না। আমরা বলি চীরসুখী মানুষ। আসলে তা নয়। তারা দুঃখ কষ্টকে জীবনের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়। তারা অনেক কষ্ট সয়ে, মেনে নিয়ে কষ্টকে জয় করে নিয়েছে। জীবনের বাস্তবতায় আসা কষ্টকে মেনে না নিয়ে হতাশ হলেই জীবন হতাশ হয়। কিছু কিছু কষ্ট জীবনে আসে যা ক্ষুদ্র জীবনের কাছে পাহাড় তুল্য। হতাশ নয়, ধৈর্য্য ও সময়ই অনেক সমস্যার সমাধান দেয়। কষ্ট কখনও কখনও এমন ভাবে আসে যখন চোখ বন্ধ হয়ে যায়। কান বধির হয়ে যায়। কন্ঠ বোবা হয়ে যায়। বুদ্ধি নির্বোধ হয়ে যায়। শরীর পঙ্গু হয়ে যায়। দিশেহারা জীবনে সব পরিকল্পনা ছাড়খার হয়ে যায়। তারপরও মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় জীবনের অদৃশ্য প্রয়োজনে আর এটাই জীবনের বাস্তব কথা এবং জীবনের বাস্তবতা।

70 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন