ছেলে মানুষ পছন্দ করে যেমন ধরণের মেয়ে

ছেলে মানুষ পছন্দ করে যেমন ধরণের মেয়ে
5 (100%) 1 vote

একটি ছেলে অবশ্যই তার মনের মতন মেয়ের সাথে প্রেম করতে চাইবে বা জীবন সঙ্গীনী করতে চাইবে। মেয়েরা অনুমান করে যে তাকে যত সুন্দর দেখাবে , একটি ছেলে তাকে তত পছন্দ করবে। অনুমানটি অনেকাংশে সত্যি, কিন্তু সৌন্দর্য ছাড়াও , আরও অনেক কিছু আছে, যা দেখে একটি ছেলে একটি মেয়েকে পছন্দ করে। আর, একজন ছেলে মানুষ ভালোভাবে জানে – একজন মেয়ের কোন কোন বৈশিষ্ট্যগুলো তার ভাল লাগে। এখানে কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলব যা সাধারণত ছেলেরা পছন্দ করে, মেয়েদের কাজে লাগতে পারে।

ছেলে

বয়সের উপর নির্ভর করে ছেলে মানুষের পছন্দ

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মেয়েরা মনে করে ছেলে মানুষ শুধু তাদের সৌন্দর্যের কারণেই প্রেমে পড়ে! এটা একেবারে মিথ্যা না। বেশির ভাগ ছেলেই সুন্দরী ও আকর্ষণীয় মেয়েদের প্রেমে পড়ে। তবে অনেক ছেলের কাছে সৌন্দর্য মানে শুধু বাহ্যিক বিষয় নয়, মেয়েদের মনের সৌন্দর্যও ছেলেদের আকর্ষণ করে।মেয়েদের বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, মন মানসিকতা, মহত্ত্ব, যত্নশীল আচরণ, দক্ষতা, যোগ্যতা, রসবোধ ইত্যাদির কারণে যেমন ছেলেরা প্রেমে পড়ে আবার অন্য অনেক কারণেই এই প্রেম হতে পারে। এমনকি অনেক সুদর্শন ছেলে আছেন, যাঁরা একটা সময়ের পর সুন্দরী মেয়ের থেকে বুদ্ধিমান মেয়েকে বেশি পছন্দ করেন। আজকাল ছেলেরা খুব ভালোভাবেই অনুভব করে যে, একজন সঙ্গীর সহযোগিতা ছাড়া জীবন অনেক দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। তাই অযোগ্য ও অদক্ষ সঙ্গী বাছাই করা বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। ছেলেরা যখন বুঝতে পারে, সৌন্দর্য সবকিছু না, তখনই সে জীবনে যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পায়।

▪১৫ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত ছেলে মানুষ শুধু সুন্দরী মেয়েই খোঁজে। কারণ এই বয়সে ছেলেরা অপরিণত থাকে এবং জানে না তারা আসলে কী চায়।

▪২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ছেলে মানুষ এমন মেয়ে খোঁজে, যার মানসিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। কারণে এর আগে তারা এমন সুন্দরী মেয়েদের প্রেমে পড়েছিল যাদের আবেগ অনেক দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে বিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটেছিল।

▪৩০ বছর বয়সে ছেলেরা অনুভব করে সৌন্দর্যই সবকিছু না। তখন তারা এমন জীবনসঙ্গী খোঁজে যার যত্নশীল আচরণ, যোগ্যতা এবং রসবোধ রয়েছে।

▪৩০ বছরের পর যেসব ছেলে অবিবাহিত থাকেন, তাঁদের ভাগ্যবান বলাই যায়। কারণ তাঁরা তখন বুঝতে শেখেন সৌন্দর্য জীবনে ততটা গুরুত্বপূর্ণ না। আর জীবনসঙ্গী হওয়ার জন্য ভালো মন মানসিকতার প্রয়োজন, বিশ্বসুন্দরীর প্রয়োজন নেই।

▪৩৫ বছর পর যদি কোনো ছেলে বিয়ে করেন, তখন তিনি বুদ্ধিমান মেয়ে খোঁজেন। কারণ সংসার ঠিকঠাক রাখতে চাইলে এর কোনো বিকল্প নেই।

▪একটা বয়সের পর ছেলেরা বুঝতে পারেন সমমনা সঙ্গী জীবনের অনেক সুন্দর একটা উপহার। কারণ চলার পথে এই মানুষটি সহযোগিতার জন্য সব সময় পাশে থাকবে।

ছেলে মানুষের পছন্দ যেমন মেয়ে

বুদ্ধিমত্তা – ছেলে মানুষ বোকা মেয়েদের চেয়ে বুদ্ধিমতি মেয়েদের বেশি পছন্দ করে। কারণ সঙ্গীনিই এমন একজন মানুষ, যিনি একজন ছেলের বলতে গেলে সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আর আপনি যদি জীবন চলার ক্ষেত্রে সঙ্গীর জীবনে বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে কোনো প্রভাব না রেখে বোকার মতো পথচলাকে থমকে দেন, সেটা নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে না।

শরীরের বক্রতা – ছেলেরা শরীরের বাঁক খুব পছন্দ করে। এজন্য দেখা যায় জিরো ফিগারের বা বেশি মোটা মেয়েদের চেয়ে ভালো স্বাস্থ্যের অধিকারী মেয়েদের বেশি পছন্দ করে ছেলেরা।

সরলতা – ছেলেরা সাধারণত সহজ সরল মেয়েকে পছন্দ করে । যদিও ছেলেরা খুব ভাবুক ফ্যাশনেবল মেয়েদের সাথে মেশে এবং তাদের প্রতি অনেক উৎসাহী হয় তবুও তাদের সাথে প্রেম করে না বা প্রেম করলেও তা শুধু মাত্র সময় কাটানোর জন্য করে। কারণ, প্রত্যেকটি ছেলেই চায় – তার প্রেমিকা বা বউ খুবই সহজ সরল হবে। মেয়েদের যেমন সহজাত চাওয়া- তার স্বামী বা প্রেমিক অনেক স্মার্ট এবং সুপুরুষ হবে তেমনি এটাও ছেলেদের একটি সহজাত চাওয়া এবং স্বভাব।

কোমলতা – একটি ছেলে সাধারণত সেই মেয়েকেই অনেক বেশি পছন্দ করে যে বেশিরভাগ সময় নিরব ও চুপচাপ থাকে, অনেক আস্তে আস্তে কথা বলে, অনেক নরম স্বভাবের। যেসব মেয়ে অনেক চিল্লা-পাল্লা করে, অনেক বেশি লাফ-ঝাপ করে বেড়ায়, কাজ কর্মে কোন পরিপাটি নেই, তাদেরকে ছেলেরা মোটেই পছন্দ করে না।
উদাহরণ স্বরূপ: একটা ছেলে ক্লাবে গিয়ে শৃঙ্খলাহীন মেয়েদের সাথে নাচানাচি করলেও , তাকে সে কিন্তু বিয়ে করবে না বা তার বউকে ক্লাবে ওই রকম ভাবে নাচতে দিবে না। শুধু ছেলেরাই নয়, নরম স্বভাবের মেয়েদেরকে সবাই পছন্দ করে।

হাসিখুশি ভাব – নরম স্বভাবের মানে এই নয় যে কারো সাথেই কথা বলে না। নরম স্বভাবের মানে হলো কারো সাথে গায়ে পড়ে অপ্রয়োজনীয় কথা বলে না, কিন্তু কেউ যদি নিজে থেকে এসে কিছু জিজ্ঞেস করে তবে অবশ্যই বলে। অর্থাৎ মিশুক কিন্তু গায়ে পড়া নয়। ছেলেদের একটি স্বভাব হলো – যেসব মেয়েরা তাদের সাথে গায়ে পরে কথা বলতে আসে, তাদেরকে তার তেমন গুরুত্ব দেয় না। আবার যে সকল মেয়েকে নিজে থেকে জিজ্ঞেস করার পরও তারা উত্তর দেয় না, ছেলেরা তাদেরকে অহংকারী ভাবে।

শিক্ষা – একটা সময় ছিল যখন মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারটি ছেলে মানুষের পছন্দের ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখত না। কিন্তু , যুগের পরিবর্তনে, শিক্ষা ছেলেদের পছন্দের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক। যেমন:  একটা মেয়ে হাজার সুন্দরী হলেও, তার থেকে কম সুন্দরী একজন শিক্ষিত মেয়ের চাহিদা বেশি, অন্তত শিক্ষিত ছেলেদের কাছে ।

স্মার্টনেস – ছেলেরা স্মার্ট মেয়েদেরকে পছন্দ করে। স্মার্ট মানে যে ভীষণ ভাব নিয়ে চলতে হবে তা নয়, স্মার্ট মানে কাজে কর্মে স্মার্ট। অর্থাৎ তাকে যে কাজটি করতে দেয়া হয়, সে কাজটিই সে বুদ্ধি দিয়ে সুন্দর করে গুছিয়ে করে।

সততা – মেয়েরা ছেলেদের সাথে সত্যি কথা বলে না এবং কথা দিয়ে কথা রাখে না, ছলনা করে – ছেলে মানুষ সাধারণত এটাই ভাবে। তাই যেসকল মেয়ে তাদের কথায় কাজে সৎ এবং কথা দিয়ে কথা রাখে ছেলেরা তাদেরকে বেশি পছন্দ করে।

অন্যের প্রতি যত্নবান – একজন ছেলে এমন একজনকে মনের মানুষ হিসেবে চায় যে তাকে অসুস্থতার সময়, বিপদের সময়, যত্ন নেবে, আদর করবে। তাই যেসকল মেয়েরা অন্যের সেবা করার ব্যাপারে উৎসাহী এককথায় মমতাময়ী , তাদেরকে ছেলেরা অগ্রাধীকার দেয় বেশি।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা – পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মানুষকে সবাই পছন্দ করে, ছেলেরাও এর ব্যাতিক্রম নয়। অপরিষ্কার অধিক সুন্দরী মেয়ের চেয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কম সুন্দরি মেয়ের দাম বেশি। যেমন : মেয়েরা অনেক সময় রূপচর্চা বেশি করতে গিয়ে মুখে ব্রণ বাঁধিয়ে ফেলে। মনে রাখতে হবে যে – ব্রণযুক্ত ফরসা মুখের চেয়ে ব্রণহীন শ্যামলা মুখের চাহিদা বেশি এটা সব ছেলেদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

মোবাইলে আঠার মতো লেগে থাকা -মোবাইল তো কথা বলার জন্যই। কিন্তু সব সময় ওটাকে কানের সঙ্গে আঠার মতো লাগিয়ে এমন মেয়েদের অপছন্দ করে ছেলেরা। এদের মতে, অতিরিক্ত সময় ধরে ফোনে লেগে থাকা সত্যিই বিরক্তিকর। এতে একে তো অর্থের অপচয়, তার ওপর অন্য ছেলেদের বিরক্তি করার সুযোগ বেড়ে যায়। কাজেই মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে মোবাইল ব্যবহার করাটাই পছন্দ করে ছেলে মানুষ।

ক্যারিয়ার সচেতন মেয়ে – অনেক ছেলেই ক্যারিয়ার সচেতন মেয়ে চান বউ হিসেবে। তাদের মতে, আমার বউকে কাজ করতে দেওয়া যাবে না এমন শর্ত আমি চাপিয়ে দিতে পারি না। প্রতিদিন সকালে কাজে বের হয়ে আমি ১২/১৩ ঘণ্টা বাইরে থাকবো। এই দীর্ঘ সময় মেয়েটি কতোই আর ঘরের বা নিজের কাজ করে কাটাবে। সে নিশ্চয়ই বাইরে যাবে বা শপিংয়ে যাবে। এতে বরং অর্থনাশ ঘটবে। তারচেয়ে সে কাজ করুক। এতে সংসারের আয় দ্বিগুণ পরিমাণ হবে।

খেলা পছন্দ করবে কিন্তু সুদর্শন খেলোয়াড়কে নয় – খেলা বিশেষ করে ক্রিকেট ব্যাপক জনপ্রিয় আমাদের সংস্কৃতিতে। বর্তমানে মেয়েদের ক্রিকেট প্রীতিকে পছন্দ করেন ছেলেরা। কিন্তু খেলার চেয়ে সুদর্শন খেলোয়াড়ের প্রতি বেশি আগ্রহ আবার ভালো লাগবে না ছেলেদের। তাই দুজন মিলে স্টেডিয়ামে গিয়ে মজা করে খেলা দেখতে যাবো, খেলোয়াড় দেখতে নয়, এমনই মত অধিকাংশের।

শালীনতা – প্রেমিকা হিসেবে অনেক ছেলে স্বল্পবসনা নারী পছন্দ করলেও স্ত্রী হিসেবে শালীন পোশাক পরেন এমন নারীই পছন্দ করেন। মার্জিত কথাবার্তা ও মার্জিত সাজগোজের নারীদের জীবনসঙ্গী হিসেবেই তাদের পছন্দ। ঘরের বাইরে ও ভিতরে কাজের ক্ষেত্রে গোছালো হতে হবে। ছেলেরা অগোছালো নারীদের তেমন পছন্দ করেন না।

আত্মনির্ভরশীল – ভবিষ্যতে স্বামীর অবর্তমানে সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারবেন এমন মেয়েদের জীবনসঙ্গী হিসেবে পছন্দ করেন ছেলেরা। পরনির্ভরশীল নারীদের সঙ্গে স্বল্পকালীন জীবন কাটানো যায় কিন্তু পুরো জীবন কাটাতে গেলে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। সংসার জীবনে দুজনে হাত ধরাধরি করে চলতে পারবেন এমন দায়িত্ব জ্ঞান সম্পন্ন মেয়েদের পছন্দ ছেলে মানুষের।

শ্রদ্ধাশীল – জীবন সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এমনটা আশা করেন ছেলেরা। নিজেদের আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে যেন মিল থাকে সেদিকেও খেয়াল রেখে জীবনসঙ্গী বাছাই করেন তারা।

মনের সৌন্দর্য – প্রেমিকা বা জীবনসঙ্গী হিসেবে শুধুমাত্র দৈহিক সৌন্দর্য খোঁজে না একটা ছেলে, প্রাথমিক ভাবে চোখের দেখায় ভালো লাগলেও, ‘প্রথম দর্শনে প্রেমে’ পড়ে গেলেও, চূড়ান্ত ভাবে কিন্তু মনের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হন তারা। যে নারী তার পৃথিবীটাকে সুন্দর করে দেখাতে পারে তাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন ছেলেরা।

আস্থা – যে মেয়ের প্রতি আস্থা রাখতে পারবেন তেমন নারীকেই জীবনসঙ্গী করত চান ছেলেরা। একইসঙ্গে তারা আশা করেন তার প্রতিও আস্থা রাখবে মেয়েটি।

স্পষ্টতা – কথাবার্তায় স্বচ্ছতা ছেলেদের আকৃষ্ট করে। যেমন, যে মেয়েকে কোন ছেলে জীবনসঙ্গী হিসেবে চায় সে তাকে সত্যিই ভালোবাসে কী না সে বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে ছেলে মানুষ পরবর্তীতে ভোগান্তি ও অবহেলার আশঙ্কায় পিছিয়ে যায়।

চারিত্রিক বিশুদ্ধতা – উপরের সবকিছুর থেকে এটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ । আপনার রুপ, গুণ, মেধা সবই বিফলে যাবে যদি আপনার চারত্রিক বিশুদ্ধতা রক্ষিত না থাকে। ছেলে মানুষের কাছে সবকিছুর থেকে একটা মেয়ের চরিত্র সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। কোন মেয়ের চরিত্র খারাপ হলে কখনোই তাকে বিয়ে করে সুখী হওয়া যায় না। এটা ছেলেরাসহ সবাই বিশ্বাস করে। তাই চারিত্রিক বিশুদ্ধতা রক্ষা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

93 total views, 1 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে
  • 16
    Shares

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন