চোখ ভালো রাখতে যা করবেন

চোখ ভালো রাখতে যা করবেন
4.5 (90%) 4 votes

চোখ প্রত্যেকটি মানুষের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। চোখ আমাদের সামগ্রিক সৌন্দর্যের একটি অংশ। একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকর চোখই পারে আপনার ব্যাক্তিত্ব প্রকাশ করতে। চোখে যিনি দেখেন না তিনিই বোঝেন এই পৃথিবীর কী মর্ম। চোখ মানুষের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের তুলনায় একটু বেশি স্পর্শকাতর। এই জন্য প্রয়োজন পড়ে বাড়তি কিছু যত্ন নেওয়ার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। অতি সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে,চোখের নিয়মিত যত্ন নিলে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন নামের চোখের মারাত্মক অসুখ প্রতিরোধে সহায়তা করে। চোখের রোগ হওয়া মানেই এক বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় রোগীকে। চোখের যে কোনা সমস্যায় আপনাকে নানামুখী সমস্যায় আক্রান্ত করে ফেলে। সুতরাং চোখের দেখভাল করা আপনারই দায়িত্ব।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

চোখ

চোখের রোগ দূর করার দোয়া

হযরত আনাস ইবনু মালেক (রা.) বলেন, নবী (স.)-এর কোন সাহাবী চোখের রোগে আক্রান্ত হলে এই দোয়া পড়তেন, “আল্লাহুম্মা মাত্তিনী বি-বাসারী অজ আলহুল ওয়ারিসা মিন্নী ওয়া আরিনী ফিল আদুওয়ি সা-রী অনসুরনী আলামান যালামানী” অর্থ: হে আল্লাহ! আমার চোখ দ্বারা আমাকে উপকৃত করাও এবং ওকে আমার উত্তরাধিকারী বানাও। আর শত্রুর মধ্যে আমার মোকাবিলা দেখাও এবং আমার ওপরে যে অত্যাচার করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সহযোগিতা দাও (ইবনে সুন্নির আমালুল ইয়াওমি অল লাইলাহ্ ১৫০ পৃ:, হাকেম ৪র্থ খণ্ড ৪১৩ পৃ:)।

চোখ ভালো রাখার ব্যায়াম

শরীর সুস্থ রাখার জন্য কত কিছুই না করি আমরা। সাঁতার কাটা, হাঁটা, জগিংসহ আরও কত-কী। কিন্তু চোখ ভালো রাখতে ব্যায়াম! এটি শুনে চোখ কপালে তোলার দরকার নেই। কেননা, কাজের ফাঁকে ফাঁকে চোখের কিছু ব্যায়াম আছে, যেগুলো নিয়মিত চর্চা করলে দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়। এগুলো হলো –

১. চোখের পেশির রক্ত সরবরাহ সচল রাখাতে দুই হাতের তালু কয়েক মিনিট ঘষে আলতোভাবে হাতের তালু দিয়ে আলাদা করে চোখ বন্ধ রাখুন পাঁচ সেকেন্ড। ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন। এতে চোখের বিশ্রাম ও হবে।

২. চোখের মণি বৃত্তাকারে চারপাশে ঘোরাতে চেষ্টা করুন। প্রথমে ওপরের দিকে তাকান, তারপর ঘড়ির কাঁটা যেদিকে ঘোরে, সেদিকে ১০ সেকেন্ড এবং বিপরীত দিকে আরও ১০ সেকেন্ড ধীরে ধীরে ঘোরান। এতে চোখের ক্লান্তি দূর হবে; চোখ এবং চোখের পেশী শক্তিশালী হবে।

৩. চোখের দুটে পাতার ওপর আঙুল দিয়ে হাল্কা চাপ সৃষ্টি করুন কয়েক সেকেন্ড। তারপর ছেড়ে দিয়ে একই ভাবে আরও ৫ বার করুন। এতে ইন্ট্রাকিউলার ফ্লুইডের সরবরাহ বাড়বে। এতে চোখের রক্ত সরবরাহ বাড়বে এবং চোখের পেশী সক্রিয় থাকবে।

৪. মাথাটা স্থির রেখে চোখের মণি ঘুরিয়ে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও অন্যান্য জ্যামিতিক আকার আঁকুন।

৫. চোখ স্থির রেখে মাথাটা ঘোরান। সামনে কোনো একটি জিনিসের দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে ১০ বার মাথাটা ঘোরান। একই ভাবে ঘড়ির কাঁটার দিকে মাথা ঘোরান আরও ১০ বার।

৬. কাছের ও দূরের জিনিসের দিকে তাকান। খুব কাছের কোনো কিছুর দিকে টানা কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এরপরই দূরের কোনো জিনিসের দিকে চোখ ফিরিয়ে সেটি দেখুন কয়েক সেকেন্ড। এভাবে করুন ৫ বার।

৭. চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ রিল্যাক্স করুন। আপনার চোখের পেশির ওপর যে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে, তা এভাবে কিছুটা কমবে।

৮. এক হাত দূরে একটি কলম নিয়ে সোজা কলমটির দিকে তাকিয়ে থাকুন। তারপর ধীরে ধীরে কলমটিকে কাছাকাছি নিয়ে আসেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না কলমটিকে ঘোলাটে দেখা যায়। এরপর আবারও কলমটিকে ধীরে ধীরে কাছে থেকে দূরে নিয়ে যান। খেয়াল রাখুন, চোখের দৃষ্টি যেন কলমের দিকে থাকে।

৪. চোখের সুরক্ষার জন্য প্রতিদিন আট ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম চোখকে পরিপূণ বিশ্রাম ও পুনর্দৃষ্টির জন্য শক্তি দেয়। অপর্যাপ্ত ঘুম দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

চোখ ভাল রাখার উপায়

জন্মের পর থেকে আপনার দৃষ্টিশক্তি কমছে। ২ বছর বয়সে আপনার দৃষ্টিশক্তি ১০ বছর বয়সের থেকে বেশি ছিল। দৃষ্টিশক্তির এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন সাধারণত আপনি চোখ পরীক্ষা না করলে বুঝতে পারবেন না। যদিও দৃষ্টিশক্তির ক্ষয় বয়সের বৃদ্ধির সাথে ঘটবে সেটা অনিবার্য তবে আপনি নিচের কিছু টিপস অনুসরণ করে আপনার দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে পারেন।

আলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে – চোখ যেকোনো আলোই কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রহণ করে নিতে পারে। কিন্তু চোখ ভালো রাখার জন্য কম আলো বা তীব্র আলোতে লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজকর্ম করা উচিত নয়। দিনের বেলা সূর্যের আলো সরাসরি চোখে না পড়াই ভালো। রাতে টিউব লাইটের আলো চোখের জন্য আরামদায়ক। টেবিল ল্যাম্পের আলোতে লেখাপড়ার সময় ল্যাম্পটি দেয়ালের দিকে রেখে প্রতিফলিত আলোতে পড়া ভালো।

নিয়ম মেনে টিভি দেখতে হবে – সম্পূর্ণ অন্ধকার কক্ষে টিভি দেখা ঠিক নয়। দিনের বেলা যে দরজা বা জানালার আলো টিভি স্ক্রিনে প্রতিফলিত হয়, সেগুলো বন্ধ রাখাই ভালো। সাধারণত ১০ ফুট দূর থেকে টিভি দেখা উচিত। তবে ছয় ফুটের কম দূরত্ব থেকে টিভি দেখা উচিত নয়। বড়-ছোট বিভিন্ন সাইজের টিভি দেখার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দূরত্ব বজায় রাখতে হয়। ঝিরঝির করা, কাঁপা কাঁপা ছবি ও ভৌতিক ছায়াযুক্ত ছবি না দেখাই ভালো। রঙিন টিভিতে রং, উজ্জ্বলতা ও কন্ট্রাস্ট ঠিক রেখে টিভি দেখতে হবে। একটানা অনেকক্ষণ টিভি দেখা উচিত নয়, মাঝেমধ্যে দর্শন বিরতি দিয়ে টিভি দেখা চোখের জন্য ভালো।

প্রসাধনীর ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে – রুপচর্চা করতে ব্যবহার করা প্রসাধনী চোখের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রসাধনী চোখে ব্যবহার করলে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফারাইটিস, স্টাই ইত্যাদি রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। মাথায় খুশকি থাকলে সপ্তাহে দুবার খুশকি নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা খুশকি মুক্ত রাখতে হবে। নইলে মাথার খুশকি থেকে চোখ আক্রান্ত হয়ে চোখে ব্লেফারাইটিস দেখা দিতে পারে।

চশমা ব্যবহারে সচেতন হতে হবে – যাঁদের চোখে চশমা প্রয়োজন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমত দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে চশমা পরা উচিত। স্বাভাবিক ভাবেই ৪০ বছরের কাছাকাছি বয়স থেকে কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হতে পারে। এ সময়ে অনেকেই নিজের মনমতো দৃষ্টিশক্তির চশমা ব্যবহার করেন। এটা চোখের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেকে মনে করেন, একবার চশমা ব্যবহার করলে সারা জীবন চশমা ব্যবহার করতে হবে। তাই চশমা ব্যবহার করেন না। অথচ চশমা ব্যবহার করলেই চোখ ভালো থাকে। নতুবা পড়াশোনা বা কাছের জিনিস দেখতে চোখের উপর চাপ পড়ে। এই চাপ চোখের স্থায়ী ক্ষতি করতে থাকে। চোখের সুস্থতায় চশমা সব সময় পরিষ্কার রাখা উচিত। প্রখর সূর্যালোক এবং এর সাথে থাকা আল্ট্রা ভায়লেট রশ্মি আপনার চোখের খুব ক্ষতি সাধন করতে পারে। এ রশ্মি চোখের টিস্যু ড্যামেজ করা সহ কর্নিয়ার অনেক ক্ষতি সাধন করে। এ কারনে যখনই রোদে বাহির হবেন চোখে সানগ্লাস লাগাতে ভুলবেন না।

ধূমপান ছাড়ুন – অতিরিক্ত ধূমপান চোখের ক্ষতি করে। রেটিনা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। পাশাপাশি, এর ফলে ক্ষতি হয় চোখের স্নায়ুকোষের।

চোখে পানির ঝাপটা – দিনে ১০ থেকে ১৫ বার চোখে পানির ঝাপটা দিন। তাতে চোখ ঠান্ডা থাকে। চোখ আর্দ্র হয় ও রক্তসঞ্চালন বাড়ে। তবে বরফ জল বা মাত্রাতিরিক্ত গরম পানি দেবেন না।

নিয়মিত চোখ পরীক্ষা – বছরে অন্তত দু’বার নিয়ম করে চোখ পরীক্ষা করানো জরুরি। এতে ছানি, গ্লুকোমা বা রেটিনার ম্যাকুলার ক্ষয়ের মতো মারাত্মক সমস্যা অল্পেই ধরা পড়ে।

কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারের সময় চোখ ভাল রাখার উপায়

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অধিকাংশ কাজই অনেকে কম্পিউটার ও মোবাইলের মাধ্যমে করে থাকে। আবার অবসরের সঙ্গী হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তার জুড়ি নেই। কম্পিউটার কিংবা মোবাইলে দীর্ঘসময় ধরে কাজ করলে কিংবা টানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে, তা চোখের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়া ছাড়াও মাথা ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরিত্রাণের উপায় গুলো দেখে নিন।

▪যথাযথ আলোর পরিবেশে কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলায় কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের সময় মনিটরের উল্টোদিকে মনিটরে আলো প্রতিফলিত হয় এমন দরজা জানালা বা লাইট বন্ধ রাখুন। কম্পিউটারটি এমন স্থানে ব্যবহার করুন যেখান থেকে মনিটরে আলোর প্রতিফলন না ঘটে। আবার পুরোপুরি অন্ধকার ঘরেও কম্পিউটার বা মোবাইল চালবেন না।

▪কম্পিউটার বা মোবাইলে কাজ করার সময় মাঝে মাঝে চোখের পলক ফেলা ভালো উপায়। এতে করে চোখে আদ্রতার পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে এবং শুস্কতা সৃষ্টি হয় না। অথচ স্ক্রিনের কারণে আমরা চোখের পলক কম ফেলি, এমনটি চোখের জন্য ক্ষতিকর।

▪স্ক্রীনের উজ্জ্বলতা সহনীয় মাত্রায় রেখে কাজ করা উচিৎ। উজ্জ্বলতা বেশি হলে চোখের ওপর বেশি চাপ পড়ে এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়। আপনার কম্পিউটার মনিটরের আলোর পরিমাণ সঠিক রাখুন। আপনি যদি আপনার কম্পিউটারের আলো বাড়াতে বা কমাতে বিরক্তি বোধ করেন তাহলে আপনি চাইলে এর জন্য f.lux নামের ফ্রি সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এটি দিনের বেলা ও রাতের বেলা নিজে থেকে আপনার কম্পিউটার মনিটরের আলো সঠিক পরিমানে রাখবে। এর ফলে চোখের উপর প্রভাবটা কমবে এবং দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে চোখ যে জ্বালা পোড়া করে তাও কমে যাবে।

▪চোখে শীথিল এবং আরামদায়ক অনুভূতির ক্ষেত্রে সেরা রঙ বিবেচনা করা হয় সবুজ রঙকে। কাজের ফাঁকে জানালা দিয়ে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকে তাকাতে পারেন। সেটা না থাকলে চোখ বুজে সবুজকে কল্পনা করুন।

▪স্ক্রিনে পড়া বা লেখার জন্য ছোট ফন্ট ব্যবহার করবেন না। চোখের জন্য আরামদায়ক ফন্ট নির্বাচন করুন। কারণ ছোট ছোট লেখা চোখের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে।

▪দু’হাতের তালু একটি অপরটির সঙ্গে ঘর্ষণ করে গরম করে তুলুন। তারপর আপনার হাতের তালু চোখের উপর রাখুন কমপক্ষে ১ মিনিট। এটি ক্লান্ত চোখে আরামের আবেশ আনতে সহায়তা করবে।

▪কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করার সময় চোখ সুরক্ষার খুব উপযোগী একটি উপায় হচ্ছে, ২০-২০-২০। প্রতি ২০ মিনিট পর পর কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিন এবং কমপক্ষে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর ওপর দৃষ্টিপাত করুন অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য। চোখের বিশ্রামের জন্য ২০-২০-২০ নিয়মটি মেনে চললে চোখে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকে এবং চোখের ওপর চাপ কমে।

চোখ ভালো রাখার খাবার

আজকাল আমরা কমবেশি সবাই চোখের সমস্যায় ভোগী। শরীরের অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো চোখের যত্ন নেয়াটাও খুব জরুরি। বড়দের পাশাপাশি ছোটদেরও হয় চোখের সমস্যা। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদেরও দেখা যায় মোটা লেন্সের চশমা পরতে। তবে আমরা যদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনি তাহলে চোখের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। চোখকে সুস্থ রাখতে আসলে নিয়মিতই কিছু খাবার দরকার। চোখের যত্নে চোখ ভালো রাখার খাবার গুলো হল –

সবুজ শাক – আমাদের দেশের নানা রকম সবুজ শাক যেমন, পালং, পুই, কচু, লাউ ইত্যাদিকে অবহেলা করবেন না। সবুজ শাকে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। সেই সঙ্গে এটি ম্যাঙ্গানিজের খুব ভালো উৎস। এগুলো চোখের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সবুজ শাক। এছাড়া পালংশাকে আছে প্রচুর পরিমাণে ‘লুটিন’ নামক পুষ্টি উপাদান, যা চোখে ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এতে আরও আছে বিটা ক্যারোটিন আর জিক্সান্থিন; দুটোই চোখ ভালো রাখার জন্য উপকারী।

ভুট্টা – ভুট্টায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন এ, সি ও লাইকোপিন; যা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে৷ আধ-কাপ রান্না ভুট্টায় একজন মানুষের চোখের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। তাই নিয়মিত ভুট্টা খেতে পারেন। আর নিয়মিত ভুট্টা খেলে চোখের হলুদ পিগমেন্ট হারানোর কোনো ঝুঁকি থাকে না। এমনকি ছানি পড়ার ঝুঁকি কমে যায়।

টমেটো – টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন-এ, বি, সি, কে, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়ামসহ নানা উপাদান। এক গবেষণায় দেখা গেছে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়।

মিষ্টি আলু – মিষ্টি  আলু পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি, ই ও ডি। চোখের যত্নে মিষ্টি আলু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। এটি চোখ ভালো রাখে। দৃষ্টিশক্তি ধরে রাখতে এর তুলনা হয়না।

কুমড়া – বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যারোটিনয়েডস লুটিন ও জিক্সান্থিন বার্ধক্যজনিত চোখের সমস্যা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পুষ্টি উপাদান। কুমড়া লুটিন ও জিক্সান্থিনের চমৎকার উৎস। এছাড়াও কুমড়ায় প্রচুর ভিটামিন এ আছে।

গাজর – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ রয়েল এয়ার ফোর্সের জন কানিংহাম নামের একজন দক্ষ জঙ্গী পাইলটের একটি গল্প ছড়িয়েছিল যিনি রাতের অন্ধকারে জঙ্গি বিমান চালিয়ে শত্রুদের ঘায়েল করতেন। তিনি গাজর খেতেন তাই তার এই প্রখর দৃষ্টিশক্তি তৈরি হয়। তাকে সবাই ‘বিড়াল চোখ’ নামে ডাকতেন। এটি যদিও এটি পুরনো গল্প, বাস্তবিক পক্ষে চিকিৎসকরা জানান গাজরে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য কার্যকরী উপাদান রয়েছে। গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন এ আপনার দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।

ঝিনুক – ঝিনুকের মাংসে উপস্থিত জিংকের পরিমাণ অন্য যে কোনো খাবারের চেয়ে বেশি। ‍যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের খাদ্য ও পুষ্টিবিদ ক্যারোলিন কফম্যান বলেন, জিংক যকৃতে জমে থাকা ভিটামিন এ ব্যবহার করে রেটিনায় মেলানিন তৈরি করতে সাহায্য করে। মেলানিন আমাদের চোখের ওপর একটি রক্ষাকারী আবরণ তৈরি করে।

রসুন – রসুন হচ্ছে একটি সুপার ফুড। রসুন একটু বেশি বয়সে চোখের রোগ এবং চোখের ছানি পরার হাত থেকে চোখের লেন্সকে রক্ষা করতে পারে। এটি চোখ ভালো রাখার সাথে সাথে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তের প্রবাহকে বাড়ায়।

ফল – বেশ অনেক ধরনের ফলই যেমন বেরী জাতীয় ফল, পিচ ফল অ্যাভোকাডো ইত্যাদি ফল দৃষ্টি শক্তিকে উন্নত করার জন্য ভালো ভূমিকা রাখে। এছাড়া আমাদের দেশীয় ফল আম, কাঁঠাল সহ হলুদ ও লাল রঙের ফল গুলো চোখের জন্য খুবই উপকারি।

ডিম – দিনের শুরুটা একটি বা দুইটি ডিম খাওয়ার মাধ্যমে করলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। ডিমে থাকা প্রোটিন চোখের লেন্সের জন্য উপকারী। একইভাবে ডিমের কুসুমও অনেক উপকারী। এটা বেশি বয়সে চোখের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

গ্রিন টি – এই চায়ের অসংখ্য উপকারিতার কথা জানা গেছে। এটি চোখের জন্যও উপকারী। যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ও পুষ্টিবিদ এবং এবিসি নিউজের মেডিকেল কন্ট্রিবিউটর ডেভিড ক্যাটজ বলেন, সবুজ চা, ফ্ল্যাভানয়েড নামক উপাদানের সমৃদ্ধ উৎস। এতে আছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রেটিনাকে সূর্যালোকের তেজস্ক্রিয়তা থেকে রক্ষা করে।

আখরোট – আখরোটে আছে উদ্ভিজ্জ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, যা সামুদ্রিক খাবার থেকে ভিন্ন। এটি রক্ত প্রবাহ, লিপিডের মাত্রা ইত্যাদি ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা চোখ ও অপরাপর দেহযন্ত্র গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

স্যামন মাছ – ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড যা ফিশ অয়েল নামে পরিচিত, বিশেষ ভাবে পরিচিতি পাওয়ার কারণ হল এর অসামান্য স্বাস্থ্যগুণ। সামুদ্রিক মাছ থেকে প্রাপ্ত ওমেগা থ্রি চোখের কোষের কাঠামো স্থিতিশীল রাখে এবং কোষ গুলোর মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করে। স্যামন মাছে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান গ্লুকোমা ও শুষ্ক চোখ থেকেও রক্ষা করে।

আপনি যদি গাজর বা অন্যান্য ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে না চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এসব ভিটামিন সমৃদ্ধ ক্যাপসুল খেতে হবে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মতো। এসব ভিটামিন আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিবেনা তবে আরও খারাপ হওয়া কে বাধা দিবে।

286 total views, 2 views today

এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে
  • 14
    Shares

About আলোকিত আধারে

কেউ হয়ত জানতেই চাইবেনা কোথায় বাঁধা ছিল এ হৃদয়। শুধু রচিত হবে আমার এপিটাফ - মৃত্যু হবে আমার সকল আবেগের, ভালবাসার, যন্ত্রণার।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন